PostBardhaman
প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে যুবক ধৃত বর্ধমানে
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কর্ণবীর দে ওরফে কর্ণবীর। বর্ধমান শহরের অনিতা সিনেমা লেনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে সে থাকে। শনিবার তাকে বর্ধমান শহর থেকে ধরা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বাদামতলায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ওই যুবতী। কিছুদিন আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে তাঁর আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। সেটি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক কর্ণবীর ছড়িয়েছে বলে তাঁর ধারণা হয়। কারণ, ছবিটি প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়িতে তোলা। সে তাঁকে আপত্তিকর ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। বিষয়টি জানিয়ে এবছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে সাইবার থানা। কর্ণবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। যদিও সে তদন্তে সহযোগিতা করেনি। সাইবার থানায় হাজিরই হয়নি। এরপর কয়েকবার তার অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানায় পুলিশ যায়। কিন্তু, তার হদিশ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ফের একটি আবেদন জমা পড়ে থানায়। তাতে সমাজমাধ্যমে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর কথা বলা হয়। যুবতী বিষয়টি থানায় জানান। শনিবার যুবতী ও তাঁর বাবা সাইবার থানায় এসে আপত্তিকর ছবি এবং সেটির অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তথ্য দেয়। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তোলবাজির অভিযোগ, মেমারিতে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তোলবাজির অভিযোগে তৃণমূলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতের গফ্ফর মল্লিক। মেমারি থানার বাড়ারি গ্রামে তার বাড়ি। শনিবার রাতে মেমারি থানার নুদিপুর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তোলাবাজির টাকা উদ্ধার করতে এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতকে সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের চারদিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে মেমারি থানার গোরাপুরের বাসিন্দা মিঠুন হাজরা এবছরের ২৬ মে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০২১ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি ঘুষকেরপাড় বাজারে ডিম আনতে যান। সেসময় মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ আহমেদের নিের্দশে গফ্ফর মল্লিকের নেতৃত্বে কয়েকজন অতির্কতে তাঁর উপর হামলা চালায়। তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। পরে তাঁর বাবা আহমেদের কাছে যান। গুলি করে মেরে দিলেও কিছু করার থাকবে না বলে তাঁর বাবাকে জানায় আহমেদ। ২৬ এপ্রিল বিকেলে তিনি টাকা ফেরত চাইতে যান। ফের তাকে মারধর করা হয়। ভয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। অভিযুক্তরা এলাকায় আরও অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়েছে বলে দাবি মিঠুনের।
দিল্লির অধ্যাপিকা খুনে বর্ধমান থেকে ধৃত দম্পতি
নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাদামতলা থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। বর্ধমান শহরের বাদামতলায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে তারা। তাদের ছেলে শহরের একটি নামী বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে। রবিবার সকালে ভাড়া বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর টানা কয়েক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনে জড়িত থাকার কথা তারা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি। তাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুনে ব্যবহৃত লোহার ভারী বস্তু ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে তল্লাশি চালানো হয়। অধ্যাপিকাকে খুনের পিছনে বাড়ি হাতানোরা পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান। যদিও কেবলমাত্র বাড়ি হাতানোর জন্যই এই খুন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা ধৃত দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে, অধ্যাপিকার দিল্লির ফ্ল্যাটে যে ধৃতদের যাতায়াত ছিল। সেব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ। অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙা ছিল না। খুনি অধ্যাপিকার পরিচিত হওয়ায় তাদের দরজা খুলে অধ্যাপিকা যে ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রাথমিক তদন্তের পরই সেব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয় পুলিশ। ধৃতদের বর্ধমান থানার লকআপে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আজ, সোমবার ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বছর ৪৫–র দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। ঘটনার দিন দুপুরে দীর্ঘক্ষণ দেবস্মিতার ফোন না পেয়ে তাঁর বোন দেবারতি ফ্ল্যাটে যান। ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন দেবারতি। দেবস্মিতার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাতেরা শিরা কাটা ছিল। মৃতদেহ দেখার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, মাথায় ভারী কিছু দিয়ে দেবস্মিতাকে আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাতের শিরা কাটা হয়।
খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। ফ্ল্যাটের এবং আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এক দম্পতি ও তাদের নাবালক ছেলেকে মুখ ঢাকা অবস্থায় ফ্ল্যাটে উঠতে দেখা যায়। আধঘণ্টা পর মুখ ঢাকা অবস্থাতেই তিনজনকে নামতে দেখা যায়। এছাড়াও কল ডাম্পিং এবং মোবাইল টাওয়ারের বিশ্লেষণ করে দিল্লি পুলিশ। এরপর পুলিশ একটি ভাড়া গাড়ির সন্ধান পায়। সেই গাড়িটিতে চেপেই তিনজন দেবস্মিতার অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছেছিল বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। গাড়ির সূত্র ধরে আরও কিছু তথ্য উঠে আসে। পাওয়া সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনে রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রীর জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় দিল্লি পুলিশ। এরপরই দিল্লি পুলিশের একটি টিম দু’দিন আগে বর্ধমানে এসে রামপ্রসাদের সম্পের্ক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। ভাড়াবাড়ির আশপাশের এলাকার লোকের সঙ্গে কথা বলে দম্পতির সম্পের্ক বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। ঘটনার সময় যে তারা বাড়িতে ছিল না, এব্যাপারেও নিশ্চিত হয় পুলিশ। তারপর তাদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন থেকে ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিতির বিষয়ে তথ্য মেলার পরই খুনে রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জেনেছে, মাঝে মধ্যেই দিল্লিতে যেত রামপ্রসাদ। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাকে দিল্লি যেতে হতো। এর আগেও সে কয়েকবার দিল্লিতে গিয়ে দেবস্মিতার সঙ্গে দেখা করেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেবস্মিতার দুই দুই বোন ছাড়াও দাদা রয়েছেন। বর্ধমানের বাড়িটি তাঁর মাতৃকুলের। দেবস্মিতা মাঝে মধ্যে দাদুর বাড়ি দেখভাল করতে আসতেন। সেকারণে বাড়ি হাতাতে দেবস্মিতাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
17/03/2026
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Burdwan
713104