Daily Hadith

Daily Hadith

Share

04/04/2026

তাওবা যাঁকে বদলে দিয়েছিল ডাকাত থেকে সালাফে!

মানুষটা ছিল ডাকাত, দুর্ধর্ষ এক ডাকাত। গুরুত্বপূর্ণ এক বাণিজ্যপথে ছিল তার ডাকাতদলের দোর্দণ্ড প্রতাপ। তার ত্রাসে কাঁপতো মানুষ, এতোটাই কুখ্যাতি ছিল তার!

এক নারীকে খুবই ভালোবাসতো সে। একদিন সেই নারীর কাছে যাবার সময় একটা দেওয়াল টপকাতে গিয়ে কানে ভেসে আসে কিছু শব্দ। শব্দগুলো কুরআনের, কোনো এক বাড়ি থেকে ভেসে আসছে কারো তিলাওয়াতের সুর। সেই আয়াতে কারীমায় আল্লাহ বলছেন,

اَلَمۡ یَاۡنِ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ تَخۡشَعَ قُلُوۡبُهُمۡ لِذِكۡرِ اللّٰهِ وَ مَا نَزَلَ مِنَ الۡحَقِّ ۙ

"যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য কি সময় আসেনি যে, তাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে, তার সামনে বিনম্র হবে?" (সূরা আল-হাদীদ: ১৬)

কঠোরপ্রাণ এই ডাকাতের অন্তর যেন এই আয়াতের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ডাকাত কেঁপে ওঠে, তার চোখ পানিতে ভরে যায়। আল্লাহ যেন একদম তাকেই সরাসরি উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বললেন!

আল্লাহ যেন বলছেন, হে ফুযাইল! এখনো কি সময় আসেনি তোমার? ফুযাইল সিক্ত চোখ নিয়ে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেন, বলেন, “হ্যাঁ, সময় তো এসেই গেছে!”

সেই শুরু। কোনো এক অন্ধকার রাতে সম্পূর্ণ অজান্তেই এক ইতিহাসের সূচনা হয়ে গেল। ফুযাইল তাওবা করলেন। এমন এক তাওবা, যে তাওবা তাঁকে পৌঁছে দিলো সেই সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের মর্যাদায়। ইলম, তাকওয়া, আমল ও ইখলাসে তিনি ছাড়িয়ে যেতে লাগলেন সবাইকে। হয়ে উঠলেন সালাফুস সালিহীনের একজন, যাঁদের আলোয় আজও আমরা পথ চলি!

ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে রইলো, একজন দুর্ধর্ষ, কুখ্যাত ডাকাত তাওবার আবেহায়াত পান করে নতুন জীবন লাভ করেছিলেন। একসময়ের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ দাস!

তাওবার এই গল্পগুলো আমাদের রক্তে ঢেউ তুলে দেয়, চোখে নিয়ে আসে অনুতাপের অশ্রু আর মনে জ্বালায় অশেষ আশার আলো। আমাদের মনে হয়, তবে আমরাও পারবো! আমরাও তাওবা করতে পারবো, আমরাও এভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে পারবো। অবশ্যই পারবো!

তাওবার গল্প
লেখক : ইবনু কুদামা মাকদিসি

04/03/2026

ইমাম ইবনুল জাওযি (রহি.) বলেছেন, "আমি দীর্ঘ সময় নফসের সাথে লড়াই করেছি; কখনো আমি জিতি, কখনো নফস জিতে যায়।

একদিন একান্তে নফসকে বললাম, ধিক্কার তোমাকে! যদি তুমি সন্দেহযুক্ত পথে সম্পদ জমা করো, তবে কি নিশ্চিত যে তুমিই তা ভোগ করবে?

নফস বলল, না।
আমি বললাম, তবে মৃত্যুর সময় এটিই হবে তোমার বড় কষ্ট যে, ভোগ করবে অন্য কেউ আর গুনাহের বোঝা বইবে শুধু তুমি!"

নফস হলো মানুষের হৃদয় এবং রবের মাঝখানে এক বিশাল দেয়াল। নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি বা পরকালের মুক্তি সম্ভব নয়।

আল্লাহ বলেন,
"শপথ নফসের এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন... যে নিজেকে শুদ্ধ করল সেই সফল হলো, আর যে নিজেকে কলুষিত করল সে ব্যর্থ হলো।" (সূরা শামস: ৭-১০)

ব্যক্তির সংশোধনই জাতির সংশোধন। আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা (নফস) পরিবর্তন না করে।

আজ যারা দ্বীনের পথে চলেন, তাদের মধ্যেও অনেকের পদস্খলন ঘটছে। এর কারণ, নিজেকে গড়ার চেয়ে অন্যকে গড়ায় আমরা বেশি ব্যস্ত। অথচ যে নিজেকে গড়তে পারে না, সে অন্যকে গড়বে কীভাবে?

আল্লাহ সাতটি শপথ করে বলেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করবে, সেই সফল হবে। আর এই শুদ্ধির পুরস্কার হলো চিরস্থায়ী জান্নাত।

নফস কলুষিত হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?

১. ছোট হোক বা বড়, গুনাহ করার পর যদি মনে খটকা না লাগে, তবে বুঝবেন নফস অসুস্থ। মুমিন ব্যক্তি ছোট গুনাহকেও পাহাড়ের মতো ভয় পায়।

২. ইবাদতের স্বাদ হারিয়ে ফেলা। ফজর সালাতের চেয়েও যখন ঘুম ও লেপের উষ্ণতা বেশি মিষ্টি মনে হয়, তখন বুঝবেন নফসের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

৩. তিলাওয়াত, যিকির বা দ্বীনি আলোচনার চেয়ে দুনিয়ার গল্প, হাসি-ঠাট্টা, গীবত বা টাকা-পয়সার চিন্তায় ডুবে থাকা।

নফসকে পরিশুদ্ধির ৫টি কার্যকর পদক্ষেপ:

১. নফসের স্তর নির্ণয় করার চেষ্টা করা। কুরআন অনুযায়ী নফস তিন প্রকার

নফসে আম্মারা: যা কেবল মন্দের আদেশ দেয়। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
নফসে লাওয়াম্মা: যা ভুল করলে নিজেকে ধিক্কার দেয়। (সূরা কিয়ামাহ: ২)
নফসে মুতমাইন্না: যা আল্লাহর স্মরণে শান্ত থাকে। (সূরা ফজর: ২৭-৩০)

২. "আমি অনেক বড় দ্বীনদার" এই অহংকার ছেড়ে নিজের দোষগুলো চিহ্নিত করে নিজেকে সংশোধন করা।

৩. আল্লাহর পথে নিজেকে পরিচালিত করতে মনের বিপরীতে গিয়ে নফসের সাথে যুদ্ধ করা।

৪. ধৈর্য ও বিনয়ের মতো গুণগুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে স্বভাবে পরিণত করা।

৫. আল্লাহর কাছে নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং এই দোয়া করা,

اَللّٰهُمَّ آتِ نفسي تَقْوَاهَا ، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا ، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা-, ওয়া যাক্কিহা- আন্তা খইরু মান যাক্কা-হা-, আন্তা ওয়ালিইয়্যুহা- ওয়া মাওলা-হা-।

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার নফসকে তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন। আপনিই তো তার সর্বোত্তম পরিশোধনকারী। আপনিই তার অভিভাবক এবং তার মালিক।"

© আরবি থেকে অনূদিত

সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে।
:
#হাদিস

02/19/2026

চলুন একটু ইস্তেগফার পাঠ করি..🌷

আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলাওয়ালা কুয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযিম

আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযিম

সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ!

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!

আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নালাহা গাফুরুর রাহিম!
আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নালাহা গাফুরুর রাহিম!
আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নালাহা গাফুরুর রাহিম!
রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়াতারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরীন

রব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়াতারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরীন

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম!
সুবহানআল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম সুবহনাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম!

ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু, বিরাহমাতিকা আস্তাগীস
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু, বিরাহমাতিকা আস্তাগীস
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু, বিরাহমাতিকা আস্তাগীস

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'আমাল ওয়াকিল!
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'আমাল ওয়াকিল!
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'আমাল ওয়াকিল!!

রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাছানা ওয়া ফিল আখিরাতি হাছানা ওয়া কিনা আজাবান্নার

ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমানু, ইয়া রাহিমু, ইয়া জাব্বারু,ইয়া বাসিতু,ইয়া ওয়াদুদু,ইয়া যুল যালালি ওয়াল ইকরাম,ইয়া আরহামার রহিম।

পড়া শেষ হলে বলি আলহামদুলিল্লাহ 🌸

07/25/2025

"শ'রীয়াহ কেবল কিছু নির্দিষ্ট বিষয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। কেউ যদি স্বীকার করে কিন্তু বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেটি একটি স্তর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু কেউ যদি শরী'য়াহ চায় না বা এটিকে অপছন্দ করে, তাহলে এটি বিদ্রোহের শামিল এবং ঈমান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার।"

আপনি যদি বলেন, আমি চাই না আমার দেশ শ'রীয়াহ দ্বারা শাসিত হোক, তাহলে আপনার নিজেকে মুসলমান দাবি করার অধিকার নেই।"

© শাইখ আহমাদুল্লাহ

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Asia?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Asia, TN