KM Habibullah
06/06/2026
👍
27/05/2026
প্রবাসের ঈদ: উৎসবের মাঝে এক চিলতে হাহাকার:
★
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উচ্ছ্বাস। আমাদের শৈশবের ঈদ মানে ছিল ফজরের আজানের সাথে সাথে নতুন জামা পরে ঈদগাহে যাওয়া, আর নামাজের শেষে বন্ধুদের সাথে খুনসুটি। গ্রাম বা শহরের অলিগলি, পথেঘাটে কোরবানির পশুর আনাগোনা, খোলা জায়গায় পশু যবেহ, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে হইচই করে গোস্ত কাটাকাটি—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। ঈদের দিন থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত টিফিন ক্যারিয়ার ভরে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গোস্ত বিলানোর দৃশ্যগুলো কেবল খাবার আদান-প্রদান নয়, বরং একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরে বাচ্চাদের নতুন পোশাকে পাড়া মাতিয়ে বেড়ানোর দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসলে আজও মনটা আনচান করে ওঠে। ঈদের সেই আবহ, সেই আন্তরিকতা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
★
কিন্তু প্রবাস জীবন যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। এখানে ঈদ আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়, কিন্তু হৃদয়ে তা অনুভূত হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যখন আধুনিকতার নামে কোরবানির দৃশ্যগুলোকে সম্পূর্ণ আড়াল করে ফেলা হয়, তখন মনে হয় উৎসবের মূল আমেজটাই যেন হারিয়ে গেল। এখানে কোরবানি হয়, কিন্তু তা যান্ত্রিক। কসাইখানায় পশু দেওয়া হলো, নির্দিষ্ট সময়ে মাংস বুঝে নেওয়া হলো—এতে পরিচ্ছন্নতা থাকতে পারে, শৃঙ্খলা থাকতে পারে, কিন্তু সেই প্রাণের ছোঁয়া কি আর পাওয়া যায়?
★
আর প্রবাসীদের কষ্টের কথা যদি বলি, তা তো অনেক গভীরে। এখানে আমরা প্রায় সময় নতুন কাপড়, জুতা—এসব কেনা তো দূরের কথা, নিজের ইচ্ছাকেও বিসর্জন দেই। অথচ দেশে মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন যখন ফোনে জিজ্ঞেস করেন, "কী করলি? নতুন কাপড় কিনলি?" তখন না চাইতেও মিথ্যে বলতে হয়। বলতে হয়, "হ্যাঁ, নতুন পাঞ্জাবি-জুতা সব কেনা হয়েছে।" খুব ভোরে উঠে হয়তো সেমাইও রান্না করা হয় না, কিন্তু ফোনে হাসিমুখে বলতে হয়, "খুব ভালো সেমাই খেয়েছি।" নিজের কষ্টগুলো লুকিয়ে প্রিয়জনদের মিথ্যা আনন্দ দেওয়াটাই প্রবাসীদের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
★
প্রবাসীদের ঈদ কাটানোর ধরনটাও বড় অদ্ভুত। ঈদের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে প্রিয়জনদের সাথে দীর্ঘ একটা টেলিফোন কল করা—ব্যাস, এটুকুই! এরপরের সময়টা কাটে নিস্তব্ধতায় আর ঘুমের ঘোরে। আর যাদের ঈদের দিনও ডিউটি থাকে, তাদের অবস্থা তো আরও করুণ। তারা ঈদের আনন্দ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। যান্ত্রিক সভ্যতার এই চাকায় পিষ্ট হয়ে মানুষ যখন আবেগ প্রকাশের জায়গাটাও হারিয়ে ফেলে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই কি তবে জীবন?
★
মানুষ তো যন্ত্র নয়। উৎসবের আনন্দটুকু মানুষের সম্পর্কের বাঁধন দৃঢ় করে। কিন্তু প্রবাসে সেই বাঁধনগুলো কেবল ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে আটকে থাকে। দেশে ঈদের সময় আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি যাওয়ার সেই ব্যস্ততা, হইচই আর আনন্দের যে জোয়ার, তার বিপরীতে প্রবাসের ঈদ যেন এক বিষণ্ণ মরুভূমি। প্রবাসীরা প্রতিটি ঈদেই বুকের ভেতর দেশের ফেলে আসা সেই প্রিয় দিনগুলোর জন্য একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে রাখে।
আসলে, পরিচ্ছন্নতা বা আধুনিকতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যদি মানুষের চিরাচরিত উৎসবের আনন্দকেই মেরে ফেলে, তবে সেই যান্ত্রিক শৃঙ্খলার সার্থকতা কোথায়? আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের আবেগ এবং প্রিয়জনদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোই তো আমাদের মানুষ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখে। প্রবাসের এই নিরানন্দ ঈদ মনে করিয়ে দেয়, ইট-কাঠের এই উন্নয়নের চেয়েও হাজার গুণ বেশি মূল্যবান হলো মানুষের ভালোবাসা আর উৎসবের সেই চিরায়ত আমেজ, যা আজ প্রবাস জীবনে কেবলই একটি দীর্ঘশ্বাস।
★
পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কোরবানী ও আমাদের ঈদ কবুল করেন। প্রবাসের প্রতিটি মানুষের মনের গহীনে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো মুছে দিয়ে আমাদের সামনের দিনগুলোকে যেন আরও বেশি আনন্দঘন ও খুশিময় করে তোলেন। সকল প্রবাসী ভাইবোনদের জানাই ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অনেক অনেক ভালোবাসা।
26/05/2026
অসুস্থ গরু চেনার উপায়:
ঔষধ খাইয়ে মোটাতাজাকরণ করা গরু চিনবেন যেভাবে:
রাসায়নিক বা স্টেরয়েড দিয়ে মোটা করা গরুর শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফোলা ফোলা লাগে। এই ধরনের গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যায়, যার কারণে পেছনের অংশ, উরু ও পিঠ অস্বাভাবিক রকমের ফোলা ও তুলতুলে দেখায়।
এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গরুর শরীরের মাংসল অংশে, যেমন রানে বা পিঠে আঙুল দিয়ে একটু জোরে চাপ দিয়ে দেখতে পারেন। যদি চাপ দেওয়া জায়গাটি গর্ত হয়ে বসে যায় এবং সহজে আগের অবস্থায় ফিরে না আসে, তবে বুঝতে হবে গরুর শরীরে কৃত্রিম উপায়ে পানি জমিয়ে রাখা হয়েছে। একটি সুস্থ গরুর মাংস সবসময় টানটান ও শক্ত থাকে, চাপ দিলে সাথে সাথে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তাছাড়া এই ধরনের গরুগুলো ভীষণ অলস আর ক্লান্ত থাকে। এরা ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারে না, এক জায়গায় ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। সুস্থ গরু যেখানে সবসময় চঞ্চল থাকে এবং হাটের কোলাহল দেখে সতর্ক ভাব দেখায়, সেখানে ঔষধ খাওয়া গরুগুলো একদম শান্ত থাকে। রাসায়নিকের প্রভাবে এদের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মুখ থেকে অনবরত লালা ঝরতে থাকে এবং এদের শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়, যা একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। এমনকি হাটের খড় বা কাঁচা ঘাস মুখে দিলে এরা সাধারণত কোনো আগ্রহ দেখায় না।
সুস্থ গরু চেনার অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়:
একটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কোরবানির উপযুক্ত গরু কিনতে হলে আরও কয়েকটি শারীরিক দিক ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যেমন, সুস্থ গরুর নাকের ওপরের অংশটি সবসময় হালকা ভেজা বা ঘাম ভেজা থাকে। নাক যদি একদম শুকনা বা অতিরিক্ত সর্দিযুক্ত থাকে, তবে বুঝতে হবে গরুর জ্বর বা অন্য কোনো রোগ বালাই আছে। একই সাথে গরুর চোখ দুটি উজ্জ্বল ও সতেজ হতে হবে। চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে থাকা অসুস্থতার লক্ষণ।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির গরুর বয়স অন্তত দুই বছর হতে হবে। এটি বোঝার জন্য গরুর মুখের নিচের পাটির সামনের দুটি স্থায়ী ও বড় দাঁত উঠেছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। দাঁত ছাড়া বা কেবল দুধের দাঁত থাকা গরু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।
পাশাপাশি গরুর পায়ের খুরগুলো অক্ষত এবং ধারালো আছে কিনা দেখে নেওয়া দরকার। খুরে কোনো পচন বা ক্ষত থাকলে কিংবা হাঁটার সময় গরুটি খুঁড়িয়ে চললে তা পরিহার করা উচিত। সুস্থ গরুর গায়ের চামড়া মসৃণ এবং লোমগুলো চকচকে হয়। চামড়ায় কোনো উকুন, আঠালি বা চর্মরোগ আছে কিনা তাও হাত দিয়ে একটু পরখ করে নেওয়া ভালো। সবশেষে খেয়াল রাখতে হবে পশুর যেন কোনো অঙ্গহানি না থাকে, যেমন শিং ভাঙা, লেজ কাটা বা কান ছেঁড়া গরু কোরবানি দেওয়া যায় না।
হাটে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় নিয়ে গরুটি পর্যবেক্ষণ করলে এবং সম্ভব হলে অভিজ্ঞ কাউকে সাথে রাখলে খুব সহজেই একটি সুস্থ ও ভালো পশু নির্বাচন করা সম্ভব।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
418
Doha