Manas Halder

Manas Halder

Share

22/02/2026

✌️মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এক লোক বাচ্চা নিয়ে কিছু একটা কিনতে এসেছে। লোকটা সম্ভবত রিকশাচালক, দিনমজুর বা ওইরকম কিছু। শুকনো, হাড্ডাসার, কন্ঠার হাড্ডি বেরিয়ে গেছে। অভাব-অনটনের ছাপ তার চোখেমুখে।

বাচ্চাটারও একই অবস্থা। লোকটা আড়াইশো গ্রাম সয়াবিন তেল আর লবন কিনল। বাচ্চাটা জুলজুল চোখে লজেন্সের বয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা চাইতে সাহস পাচ্ছে না। ওর বাবা সেটা বুঝতেও পেরেছে, কিন্তু দারিদ্র্য মাঝে মাঝে চোখে নির্লজ্জ টিনের চশমা পড়িয়ে দেয়। ছেলের মায়াভরা মুখটা দেখে বাবা থাকতে না পেরে বলল, "কিছু নিবি?"

ছেলেটা লাজুক হেসে আঙুল তুলে দেখাল। বাবা লজেন্সের বয়াম খুলে দুইটা লজেন্স ছেলের হাতে দিয়ে বলল, "তিনের ঘরের নামতাটা বল তো বাবা।" বলেই আড়চোখে সবার দিকে তাকাল। তার সেই দৃষ্টিতে কেমন একটা চাপা ভয়! যদি না পারে? সবাই তো তাকিয়ে আছে!

কৌতূহল নিয়ে আমিও চেয়ে আছি ছেলেটার দিকে। দোকানদারও সরু চোখে দেখছে। এই পিচ্চি ছেলে! নাক দিয়ে সর্দি ঝরছে, সে বলবে তিনের ঘরের নামতা!

ছেলেটির হাতে লজেন্স। সে বাবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লজ্জা ঝেড়ে ফেলে সে বলতে শুরু করল, "তিন এক্কে তিন, তিন দুগুনি ছয়, তিন তিরিক্কে নয়, তিন চারে বারো..."

কেমন টেনেটেনে গানের তালে মাথা নেড়েনেড়ে সে বলে যাচ্ছে। বাবার চোখে যেন নামতার পাতাটা সেঁটে আছে, ও শুধু দেখে দেখে পড়ে যাচ্ছে। নামতা শেষ হলো ত্রিশ কি চল্লিশ সেকেন্ডে। শেষ করে সে একটা লজেন্স মুখে পুরল। ঝলমলে মুখে বাবাকে বলল, "আমি চারের নামতাও জানি। বলব?"

সেই জীর্ণ শীর্ণ লোকটা, হয়তো প্রতিদিন ঠিকমতো খেতেও পায় না, পাঁচ টাকা বেশি চাইলে দুইচারটা গালি খায়, মহাজনের গুঁতো খায়। গাল ভাঙা কুঁজো হয়ে যাওয়া মানুষটা প্রতিদিনই হেরে যায় — সমাজের কাছে, সংসারের কাছে, পিতৃত্বের কাছে।

আজ সে হারেনি। আজ তার অনেক বেশি আনন্দ। সবার সামনে ছেলে তার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার সে আড়চোখে না, পূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের সবার দিকে তাকাল। তার বুক গর্বে ভরে গেছে, তার চোখে আনন্দের অশ্রু।

যে লোক শুধু পরাজিত হওয়ার জন্যই জন্মেছে, আজ সে পরাজিত না। সে আসলে অনেক বড় যোদ্ধা। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী। আমরা তো যুদ্ধের আগে নানান পরিকল্পনা করি, কত ফন্দিফিকির, কাকে নিচে নামিয়ে, কাকে মাড়িয়ে উপরে উঠব। কিন্তু এই লোকগুলো কাউকে মাড়িয়ে উপরে উঠতে চায় না, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রাণপণ যুদ্ধ করে যায় — প্রতি মুহূর্তে!

যে সিঁড়ি বেয়ে আমরা তড়তড়িয়ে উপরে উঠে যাই, আমরা কি জানি এদের মতো মানুষদের কাঁধের উপরেই সেই সিঁড়ি চাপানো? লোকটা আজ সাহস পেয়েছে। তিনের ঘরের নামতাটা যেন শুধু নামতা নয়, একটা সাহস, একজন বাবার বুকভরা আশা, একটি অবলম্বন। তিনের ঘরের নামতাটা এই দরিদ্র লোকটার স্বপ্ন পূরণের উপাখ্যান।

লোকটা তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল। সে গামছা দিয়ে চোখ মুছছে। দোকানি হঠাৎ ফ্রিজ খুলে একটা ললি আইসক্রিম পিচ্চির হাতে দিল, "সাবাস বেটা! জজ ব্যারিস্টার হয়ে দেখিয়ে দিস সবাইকে। নে, আইসক্রিমটা খা।"

ছেলেটা খুশি মনে আইসক্রিমটা নিল। বাবা ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে আছি। দোকানদার আমাকে বলল, "আমি তো ভাবতেও পারিনি, বাঁদরটা কেমন গড়গড় করে নামতা বলে গেল! দেখলেন কারবারটা!"

একি! দোকানির চোখেও অশ্রু! আসলে যারা ক্ষুধার কষ্ট জানে, তাদের একজনের সাথে অন্যজনের মন একই সুতোয় গাঁথা থাকে। একজনের ব্যথা আরেকজন বুঝতে পারে, আবার আনন্দগুলোও স্পর্শ করে প্রবলভাবে।

আর আমরা? কোটি টাকার স্বপ্নে বিভোর আর প্রতিযোগিতার উন্নাসিকতায় বিভোর হয়ে ভুলে যাই আমরা আসলে কি!

আমি রাস্তায় নেমে একা একা হাঁটছি আর বলছি, "তিন এক্কে তিন, তিন দুগুণে ছয়...!" ওদের আনন্দ আজ আমাকেও সংক্রামিত করেছে।

#সংগৃহীত
#সমাজ

#মানসিকতা

#সহানুভূতি

11/02/2026

আলসেমির সম্মাননা: এনার্জি-সেভিং সিস্টেমের লুকানো যুক্তি

মানুষের জীবনে কিছু শব্দ আছে যেগুলো আমরা প্রায় গালির মতো ব্যবহার করি—

“আলসেমি” তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

যদি কেউ কোনো কাজ না করে, আমরা বলি—

“লোকটি খুব অলস।”

কিন্তু সত্যি কথা হলো—

মানুষ অলস নয়,

তার ব্রেন বুদ্ধিমান।

ব্রেনের জন্মগত নীতি হলো—

কম শক্তিতে বাঁচা।

সারা দিন ব্রেন এত এনার্জি খরচ করে যে

সে যেকোনো বাড়তি কাজ দেখলেই সন্দেহ করে—

“এটা কি সত্যিই করা দরকার?”

আমরা যে অনুভব করি—

“মন নেই,”

“ইচ্ছে হচ্ছে না,”

“শুরু করতে পারছি না”—

এগুলো অলসতার লক্ষণ নয়;

এগুলো ব্রেনের বাঁচার কৌশল।

এই অধ্যায়ে আলসেমিকে আমরা দোষী না বানিয়ে

তার ভেতরের বিজ্ঞান ও যুক্তি বুঝব।

আর শিখব—

কীভাবে সেই আলসেমিকেই

আমাদের কাজের পক্ষে কাজে লাগানো যায়।

১. ব্রেনের প্রাচীন পরিকল্পনা: কম করে বাঁচো

মানুষ যখন গুহায় থাকত,

খাবার অনিশ্চিত ছিল,

হুমকি ছিল সবসময়।

তখন ব্রেন একটি নিয়ম তৈরি করে—

“দরকার ছাড়া এনার্জি খরচ করো না।”

এটা শুধু নিয়ম নয়;

এটা ছিল বাঁচার কৌশল।

যেটা একসময় জীবন রক্ষা করেছিল,

আজ সে-ই আমাদের ব্যায়াম করতে দেয় না,

বই লিখতে দেয় না,

গোছগাছ করতে দেয় না,

এমনকি নতুন কিছু শিখতেও বাধা দেয়।

ব্রেন মনে করে—

“এত পরিশ্রম কেন?

আরো সহজ একটা রাস্তা নিশ্চয়ই আছে।”

এই ভাবনার নামই আমরা দিই—আলসেমি।

কিন্তু ব্রেনের দৃষ্টিতে এটা বুদ্ধিমত্তা।

সে আসলে এনার্জি বাঁচানোর চাকরি করছে।

২. আলসেমি আসে কাজের আকার দেখে—কাজের আসল কঠিনতা দেখে নয়

যে কাজটি আপনি ভাবছেন—

“এটা অনেক কঠিন”—

সেটিকে ব্রেন আরও কঠিন করে তোলে।

এক থালা ধুতে ৩০ সেকেন্ড লাগে,

কিন্তু ব্রেন এটাকে ৩০ মিনিটের কাজ মনে করায়।

বিছানা গুছাতে ১ মিনিট লাগে,

কিন্তু ব্রেন এটাকে “বড় দায়িত্ব” বানায়।

১০ লাইন লিখতে ২ মিনিট লাগে,

ব্রেন মনে করায়—

“আজ লিখতে বসলে পুরো বই শেষ করতে হবে!”

আলসেমি কাজের পরিমাণ দেখে হয়,

সময় দেখে নয়।

আলসেমির অনুভূতি আসে কাজকে দেখে—

“এটা একটা বড় পাহাড়।”

পাহাড় দেখে যে কেউ ভয় পাবে।

পাথর দেখলে কেউ ভয় পায় না।

অতএব কাজ যত বড় দেখাবে,

আলসেমির তত বেশি সৃষ্টি হবে।

এটিই ব্রেনের ভ্রম—

আর সেই ভ্রম ভাঙলেই আলসেমি কমে আসে।

৩. আলসেমির তিনটি উৎস: ভয়, অনিশ্চয়তা, এবং অস্পষ্টতা

ক) ভয়

ব্রেন ভয় পেলে কাজ ফেলে রাখে।

ভয় মানে অনিশ্চিত খরচ।

খরচ মানে ঝুঁকি।

ঝুঁকি মানে ব্রেনের কাছে বিপদ।

সুতরাং ব্রেন চায়—ঝুঁকি ছাড়া বাঁচতে।

খ) অনিশ্চয়তা

যে কাজের ফল অজানা,

ব্রেন সেটাকে শুরু করতে চায় না।

এটা মানুষের চেয়ে ব্রেনের সমস্যা বেশি।

গ) অস্পষ্টতা

আপনি যদি বলেন—

“আজ কাজ করব,”

ব্রেন জিজ্ঞেস করে—

“কোন কাজ? কতক্ষণ? কেন?”

উত্তর হালকা হলে

ব্রেন বলে—“থাক, পরে করি।”

যে কাজ স্পষ্ট নয়,

সে কাজ আলসেমিকে আমন্ত্রণ দেয়।

এ কারণেই

আলসেমি আসে না কাজ থেকে—

আসে কাজের অস্পষ্টতা থেকে।

৪. আলসেমির আরেক রূপ: অতিরিক্ত চিন্তা

আমরা ভাবি অলস মানুষ চিন্তা করে না।

ব্রেন বলে—

“অলস মানুষই বেশি চিন্তা করে।”

যে মানুষ খুব চিন্তা করে,

সে কাজে দেরি করে।

কাজ অসম্ভব দেখায়,

ব্রেন ভাবে—

“এটা করতে গেলে অনেক এনার্জি লাগবে।”

অতিরিক্ত চিন্তা হলো

আলসেমির পরোক্ষ প্রমাণ।

যদি আপনি বলেন—

“আমি কাজ করব, কিন্তু ভাবছি কিভাবে শুরু করব,”

তাহলে কাজ শুরু হওয়ার আগেই

ব্রেন ক্লান্ত হয়ে যায়।

এই ক্লান্তি থেকেই জন্ম নেয়—

“আজ আর নয়।”

৫. আলসেমিকে হারানোর নয়—আলসেমিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল

আলসেমি আমাদের ব্রেনের অংশ।

তাকে বাদ দেওয়া যায় না।

কিন্তু তাকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।

যেমন—

আপনি যদি বলেন—

“আমি ৩০ মিনিট ব্যায়াম করব,”

ব্রেন ব্রেক লাগিয়ে দেবে।

কিন্তু যদি বলেন—

“মেঝেতে শুধু বসে থাকি ২ মিনিট,”

ব্রেন ভাবে—

“এটা ঠিক আছে।”

আপনি ২ মিনিট বসে থাকলে

সুযোগ তৈরি হয়—

“যেহেতু উঠে পড়েছি, ২-৩টা ব্যায়াম করেও দিই।”

আলসেমিকে হারিয়ে নয়,

আলসেমিকে নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়ে

আপনি এগোতে পারেন।

তার মানে কাজের লক্ষ্য কম করা নয়—

কাজের শুরুটা ছোট করা।

৬. ডোপামিনের অভাবেই আলসেমি বাড়ে

ব্রেন ডোপামিন ছাড়া

কোনো কাজ করতে চায় না।

ডোপামিন হলো আনন্দের বার্তা।

যে কাজ আনন্দের সঙ্গে যুক্ত,

ব্রেন সেটাকে আবার করতে চায়।

যে কাজ বিরক্তিকর,

ব্রেন সেটাকে ঠেলে রাখে।

তাই আপনি যখন কাজ শুরু করতে পারছেন না,

এর মানে কাজে ডোপামিনের অভাব।

যদি আপনি কাজ শুরুর সাথে

ছোট পুরস্কার যোগ করেন—

একটি গান
এক কাপ চা
৩ মিনিট জানালার পাশে দাঁড়ানো
নিজের প্রতি ছোট প্রশংসা

ব্রেন মনে করবে—

“এ কাজেও পুরস্কার আছে।”

তখন আলসেমি কমে যাওয়া শুরু হয়।

৭. পরিবেশ আলসেমিকে বাড়ায় বা কমায়

বেশিরভাগ মানুষ ভাবে—

আলসেমি মনের ব্যাপার।

আসলে এটা পরিবেশের ব্যাপার বেশি।

এক বিশৃঙ্খল টেবিল

ব্রেনকে সিগন্যাল দেয়—

“এখানে কাজ নয়, স্মৃতি আছে।”

এক অবিন্যস্ত ঘর

ব্রেনকে বলে—

“এটা বিশ্রামের জায়গা, উন্নতির নয়।”

আলসেমি বাড়ে যখন পরিবেশ ব্রেনকে ভুল সংকেত দেয়।

আপনি যদি টেবিলে শুধু একটাই কাজ রাখেন—

একটা নোটবুক বা ল্যাপটপ—

ব্রেন বুঝে যায় এখানে শুধু কাজই হবে।

পরিবেশ বদলানোর সাথে সাথে আলসেমির তীব্রতাও কমে।

৮. আলসেমির মজার দিক—সে আপনাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে চায়

আমাদের মাথায় সবসময় যে দ্বন্দ্ব চলে—

“কাজ করব, না করব না”—

এর মধ্যে আলসেমি আসলে মাঝখানে দাঁড়িয়ে

দুই পক্ষের কথা শোনার চেষ্টা করে।

আপনি যদি তাকে ভালোভাবে বোঝাতে পারেন—

“এই কাজ আমাকে বিপদে ফেলবে না,”

সে আপনাকে কাজ করতে দেবে।

তাকে যদি মনে করিয়ে দেন—

“এটা ছোট কাজ, সহজ কাজ, দ্রুত কাজ,”

সে কোনো বিরোধ দেখাবে না।

তাই আলসেমিকে শত্রু বানালে সে আপনাকে আটকাবে।

আলসেমিকে বন্ধু বানালে সে আপনাকে এগোতে দেবে।

এই জায়গাটাই হলো

আলসেমির আসল সম্মাননা।

৯. আলসেমির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না—তাকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করবেন

আপনি যদি বলেন—

“আজ আমি ১০ পৃষ্ঠা লিখব,”

আলসেমি বলবে—

“অসম্ভব।”

কিন্তু আপনি যদি বলেন—

“আমি শুধু কম্পিউটার খুলব,”

আলসেমি রাজি হয়ে যাবে।

এটা যুক্তিহীন শোনালেও

মানব ব্রেন এভাবেই কাজ করে।

যে জিনিস আলসেমি মানতে পারে,

সেটুকু দিয়েই কাজ শুরু করতে হবে।

একবার শুরু হলে

আলসেমির ক্ষমতা কমে যায়।

ব্রেন ভেতরে ভেবেই ফেলে—

“আচ্ছা, এতটা এসে পড়েছি,

এখন অল্প আর এগিয়ে যাই।”

অর্থাৎ—

আলসেমি আপনাকে থামায় শুরুতে,

কিন্তু একবার শুরু হলে

সে আপনাকে আর থামাতে পারে না।

শেষ কথা: আলসেমি আপনার ভিতরের শত্রু নয়—সতর্ক রক্ষক

আলসেমি হলো—

ব্রেনের নিরাপত্তা বেষ্টনী।

সেখানে সে আপনাকে রক্ষা করতে চায়,

কষ্ট থেকে,

ঝুঁকি থেকে,

অতিরিক্ত চাপ থেকে।

আমরা আলসেমিকে দোষ দিই,

গাল দিই,

নিজেকে খাটো করি,

কাজ ফেলে রাখি।

কিন্তু যদি বুঝতে পারি—

এটা ব্রেনের প্রাকৃতিক প্রবণতা,

তাহলে আমরা তাকে

শাস্তি না দিয়ে

ধীরে ধীরে পথ দেখাতে পারব।

আলসেমিকে নিজের পক্ষে আনতে পারলে

কাজ শুরু হবে সহজে,

রুটিন তৈরি হবে দ্রুত,

আর অভ্যাস গড়ে উঠবে স্থায়ীভাবে।

#সংগৃহীত

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in KOLKATA?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Tollygunje
Kolkata
700040