Pratik Mukherjee Koko
ফেসবুক এইসব পোস্টে রিচ দেয়না। দেবেও না। কেউ কিছু করে উপার্জন করুক সেটা মেটা চায়না।
আসল কথা হলো, নতুন ই-বুক এসে গেছে। ছেড়ে আসা সিরিজ হলো ইবুকের নাম। তিনটে গল্প থাকছে। ১) ক্রাচ ২) উজান ৩) ফ্লেমস। ফ্লেমস আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লেখা। আপাতত। রবিবারের দুপুরে পড়ে ফেলুন এই নতুন গন্ধ মাখা গল্পগুলো।
৩০ টাকা আমাকে 9830172127 নম্বরে Google Pay/Phone Pe/Paytm অথবা WhatsApp Pay করতে হবে এবং পেমেন্টের স্ক্রিনশট পাঠাতে হবে আমাকে ওই একই 9830172127 হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ইনবক্সে বা [email protected] মেইল আইডি'তে পেমেন্ট স্ক্রিনশট মেইল করে দিতে হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে পিডিএফ পাঠিয়ে দেব।
আছে Internet Banking এর সুবিধেও।
Account Name - PRATIK MUKHERJEE
Account No - 1093200100004154
IFSC - PUNB0109320
Punjab National Bank
৩০ টাকা নেট ব্যাঙ্কিং করার পর এক্ষেত্রেও আমাকে একবার হোয়াটস অ্যাপ বা মেইল ইনবক্সে স্ক্রিনশট-সহ জানালেই চলবে।
শিক্ষক দিবসের দিনে শিক্ষা কি শুধুই জীবন দিয়ে যায়? শুধুই কি শিক্ষক দিয়ে যায়? আজ্ঞে না। আমার বাড়িতেই একখান কেতাদুরস্ত শিক্ষক আছেন! আর কী আশ্চর্য! এমন গুরুত্ত্বপূর্ণ সব দিনেই আমার বাবার কথা মনে পড়ে। সে বেশ কটাদিন আগেকার কথা। আমাদের পার্থ চ্যাটার্জির কোমরের মতো দেখতে টিভিখানা হঠাৎ এক নিশুতি রাত্তিরে দেহ রাখলো। প্রায় আমার জন্মের আগে থেকে সার্ভিস দিচ্ছিল। তো মায়ের বুক চাপড়ানো হাহাকারে বাবা ভয় পেয়ে কপালে সুদীপা বেঁধে নতুন টিভি ঘরে আনলো। স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাট টিভি। মোদীর ছাতির মতো চওড়া এবং আমার মনের মতোই বড়। (ওটা 'মন' লিখেছি। ঠিকাছে? কোনো অটোকারেক্ট হয়নি।) নিয়ে এসে টাঙানো হলো। দেওয়ালে। লোকনাথ বাবার মুখের ওপর বেমক্কা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। সাতদিন ঠিকঠাক চলল। আটদিনের মাথায় চলতে চলতে বন্ধ হলো হঠাৎই। রাত্তিরে। মায়ের টিভি দেখার টাইমে। ব্যস, মা আমার আবার বুক চাপড়ে কাঁদতে শুরু করলো এই বলে যে- "ভগবান। এ স্বামী কেমন স্বামী.. স্বামী না বমি?" বাবার ইয়ে'তে লাগলো সোজা। সম্মানে। আর ঠিক এর পরবর্তী বুকে পা তোলা সময় বা মুহূর্তগুলো কি হতে চলেছে ভেবে আমার কোমায় চলে যেতে ইচ্ছে হলো। বাবা বলল- "এক্ষুনি ফোন লাগা। যেখান থেকে কেনা হয়েছে।" লাগলাম। ওরা অমায়িক মুখে বললেন- স্যামসাং কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে সব বলতে, ওরাই নাকি লোক-ফোক পাঠাবে। নাম্বার খুঁজে ফোন লাগলাম। ঝাড়া কুড়ি মিনিট গান শোনালো। বাবার একখানা বড় স্নিগ্ধ স্বভাব আছে- নিজে যখন কথা বলবে, খালি নিজেই বলবে! পাশে যদি মোদী-মমতাও দাঁড়িয়ে থাকে; এক পা মোদীর ছাতি'তে, এক পা মাননীয়ার বৃক্কে রেখে নিজেই বকে যাবে!
তো কাস্টমার কেয়ারের একজন লতাকণ্ঠী ফোন ধরলেন। যেভাবে "হ্যালুঊঊঊঊ" করে শ্বাস ছাড়লেন- মনে হলো এ ঠিক শ্বাস দিয়েই আমার ফোঁস বাপ'কে সামলে নেবে। বাবা টিভির সামনে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। আমার হাতে ফোন। বাবা বলল- "তুই ধর। কিন্তু কথা আমি বলবো। যদি কোনো তারফার খুলে গিয়ে থাকে, বললে আমি জুড়বো।"
পৃথিবী নিশ্চুপ হলো।
আমি ঢোঁক গিললাম।
কাক-চিল উড়ে গেল!
শুরু হলো সেই লতাকণ্ঠী মায়াবী ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমার ধনখড়কণ্ঠী গোলাপি বাবার কথোপথকথন।
- গুড মর্নিং স্যার। আপকা স্যামসাং স্মার্ট টিভি মডেল নাম্বার, পারচেস ডেট বোলিয়ে প্লিজ।
- (বাবা মুড়ো শুদ্ধু দেহখানা অর্ধেক টিভির পিছনে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। কানে ঝুল মেখে বের হয়ে) থোড়া থামিয়ে। হাম নিয়ে আসতা হ্যায়। (বলে ফোন হাতে নীচে গেল। আমিও পিছন পিছন। মন কু গাইছে। আমি মিহি গলায় ফোন হাতে নিয়ে মেয়েটিকে বললাম- "ম্যাম, বেঙ্গলি মে বাত নেহি হো সকতা কেয়া? থোড়া আর্জেন্ট থা একচুয়ালি।" মেয়েটি কিছু বলার আগেই বাবা প্রতিবাদ করে উঠলো, গর্জন করে..)
- কে কেয়া? কোন কেয়া? হাম আলমারি খুলতা হ্যায়। থোড়া ধরে থাকো। হাম সব ভাষা জানতা হ্যায়। তুম বলো।
- (মেয়েটি মিহি গলায় কুঁচকিতে তরঙ্গ খেলিয়ে) স্যার। মডেল নাম্বার, পারচেস ডেট?
- হাঁ হাঁ। এক টিভি দিয়া, সাত মে পাঁচ হাজার কাগজ দিয়া। আব ইতনা কাগজ মে খুঁজে পানা মতলব, খড় কে গাদে মে ছুঁচ খুঁজনা। বুঝতা হ্যায়?
- কেয়া স্যার? কৌন গাধা?
- তুম নেহি। তুমি নাম্বার লিখো। ওরে শালা, কিতনা নাম্বার!
- ওকে স্যার। কেয়া প্রবলেম হ্যায়? নেহি চল রাহা কেয়া?
- যদি চলতা, আমি ইতনা সকাল সকাল দাঁত না মাজকে গন্ধ মুখে তোমায় ফোন করতা?
- স্যার, আচানক ডেড হো গিয়া? কই সাউন্ড?
- মরে যাবার আগে মানুষ ভি আজকাল সাউন্ড নেহি করতা, তো টিভি কেয়া করেগা? হামরা এক ঠো বউ হ্যায়, বহুত রেগে গিয়া। চিল্লা মিল্লি করতা হ্যায়, কাল রাত সে.. গলা তো নয়, যেন কাঁসা কা থালা!
- স্যার। ঠিক হ্যায়। পরেশান মাত হুইয়ে। কেয়া আপ মুঝে বাতা সকতে হ্যায় কি টিভি কি পিছে ইউএসবি ড্রাইভ মে কেয়া কেয়া ইনপুট হ্যায়? আই মিন টু সে, সেট টপ বক্স, মেন পাওয়ার লাইন, সব ঠিকঠাক হ্যায়?
- (বাবা কিছুক্ষণ ঘোলাটে তিমির মতো চারদিক তাকালো, আমার দিকে তাকালো, দিয়ে..) হাঁ। শুনিয়ে শুনো..
- হাঁ স্যার। ম্যায় শুন পা রাহি হুঁ। আপ বোলিয়ে প্লিজ।
- এক বেগুন কা গা মাফিক দেখতে তেলা তেলা কালো তার, এক জন্ডিস মাফিক হলদে দেখতে ফুটো মে ঘুষ গেয়া!
- সরি স্যার?
- ঔর এক সিপিএম কালার হাঁ মুখ কানের গর্ত মাফিক লাল ফুটো হ্যায়, উসমে ওখানে এক সাদা হামার পাকা বাল মাফিক কালার তার উস ফুটো মে ঘুষা হ্যায়।
- স্যার স্যার স্যার... স্যার...
- থামিয়ে। কোই কথা নেহি শুনতা। খালি লাফালাফি.. শুনিয়ে ঔর এক তৃণমূল কা মা-মাটি সবজে কালার মাফিক নাক'কে ফুটো কে সমান গর্ত মে এক মোটা কালো সজারু কে পিঠ কে মাফিক কাঁটা কাঁটা তার ঘুষ গেয়া...
- স্যার! আই শুড..
- ঔর এক তার তো টিভি মে বিদ্যুৎ দেতা হ্যায়! ও তো আমার বাড়ির বিদ্যুৎ। টাটকা বিদ্যুৎ, কোই খারাপ নেহি হ্যায় ওখানে..
- মুঝে কুছ সমঝ নেহি আয়া স্যার। আপ ইয়ে কিস তারা বোলে? সিম্পল বোলিয়ে না?
- তো? কেয়া হাম টিভি মিস্ত্রি বান যায়ে? এক তো পুরো টিভির পিছনে ইতনা ছোট-বড়-মাঝারি হাজার রকম ফুটো হ্যায়, সব ফুটো একইরকম দেখতা হ্যায়।
- স্যার, মেইনে কমপ্লেন লে লিয়া, আপ শান্ত হো জাইয়ে প্লিজ।
- হাঁ ঠিক হ্যায়। কিন্তু টিভিকা ছবি কবে আয়েগা? ইতনা বড়া গতর টিভি, হাম বুড়ো মানুষ নেহি চাগা সকতা। হাঁফ যাতা হ্যায়।
- সরি স্যার, কেয়া গতর?
- আরে সাইজ সাইজ, চেহারা চেহারা, শাঁসালো হাঁফালো টিভি। একদম হিন্দি নেহি বুঝতা। বাংলা ভি নেহি বুঝতা।
- স্যার, আড়তাল্লিশ ঘন্টে মে আপকে এড্রেস মে হামারে ইঞ্জিনিয়ার পহচ জায়েঙ্গে।
- ইঞ্জিনিয়ার হ্যায় ইয়া কচ্ছপ? হেঁটে হেঁটে বাবা তারকনাথ'কে মাথা মে জল দেকার আয়েগা কেয়া?
- স্যার। হাম তো..
- থামো! বাংলা নেহি আতা, ইংলিশ নেহি আতা, ওর ইতনা বড় কমপ্লেন নাম্বার? দুটো মোবাইল নাম্বার জুড়কে ভি ইতনা বীভৎস বড় নাম্বার নেহি হোতা! মেরা পুত্রকা মাধ্যমিক মে ইতনা নাম্বার আতা তো আজ পুত্র মানুষ হো যাতা!
- স্যার। থ্যাংক ইউ ফর কলিং..
- হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকাছে, মেনশন নট। মিস্ত্রি লোক নেহি আয়া তো, হাম ফিরসে ফোন করেগা!
মাঝে মাঝে ভয় হয়!
বাবা যদি শিব হতো?
সমস্ত ভদ্রমহিলাদের উদ্দেশ্যে বলতো- "ধাক্কাধাক্কি মাত। হামার খাড়া হ্যায়। সব একজন একজন করে জল ঢালো, দুধ ঢালো.."
মাননীয়ার বাংলা কবিতার বইয়ের নাম কথাঞ্জলি।
বাবা যদি হিন্দি'তে কবিতা লিখতো- নির্ঘাত বইয়ের নাম হত 'জলাঞ্জলি'!
মা যদি ডিভোর্স করে দেয়, এই বয়সে শ্রাবন্তী ছাড়া আর কোনো সিঙ্গেল মহিলা অন্তত আমি তো খুঁজে পাচ্ছি না।
আমার বিয়েখান দেবে কে?
এই আপনাদের সকাল সকাল কাজ নেই?
©প্রতীক মুখার্জী
সে এক বিভৎস ব্যাপার!
হঠাৎ করেই একদিন পুরো দেশে লকডাউন হয়ে গেল। মার্চ থেকে পাক্কা তিনমাস খেয়ে বসে ঘুমিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করে গুষ্টির সিরিজ সিনেমা শেষ করে ফেললাম। তারপর একদিন মা বললো - "রাতদিন বুনো ঘড়িয়ালের মতো শুয়ে আছিস, একটু ঘরটা গুছিয়ে ফ্যাল না। এই তো সুযোগ। কদিন পর বিয়ে থায়া হবে, মেয়েটা এই ঘরে ঢুকতে পারবে?" কথাটা খুব মনে লাগলো। নতুন উদ্যমে ঘর গোছাতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ গোছানোর পর আমার ডেস্কটপের পিছন থেকে একটা ঝুল লাগা কালো গোপনাঙ্গের মতো দেখতে পলিথিন আবিষ্কার করলাম। ফ্যার ফ্যার করে সঙ্গে সঙ্গে পলিথিন ছিঁড়ে ফেলতেই বেরিয়ে এলো রাশি রাশি দশ টাকা আর কুড়িটাকার নোট! একটা পঞ্চাশও! দু একটা খুলি ছেঁড়া মহাত্মা গান্ধীও উদ্ধার হলো! কবে রেখেছিলাম! বাস ভাড়া থেকে বাঁচিয়ে, মনেও নেই! ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে হিসেবে বসলাম। ছেঁড়া নোট নিয়ে আর দু চারটে খুচরো নিয়ে টোটাল বেরোলো ৩৬৯ টাকা! সে কী আনন্দ! লক ডাউনে মানুষ যখন রেললাইন ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছে, বাড়ি বসে ইনকাম করার আনন্দে নিজেকে কেমন মোদীজি মোদীজি লাগছিল! মনে হচ্ছিল - সবাইকে বাইরে বেরিয়ে বলি, "এই তোমরা উলু দাও, মোমবাতি জ্বালাও, থালা বাসন বাজাও!"
যাক গে! পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একটু পার্থক্যও এসেছে বৈকি। আগে টাকা পয়সার লোভহীন লোক রাজনীতিতে আসতো, জনগণের সেবা করার উদ্দেশ্যে। এখন টাকা পয়সা করতে মানুষজন রাজনীতিতে আসে। আগে লোকজন লোন নিয়ে ফ্ল্যাট কিনতো, টাকা জমিয়ে ফ্ল্যাট কিনতো - এখন মানুষ ফ্ল্যাট জমিয়ে টাকা রাখে। অথচ অর্পিতার মুখখানি ভালো করে কোনো ছবিতে লক্ষ্য করে দেখবেন - কী ফর্সা কী ফর্সা! আমার তো মনে হয় পার্থ বাবু রোজ স্নান সেরে ওই ভুঁড়ির ওপর গামছা জড়িয়ে অর্পিতার মুখ দেখে নিজের গুটিকয়েক চুল আঁচড়াতেন। বাড়িতে আয়নার দরকার ছিলনা। পুরো হ্যারান্ডাস অবস্থা চারদিকে! মাননীয়া ভালো মানুষ। তিনি একটা যুক্তিযুক্ত দাবি করেছেন, সেটা হলো - কেন পার্থকে নিশুতি রাতে ওর সেক্স লাইফ হ্যামপার করে তুলে আনা হলো। জবাব চাই। জবাব দাও। নানান অভিযোগের আগুনে পুড়ে পুড়ে রামায়ণে সীতা সীতা হয়েছিলেন। তৃণমূলে সীতার রোলে দুরন্ত অভিনয় করেন কুণাল ঘোষ। এই কুণাল ঘোষ সারদা নারদা মামলায় ধরা পড়ার পর তৃণমূল প্রেস রিলিজ করেছিল - "কে মালটা? চল ফোট। চিনিই না। কোথাকার কোন ইয়ে.." কুণাল কাঁদতে কাঁদতে জেল থেকে বলেছিলেন - "মমতা মায়ের মতো, মা ছেলেকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে মানে ছেলের কোথাও দোষ আছে।" সেই কুণাল আজ সীতা। সাড়ে চার ফুট চোদ্দ ইঞ্চি হাইট নিয়ে এবিপি আনন্দের মাইকের ওপর থুতনি লাগিয়ে বলছেন - "পার্থ নিজেকে নিরপরাধ বলছে না কেন? হোয়াই? আমার আবার এইসব অপরাধী লোকজন দেখলেই ঘেন্না ঘেন্না পায়।" মমতা ব্যানার্জির চার ছেলে। পার্থ, ববি, শোভন, শুভেন্দু। পার্থ ডিভাইড সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত। এককথায় উভকামী। কিরকম? টাকা এবং নারী দুদিকেই ছোটেন। আরেক ছেলে শোভন আলুর দোষ নিয়ে বহুদিন জেরবার। শুভেন্দু সবচেয়ে অবহেলিত ছেলে এখন। মায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোম্বে গিয়েছিল হিরো হবার জন্য। এখন ভিলেনের রোল করে উপার্জন করতে হয়। শরীরের ছত্রে ছত্রে লোভ। যেকোন সময় ইডি ধরে নিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু শুধুমাত্র ওয়াশিং মেশিনের ঢাকনার ওপরে স্বয়ং মোদিজি বসে আছেন বলে পারছে না। গত পরশু মাননীয়া সবচেয়ে মজার কথা বলেছেন ববি হাকিমকে নিয়ে। "ববি ছেলেটার বাড়ির বাইরে রাত বিরেতে দু চারজন করে অফিসার ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেন? ববি খালি আমায় ফোন করছে। টেনশন করছে।"
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল এখন বিজেপি। সে এক তুখোড় দারুণ নিষ্পাপ দল। মহুয়া মৈত্র কালী নিয়ে কী একটা বলে ফেলায় কয়েক লাখ খরচা করে কালী পুজোর আয়োজন করা ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার তিনদিন পর পার্থর জন্য কষ্ট করে রাস্তায় নামতে হয়েছে। কোন একটা ভুঁড়ি ওয়ালা বিজেপি সমর্থক পার্থ সেজেছেন। হাতে দুটো পঞ্চাশ টাকার নোট ধরিয়ে রেখেছে। গলায় পিয়াঁজের মালা। বিজেপি সমর্থকরা এমনিতে একটু আবেগী হন। দেবতা, মোদী, গরু, শিয়াল, বাঘরোল, কৃষ্ণ, শিব নিয়ে একবার বকতে শুরু করলে দলের আর কেউ থামেনা। চলতেই থাকে। এমত অবস্থায় আবেগী সমর্থকরা সেই সাজানো পার্থকে ধরে উদমা ঠেঙ্গিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে তথাগত পার্নো মিত্রকে বলেছেন "কামিনী"। জয় শ্রী রাম। আগের বছর গোখরো ময়াল জলঢোঁড়া অ্যানাকোন্ডা বলে পালিয়ে যাওয়া আমাদের সবার প্রিয় মিঠুন চককোত্তি আবার ফণা তুলে দাঁড়িয়েছেন। বলেছেন, তৃণমূল থেকে ২১ জন বিধায়ক আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এ ব্যাপারে জাত গোখরো সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে জিজ্ঞেস করায় অধিকারী বাবু বলেছেন - "কে জানে! যে বলছে তাকে জিজ্ঞেস করুন।" তৃণমূল একটা সৎ দল। এতটাই সৎ যে তারা এখন "পার্থ আমার কেউ নয়" মোডে রান করছে। দুদিন আগে পার্থ অভিষেককে চমকাতেন। কীসব সেই সোনালী দিন ছিল। মদন মিত্র এখনও বোতল শেষ করতে পারেননি বলে প্যারালাল ইউনিভার্সে রয়েছেন। বুঝে উঠতে পারছেন না কী বলবেন কী করবেন। অন্যদিকে সিপিএম দলটায় দু একজন ছাড়া আজকাল নেতা কম সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর বেশি। এককালে বিমান বসু পিছনে লাখ খানেক মানুষ নিয়ে হেঁটে মহাকরণ থেকে বর্ধমান চলে যেতেন। এখন শতরুপরা ফেসবুকে একটা করে মিম দিয়ে লাইক কমেন্টের অপেক্ষা করেন।
তৃণমূল সততায় বিশ্বাসী। আজ পার্থ ওদের কেউ নন। অর্পিতা ওদের কেউ নন। কদিন পর মাননীয়ার বাড়িতে ইডি গেলে তৃণমূল সাফ জানিয়ে দেবে - মাননীয়া আমাদের কেউ নন। আজ টাকা গোনার মেশিন না আবিষ্কার হলে ইডিকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কৌটো করে থুতু আর আঙ্গুল ভাড়া করে নিয়ে যেতে হতো।
রামকৃষ্ণ। তিনোমূল!
টিভি নাইন বাংলা বলে একটা খাজা সংবাদমাধ্যম আছে। খাজার যদি স্তর বিন্যাস হয় তাহলে রিপাবলিক বাংলার সমগোত্রীয় হবে। তারা জানিয়েছে - "অর্পিতার বাড়ি থেকে দুখানি সেক্স টয় পাওয়া গেছে! যা হতচকিত করে তুলেছে ইডিকে! তারমানে কি পার্থ যৌন জীবনে অপারগ ছিলেন?"
কী মহা মুশকিল! পার্থকে যৌন জীবনে সক্ষম করার ভারটাও মনে হচ্ছে হাইকোর্ট ইডির ওপর ছাড়তে চলেছে...
ওদিকে সেই আগের বছর থেকে দেবাংশু কালীঘাটে শুয়ে আছে। আজ ছেলেটার মনে হয়েছে পার্থ একটা ফোঁড়া। পুঁজ জমা ফোঁড়া। এরপর পার্থ বিজেপি জয়েন করে জেল থেকে বেরোলে, জোড়া পায়ে শুয়ে থাকা দেবাংশুর গোপনাঙ্গ মাড়িয়ে দেবে।
©প্রতীক মুখার্জী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
Santragachi
Howrah
711104
Opening Hours
| Monday | 11am - 5pm |
| Tuesday | 11am - 5pm |
| Wednesday | 11am - 5pm |
| Thursday | 11am - 5pm |
| Friday | 11am - 5pm |