MillaTians Tongi Campus

MillaTians Tongi Campus

Share

05/08/2024

36th of July. The last day of Terrible July. Alhamdulillah

11/11/2019

১৮০০ সালে সারা পৃথিবীতে এমন কোন জায়গা ছিল না যেখানে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৫ বছরের বেশী।

১৮০০ সালে আমেরিকার মানুষ বাঁচত গড়ে ৩৫ বছর, ইউরোপে ৩৪ বছর, আফ্রিকায় ২৬ বছর, এশিয়াতে ২৮ বছর, এবং অস্ট্রেলিয়াতে ৩৫ বছর।

১৯৫০ সাল নাগাদ, প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে সারা পৃথিবীতে "নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার" বা "ইন্টার ন্যাশনাল সিস্টেম" চালু করা হয়। এই নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের প্রথম সারীর দেশগুলোতে -- মানে ইউরোপ, আমেরিকা, এবং অস্ট্রেলিয়াতে মানুষের গড় আয়ু ৬৮-৬৯ বছরে পৌছে যায় ১৯৫০ সালে।

১৯৫০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর আমেরিকার মধ্যে যখন কোল্ড ওয়ার শুরু হবে হবে করছে, তখন আজকের রাশিয়াতে গড় আয়ু ছিল ৫৫ বছর যা ছিল ইউরোপ-আমেরিকার চাইতে ১৪ বছর কম।

১৯৫০ সালে ভারতের গড় আয়ু ছিল ৩৫ বছর, বাংলাদেশে ৩৯ বছর, চীনে ৪৩ বছর।

এবার ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে আসুন আজকের দুনিয়ায়। ২০১৫ সালে।

সারা দুনিয়াতে বেশির ভাগ দেশেই এখন গড় আয়ু ৭০ অতিক্রম করেছে (মধ্য আফ্রিকা এসেছে ৬০ বছরে )।

অর্থাৎ ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫, মাত্র ৬৫ বছরে মানুষ গড়ে ডবল ডবল বাঁচতে শুরু করেছে।

চীন-ভারত-বাংলাদেশের মানুষ বাঁচতে শুরু করলো ১৯৫০ সালে গড়ে ৩৫ বছর থেকে ২০১৫ সালে ৭০ বছর!

এর কারন কি জানেন?

এর কারন হচ্ছে ক্যাপিটালিজম এবং গ্লোবালাইজেশন।

এর পিছের আর একটা কারন হচ্ছে "আমেরিকান নিও-লিবারালিজম"।

এই নিও-লিবারাল ওয়ার্ল্ড ওর্ডারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল নতুন নতুন মার্কেট সৃষ্টী করা। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে ইন্টার ন্যাশনাল সিস্টেমের প্রধান প্রতিষ্ঠান গুলো বুঝতে পেরেছিল সারা দুনিয়াতে মার্কেট তৈরি করতে হলে এবং নিজেদের প্রোডাক্ট বেচতে হলে, মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে, বেশী দিন বাঁচতে দিতে হবে।

ক্রেতা যতো বেশী সুস্থ থাকবে এবং যতো দীর্ঘ সময় বাঁচবে, ততো বেশী বেশী পন্য কিনতে পারবে।

এই কন্সেপ্টের মধ্য থেকেই ১৯৫০ সালের পর থেকে সারা দুনিয়ার যেখানে যেখানে জন সংখ্যা বেশী, সেই সব এলাকায় আমেরিকার ফান্ডিং দিয়ে শুরু হয় টিকা দেবার কার্যক্রম।

যার প্রভাবে কলেরা, যক্ষা, হুপিংকাফ, টিটেনাস, ম্যালিরিয়া রোগের টিকা পেয়েছিল এশিয়ার খুব বড় একটা অংশের মানুষ।

আমেরিকান সরকার তখন হিসাব করে দেখেছিল পৃথিবীর একজন মানুষকে এই সব কটা রোগ থেকে সারা জীবনের জন্য মুক্তি দিতে জনপ্রতি আমেরিকার খরচ হবে মাত্র কয়েক ডলার। সেই হিসাবে তখনকার পৃথিবীর ১-২ বিলিওন মানুষকে টিকা দিতে যদি আমেরিকার কয়েক বিলিওন ডলার খরচও হয়, এই মানুষ গুলো ভবিষ্যতে এর চাইতে অনেক গুন বেশী পন্য তৈরি এবং কিনতে পারবে। যার বেনেফিট পাবে আমেরিকা ও ইউরোপ।

আমাদের ছোট বেলায় আমরা যে টিকা গুলো পেয়েছি, তার শত ভাগ এসেছে আমেরিকা-ইউরোপ ফান্ডেড বিভিন্ন এনজিও এর কাছ থেকে কিংবা সরকারী সাহায্যের মধ্য থেকে।

এই নিওলিবারাল, ক্যাপিটালিস্ট, গ্লোবালাইজড টিকা দেবার প্রজেক্ট যতো মানুষকে তাদের গড় আয়ু ডবল করতে সাহায্য করেছে, তার সংখ্যা হবে কম পক্ষে কয়েক বিলিওন। এই একই সময়ে যুদ্ধ-বিদ্রোহের কারনে মানুষ মরেছে কয়েক মিলিওন।

যদি নিষ্টুর, নির্মোহ ভাবে নেট লাভ-ক্ষতি কিংবা নেট বাঁচা-মরার হিসাব করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, মানব জাতির ইতিহাসে গত ৭০ বছরের মতো সারা পৃথীবি ব্যাপি প্রসপারিটি বা উন্নতি আর কখনও হয় নাই। এই প্রস্পারিটি বা উন্নতি এসেছিল ক্যাপিটালিজমের হাত ধরে, নিও-লিবারালিজমের হাত ধরে, গ্লোবালাইজেশনের হাত ধরে।

এই কথাটা প্রমান করার জন্যে মাত্র ৬৫ বছরে, মানুষের ৩৫ বছর থেকে ৭০ বছর গড়ে বাঁচার এই স্টাটীস্টিকের চাইতে শক্তিশালী কোন তথ্যও আর হয় না।

লেখক: Rabbee Anik

Want your school to be the top-listed School/college in Tongi?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Tongi