Newscopes.in
13/03/2026
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধঃ ভারতীয় রূপির রেকর্ড পতনে ৯২.৩৯, সর্বনিম্নে
১৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের মুদ্রা রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ভারতের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে এবং মূদ্রাস্ফীতিও বাড়তে পারে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এদিন প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৯২.৩৯, যা আগের দিনের ৯২.৩৫৭৫ রুপির রেকর্ড নিম্নস্তরকেও অতিক্রম করেছে। ফলে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর থেকে রুপির মান ১ শতাংশের বেশি কমেছে। যদিও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ করায় উদীয়মান অর্থনীতির অনেক দেশের মুদ্রার তুলনায় রুপি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। তেলের দাম বাড়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
, সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রুপির দুর্বলতার প্রভাব ইতোমধ্যে মূদ্রাস্ফীতি পড়তে শুরু করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী খুচরা মূদ্রাস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৩.২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ২.৭৪ শতাংশ। গত প্রায় দশ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
খাদ্য মূদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। এটি আগের মাসের ২.১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৩.৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নতুন সংশোধিত সিপিআই সূচকে ভিত্তিবছর ২০২৪ ধরা হয়েছে এবং ভোগ্যপণ্যের তালিকা ২৯৯টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫৮টি করা হয়েছে।
এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, টানা চার মাস ধরে মূল্যসূচক বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই সূচক দাঁড়িয়েছে ১০৪.৫৭, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০৪.৪৬। এই সময়ে সোনা-রুপার গয়না এবং টমেটো, ফুলকপি ও শুকনো নারকেলের মতো কিছু কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে রসুন, পেঁয়াজ, আলু ও অড়হর ডালের মতো কিছু খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে।
সংশোধিত সিপিআই সূচক অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের ওজন এখন মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশেরও কম, আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের অংশ ৬০ শতাংশের বেশি। গ্রামীণ অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩৭ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৩.০২ শতাংশ হয়েছে। যদিও এটি এখনও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্ধারিত ২ থেকে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুপির ওপর চাপ বাড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে— আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের উদীয়মান অর্থনীতির বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান।
এদেশ তার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। ফলে এই পথে কোনো বিঘ্ন ঘটলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
13/03/2026
আজ ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে ডিএ দাবীতে ধর্মঘট, রাজ্য সরকারের কড়া বিরোধীতার নির্দেশ
13 Mar 2026
আজ শুক্রবার ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক সরকারি কর্মচারী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠনের। সেই ধর্মঘট সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় সরকারি দফতর গুলিতে প্রচার করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
তবে ধর্মঘট ব্যর্থ করতে বদ্ধপরিকর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল সমর্থিত এই সংগঠনের দাবি, তারা ধর্মঘটের বিরোধী। সরকারি কর্মীরা যাতে দফতরে আসতে পারেন, স্কুল-কলেজ খোলা থাকে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ এখনও মেটায়নি রাজ্য সরকার৷ উল্টে তারা শীর্ষ আদালতে আবেদন করে আরও সময় চেয়েছে। মূলত তার বিরোধিতা করেই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সরকার বিরোধী একাধিক সংগঠন। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হবে।
এই বিষয়ে সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল জানান, 'রাজ্য সরকারি কর্মীরা ডিএ পাচ্ছেন না। শীর্ষ আদালতে আমরা মামলায় জিতলেও সরকার নির্দেশ মানছে না। ৬ লক্ষ শূন্যপদ আছে। তা পূরণ করতে হবে। এই সব দাবিতে আমর ধর্মঘট ডেকেছি। জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাগুলো ছাড়া সর্বত্র ধর্মঘট থাকবে। আমরা রাস্তায় নামব তা সফল করার জন্য।'
তাঁর আরও সংযোজন, 'এই সরকার দিনের পর দিন কর্মচারীদের অধিকার থেকে ব্রাত্য করছে। সবক্ষেত্রে কর্মচারীদের কাজ করিয়ে নিচ্ছে কিন্তু প্রাপ্য অধিকারটুকু দিচ্ছে না। আগেও আমরা ধর্মঘট ডেকেছিলাম। সফল হয়েছিল। এবারও তাই হবে। সব ক্ষেত্রের কর্মীদের সাড়া পাচ্ছি।'
তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের দাবি, এই ধর্মঘট সফল হবে না। ওই সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক এই বিষয়ে বলেন, 'ধর্মঘট সফল হবে না। আমরা সরকারি কর্মীদের অফিসে আসতে বলেছি। তাদের উপর নজর থাকবে। গণতান্ত্রিক রাজ্য। সবাই বনধ ডাকতে পারে। কিন্তু এতে পরিষেবা ব্যহত হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। আমাদের তরফেও পাল্টা প্রচার চালানো হচ্ছে।'
দেবাশিস শীলের বক্তব্যের পাল্টা তিনি বলেন, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মীদের জন্য অনেক কাজ করেছেন। এ রাজ্যে পেনশন আছে। অন্য রাজ্যে তো তা নেই। এছা়ড়া তিনি ডিএ দিচ্ছেন নিয়মিত। ওরা আসলে বিরোধিতা করার জন্য করছে।'
তবে প্রতাপ নায়েকের মন্তব্যের সমালোচনা করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ। তিনি বলেন, 'প্রতাপ নায়েকদের সরকারি কর্মীদেরব উপর নজরদারি না করে বরং সরকারের উপর নজর দেওয়া উচিত। এই সরকার কর্মীদের নূন্যতম ডিএ টুকুও দিচ্ছে না। সেটার সমাধান দরকার। ধর্মঘট হবেই। আর তা সফলভাবেই হবে। কারণ, সরকারি কর্মীদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এটা তাদের অস্তিত্বের লড়াই।'
এদিকে ১৩ মার্চ ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ওই দিন সমস্ত সরকারি দফতর স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে এবং কর্মীদের অবশ্যই কাজে যোগ দিতে হবে।
নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৩ মার্চ কোনও সরকারি কর্মীকে ওই দিনের জন্য ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনও ছুটি দেওয়া হবে না। দিনের প্রথমার্ধ, দ্বিতীয়ার্ধ বা পুরো দিনের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন কেউ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, সেই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীর কোনও বেতন দেওয়া হবে না। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন— কোনও কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে, ১২ মার্চের আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকলে বা আগে থেকে অনুমোদিত চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মেডিক্যাল লিভ বা আর্নড লিভে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হবে।
এ ছাড়াও নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৩ মার্চ কেউ অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ওই কর্মীর কাছে শোকজ় নোটিস পাঠাবেন। সেখানে জানতে চাওয়া হবে কেন তাঁর বিরুদ্ধে অননুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কর্মী যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।
তবে যদি অনুপস্থিতির যথাযথ কারণ না দেখানো যায় বা অনুমোদিত ছুটি না থাকে, তা হলে সেই দিনটিকে ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বেতন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি শোকজ়ের জবাব না দিলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অর্থ দফতরের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাতে হবে। বন্ধের দিন সরকারি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকটি সংগঠনের ডাকা ১৩ মার্চের ধর্মঘটকে সামনে রেখেই আগাম এই নির্দেশ জারি করল রাজ্য সরকার, যাতে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত না হয়। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে যে কোনও ধরনের বন্ধ বা ধর্মঘটের সরাসরি বিরোধিতা করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কো-অর্ডিনেশন কমিটি, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
02/03/2026
03/01/2026
https://newscopes.in/page/news/fRbvclZM2eQP6Z1e
Newscopes | তৃণমূল সাংসদ মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরলেন বললেন, 'প্রধান বিরোধী বিজেপি' ২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তরে জয়লাভ করেছিলেন গনির ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকে ....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Kolkata
700011