DENTAL HEART

DENTAL HEART

Share

29/07/2025

নবজাগরণের মহান মনীষী
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের
মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য

|| ইন্দ্র মিত্রের পুস্তক 'করুনাসাগর বিদ্যাসাগর' বই হইতে উদ্ধৃত ||
(আনন্দ পাবলিশার্স প্রকাশিত)

"...ঠাকুরদাসের আশ্রয়দাতা জগদ্দুর্লভ সিংহের কোন পরিচিত ব্যক্তি আসিয়া কহিল আপনার পরিচিত অমুক সপরিবারে ওলাউঠা রোগে আক্রান্ত হইয়াছে। সে একান্ত দরিদ্র। কেহ তাহাকে চিকিৎসা করিয়া বাঁচাইবে এমন উপায় দেখি না। ঈশ্বরচন্দ্র তথায় উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি শুনিয়া কাহাকেও কিছু কহিলেন না। আন্তরিক বড়ই ব্যথা পাইলেন। সন্ধ্যার পরেই পাক সমাধা করিয়া দীনবন্ধু ও শম্ভুকে আহার করাইয়া পিতার ভোজনের আয়োজন করিয়া সেই পীড়িত ব্যক্তিবর্গের নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনি দেখিলেন তাঁহারা পাঁচ জনেই শয্যাশায়ী হইয়াছে জল পিপাসায় অত্যন্ত কাতর। মধ্যে মধ্যে তাহারা বমি ও মলত্যাগ করিতেছে। ঈশ্বরচন্দ্র তৎক্ষণাৎ এক গৃহস্থের বাটী হইতে এক কলসী জল আনিলেন এবং চমকী ঠুকিয়া প্রদীপ জ্বালিলেন। তিনি সকলকে জল পান করাইয়া ডাক্তার ডাকিতে গেলেন।

ঈশ্বরচন্দ্রের ভ্রাতা হরচন্দ্র ওলাউঠা রোগে অকালে কালগ্রাসে পতিত হয়েন। তদবধি তাহার মনে এই সংস্কার বদ্ধমূল হয় যে যদি কেহ ওলাউঠা রোগীর পিপাসা দূর করিতে পারে তাহা হইলে শতকরা বার আনা লোকের জীবন রক্ষা হইতে পারে। একদিন একটা নিমন্ত্রণ সভায় ডাক্তার রূপচাঁদবাবুর প্রমুখাৎ শুনিয়াছিলেন যে ওলাউঠা রোগে রোগীকে যত জল খাওয়াইতে পারিবে ততই তাহার উপকার হইবে ।

ঈশ্বরচন্দ্র রূপচাঁদবাবুর অন্বেষণে যাইতেছেন সৌভাগ্যক্রমে তাহার সহিত পথিমধ্যে দেখা হইল। ঈশ্বরচন্দ্র রোগীদিগের অবস্থা সমুদায় যথাযথ রূপচাঁদবাবুকে কহিলেন। রূপচাঁদবাবু বলিলেন চল পুলীষে একবার জানাই। গবর্ণমেন্ট হইতে যদি অনাথ ব্যক্তিবর্গের যদি কিছু সাহায্য করিতে পারি। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও নবাব নেজামত হইতে দুঃখী ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য পুলীষের হাতে টাকা ও ঔষধ আছে। উভয়ে বড় বাজারের পুলীষের নিকট উপস্থিত হইলেন। পুলীষ সাহেবকে সংবাদ দিবা মাত্র তিনি কতকগুলি ঔষধের পীল দিলেন। এবং কহিলেন খুব সাবধান যেন জল অনেক না খায়। জল না খাইলে ভাল হয়। রূপচাঁদ কহিলেন সাহেব আপনার উপদেশানুসারেই চলিব। কিন্তু এখন তাঁহাদিগের মলমূত্র পরিষ্কারের জন্য একটা লোক আবশ্যক। সাহেব অতি দয়ালু ও উচ্চ বংশের লোক ছিলেন। তিনি একটী মেথরানীকে সরকার হইতে নিযুক্ত করিয়া দিলেন। এবং পথ্যের খরচ যাহা লাগিবে তাহার জন্য সর্কারে বিল করিতে বলিলেন। রূপচাঁদ কহিলেন কে অগ্রে খরচ দিবে যে পরে বিলের টাকা আদায় হইলে সে উহা পরিশোধ করিয়া লইবে। সাহেব কহিলেন আমি নিজ হইতে দুইটি টাকা দিলাম। ইহা আমার নিজের দান জানিবেন। এখন রূপচাঁদ ঈশ্বরকে সঙ্গে লইয়া রোগীদিগের নিকট আসিলেন। রোগীদিগকে দেখিয়াই কহিলেন বড় মন্দ অবস্থা। পুলীষের পীল খাওয়াইয়া উহাদিগকে অনর্থ কষ্ট দিও না, কেবল জল খাওয়াও। যদি উপকার হয় ইহাতেই হইবে। মেথরানী দ্বারা মল ও বমি পরিষ্কার করাইয়া লও। আমি বাটী হইতে পুরাতন ধৌত কাপড় পাঠাইয়া দিতেছি। তাহা জলে ভিজাইয়া উহাদিগের গাত্র মার্জনা করিবে। রূপচাঁদ ডাক্তার বাটী যাইয়া দুইটি বেদানা কিঞ্চিৎ মিছিরি ও এক কলসী উত্তম পানীয় জল ও ধৌত বস্ত্রখণ্ড পাঠাইয়া দিলেন।

মেথরানী বিষ্ঠা ও বমনের অপবিত্রতা মাত্র দূরীভূত করিয়া প্রস্থান করিল। ঈশ্বর এখন একাকী রোগীদিগকে রূপচাঁদবাবুর উপদেশানুসারে পিপাসার জল যোগাইতেছেন। ক্রমে শিশুত্রয় কথা কহিল। এখন ঈশ্বরচন্দ্রের মনে শ্রম সার্থক বোধ হইতে লাগিল। এই সময় তাহার মনে মানবীয় ধর্মশাস্ত্রের বচন উদিত হইল।

জলেন পাচয়েদন্নং জলে জীবঞ্চ দৃশ্যতে।

এবং অগ্নি পূরাণের চিকিৎসা প্রকরণের যথা শ্রুত বচনও তাহার চিত্ত ক্ষেত্রে উদিত হইল!

অজীর্ণে ভেষজং বারি জীর্ণে বারি বল প্রদং।

এইরূপে রাত্রি অবসান কালে স্ত্রীলোকটা কহিল বাবা তুমি সমস্ত রাত্রি জাগিয়া বড় দুঃখ পাইয়াছ। একবার বাবুদিগের বৈঠকখানায় শয়ন কর। বাবুরা অতি ভদ্র লোক। ঈশ্বরচন্দ্র বুঝিলেন ইহারও উপকার হইয়াছে। স্ত্রীলোকটা ভাবলি এমন দয়াময় বালক যদি না ঘুমাইয়া পীড়িত হয় তবে তাহাদিগকে আর কে দেখিবে। ঈশ্বরচন্দ্র দিবার প্রথম ভাগ তাহাদিগের নিকট অতিবাহন পূর্বক তাহাদিগকে মিছিরি ও বেদানা পথ্য দিয়া বাসায় প্রস্থান করিলেন। প্রস্থান সময়ে গঙ্গার ঘাটে স্নান সমাধা করিয়া না গেলে বাসার লোক ও গৃহস্থ জগদ্দুর্লভ বাবু যদি শুনেন যে ওলাউঠা রোগীর সেবায় নিযুক্ত ছিল সংস্পর্শাক্রান্ত রোগ-অনায়াসে বাসায় প্রবিষ্ট হইবে বিশেষতঃ রাত্রি জাগরণের পর স্নান করাই সর্বতোভাবে বিধেয় সেইজন্য বড়বাজারের ঘাটে স্নান করিতে যাইলেন। তথায় রূপচাঁদবাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল। তিনি কহিলেন রোগীরা কিরূপ আছে। ঈশ্বর কহিলেন সমস্তই মঙ্গল। রূপচাঁদ কহিলেন তোমাকে আর দুই দিন ভূগিতে হইবে। ঈশ্বর কহিলেন তাহাও কি আপনাকে কহিতে হইবে। উহা আমার নিজের কর্তব্য জ্ঞান করিয়াছি। রূপচাঁদ কহিলেন আমার কর্তব্যও আমি করিব।
ঈশ্বরচন্দ্র স্নানান্তে বাসায় আসিলে দীনবন্ধু কহিলেন দাদা কালি আপনি রাত্রিতে গিয়াছেন এখন কত বেলা হইয়াছে দেখুন দেখি। আমাদিগের আহারাদি কিছুই হয় নাই। বাবা আপনাকে মধুসূদন ঠাকুরদাদার বাসায় অনুসন্ধানে গিয়াছেন। ঈশ্বরচন্দ্র কোন কথা না বলিয়া পাক আরম্ভ করিলেন। এমন সময় ঠাকুরদাস উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসিলেন কালি রাত্রিতে কোথা ছিলি কাহাকেও কিছু বলিস নাই। আমি বেলা হইল দেখিয়া মধুসূদনের বাসায় অনুসন্ধানে গিয়াছিলাম। সে কহিল কালি তুমি তাহার সঙ্গে দেখাও কর নাই। সে আরও বলিল ও অঞ্চলে ওলাউঠার পীড়া প্রবলভাবে বিস্তৃত হইতেছে হয়ত কোন সতীর্থের পীড়ার সংবাদ পাইয়াছে তাহার সেবা শুশ্রুষার জন্য তথায় গিয়াছে। ঈশ্বরের অন্তঃকরণ অত্যন্ত মায়ায় আচ্ছন্ন পরোপকার করিতে পারিলে তাহার আহ্লাদের সীমা থাকে না। এই কথা শুনিয়া বাসায় প্রত্যাগমন করিলাম। ব্যাপারখানা কি বল দেখি শুনি।

ঈশ্বরচন্দ্র দ্বিরুক্তি করিলেন না। ঠাকুরদাসও ব্যস্ততাপ্রযুক্ত আর কিছু কহিলেন না। পূর্ববৎ সকলের আহারাদি সমাধা হইয়া গেল। ঠাকুরদাস আফিস যাত্রা করিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র দীনবন্ধুকে কহিলেন কলেজে যাইয়া আমাদিগের শ্রেণীর অধ্যাপককে কহিবি দাদা আজি এক স্থানে পীড়ার সংবাদ পাইয়াছেন তাহাদিগের সেবা শুশ্রুষার জন্য তিনি তথায় উপস্থিত থাকিবেন। তাহারা অতি দরিদ্র সূতরাং দাদা শুনিয়া থাকিতে পারিলেন না। দীনবন্ধুকে এই কথা বলিয়া ঈশ্বরচন্দ্র প্রস্থান করিলেন ।

ঈশ্বরচন্দ্র রোগীদের নিকট উপস্থিত হইয়া দেখিলেন রূপচাঁদ ডাক্তার সভৃত্য তথায় উপস্থিত আছেন। রূপচাঁদ ঈশ্বরচন্দ্রকে কহিলেন তোমার সেবায় সকলেই জীবন পাইল এবং আমার জলচিকিৎসায় অব্যর্থ ফল দেখাইতে পারিলাম। তোমার মত প্রকৃত সুবুদ্ধি কৰ্ম্মঠ এবং পরোপকারী ব্যক্তিকে না পাইলে আমার জল চিকিৎসার অব্যর্থ ফল দেখাইতে পারিতাম না। আজি হইতে তোমার নিকট চির কৃতজ্ঞতাপাশে বদ্ধ রহিলাম।...."

08/07/2025

Make an appointment
81167 40402

30/06/2025

Dr. Shibani Dhali, BDS (WBUHS)
Available at Dental Heart (A unit of MADAM CURIE MEMORIAL TRUST & RESEARCH CENTRE)

To make an appointment call at: 074785 67326





For more plz visit:
https://www.facebook.com/share/p/1FEvqRXDFF/

Want your practice to be the top-listed Dentist in Siliguri?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Ward 20, Netaji Subhas Road, Subhas Pally
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 10am - 8pm
Tuesday 10am - 8pm
Wednesday 10am - 8pm
Thursday 10am - 8pm
Friday 10am - 8pm
Saturday 10am - 8pm
Sunday 10am - 8pm