The Freethinking Humanists -Adra
30/06/2026
জানেন কি প্রথম কোন ভারতীয় পদ্ম পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ?
প্রথম পদ্ম পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এক বাঙালি | তিনি নাট্যকার শিশিরকুমার ভাদুড়ী |
নাট্যকার হিসেবে তার অবদানের জন্যে ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' প্রাপকদের তালিকায় তার নাম ঘোষণা করে। কিন্তু খবর শোনার পরেই তিনি বললেন এই সম্মান তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না, যদি সত্যি তাকে সরকার সম্মান দিতে চায় তাহলে কলকাতায় নাট্যশালা বানিয়ে দিক। তিনি মনে করতেন যদি এই পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেন তাহলে শিল্পী মহলে একটি মিথ্যা বার্তা যাবে যে সরকার নাট্যশিল্পী ও মানবজীবনে নাটকের গুরুত্ব নিয়ে খুব সচেতন। পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে সরকারকে লিখেছিলেন, “I have a personal reason, besides the one of principle, for not wishing to be conferred the honour. By accepting this I shall mislead the lovers of the theatre into believing that Government are awake of the importance of drama in the life of the nation….If the Government really wished to honour me… the cause that I have served for nearly forty years, a move befitting tribute would have been the gift of a public stage to the city of calcutta. For it is too late to retrieve the theatre I have lost…” ।
আজ যে নাটক আমরা দেখি তা শিশির ভাদুড়ী না থাকলে কখনও দেখা হত না। তাঁর আগে বাংলা নাটকে গিরিশ ঘোষ, দানীবাবুর মতো অভিনেতা ছিলেন। কিন্তু শিশির ভাদুড়ী ইংরেজির ডাকসাইটে ছাত্র, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় থেকে প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, সকলে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিদ্যাসাগর কলেজে অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে পেশাদারি মঞ্চে আসছেন। এই জিনিস আগে কখনও হয়নি। এই শিক্ষিত মননই বদলে দিল সব কিছু। তাঁর আগে, বাংলা নাটকে সেট বা মঞ্চসজ্জা বলে কিছু ছিল না। পিছনে ছবি-আঁকা পর্দা ঝোলানো থাকত, অভিনেতা পার্ট আউড়ে যেতেন। শিশিরবাবুই প্রথম নিয়ে এলেন ত্রিমাত্রিক সেট, আলোর যথাযথ ব্যবহার। তাঁর পরিচালনাতেই নেমেছিল রবীন্দ্রনাথের ‘শেষ রক্ষা’র মতো নাটক।
বই পড়া ছিল তার খুব প্রিয়। বাড়িতে ছিল লাইব্রেরী। রাত জেগে পড়াশোনা করতেন। নিরামিষ খেতেই ভালোবাসতেন। শুক্তো ছিল খুব প্রিয়। সিমলে পাড়ার বিখ্যাত দোকান থেকে নিয়মিত গোলাপি প্যাঁড়া প্রায়ই খেতেন। ভালোবাসতেন ফল, দুধ, সন্দেশ।
অভিনেতা মানুষ, তা বলে যে বাড়িতে থিয়েটারের সংলাপ আওড়াচ্ছেন, গান করছেন, একটা দিনের জন্যও কেউ এমনটা দেখেনি। কোনও কিছুতেই উচ্চকিত নন। বরং অনাবেগী। আদিখ্যেতার ধারপাশ মাড়াননি কোনও দিন। দেখনদারি তো নয়ই। আর বাস্তব জীবনে? অসম্ভব বৈরাগী, উদাসী!
দেশের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিজের আদর্শ মানতেন। তার ঘরে শুধু একটিই ছবি ছিল - সেটা ছিল নেতাজীর। নেতাজীর অন্তর্ধানের পর প্রত্যেক বছর ২৩ শে জানুয়ারিতে যত শো করেছেন, প্রত্যেক বার প্রথমে নেতাজীকে মালা পরিয়েছেন, তারপর তাকে নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন, তারপর শুরু করতেন সেদিনের নাটক। তার একটি বিখ্যাত প্রযোজনা ছিল ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের লেখা ‘রঘুবীর’ নাটক। ১৯৫১ সালের ২৬ জানুয়ারি শ্রীরঙ্গমে এই নাটকে অভিনয়ের আগে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ”১৯১২ সালে রঘুবীর নাটক রচিত হয়৷ কল্পনা করুন তখনকার দেশ সময়৷ তখন দেশে চলেছে ভীষণ রেভোলিউশন - ক্ষুদিরাম প্রমুখরা তখন ভীষণ বিপ্লবী - বোমা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন। রঘুবীর নাটক হচ্ছে এই দেশাত্মবোধের অনুভূতি নিয়ে লেখা প্রথম জাতীয় নাটক।”
আজ নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ীর প্রয়াণদিবসে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সৌজন্যে অহর্নিশ
তথ্য : আনন্দবাজার পত্রিকা, দেশ পত্রিকা
=====================
বরানগরের কাছে বি টি রোডের ধারে একটা লালচে রঙের দোতলা বাড়ির প্রায়ান্ধকার ঘরে অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন এক প্রৌঢ়। তাঁর মুখের চুরুটের আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে তাঁর ভ্রম হয়, যেন নতুনভাবে সাজানো মঞ্চে সহসা জ্বলে উঠেছে পাদপ্রদীপের আলো। কানে আসছে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। সহসা তাঁর ভুল ভাঙে। তিনি উচ্চারণ করেন: ‘ইট ইজ দা কজ, ইট ইজ দা কজ, মাই সোল.../ হোয়াট ইজ দা কজ?’ এই মানুষটির নাম শিশিরকুমার ভাদুড়ী। বাংলা রঙ্গমঞ্চের মুকুটহীন সম্রাট। অভিনয়ে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। একথা আপামর দর্শকই শুধু নয়, রঙ্গমঞ্চে তাঁর প্রবল প্রতিপক্ষরাও মানতেন। অভিনয়ে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পারেন দেশি-বিদেশি সব দর্শককে। কিন্তু অভিনয় নয়, তাঁর বেদনা অন্যখানে। শিশিরকুমারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশি প্রকরণের শৃঙ্খল থেকে বাংলা নাটককে মুক্ত করে, তাকে তার নিজস্ব ভূমিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন। অথচ যতবার নতুন কিছু করতে চেয়েছেন, দর্শকরা প্রত্যাখ্যান করেছে। শিল্পের কাছে সৎ থাকতে গিয়ে ব্যবসার দিকটি সামলাতে পারেননি। ক্রমশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন। বরানগরের ওই বাড়ির শেষ আশ্রয় থেকেও আজ দূর করে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। শিশির ভাদুড়ির এক বর্ণময় জীবন নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক ও অনন্যসাধারণ উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গ সম্রাট’।
আমাজন লিংক : https://amzn.to/4xUCfxt
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the organization
Telephone
Website
Address
24 Khuli
Adra
723121