Howrah PDSF

Howrah PDSF

Share

Photos from Howrah PDSF's post 27/01/2022

*অবিলম্বে কোভিদবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে।
*শুধু ১০ থেকে ১২ নয়, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করতে হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাই ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার ভিত গড়ে ওঠে৷
* শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিরোধী NEP বাতিল করতে হবে।
* শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ মানছি না৷
* বিনামূল্যে শিক্ষা চাই, শিক্ষান্তে স্থায়ি কাজ চাই৷
এই সমস্ত দাবীতে PDSF এর পক্ষ থেকে গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচার অভিযান, পথসভা, লিফলেটিং করা চলছে৷ আজ হাওড়ার ফুলেশ্বরের লকগেটে পথসভা, লিফলেটিং, সই কালেকশন করা হলো৷

Photos from Howrah PDSF's post 27/01/2022

প্রায় দু বছর হয়ে গেল একের পর এক করোনার ঢেউ এর সুযোগ নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার একের পর এক লকডাউন করেই চলেছে। এর ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমাজের শ্রমজীবী শ্রেণি। একদিকে মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে। ফলে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বেড়েই চলেছে। আর অন্যদিকে শ্রমজীবী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনলাইন নামক বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চলছে এই দু'বছর ধরে। যে সমস্ত শ্রমজীবী পরিবারের দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না, যারা ঠিকমতো চিকিৎসা পায় না, টাকা না থাকার ফলে, তারা কিভাবে স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস করবে? এইরকম পরিবারের বহু ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ছেলেদের কাজে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারের মানুষ, এর কারণ বাবা-মার কাজ চলে যাচ্ছে বা বাজার দর এতটাই বেশি যে, পরিবারে একজন রোজগার করে সংসার চালাতে পারছে না। আর মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। এই সুযোগে মালিকরা বেগার শ্রমিক পেয়ে যাচ্ছে, যাদের দিয়ে কম পয়সায় খাটিয়ে নেওয়া যায়।
এই রকম পরিস্থিতি সব জায়গাতেই দেখা দিচ্ছে। ফলে এই রকম সমস্যার মুখে হাওড়ার শ্রমজীবী মানুষরাও পড়ে আছে। বন্ধ এবং কারখানার লেবার লাইনগুলোয় গেলেই দেখা যায় বেশিরভাগ ছেলে, মেয়ে আর পড়াশোনা করতে পারছে না। কারণ তাদের না আছে স্মার্ট ফোন কেনার পয়সা, না আছে ইন্টারনেট কেনার পয়সা আর না আছে টিউশনি পড়ার পয়সা। শুধু লেবার লাইন কেন, বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমজীবী পরিবারেরই একই অবস্থা। আর 'সরকারি চাকরি' বা 'স্থায়ী চাকরি'পাওয়া এখন স্বপ্নের মত। দেশে বেকার সমস্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এই সমস্যাগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার জন্য বেকার ছেলেপুলেদের নিয়ে বিজেপি পাড়ার মোড়ে মোড়ে আড্ডা বসাচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আবার অন্যদিকে তৃণমূল সরকার আসল সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার জন্য একের পর এক হাবিজাবি প্রকল্প চালু করছে। মেয়েদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নাম করে, বিজেপির 'বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও' প্রকল্প এবং তৃণমূল সরকারের 'কন্যাশ্রী' প্রকল্প চালাচ্ছে। অথচ সেই প্রকল্পের টাকাতেই মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ না চলার ফলে।
শুধু স্কুল-কলেজ চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কেন্দ্র সরকারের নয়া শিক্ষানীতি, যার মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টায় আছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেই চেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের রাজ্য সরকার একটার পর একটা লকডাউনের সুযোগ নিয়ে স্কুল-কলেজ সব কিছু বন্ধ করে রেখেছে। আর পড়াশোনা করলেও এখন চাকরির কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না। ফ্লিপকার্ট অ্যামাজন এইরকম কোম্পানিগুলো স্কুল-কলেজে পড়া কম বয়সী ছেলেমেয়েদের কম টাকায় খাটিয়ে নিচ্ছে। স্কুল কলেজগুলো শিক্ষা কাঠামো ঝরঝরে করে দিয়েছে। স্কুল-কলেজে স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের বদলে অস্থায়ী ভাউচার টিচার নিচ্ছে। যার ফলে ইচ্ছে করলে চাকরি দেবে আবার যখন ইচ্ছে চাকরি থেকে বের করে দিতে পারে।
এই রকম পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীর নয় সমস্ত দেশের জনসাধারণকে লড়াইয়ের মাঠে নামতে হবে। এই ঝরঝরে পরিকাঠামোকে শিখর থেকে উপরে ফেলতে হবে। এক নতুন সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আজ ২৬ শে জানুয়ারি, আজকের দিনে ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকারী হয়েছিল। সেই সংবিধানই ভারতের সমস্ত মানুষকে শিক্ষার অধিকার দিয়েছে। অথচ এই কয়েকবছর ধরে শ্রমজীবী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না৷ তাই আজ হাওড়ার চেঙ্গাইল অঞ্চলে ছাত্রছাত্রীরা মিলে পোষ্টারিং করা হলো৷

12/01/2022

মাস্টারদা কে নিয়ে কিছু কথা-
আজ বারোই জানুয়ারী মাস্টারদা র শহীদ দিবস।যার সাহসিকতায় একদা সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছিলো ব্রিটিশ সরকার।একটা ছাপোষা স্কুল মাস্টার তার এত দুঃসাহস যে সে ব্রিটিশ দের অস্ত্রাগার লুঠ করে চট্টগ্রাম এর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে দেয়।ব্রিটিশ রা কিছুতেই ভাবতে পারছিলেন না কয়েকজন সাধারণ নিপীড়িত ভারতবাসী এত পরিকল্পনা মাফিক কাজ কিকরে করে।
বহরমপুরে নিজের পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন মাস্টারদা সূর্য সেন।কাঁধে তুলে নেন গণিত শিক্ষকের দায়িত্ব।তার
পাশাপাশি কংগ্রেস ও করতেন।কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন সশস্ত্র আন্দোলনেই স্বাধীনতা আসবে।রক্তের দামে কিনতে হবে স্বাধীনতা।তিনি যোগদান করলেন অনুশীলন সমিতি তে।মাস্টারদা র কথায় গণেশ ঘোষ লোকনাথ বল শশাঙ্ক দত্ত নরেশ রায় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কল্পনা দত্ত যোগ দেন তাঁর গেরিলা বাহিনী তে।ঠিক করা হয় চট্টগ্রাম কে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে দেশের বাকি অংশ থেকে।পরিকল্পনা মাফিক দিন ঠিক হয় ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০।দিনটি ছিলো গুড ফ্রাইডে।পার্বন এর মেজাজে ব্রিটিশ শাসক রা।৬৫ জন বিপ্লবী দুটো দলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামেন।
প্রথমে রেললাইন উপড়ে টেলিগ্রাম এর খুঁটি ভেঙে চট্টগ্রাম কে আলাদা করে দেওয়া হোক বাকি দেশের থেকে।তারপর গণেশ ঘোষ এর নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার ঘিরে ফেলেন।অস্ত্র লুঠ করা হলেও গোলা বারুদ এর সন্ধান পাওয়া যায়নি।অভিযানের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় স্বাধীন চট্টগ্রামে।
মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে সংবর্ধনা দেওয়া হয় মাস্টারদা কে।সূর্য সেনের নেতৃত্বে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়।সূর্য সেন ঘোষণা করেন"the oppressive British government has closed to exist.The national flag is flying high.It is our duty to defend it with our life and blood"
চট্টগ্রাম ব্রিটিশ দের থেকে স্বাধীন ছিলো ৪ দিন।ব্রিটিশ রা মাস্টারদা র মাথার দাম ধার্য করেন ১০ হাজার টাকা।এর পর দেখা দেয় খাদ্যসংকট।বিপ্লবী রা আত্মগোপন করেছিলেন জালালাবাদ পাহাড়ে।২২ শে এপ্রিল তাদের ঘিরে ফেলে ব্রিটিশ বাহিনী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে মৃত্যু হয় ১২ জন বিপ্লবীর।মাস্টারদা ছোট ছোট দলে বিপ্লবী দের পাঠিয়ে দেন নানান গ্রামে।নিজেও আত্মগোপন করেন।অবশেষে ১৯৩৩ সালে নেত্র সেনের বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়েন মাস্টারদা পুরস্কার এর লোভে।নেত্র সেন কে দা এর আঘাতে মরতে হয়েছিলো।কিন্তু পুরস্কার তাঁকে পেতে হয়নি।ঘাতক বলে গেছিলেন " মাস্টারদা র সাথে বেইমানি করার এটাই উপযুক্ত শাস্তি"
নেত্র সেনের বিধান স্ত্রী সব দেখেছিলেন কিন্তু কোনোমতেই ব্রিটিশ পুলিশ এর কাছে মুখ খোলেননি।
তাঁকে রাখা হয় কনডেমড সেলে কড়া পাহারায়।মৃত্যুর আগে তিনি বিপ্লবী কালিকিঙ্কর দে কে পেন্সিলে লিখে একটি বার্তা পাঠান।বার্তায় লেখেন"আমার শেষ বাণী আদর্শ ও একতা"।
১৯৩৪ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ ই জানুয়ারি ফাঁসি দেওয়া হয় মাস্টারদা কে।
বলা ভালো তার অচেতন শরীর টাকে টেনে হিঁচড়ে ফাঁসি র মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ এর প্রচন্ড অত্যাচারে আগেই সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন তিনি।হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় তার সব দাঁত।উপড়ে নেওয়া হয় নখ।শরীরের প্রত্যেকটা জয়েন্ট মেরে মেরে ভেঙে দেওয়া হয়।ফাঁসি র পির শেষকৃত্য ও হয়নি।তার দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরে আর ভারতমহাসাগর এর সংলগ্ন কোনো জায়গায়।
মাস্টারদা আজো জেগে আছেন আজো বেঁচে আছেন।আজ তার মৃত্যুর ৮৮ বছর পর আবার এক ফ্যাসিস্ট শক্তি ভারতে তার নখ দাঁত ফোটাচ্ছে।মাস্টারদা ভগৎ সিং এর আদর্শ ভুলিয়ে সভারকার তথা হিন্দু মহাসভা এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
বাঙালি এটাই সময়।রুখে দাও এই শক্তি কে দেখিয়ে দাও বাঙালি সেদিনও স্বাধীন ছিলো আজও আছে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

Want your organization to be the top-listed Government Service in Howrah?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Howrah