Dr Rameez Reza

Dr Rameez Reza

Share

13/06/2023

#ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট গল্প।

পুজোর জিন্স

ছোট্ট একটা মেয়ে, তেরো বছর বয়স। জঙ্গিপুরের কাছেই অখ্যাত একটা গ্রামে বাস।
বেচারীর পেট ক্রমশ ফুলে যাচ্ছিল, দূর থেকে দেখে মনে হতো, যেন গর্ভবতী হয়ে পড়েছে।
এ ছবি -সে ছবি ,এ ডাক্তার সে ডাক্তার.. অনেক জটিল জটিল কথাবার্তা শুরু হলো চারিদিকে। গরিব পরিবারে আর্থিক টানাটানি।
তারই মাঝে টাকা পয়সা জমিয়ে
সিটি স্ক্যান হলো শহরের নামি এক প্রতিষ্ঠানে ,বেরোলো জটিল এক টিউমারের কথা।

এবার উপায় ? অনেকেই রেফার করে দিল উচ্চতর জায়গায়।

একজন সহৃদয় ডাক্তারবাবু তাকে নিয়ে এলেন মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে।
প্রায় ১০ দিন ভর্তি থাকার পর গত শুক্রবার ছোট্ট মেয়ের পেটে অনেক বড় একটা ইন্সেশন ( কাটা) পড়ল ।
বিস্তর কসরৎ এর পর বেরিয়ে এলো প্রায় কেজি দশকের একটা টিউমার ।একটা গামলা ভর্তি হয়ে গেল প্রায়।
ফুলে ওঠা পেটটা চুপসে গেল এক মুহূর্তে।

গরিব জেলার ভূমিপুত্র দুই ডাক্তারের মুখে তখন ছোট্ট হাসি।
অপারেশনের পর চোখ মেললো মেয়েটা।
"ছোট " জেলার "ছোট " ডাক্তার প্রশ্ন করল , ভালো আছিস? তোর অপারেশন হয়ে গেছে পেটটা দেখ এখন অনেক পাতলা..

বাচ্চা মেয়েটা দুর্বল ভাবে স্যালাইন চলা হাতটা তুলে পেটে হাত দিল তারপরে ডাক্তারের চোখে দিকে তাকিয়ে বলল , স্যার এবার তবে আমি পুজোয় জিন্স পরবো....

পুজোর শপিং করে ওঠার সময় না পাওয়া ডাক্তারের মনে তখন জানান দিল , পুজো আসছে। মা আসছেন। আর মা ছেলের মনের মধ্যে শরৎকালের পেঁজা তুলোর মেঘের মত একরাশ খুশি দিয়ে জন্য পুজোর গিফট পাঠিয়ে দিয়েছেন।

-------------------

12/05/2021

অক্সিজেন থেরাপি

আজ আমরা কিছু সাধারণ আলোচনা করবো অক্সিজেন থেরাপি নিয়ে। এখন বর্তমান পরিস্থিতি তে অনেকেই কোভিড এ আক্রান্ত হয়ে বাড়ীতে অক্সিজেন নিতে বাধ্য হচ্ছেন,অনেকেই হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেন এ আছেন ,অনেক কেই ভেন্টিলেটর এ দিতে হচ্ছে অনেক কেই বাই প্যাপ নামে একটি মেশিনের মাধ্যমে ভেন্টিলেট করতে হচ্ছে। অনেকেই হাসপাতালে বা নার্সিং হোম এ বেড পাচ্ছেন না,তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতেই অক্সিজেন নিয়ে কম স্যাচুরেসান নিয়েও বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। আজকের লেখার মূল উদেশ্য হলো যারা বাড়িতে অক্সিজেন এ আছেন তাদের ক্ষেত্রে কিভাবে সর্বাপেক্ষা বেশি ফ্লো তে সঠিক মাত্রার অক্সিজেন দেয়া যায় সেটি সুনিশ্চিত করা।

অক্সিজেন থেরাপি মানে যেখানে অক্সিজেন কে একটি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমরা অনেক কাল ধরেই ফুসফুস এর না না অসুখ এ অক্সিজেন থেরাপি বাড়িতে বা হাসপাতালে দিয়ে থাকি।

কোভিড 19 এ যারা ভুগছেন ,যারা প্রথম থেকেই অক্সিজেন স্যাচুরেসান কম নিয়ে আছেন বিশেষ করে বয়স্ক লোকদের ক্ষেত্রে 95 এর কম এবং অন্যান্য দের ক্ষেত্রে 90 র কম হলেই আমাদের অক্সিজেন দেয়ার কথা ভাবতে হবে। যাদের আগে থেকেই ফুসফুসের বা হার্ট এর সমস্যা যেমন হার্ট ফেলিওর,সি ও পি ডি, এজমা,আই পি এফ ইত্যাদি আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি করে দরকার হবে।
কিভাবে অক্সিজেন থেরাপি দেব?
1.যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ,তাদের ক্ষেত্রে একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই থাকে যেখান থেকে পাইপলাইন এর মাধ্যমে অক্সিজেন ডাইরেক্ট রোগীর কাছে চলে যায় বেড এ ,ও সেখান থেকে রোগী অক্সিজেন পেতে পারে.
2. এছাড়া যারা বাড়িতে অক্সিজেন দিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে সিলিন্ডার এর মাধ্যমে,এই সিলিন্ডার এর সাইজ অনুসারে(B,C,E,D type). এর মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার অক্সিজেন থাকতে পারে। এই অক্সিজেন সিলিন্ডার এর মধ্যে কমপ্রেস করে রাখা হয় অর্থাৎ বেশি চাপে অনেক বেশি আয়তন এর অক্সিজেন অনেক কম আয়তন এর সিলিন্ডার এ রাখা যায়। একটি বড় সিলিন্ডার এ 1200 লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন ভরা যেতে পারে।
3.যারা বাড়িতে অক্সিজেন দিচ্ছেন তারা অবশ্যই যেখান থেকে অক্সিজেন নিচ্ছেন সেখান থেকে জেনে নেবেন অক্সিজেন কত লিটার ভরা আছে। সব সময় সিলিন্ডার এর মাপ অনুসারে অক্সিজেন থাকে না,তার বেশি বা কম হতে পারে।
4. অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে রোগী কে অক্সিজেন 2ভাবে দেয়া যেতে পারে। নাকের মাধ্যমে যেটি কে নাসাল প্রঙ্গ বা নাসাল ক্যানুলা বলা হয়। এতে 24-44% অক্সিজেন দেয়া যায়। সর্বাধিক 6লিটার প্রতি মিনিটে দিলে 44% অক্সিজেন প্রবেশ করে। এটি নিয়ে রোগী খেতে, কথা বলতে ,নেবুলাইজার নিতে পারে। নাকে অনেকক্ষণ নিলে নাক শুকনো হওয়া বা নাকে ঘা হতে পারে, সাবধানে রাখবেন।
5.অক্সিজেন মাস্ক
অক্সিজেন মাস্ক এর মাধ্যমেও রোগী অক্সিজেন নিতে পারে, এতে নাসাল ক্যানুলার থেকেও বেশি মাত্রার অক্সিজেন দেয়া যেতো পারে। এর বিভিন্ন প্রকার আছে, যেমন
Simple oxygen Mask
সব থেকে কমন। নেবুলাইজার নিতেও এরকম মাস্ক আমরা ব্যবহার করি। এতে রোগীর অক্সিজেন নিতে খুব ই সুবিধে হয়, এতে 6 থেকে 10 লিটার প্রতি মিনিটে এ 35 % থেকে 60% অক্সিজেন দেয়া যায়
Partial rebreather Mask
এই মাস্ক এর মাধ্যমে 80% পর্যন্ত অক্সিজেন দেয়া যায় কিন্তু ফ্লো অর্থাৎ অক্সিজেন এর গতিবেগ সবসময় 6 লিটার প্রতি মিনিটে হওয়া উচিত।
Non rebreathing Mask(NRBM/HIGH)
এই মাস্ক এর মাধ্যমে সবথেকে বেশি ঘনত্বের অক্সিজেন দেয়া যায়,এই মাস্ক এ একটি থলি থাকে ও একটি ভালভ থাকে যাতে কোনো অক্সিজেন ই নষ্ট হয়না,এবং 95% পর্যন্ত অক্সিজেন দেয়া যায় 6 থেকে 15 লিটার প্রতি মিনিটে।

মনে রাখবেন অক্সিজেন দেয়ার সময় সেটি যেন ড্রাই বা শুকনো না হয়, সবসময় humified অর্থাৎ জলীয় বাষ্প যুক্ত অক্সিজেন দেয়া উচিৎ। আপনার অক্সিজেন সিলিন্ডার এর বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেবেন এবং গতিবেগ বা ফ্লো রেট কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটাও জেনে নেবেন। শেষ হয়ে যাবার আগেই অক্সিজেন রিফিল করে নেবেন।
6. বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলে কিন্তু কাউকেই ধূমপান করতে দেয়া যাবে না। অক্সিজেন র সামনে ধূমপান করলে বা আগুন র সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ এর সম্ভাবনা আছে।
7. অক্সিজেন কোনসেনট্রেটার(oxygen Concentrator)
এটি একটি বিশেষ মেশিন যা বিদ্যুৎ এ চলে, এবং বাতাস এর অক্সিজেন র ঘনত্ব বাড়িয়ে 24 থেকে 93 % পর্যন্ত করতে পারে, এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অক্সিজেন সাপ্লাই করতে পারে । অর্থাৎ বাড়িতে এটি থাকলে জাস্ট সুইচ টিপলেই পাবেন তাজা অক্সিজেন, যদিও এতে 5লিটার এর বেশি গতিবেগ তোলা খুব মুশকিল। কিন্তু একবার কিনলে আর সারাজীবন অক্সিজেন এর জন্য সিলিন্ডার এর উপর নির্ভর করতে হবেনা।

8. হাই ফ্লো নাসাল অক্সিজেন (HFNO)
কোভিড এর ক্ষেত্রে হাই ফ্লো অক্সিজেন অর্থাৎ উচ্চ গতিবেগ এ নাসাল অক্সিজেন দিতে হয়। এটি একটি বিশেষ মেশিন যার মাধ্যমে 30 থেকে 60 লিটার প্রতি মিনিটে অক্সিজেন দেয়া হয়। কোভিড রোগী রা যাদের অক্সিজেন কমে যাচ্ছে ও স্যাচুরেসান নেমে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে উচ্চ গতিবেগ এ অক্সিজেন দেয়া হয়। এই যন্ত্র টি কোভিড হাসপাতালে ও নার্সিং হোম গুলিতে আছে।
9.বাইপ্যাপ মেশিন
এটি একটি বিশেষ ধরনের ভেন্টিলেটর যাতে একটি মাস্ক এর মাধ্যমে উচ্চ চাপ এ বাতাস ফুসফুস এ প্রবেশ করানো হয়। বাইপ্যাপ এর মাধ্যমে নিঃস্বাস ও প্রশ্বাস এর 2টি প্রক্রিয়া তে 2টো আলাদা বায়ুচাপ এ বাতাস প্রবেশ করানো হয়। যারা কোভিড নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় স্যাচুরেসান কিছু লোকদের ঠিক থাকে কিন্তু ফুসফুস ক্লান্ত হয়ে যায়,তাদের ক্ষেত্রে এই মেশিন ব্যবহার করে ঠিক করা হয়।

10. ভেন্টিলেটর
সব থেকে ভয়াবহ শব্দ। এই কোভিড নিউমোনিয়ার সময় কোনো রোগী ভেন্টিলেসান এ আছে শুনলেই মানুষ শিউরে ওঠে,সাধারণ মানুষের কাছে ভেন্টিলেশন এ যাওয়া মানেই সব শেষ,কেউ কেউ ভাবে এগুলি নার্সিং হোম বা ডাক্তার এর বাজে বুদ্ধি, টাকা নেয়ার জন্য ইচ্ছে করে ভেন্টিলেটর এ দিয়ে দেয়, বিল বাড়ানোর জন্য, মৃত মানুষ কে জীবিত সাজিয়ে রেখে দেয় ইচ্ছে করে। বিশ্বাস করুন এগুলো সব ভুল ধারণা, যেমন কিডনি র ক্ষেত্রে ডায়ালিসিস, যেমন হার্ট এর ক্ষেত্রে পেসমেকার, তেমন ই ফুসফুস এর রোগী দের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদায়ী মেশিন।
কোভিড নিউমোনিয়ায় যাদের অক্সিজেন হাই ফ্লো নাসাল অক্সিজেন দেয়ার পর ও উন্নতি হয় না, অক্সিজেন স্যাচুরেসান কমতে থাকে ও ফুসফুস ক্লান্ত হতে থাকে তখনই দরকার হয় ভেন্টিলেশন এর । এতে মেশিন কৃত্তিম ভাবে নিশ্বাস ও প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে ও রোগী কে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। ফুসফুস অনেক আরাম পায় ও কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে যায়।

তাহলে সবাই কেন বলে যে ভেন্টিলেশন এ দেয়া মানেই শেষ?
এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যে মানুষের ফুসফুস দুর্বল, যার শরীর এর শেষ সময় চলে এসেছে তাকে ভেন্টিলেশন দিলে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম,বিশেষ করে সে যদি বয়স্ক হয় ও তার অন্যান্য রোগ থাকে, কিন্তু যে কোনোদিন ভেন্টিলেশন পায়নি, যার আগে কোনো ফুসফুসের রোগ ছিল না তাকে ভেন্টিলেশন দিলে তার সেরে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই।

তাই বাড়িতে অক্সিজেন দিলে খেয়াল রাখুন কিসে দিচ্ছেন, যদি অক্সিজেন না পারে তাহলে নাসাল ক্যানুলার বদলে অক্সিজেন মাস্ক দিন বা NRBM মাস্ক দিয়ে দেখুন স্যাচুরেসান বাড়ছে কিনা। ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করুন অক্সিজেন এর মাত্রা কিভাবে বাড়ানো যায়। যদি ডাক্তার বাবুর পরামর্শ দেয় এবং হাসপাতালে বেড না পাওয়া যায় বা ভর্তি না করা যায়, আমাদের বাড়িতে ভেন্টিলেশন অর্থাৎ বাইপ্যাপ যন্ত্রটি দিয়েও চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।।
সবাই ভালো থাকবেন, আমরা সবাই আপনাদের পাশেই আছি। অক্সিজেন থেরাপি সম্পর্কে পরামর্শ নিতে এই গ্রুপ এ হেল্প পোস্ট করুন, আমরা আপনার পাশে আছি।

____________________________
সৌজন্যে - জয়দীপ গাঙ্গুলী দা

Want your practice to be the top-listed Clinic in Berhampore?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


102/2/B Exhibition Bagan Road , Gorabazar
Berhampore
742101