Islamic question answer
01/06/2024
:মহিলাদের সুন্দর জীবন গড়ার লক্ষ্যে নবীজীর উপদেশ
মহিলাদের নিত্য নৈমিত্তিক, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত জরুরি কতিপয় হাদীস:
১। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "স্ত্রীলোক যখন তার জন্য নির্ধারিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রমযান মাসে রোযা রাখবে এবং নিজের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে ও স্বামীর অনুগত হয়ে চলবে, সে বেহেশতের যেই দরজা দিয়ে চায় প্রবেশ করতে পারবে।” (মিশকাত, পৃষ্ঠা ২৮১)
২। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর সে (শরয়ী ওজর ব্যতীত) অস্বীকার করে, ফলে স্বামী নারাজ অবস্থায় রাত্রি যাপন করে, তখন ফেরেশতাগণ তাকে ভোর পর্যন্ত অভিশাপ করতে থাকে।" (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, পৃষ্ঠা-২৮০)
৩। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "যদি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে নারীর প্রতি নির্দেশ দিতাম যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।" (তিরমিযী, মিশকাত শরীফ ২৮১ পৃঃ)
উল্লেখ্য কোনো প্রকার সিজদা-ই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে জায়িয নয়। এমতাবস্থায় রাসূলে পাক (সঃ)-এর এরূপ উক্তি স্বামীর অপরিসীম মর্যাদার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা ছাড়া আর কি-ই বা হতে পারে? কিন্তু স্বামীকে সিজদা করাও হারাম। সুতরাং পীর, বুযুর্গ ও মাজার ইত্যাদিকে সিজদা করার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।
ইসলামের ফরজ বিধান ও পর্দা
৪। নবী কারীম (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের প্রয়োজনে ডাকে, তখন সে যেন তার ডাকে সাড়া দেয়, যদিও সে চুলার (অর্থাৎ রান্না-বান্নার) কাজে থাকে।" (তিরমিযী, মিশকাত শরীফ ২৮১ পৃষ্ঠা) ৫। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "যে নারী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট
রেখে মরবে, সেই নারী বেহেশতে যাবে।" (তিরমিযী, মিশকাত শরীফ, ২৮১ পৃষ্ঠা) ৬। রাসূলে আকরাম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "যেই পুরুষ তার স্ত্রীকে সংশোধনের জন্য শাসন করে, এ ব্যাপারে তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে জিজ্ঞেস করা হবে না। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরীফ ২৮২ পৃষ্ঠা)
৭। হুযুরে পাক (সঃ) বলেছেনঃ "যখনই কোনো নারী তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিতে থাকে, তখনই বেহেশতের ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণের মধ্যে যে তার স্ত্রী হবে, সে বলে, হে অভাগিনী! তুমি তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তিনি তোমার নিকট তো প্রবাসী। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে বেহেশতে আমাদের নিকট চলে আসবেন।
(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ২৮১ পৃষ্ঠা) ৮। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "তিন ব্যক্তির নামায কবুল হয় না এবং তাদের নেকী আকাশের দিকে উঠে না, (১) বিনা কারণে পলাতক গোলাম। তার সাথে এরূপ আচরণ ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে, যতক্ষণ না সে নিজের প্রভুর নিকট ফিরে আসে এবং তার হাতে হাত রাখে। (অর্থাৎ আনুগত্য করে)। (২) যেই নারীর উপর (তার কোনো সঙ্গত দোষের কারণে) স্বামী অসন্তুষ্ট। (৩) নেশাখোর ব্যক্তি, যতক্ষণ সে নেশা ত্যাগ না করে।": (বায়হাকী, মিশকাত শরীফ ২৮৩ পৃষ্ঠা)
৯। হুযুরে পাক (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অপর কাউকেও সিজদা করতে হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম দিতাম যেন সে তার স্বামীকে সিজদা করে, স্বামী যদি তাকে হলুদ রঙের পাহাড় থেকে কালো রঙের পাহাড় এবং কালো রঙের পাহাড় থেকে সাদা রঙের পাহাড়ে (পাথরসমূহ) স্থানান্তর করতে বলে, তবে তার এটাও করা উচিত।' (মিশকাত শরীফ ২৮৩ পৃষ্ঠা) অর্থাৎ শরীয়ত সম্মত কোনো ব্যাপারে স্বামীর নাফরমানী না করা কর্তব্য। ১০। হুযুরে পাক (সঃ) বলেছেনঃ "চারটি জিনিস যাকে দান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্ব কল্যাণ দান করা হয়েছে। তাহলো (১) কৃতজ্ঞ অন্তর, (২) আল্লাহর জিকিরে রত জিহবা, (৩) বিপদে ধৈর্যশীল শরীর এবং (৪) ইসলামের ফরজ বিধান ও পর্দা এমন স্ত্রী- যে আপন চরিত্র ও স্বামীর মালের ব্যাপারে কখনো খিয়ানত করে না।" (মিশকাত ২৮৩ পৃষ্ঠা)
১১। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ পাক ঐ পুরুষের উপর অনুগ্রহ বর্ষণ করুন, যে রাত্রিতে উঠে (তাহাজ্জুদের) নামায পড়েছে এবং আপন স্ত্রীকে জাগিয়েছে। অতঃপর সেও নামায পড়েছে। আর স্ত্রী যদি (বিনা কারণে) উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দিয়েছে।
আল্লাহ পাক ঐ স্ত্রীর উপর রহমত বর্ষণ করুন, যে রাত্রিতে উঠে নামায পড়েছে এবং আপন স্বামীকে জাগিয়েছে। অতঃপর সেও নামায পড়েছে। আর স্বামী যদি (বিনা কারণে) উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে, পানি ছিটিয়ে দিয়েছে।" (আবু দাউদ, নাসায়ী, মিশকাত শরীফ ১০৯ পৃষ্ঠা)
বিঃ দ্রঃ পানি ছিটিয়ে দিলে, ঘুমন্ত মানুষ সজাগ হয়ে যায়। এজন্যই হাদীসে পানি ছিটাবার কথা বলা হয়েছে। অত্র হাদীসে আদর্শ মুসলিম স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার চাহিদা কিরূপ হওয়া উচিত, তার একটি নমুনা পাওয়া গেল।
১২। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। (সেই প্রসঙ্গে) তিনি বলেন: আমি তাঁর সঙ্গে দৌড়ের এক প্রতিযোগিতা করলাম এবং তাঁর উপর জয়ী হলাম। অতঃপর যখন আমি মোটা হয়ে গেলাম, আবার প্রতিযোগিতা করলাম। কিন্তু এবার তিনিই আমার উপর বিজয়ী হলেন এবং বললেন, আমার সেই পরাজয়ের বদলে তোমারও পরাজয়। (আবু দাউদ, মিশকাত ২৮১ পৃষ্ঠা)
ব্যাখ্যা: এ জাতীয় হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, হুযুর পাক (সঃ) আপন বিবিদের সঙ্গে কিরূপ অকপট এবং ফুর্তির জীবন যাপন করেছেন। বুঝা গেল, আপন স্ত্রীর সঙ্গে এরূপ রঙ্গ-রসিকতা পূর্ণ ব্যবহার নবুয়তের পক্ষে অশোভনীয় নয়। অতএব, এরূপ আচরণ দরবেশ এবং দ্বীনদার লোকদের পক্ষে অশোভনীয় হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, স্বামী-স্ত্রী যখন একসাথে বসে মুহাব্বতের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে থাকে, তখন তাদের আমলনামায় দশটি ছাওয়াব লিখা হয়, দশটি গোনাহ বা পাপ মাফ করা হয়, দশটি দরজা বা মর্যাদা বুলন্দ (উঁচু) করা হয়।
১৩। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "যে নারী কষ্ট বা প্রয়োজন ব্যতীত আপন স্বামীর নিকট তালাক চায়, তার জন্য বেহেশতের ঘ্রাণ হারাম।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরীফ ২৮৩ পৃষ্ঠা) Google Search- MillionContent.com
[01/06, 12:01 pm] Firoj Seikh: ১৪। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "মুমিন বান্দা আল্লাহর ভয় অর্জন করার পর নেক স্ত্রী অপেক্ষা তার পক্ষে উত্তম আর কিছু লাভ করতে পারে না।
১৫। হুযুর (সঃ) কয়েক প্রকারের মেয়েলোকের উপর লা'নত (অভিসম্পাত) করেছেন: (১) যে মেয়েলোক হাতে খেজাব (মেহেদি ইত্যাদি) ব্যবহার করে না, (২) যে নারী সুরমা ব্যবহারে ইনকার করে, (৩) যে স্ত্রীলোককে স্বামী সহবাসের জন্য আহবান করলে, সে বলে থাকে "কিছুক্ষণ পরে", (৪) যে স্ত্রীলোক স্বামী সহবাসের আহ্বান করলে, সে নিজেকে হায়েজ ওয়ালী (বা অসুস্থ) বলে ধোঁকা দেয়। (মিশকাত শরীফ)
১৬। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "যে মহিলা স্বামীর হক আদায় করে না, সে মহিলা আল্লাহর হক আদায় করে না।"
১৭। নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "বিবাহের পর মেয়েদের উপর বড় হক হলো স্বামীর হক, আর পুরুষের উপর বড় হক হলো তার মায়ের হক।" (ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১৩৩)
১৮। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "উত্তম মহিলা সেই স্ত্রী, তুমি যখন তাকে দেখবে, সে তোমাকে পুলকিত করবে, যখন তুমি তাকে কোনো নির্দেশ দিবে, তখন সে আনুগত্য করবে এবং যখন তুমি অনুপস্থিত থাকবে, তখন সে তোমার ধন-সম্পদ এবং নিজের সতীত্বের হেফাজত করবে।” (ইবনে মাজাহ, মেশকাত শরীফ ২৬৮ পৃষ্ঠা)
১৯। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন: "কোনো স্ত্রীলোক স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হলে সে ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন না করা পর্যন্ত আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে থাকবে। (ইহয়াউল উলুম ১৭১৭ পৃষ্ঠা)
২০। হুযুর পাক (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ "স্বামীর উপর রাগ করে যে স্ত্রী তার থেকে পৃথকভাবে রাত্রি যাপন করে, ফেরেশতাগণ ভোর না হওয়া পর্যন্ত তার
উপর অভিশাপ দিতে থাকেন।" (মিশকাত শরীফ)
২১। একদা ঈদের দিন নবী কারীম (সঃ) মহিলাদের নিকটে গিয়ে বললেন : "তোমরা আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত কর। কারণ তোমাদের অধিকাংশই আমি দোযখবাসিনী হিসেবে দেখেছি। তখন মহিলারা প্রশ্ন করল, "হুযুর! কেন? হুযুর পাক (সঃ) উত্তর দিলেন- প্রথমতঃ তোমরা অপরকে বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক। দ্বিতীয়তঃ তোমরা স্বামীর নাফরমানী করে থাক।" (বুখারী, মুসলিম,
মিশকাত শরীফ ১৩ পৃষ্ঠা)
Million Content MillionContent.com- Chemistry,physics,History,Political Science,Economics,English,Physical Science,Life Science,Geography,Education,Philosophy,Biology
জীবনসঙ্গিনী
এক প্রথম মানুষ আদম (আঃ)। আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁকে জান্নাতে স্থান দিয়েছিলেন। অপরিসীম সুখের স্থান জান্নাত, কিন্তু সেখানে থেকেও যেন আদমের (আঃ) মনে সুখ নেই, কীসের যেন বড়ই অভাব। একাকীত্ব যেন তাঁকে গ্রাস করেছে। তো তাঁর এই একাকীত্ব দূর করার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কী করলেন? তিনি আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করলেন এক নারীকে, তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়া (আঃ) কে।
আল্লাহু আকবার!! আপাতদৃষ্টিতে দেখলে সাধারণ একটি ঘটনা, কিন্তু একটু ভিন্ন আঙ্গিকে দেখলে বোঝা যাবে যে এতে চিন্তাশীলদের জন্য চিন্তার খোরাক রয়েছে।
আমাদের বয়সী যুবকেরা আজকাল নিজেদের একাকীত্ব দূর করার জন্য কী করে? কেউ দুনিয়াবী কাজে-কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। যারা দ্বীন ইসলাম পালনের ব্যাপারে সিরিয়াস নন, তাঁরা হয়তো গান, মুভি, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডাবাজি – এসবের মাঝে ডুবে থেকে নিজের একাকীত্ব দূর করার চেষ্টা করেন। আমরা আলহামদুলিল্লাহ যারা দ্বীনের কিছুটা বুঝ পেয়েছি, তারা হয়তো ইবাদাহ, দ্বীনি ভাইদের সান্নিধ্য, ইলম অর্জন, দাওয়াতি কার্যক্রম – এসবের মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রাখি। কিন্তু যে তিক্ত সত্যটাকে আমরা অনেকেই হয়তো উপলব্ধি করতে পারি না তা হলো এই যে, আমরা আসলে আমাদের একাকীত্ব থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, একাকীত্ব তো আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি কিছু মুহূর্তের জন্য তাকে ভুলে থাকতে। কারণ একটাই, একাকীত্ব দূর করার প্রকৃত উপায় আমাদের জানা নেই।
তো এখানে আমি একটা প্রশ্ন করতে চাই, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর প্রিয় নবীর একাকীত্ব দূর করার জন্য তাঁকে কেন কিছু বন্ধু-বান্ধব দিলেন না, বা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করলেন না? কেন একজন স্ত্রী দিয়ে তাঁর একাকীত্ব দূর করলেন?
সুবহানআল্লাহ, যিনি আমাদের মালিক, আমাদের রব, তিনি কি আমাদের ফিতরাত বোঝেন না? অবশ্যই বোঝেন, এবং তিনি এটা জানেন যে, একজন পুরুষের হৃদয়ের একাকীত্ব দূর করার জন্য একজন স্ত্রীর বিকল্প কিছু নেই, তেমনিভাবে একজন নারীর একাকীত্ব দূর করার জন্যও একজন স্বামীর বিকল্প কিছু নেই। তাই তিনি ঠিক সেই কাজটাই করলেন।
দুই জীবন চলার পথে অনেক মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক হয়, অনেকেই আমাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, অন্তরের খুব কাছে অবস্থান নেয়। কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপন কে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যে উত্তর পাওয়া যাবে তা হলো মা-বাবা। কিন্তু এই মা-বাবা কি তাঁদের সন্তানের হৃদয়ের শুন্যতা পূরণ করতে সক্ষম? এ কথা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য যে একজন মানুষ কোনোদিন মা বাবার অবদান অস্বীকার করতে পারবে না। যে কষ্ট সহ্য করে তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন, যে ত্যাগ স্বীকার করে তার মা বাবা তাকে মানুষ করেছেন, ওয়াল্লাহি, নিঃস্বার্থভাবে করে যাওয়া এই কষ্টগুলোর কথা কখনোই ভুলবার নয়। এজন্য মা বাবাকে সম্মান দেওয়ার, তাঁদের হক আদায়ের ব্যাপারে ইসলাম কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে।
কিন্তু তারপরও ধ্রুব সত্য এটাই যে মা-বাবার ভালোবাসা কোনোদিন একজন মানুষের হৃদয়ের সকল অভাব মেটাতে পারে না, পারে না প্রতিনিয়ত নিজের সাথে সংগ্রাম করে যাওয়া সেই মানুষটার প্রকৃত প্রয়োজন মেটাতে। যদি তাই হতো তাহলে কেন সারাদিন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডাবাজিতে সময় কাটানো, সবাইকে মাতিয়ে রাখা সেই ছেলেটা দিনশেষে একবুক শুন্যতা নিয়ে ঘুমোতে যায়? কেন পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মাঝে চঞ্চল-দুষ্টু হিসেবে পরিচিত সেই মেয়েটিকে মাঝেমধ্যে উদাস নয়নে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়? কেন তারা তাদের হৃদয়ের শুন্যতার কথা কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারে না? আর বলেই বা কি আদৌ কোনো লাভ আছে? প্রশ্নটা পাঠকের দিকেই ছুঁড়ে দিলাম!!
তিন উপরের প্রশ্নটার উত্তর আমাদের অনেকেরই জানা নেই, বা জানা থাকলেও হয়তো বলতে আগ্রহী নই। এ অভাবটুকু পূরণ করা, এই দুঃখ দূর করা কেবল একজনের পক্ষেই সম্ভব; আমাদের জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী।
স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী কেন বলা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যেই উত্তরটা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হলো তা হলো এই যে, জীবন চলার পথে প্রতিটি পদে আপনার জীবনসঙ্গী আপনাকে সঙ্গ দেবে। তাকে শুধু সুখের সাথী বা দুঃখের সাথী বলা হয় না, বলা হয় জীবনের সাথী। সুখ-দুঃখ মিলিয়েই জীবন। সুতরাং যে শুধু আপনার সুখের সময় আপনার পাশে থাকে সে কখনো প্রকৃত জীবনসঙ্গী হতে পারে না। বরং প্রকৃত জীবনসঙ্গী তো সে, যে আপনার দুঃখে সমান ব্যথিত হয়, আপনার দুঃখটাকে যে ভাগ করে নেয়, যে আপনার কষ্টের সময়, সংগ্রামের সময় আপনার সঙ্গী হয়।
বিয়ে করতে চাইলে আমাদের ছেলেদেরকে একটা কমন কথা শুনতে হয়, “আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও। ভালো বেতন হোক, এটা-সেটা হোক, এরপর বিয়ের কথা ভাবো।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে মেয়েটি আমার কষ্টের সময়, আমার সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে আমার সঙ্গী হয়নি, আমায় ভালোবেসে আগলে রাখেনি, সেই মেয়েকে কেন আমি সুখ স্বাছন্দ্যের সময় আপন করে নেব? কেন সে আমার ভালোবাসা পাবে? যদি বিয়ে করি তাহলে কি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা, সম্মান দিতে পারবো কোনোদিন? তাছাড়া পরবর্তীতে আমার জীবনে কোনো বিপর্যয় আসলে যে সে আমায় ছেড়ে চলে যাবে না- তারই বা নিশ্চয়তা কী?
আছে কারও কাছে কোনো উত্তর?!
চার আমরা বিয়ে করবো, কিন্তু কীজন্যে? আমরা স্ত্রী বা স্বামী কেন চাই? আমি একজন পুরুষ, তাই পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে দেখে নিই আল্লাহ কোরআনে কী বলেছেন,
“তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা শান্তি লাভ করতে পারো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’’ [সূরা রুম (৩০):২০-২১]
একজন সঙ্গিনী থেকে আমাদের মূল চাওয়া এটাই, আমরা তার কাছে প্রশান্তি পাবো। অপার্থিব সেই সুখটুকু পাবো, যা কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া সম্ভব না।
চলুন এবার আপনাদের একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন মহীয়সী নারীর কথা শোনাই। কে তিনি? তিনি হলেন আমাদের প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রিয়তমা স্ত্রী, উম্মুল মুমেনিন খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা)।
উম্মুল মুমেনিন খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। তাঁদের বিয়ের সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বয়স ছিলো ২৫ এবং উম্মুল মুমেনিন খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) এর বয়স ছিলো ৪০। বলা হয়ে থাকে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মুল মুমেনিন খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) কে যে পরিমাণ ভালবাসতেন, অন্য কোনো স্ত্রীকে এতটা ভালোবাসতেন না। কিন্তু কেন? ২৫ বছর বয়সী এক যুবক, ৪০ বছর বয়সী এক মধ্যবয়স্কা নারীর মধ্যে এমন কী পেয়েছিলেন যে তাঁকে হৃদয়ের সবটুকু উজাড় করে ভালোবেসেছিলেন?
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) কে পাশে পেয়েছিলেন। খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) তাঁর প্রিয়তম স্বামীকে হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিলেন।
দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর অনেক মুসিবত এসেছিলো, সবাই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো, অবিশ্বাস করেছিলো। সেই সময় খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) তাঁর পাশে থেকে তাঁকে মানসিক সাপোর্ট দিয়েছিলেন, তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন, এবং তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি এবং প্রথম মহিলা যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দাওয়াত কবুল করেছিলেন, ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) মারা যাবার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনে আরও কয়েকজন স্ত্রী এসেছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউই খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) এর অভাব পূরণ করতে পারেননি।
প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভালোবাসা কেমন ছিলো? চলুন কয়েকটা ঘটনা দেখে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি।
■ মাঝে মাঝেই তিনি খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) এর কবরের পাশে বসে অঝোরে কাঁদতেন।
■ খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) এর নাম কেউ তাঁর সামনে উচ্চারণ করলে তিনি নিশ্চুপ হয়ে যেতেন, সবার অগোচরে চলে যেতেন।
■ তিনি খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) এর বান্ধবীদের খোঁজ খবর নিতেন, কোনো পশু কুরবানি দিলে কিছু মাংস তাঁদের জন্য পাঠাতেন। তিনি বলতেন, “আমি তাকে (খাদিজাকে) ভালোবাসি, এজন্য যারা তাকে ভালোবাসে আমি তাদেরকেও ভালোবাসি।”
■ খাদিজা (রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) মারা যাবার কিছু বছর পর ঘটনাক্রমে একটি গলার হার হাতবদল হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাতে আসে, তিনি দেখেই চিনতে পারেন যে এই হারটি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর। হারটি দেখে তিনি অঝোরে কান্না শুরু করে দেন।
শত শত উল্লেখযোগ্য ঘটনার মাঝে মাত্র কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলাম, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালবাসার গভীরতা অনুধাবন করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। এই ঘটনাগুলো যখন পড়ি, তখন বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী সেটা বুঝতে পারি।
পাঁচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যদি কোনোদিন বিয়ে করার তওফীক দেন তাহলে তো অবশ্যই করবো। হবু স্ত্রীর থেকে খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার। তাকে খুব সুন্দরী হতে হবে, উচ্চশিক্ষিতা হতে হবে, গুণবতী হতে হবে- এমন কিছুই চাই না। তার কাছে আমার চাওয়া এতটুকুই যে,
■ সে আমায় দ্বীনের পথে চলতে সাহায্য করবে, আমায় সাহায্য করবে যেন আমি একজন ভাল মুসলিম হতে পারি, আল্লাহর আরও নিকটে যেতে পারি, প্রতিকূল পরিবেশে ঈমান ধরে রাখতে পারি,
■ জীবনে যখন কোনো কঠিন সময় আসবে তখন সে আমার পাশে থাকবে, আমার হাতটা ধরে রাখবে, বলবে যে সে আমাকে অনেক ভালোবাসে, যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক না কেন জীবনে, সে কখনো আমার হাত ছাড়বে না, একসাথে দাঁড়িয়ে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলোর মোকাবিলা করবো আমরা,
■ শত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও আমি যার ভালোবাসায় সুখ খুঁজে পাবো,
■ যদি কখনো দুর্বল হয়ে পড়ি তখন তার ভালোবাসা আমায় শক্তি যোগাবে,
■ যদি কখনো হতাশ হই, তখন সে আমার জীবনে আশার আলো নিয়ে আসবে,
■ যদি পথ চলতে গিয়ে হোঁচট খাই, তখন আমায় আবার উঠে দাঁড়াতে সে সাহায্য করবে,
■ আর যেদিন জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য আসবে তখন তার সাথে আমি এই আনন্দটুকু ভাগ করে নেবো, সেদিন সে আমার আনন্দের সাথী হবে।
এমন একজনকেই তো আমি চাই, এমন কেউই হবে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী, আমার জীবনসঙ্গিনী। আমি জানি না সে এখন কোথায় আছে, কেমন আছে। কিন্তু এটুকু বিশ্বাস করি যে সে-ও এমন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আমার জন্য, যেমনটা আমি তার জন্য করছি। সে-ও আমার জন্য তার তার হৃদয়ের গহীনে রাখা সুপ্ত ভালবাসাটুকু সযত্নে লালন করছে, যেমনটা আমি করছি।
সে-ও আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করছে, যেমনটা আমি করছি। দুআ কবুলের কিছু মুহূর্ত আছে, এই মুহূর্তগুলোতে আমি প্রায়ই একটা দুআ করি:
“হে আল্লাহ, আমাকে একজন দ্বীনদার স্ত্রী দান করুন যে আমার জন্য চক্ষু শীতলকারী, অন্তর প্রশান্তকারী হবে। যাকে আপনি আমার স্ত্রী হিসেবে ঠিক করে রেখেছেন, তাকে হেফাজত করুন, তাকে সবরকম অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখুন, আর আমাকে তওফীক দিন যেন আমি তার জন্য নিজেকে পবিত্র রাখতে পারি।”
এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কেন আমার মতো একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে এমন একটা নিয়ামত দেবেন? এমন মূল্যবান সম্পদের প্রকৃত কদর করা যে আমাকে জানতে হবে! আমার মধ্যে আদৌ এমন কাউকে পাবার যোগ্যতা আছে কিনা, তা চেক করার সময় কেবল একটা মেসেজ পাই, তবুও আশা রাখি, আল্লাহর উপর। আশা রাখি যে একসময় আল্লাহর রহমতে সে যোগ্যতাগুলো আমার মধ্যে এসে যাবে, আর তখন আল্লাহ আমার সামনে এনে হাজির করবেন আমার সেই কাঙ্ক্ষিত নারীকে, আমার জীবনসঙ্গিনী, আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে।
ততদিন পর্যন্ত নাহয় অপেক্ষায় থাকলাম, আর সবার কাছে দুআর জন্য দরখাস্ত করলাম।
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ করুন।” [সূরা আল-ফুরকান, (২৫):৭৪]
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Contact the place of worship
Telephone
Website
Address
Amlai Bhalui Para
Bharatpur
742301