Jhankar Mahbub
ইংলিশ শেখার জার্নিটা কিভাবে শুরু করা যায়?
06/29/2026
পৃথিবীর ফুটবলের দুটো ভিন্ন দর্শন আছে।
একটা হলো আত্মবিশ্বাস আর প্রাকৃতিক প্রতিভা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ইতিহাস আছে, ট্র্যাডিশন আছে, প্লেয়াররা জানে তারা বিশাল কিছুর অংশ। প্রতিটা ম্যাচে তারা ইতিহাস রিপিট করতে চায়। এটা এক ধরনের শক্তি। এটা এক ধরনের দায়িত্ব। ব্রাজিল এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন। প্রেশার আছে, কিন্তু সেই প্রেশার তাদের ড্রাইভ করে এগিয়ে যেতে।
আরেকটা দর্শন হলো প্রস্তুতি আর পরিকল্পনা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। তোমার নিজের গল্প বলো, নিজের শক্তি খুঁজো, নিজের স্টাইল তৈরি করো। ছোট দলও বড় দলকে মাটি করতে পারে যদি সঠিক প্ল্যান থাকে। জাপান এই দর্শনে বিশ্বাস করে। তারা জানে তাদের ট্র্যাডিশন নেই বিশ্বকাপে। তাই তারা নিজেদের ট্র্যাডিশন তৈরি করছে। প্রতিটা ম্যাচে, প্রতিটা টুর্নামেন্টে।
এখানেই একটা শিক্ষা লুকিয়ে আছে তোমার জন্য।
তোমার জীবনে দুই ধরনের মানুষ আছে।
এক ধরনের মানুষ যে বলে, আমি ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি, আমার পরিবার সফল, আমি ভালো স্কুলে পড়েছি, তাই আমার সফল হওয়া নিশ্চিত। এই মাইন্ডসেটে থাকলে একটা সুবিধা আছে আর একটা বিপদও আছে। সুবিধা হলো প্রথম কয়েকটা ধাপ সহজ। বিপদ হলো দায়িত্ব এত বেশি যে চাপে ভেঙে পড়া সম্ভব।
আর এক ধরনের মানুষ যে বলে, আমি শুরু করেছি ছোট থেকে, আমার কোনো হেরিটেজ নেই, তাই আমাকে নিজের রাস্তা খুঁজে নিতে হবে। এই মাইন্ডসেটে থাকলেও একটা সুবিধা আছে আর একটা চ্যালেঞ্জও আছে। চ্যালেঞ্জ হলো শুরুটা কঠিন। সুবিধা হলো সাফল্যে কোনো প্রত্যাশা নেই, শুধু আছে সম্ভাবনা।
আজকের ম্যাচটা হবে এই দুটো মাইন্ডসেটের কথোপকথন।
ব্রাজিল আসছে পাঁচটা ট্রফি নিয়ে। প্রতিটা গোলে তারা বলছে, এটা আমাদের স্টাইল, এটা আমাদের ঐতিহ্য। ভিনিসিয়াস চার গোল করেছে, কারণ সে জানে সে ব্রাজিলের প্রতিনিধি। এটা একটা দায়িত্ব, কিন্তু এটা একটা শক্তিও।
জাপান আসছে অন্য জায়গা থেকে। তারা বলছে আমরা ছোট, আমরা নতুন, কিন্তু আমরা প্রস্তুত। আমরা পরিকল্পনা করেছি, আমরা কাজ করেছি, আমরা এখন লড়াই করতে চাই। কোনো বোঝা নেই, শুধু আছে উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
কিন্তু এটা বুঝতে হবে, দুটো পথই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল যদি এই ঐতিহ্য না রাখত, তাহলে আজকের নতুন প্লেয়াররা অনুপ্রেরণা পেত না। জাপান যদি নিজের পথ না তৈরি করত, তাহলে আজকের বিশ্ব কাপে এত ভালো করত না।
তাহলে তোমার শেখার কী আছে এখান থেকে?
তুমি যে পরিস্থিতিতে আছ, সেটাকে গ্রহণ করো। যদি তোমার ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে, তাহলে সেই দায়িত্বটা নাও। প্রমাণ করো তোমার পরিবার কেন এত সম্মানিত। আর যদি তোমার ছোট থেকে শুরু করতে হয়, তাহলে সেই সুবিধা নাও। প্রমাণ করো যে দরিদ্র্য কোনো বাধা না, ডিসিপ্লিন আছে কিনা সেটাই প্রশ্ন।
উভয় পথেই সফল মানুষ আছে। উভয় পথেই ব্যর্থ মানুষও আছে।
পার্থক্য শুধু একটাই। পার্থক্য হলো মানসিকতা।
যে মানুষ তার পরিস্থিতি যাই হোক, সেটা লেভারেজ করতে পারে, সেই মানুষ জেতে। তোমার ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে সেটা দায়িত্ব হিসেবে নাও। তোমার দরিদ্র্য ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে সেটা ড্রাইভ হিসেবে নাও।
ব্রাজিল তার ঐতিহ্যকে দায়িত্ব ভাবে। জাপান তার সম্ভাবনাকে ড্রাইভ ভাবে।
দুটোই জয়ী মানসিকতা।
প্রশ্ন হলো, তুমি কোনটা বেছে নিয়েছ?
পড়ালেখা বোরিং লাগার সায়েন্টিফিক কারণ কী কী ?
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ কে জানো?
না, সে সেই না যে রাতারাতি ভাইরাল হয়। না, সে সেই না যে একটা পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। না, সে সেই না যে জন্ম থেকেই জিনিয়াস।
সে হলো সেই মানুষ, যাকে দেখে মনে হয় কিছুই হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিদিন সে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে।
একটু অঙ্ক করি।
প্রতিদিন ১% উন্নতি। শুনতে হাসির মতো লাগছে, তাই না? মাত্র এক পার্সেন্ট। এইটা দিয়ে কী হবে? কিন্তু একটু ক্যালকুলেটর ধরো। এক বছরে ৩৬৫ দিন। প্রতিদিন ১% করে বাড়লে এক বছর পরে তুমি আগের চেয়ে ৩৭ গুণ ভালো হয়ে যাবে। ৩৭ গুণ। কোনো জাদু না, শুধু কম্পাউন্ড ইফেক্ট।
এই কম্পাউন্ড ইফেক্ট শুধু ব্যাংকের সুদে কাজ করে না। স্কিলেও কাজ করে। জ্ঞানেও কাজ করে। চরিত্রেও কাজ করে।
কিন্তু এখানে একটা ক্যাচ আছে। প্রতিদিন ১% উন্নতি বাইরে থেকে দেখা যায় না। সপ্তাহ পার হয়, মাস পার হয়, কেউ বলে না বাহ তুমি অনেক এগিয়ে গেছ। আর এইখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভেঙে পড়ে। মনে করে কিছুই হচ্ছে না। থেমে যায়।
কিন্তু যে থামে না? তাকে দেখো এক বছর পরে। দুই বছর পরে।
তুমি অবাক হয়ে যাবে।
টেক দুনিয়ায় এইটা আরও বেশি সত্যি। কারণ এখানে বেশিরভাগ মানুষ হারায় না কঠিন অ্যালগরিদমে। হারায় ইনকনসিস্টেন্সিতে। তিন দিন আগুনের মতো শেখে। চার দিন গায়েব। এক সপ্তাহ মোটিভেশন খোঁজে ইউটিউবে। তারপর বলে, আমার দ্বারা হবে না।
আর অন্যদিকে একটা মানুষ আছে।
সে সুপারস্টার না। সব জানে না। সব পারে না। ইন্টারভিউতে প্রথমবার ফেল করে। দ্বিতীয়বারও করে। কিন্তু একটা কাজ সে করে যেটা বাকিরা করে না। প্রতিদিন বসে। দুই ঘণ্টা। মাথা ঝিমঝিম করলেও। মন না চাইলেও। ঘুম পেলেও।
এক বছর পরে দেখা যায়, যে নিজেকে অ্যাভারেজ ভাবত সে চাকরি পেয়ে গেছে। প্রতিভা তোমাকে দরজার সামনে নিয়ে যায়। কনসিস্টেন্সি দরজা খুলে দেয়।
তাই আজকে নিজেকে অন্য কারও সাথে তুলনা করার দরকার নেই। পাশের ছেলে কত দ্রুত শিখছে সেটা দেখার দরকার নেই। ফেসবুকে কে কার আগে জব পেল সেটা গোনার দরকার নেই।
শুধু একটা প্রশ্ন করো নিজেকে।
গত মাসের আমার চেয়ে আজকের আমি কি একটুও ভালো? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, চুপচাপ এগিয়ে যাও। কেউ দেখুক বা না দেখুক।
কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ সে না যে একদিনে বিশাল লাফ দেয়।
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ হলো সে, যাকে দেখে কেউ বুঝতে পারে না সে এগোচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন, নিঃশব্দে, একটু একটু করে সে এমন একটা জায়গায় চলে যায় যেখানে বাকিরা পরে হাঁপাতে হাঁপাতে পৌঁছায়।
সেই মানুষটা হওয়ার জন্য জিনিয়াস হওয়ার দরকার নেই।
শুধু আজকে শুরু করো। কালকেও করো। পরশুও করো।
বাকি কাজ সময় করে দেবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Address
Chicago, IL