Kalishankar Seva Ashram
27/04/2023
Jay Swaminarayan...
Swaminarayan puja
13/09/2018
Jai Shree Ganesh...OM Gan Ganapatay Namah..
গণেশ পূজার জন্য বিশেষ দিন হচ্ছে ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী। সাধারণত শ্রাবণ, ভাদ্র, অগ্রহায়ণে এই পূজা হয়। কিন্তু যে কোনও মাসের শুক্লা চতুর্থীতে ওঁর পূজা করা যেতে পারে। বুধবার যে হেতু শ্রীগণেশের জন্মবার, ওই দিনও পূজা করা যায়।
কথিত আছে, গণেশকে নিজ-হাতে গড়েছিলেন পার্বতী ৷ তারপর তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন দেবী ৷ জীবনদানের পর ওই বালককে নিজ-পুত্র রূপে স্বীকার করেন তিনি ৷ গণেশের যখন জন্ম হয় তখন মহাদেব কৈলাসে ছিলেন না ৷ তিনি ফিরে এসে দেখেন, একটি গুহার ভিতর রয়েছেন পার্বতী ৷ আর সেই গুহাদ্বার পাহারা দিচ্ছে একটি ছোট বালক ৷ মায়ের আদেশে গুহাদ্বার রক্ষা করছিল গণেশ ৷
শিব এসে সেই গুহায় প্রবেশ করতে চাইল গণেশ বাধা দেয় ৷ এতেই রেগে যান শিব ৷ দেবতাদের সঙ্গে গণেশের যুদ্ধ বাঁধে ৷ কিন্তু সমস্ত দেবতাই পরাস্ত হন পুঁচকে ওই ছেলের সামনে ৷ তখন রেগে গিয়ে শিব ত্রিশূল দিয়ে গণেশের মস্তকছেদ করেন ৷ গণেশের মৃত্যুতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন পার্বতী ৷
শিব তখন অন্য দেবতাদের নির্দেশ দেন উত্তর দিকে গিয়ে যার মাথা আগে দেখতে পাবে সেই মাথাই কেটে নিয়ে আসতে। দেবতারা প্রথমেই একটি হাতি পেয়ে তারই মাথা নিয়ে আসে। সেই মাথাটিই গণেশের দেহে বসিয়ে দেন শিব।
এরপর থেকেই প্রথম পূজ্য হিসেবে মান্যতা পান গণেশ ৷ গণেশকে বলা হয় বিঘ্নহন্তা অর্থাৎ যিনি বাধা বিপত্তি নাশ করেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানা বিপত্তি থেকে মুক্তি পেতেই ভক্তরা এই পুজো করেন।
জন্মের পর থেকে গণেশকে 'পার্বতী পুত্র' বলেই সম্বোধন করা হত। এর পর বাবা মহাদেব ছেলের নামকরণ করেন গণেশ। গণেশের অর্থ হল গণের নেতা। এর পর থেকেই গণেশ নামে পরিচিত হন তিনি।
পুরাণমতে ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে বিবাহ বয় গণপতির। তাঁর দুই সন্তান হল ক্ষেম ও লাভ।
যদি মন্দিরে যাওয়া সম্ভব নাও হয়, আপনার ঠাকুরঘরে থাকা গণেশ মূর্তিকে পুজো করুন। মূর্তির জায়গায় ছবি থাকলে, সেই ছবির সামনেই বসে পুজো করুন। জেনে নিন কীভাবে তুষ্ট করা যায় গণপতিকে।
• সকালে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে শুদ্ধ মনে গণেশের আরাধনা করুন। গুড়-ধনের ভোগ নিবেদন করুন।
• গণেশের মূর্তি বা ছবির সামনে বসে গণপতি অথর্বশীর্ষ পাঠ করুন। এতে গণেশ প্রসন্ন হন।
• গণেশ চতুর্থীতে সবুজ ফল দান করতে হয়। তাই গণেশের উদ্দেশে আঙুর বা পেয়ারা নিবেদন করতে পারেন।
• যদি আপনার ঘরে বিবাহযোগ্যা মেয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই গণেশকে মালপোয়ার ভোগ নিবেদন করুন। সুফল পাবেন।
দেব-দেবীদের মধ্যে গণেশকে সুখ-সমৃদ্ধির দেবতা বলা হয়। কোনও কাজ শুরুর সময়ে গণেশের দর্শন শুভ বলে মানা হয়। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, গণেশের একটি অঙ্গের দর্শনই তাঁর ভক্তের কাছে সমস্যার হতে পারে।
শাস্ত্র মতে, ভগবান গণেশের মধ্যে পুরো ব্রহ্মাণ্ডের বীজ বাস করে। এর মধ্যে ভাল ও খারাপ দুই-ই থাকে। ওঁর কান, হাত, উদর ও নাভিতে ‘শুভ’ অধিষ্ঠান করে। আর পিঠে অবস্থান করে ‘অশুভ’।
ফলে গণেশের পিঠ দর্শন করলে তা অশুভ ফল দিতে পারে। শাস্ত্র অনুযায়ী, গণেশের ডান হাতে বর, বাঁ হাতে অন্ন, উদরে সমৃদ্ধি, নাভিতে ব্রহ্মাণ্ড, চোখে লক্ষ্য ও মাথায় ব্রহ্মলোক অধিষ্ঠান করে।
আর গণেশের পিঠে দারিদ্র বাস করে। মনে করা হয়, তাঁর পিঠ কোনও ব্যক্তি দর্শন করলে তাঁর জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে আসে। শুধুই ধনক্ষয় নয় বা শুধুই ভাগ্যবান ব্যক্তি ছারখার হয়ে যান না, সঙ্গে সেই ব্যক্তিকে কাজের জায়গায় অপমানিতও হতে হয়।
যদি কেউ ভুল করে গণেশের পিঠ দেখে ফেলেন, তাহলে একটি কাজ তিনি করতে পারেন। তিনি গণেশের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারেন। স্বচ্ছ চিত্তে গণেশের ধ্যান করতে পারেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই কুপ্রভাব কাটাতে গণেশের নাম জপ করা উচিত।
এখন দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন সমস্যার জন্য আলাদা আলাদা গণেশ অভিষেকের নিয়মঃ—
১। আপনি যদি চাকরি পাওয়ার জন্য পূজা করেন, তা হলে আগের দিন রাত্রে একটি পাত্রে গঙ্গাজল দিয়ে তার মধ্যে একটু সুপারি ভিজিয়ে রাখুন। পর দিন ওই সুপারিটি তুলে নিয়ে ওই জল দিয়ে মন্ত্র বলতে বলতে অভিষেক অর্থাৎ স্নান করান।
২। যদি প্রচুর শত্রুতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে হাতির দাঁতের তৈরি কোনও জিনিস গঙ্গাজলে ডুবিয়ে রেখে সেই জল দিয়ে অভিষেক করান। বা গঙ্গাজলের মধ্যে লাল চন্দন গুঁড়ো ফেলে তার মধ্যে দেবদারু পাতা ভিজিয়ে সেই জল দিয়ে অভিষেক করালেই শত্রু দমন হয়।
৩। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে বা চাকরিতে পদোন্নতি আটকে গেলে আপনি পান পাতার রস কাপড়ে ছেঁকে তার সঙ্গে একটি এলাচ, একটি লবঙ্গ এবং একটু মৌরি বেটে তার রসটুকু কাপড়ে ছেঁকে নিয়ে অর্ধেক সুপারি এক সঙ্গে গঙ্গাজলে মিশিয়ে সেই জল দিয়ে অভিষেক করাবেন।
৪। অনেকের বহু দিনের ইচ্ছা একটা নিজস্ব বাড়ি। কিন্তু কিছুতেই তা পূরণ হচ্ছে না। সিদ্ধিদাতার কাছে মনপ্রাণ দিয়ে কামনা করুন। দেখবেন ঠিক উনি পূরণ করবেন আপনার সাধ। পূজার আগে গঙ্গাজলে একটু বেসন মিশিয়ে নিয়ে সেই জল দিয়ে ওঁর অভিষেক করাবেন।
৫। কোথাও কোনও টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু পাচ্ছেন না। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সিদ্ধিদাতার কাছে প্রার্থনা জানাবেন এবং অভিষেকের সময় গঙ্গাজলের পাত্রে একটু আখের রস মিশিয়ে নেবেন।
৬। স্বামীর সুস্থতার জন্য সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা করুন। যাতে তিনি দীর্ঘজীবী হন, আপনার সিঁদুর যাতে চির অক্ষয় থাকে। সে ক্ষেত্রে গঙ্গাজলে অল্প সিঁদুর(মেটে লাল) ও ঘি মিশিয়ে নেবেন। তারপর সেই জলে অভিষেক করাবেন।
Collected by Kalishankar Seva Dham, Bagnan, Howrah
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Contact the place of worship
Website
Address
Bagnan
Howrah
711303