Fossils & Rupam Islam Fan Club Khardaha
লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার
23/01/2024
Bartaman Patrika-র জন্য প্রশ্ন করেছিলেন সুদীপ্ত রায়চৌধুরী। প্রয়োজনীয় প্রশ্ন। সোজাসাপটা উত্তর। পড়া যেতেই পারে।
* দু’দিন পর পঞ্চাশে পা। বয়স বাড়ছে। ভয় হয় না?
ভয় কীসের? স্বাস্থ্যচর্চার মধ্যেই আছি। তবুও যদি অতর্কিত দুর্ঘটনায় মারা যাই, সেই মৃত্যুর জন্য আমি তো দায়ী থাকব না!
* প্রায় ২৬ বছর ধরে ‘বাংলা রক’ গাইছেন। শ্রোতারা কতটা সাবালক হলেন?
সাবালকরা নিজেদের সাবালকত্বের সমর্থন খুঁজে পাবেন আমার গানে, তেমনই নাবালকরা নাবালকত্বের। আমার গান ইতিবাচক পরিবর্তন করতে পারে— এমন দাবি অনেক শ্রোতা করেন, আমি নিজে না।
* সদ্য ‘বিতর্কিত’ একটি ভিডিওতে আপনার আচরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া দু’ভাগ। কেউ বলছেন বেশ করেছে। সবার স্পেস দরকার। অন্যপক্ষের মত, সেলিব্রিটি হিসেবে শব্দচয়নে আরও সংযত হওয়া দরকার। রূপম ইসলামের কী মত?
‘স্পেস চাই’— পক্ষের পক্ষে থাকতে পারছি না। কারণ দমবন্ধ না হয়ে এলে আমার কোনও স্পেস চাই না। কোনওদিন চাইনি। দ্বিতীয় পক্ষের পক্ষে থাকব। ‘সেলিব্রিটির শব্দচয়ন’ ইত্যাদি। তবে, সেলিব্রিটি সত্তা নিয়ে রক পারফরমেন্স করা যায় না। যদি কেউ করেন, তিনি রক-পারফর্মার নন। রক-কাব্যও তিনি লেখেন না। পড়াশুনো করলেই জানা যাবে— রকশিল্পীর আত্মনিয়ন্ত্রণ করলে চলে না। তিনি হবেন লাগামছাড়া, উদ্দাম। তিনি হবেন উদ্ধত, অনিয়ন্ত্রিত। আমি লেখবার সময় যেমন লিখি, মঞ্চে গাইবার সময় যেমন গাই। মঞ্চে উঠবার সময় সেলিব্রিটির খোলস ছাড়তে হয়, মঞ্চ থেকে নেমে ওই খোলস পরতে সময় লাগে। সেই সময় ওইদিন পাওয়া যায়নি। স্টেজ থেকে সবে নেমেছি। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। ফিসফিস করে কথা বলছিলাম। বহুক্ষণ অন্য পক্ষের চিৎকৃত দাবি সহ্য করেছি। আমার স্ত্রী নিজে গিয়ে উপস্থিত লোকগুলিকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, ধাক্কাধাক্কির মধ্য থেকে আমাকে হাত ধরে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পরেও তাঁরা আমাকে কথা শোনাতে ছাড়েননি। ওখানে তো অনেকে ছিলেন। একজনও কেউ রুখে দাঁড়াননি। আমি অশক্ত অবস্থাতেও রুখে দাঁড়িয়েছি। প্রতিরোধ করেছি। শরীরে একবিন্দু শক্তি ছিল না যে গাড়ির অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে ভিড় এড়াব। তারপরও নিষ্ঠুর মানুষগুলো আমাকে অপমান করতে ছাড়েননি। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে না আসলে তারপরেও আমি ওঁদের জড়িয়ে ধরে চুমু খেতাম— যেমন সবসময় করে থাকি। আমি বেঁচে থাকি না মরে যাই— তাতে ওঁদের কিছু আসে যায় না বুঝতে পারছিলাম। তাতে কিছু মনে করিনি। কিন্তু এরপরে যখন শুনলাম—ওঁরা চেঁচিয়ে বলছেন— ‘আমরা ফ্যান’— এই মিথ্যে কথাটি শুনে সমুচিত জবাব দিতে ইচ্ছে করল। ঠিক যেমনটি সারা জীবন দিয়ে এসেছি। আমার গানের লাইনেই তো আছে— “মেপে নিই, যদি মাপে কোনও উদ্ধত নজর/ গোটা জীবনেই ফুটপাথে দাঁড়িয়ে লড়াই”। ফুটপাথে দাঁড়িয়ে যে জীবনযুদ্ধে গুন্ডাদের মোকাবিলা করেছিল বাছাই করা শব্দ উচ্চারণ করে অর্থাৎ ‘শব্দচয়ন’ করে, সেই সত্তা আমায় ছেড়ে যায়নি কখনও। ঠিক সে কারণেই মঞ্চযাপনে এবং লেখক হিসেবে আমি অসেলিব্রিটি হতে পারি। সবাই পারেন না। এটাও উল্লেখ্য— ওই বিশ্রামস্থল থেকে মিনিট পনেরো পরে বেরিয়ে ছবি তুলেছিলাম, যাঁরা ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। ভদ্রদের সঙ্গে ভদ্রতা করতে সেলিব্রিটি হতে হয় না, মানুষ হলেই চলে। উলটোটাও সত্যি।
*নিন্দুকেরা বলেন, আপনি নাকি বেজায় অহংকারী। সত্যি নাকি একটা আড়াল?
আমার সঙ্গে মিশলে আর নিন্দুক থাকতে পারবেন না কেউই। আর না মিশলে কিংবা আমার শিল্প নিয়ে চর্চা না করলে আমায় চেনা যাবে না। আমি আসলে অন্তর্মুখী। আমার তৈরি করা গান যথার্থভাবে শুনেছেন বা আমার লেখা বইগুলো পড়েছেন, এমন কেউই আমায় অহংকারী বলেন না। তবে আমি ভণিতাহীন কথা বলি। ঠিক যেমনভাবে সত্যজিৎ রায় তাঁর এক শিশুভক্তের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। স্টেটকাট, টু দ্য পয়েন্ট। সেই শিশুভক্ত আমিই ছিলাম।
* রূপম ও বাংলা রক সমার্থক। কিন্তু তার পর? পরবর্তী প্রজন্মের তো কেউ নেই। আক্ষেপ হয়? কখনও কাউকে শেখানোর কথা ভেবেছেন?
‘বাংলা রক একাডেমি’ গঠন করবার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু একার পক্ষে তো এর ব্যয়ভার পোষণ করা সম্ভব না। আর টাকা বা অন্য সুবিধে চেয়ে কারুর কাছে তদ্বির করাটা আসে না আমার। শেখাবার সুযোগ পেলে আমি তরুণ শিল্পীদের রক সংগীতের দর্শনের পাঠ দেব। প্রতিভা আর পরিশ্রমের দিকটা তরুণেরা নিজেরাই জানেন। ‘পরবর্তী প্রজন্মের কেউ নেই’ কথাটা তাঁরাই বলেন, যাঁরা নিজেরা সংগীত শোনেন না, অন্য কেউ শুনিয়ে দেন। আমি অনেককে দেখি যাঁরা ক্ষমতাবান।
* শেষ প্রশ্ন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন মাথার চুল ও প্রিয় ভক্তকুল ভ্যানিশ। কী করবেন?
জয় গোস্বামী সদ্যপ্রকাশিত আমার কবিতার বই ‘তীরে এসো, সাহসিনী’ হাতে নিয়ে দু’চারটি কবিতা পড়ে বললেন— “এটি আপনার প্রথম কবিতার বই?” আমি বললাম “আজ্ঞে হ্যাঁ।” জয়দা বললেন— “শুনুন— আপনার প্রতি আমার একটি দাবি থাকবে। প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর আপনাকে একটি করে কবিতার বই বের করতেই হবে। সেটা আপনি করছেন কিনা সেই খোঁজ রাখবার জন্য আমি বেঁচে থাকব। মরব না।”
আমার চুলও চাই না। ভক্তকূলও চাই না। শুধু এই একজন মানুষ— জয় গোস্বামী— যাঁর আমি আকৈশোর ভক্ত— তাঁকে এরকম কিছু কথা বলতে শুনেছি এবং আরও শুনবার সম্ভাবনা আছে— এটা জেনেই মহানন্দে আমার বাকি শিল্প-জীবন কেটে যাবে।
05/12/2023
This is how December and January looks for
13/11/2023
Happy birthday Diwalipee man 🖤🤘🏽
Happy Birthday, .
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Bhattachariya Para
Kolkata
700117