Message Of Islam
জীবনের যেকোন একটি লগ্নে আপনাকে ইসলামের ছায়াতলে আসতে হবে, হবেই। হয়তো সেটি সময় হারিয়ে আর নয়তো সময় থাকতে। হয়তো সেটি জীবনের ছোট কিংবা বড় একটি ঝড় আসার আগে কিংবা পরে। হয়তো যৌবনে কিংবা বৃদ্ধের নরম শরীরে।
বিষয়টি সম্পুর্ন ডিপেন্ড করছে অন্তরের তাকওয়ার উপর, আজ উদাসীন আপনি, কাল আপনি হিদায়াত ও পেয়ে যেতে পারেন, যদি আল্লাহ চান।
"হে প্রশান্ত হৃদয় আত্মা, তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে আসো, তুমি সন্তুষ্ট, তিনিও তোমার উপর সন্তুষ্ট। আমার বান্দাদের মাঝে চলে এসো। আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।"
[সুরা ফাজরঃ ২৮-৩০]
স্কুল ফ্রেন্ড আর ছোটবেলার খেলার সাথীদের কথা যদি চিন্তা করি, মান্থলি ইনকাম আমার সবচেয়ে কম। এতই কম যে, তাদের সাথে তুলনাও করা চলে না। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, সানিন! তোমার মন খারাপ হয়? সামান্য দেরি না করেই উত্তর আসে, হয় না।
সমবয়সী কেউ যখন চোখের সামনে দিয়ে এলিয়েন, প্রিমিও হাঁকায়, আল্লাহ সাক্ষী কখনই মনে হয় না, আমার যদি একটি থাকতো। এ প্রতিযোগিতায় আমি আগেই হার স্বীকার করে নিয়েছি, খারাপ লাগার কথাও না।
তবে আমার নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়, আমি আমার থেকে বয়সে ছোট কাউকে যখন দেখি, দ্বীনি ইলমে সে আমার থেকে অনেক অগ্রসর। যখন কারো ব্যপারে শুনি, গত ছয় মাসে তার কখনো তাহাজ্জুদ ছুটে নি, বড় ছোট লাগে নিজেকে।
আমার এক সহকর্মী। এক সময়ের হিফযের সাথী। তাকে দেখিয়ে, ছোট বেলা থেকেই আব্বা বলতো, ওর মত কেন হতে পারিস না। যতক্ষন জেগে থাকতো, অনবরত তার ঠোট নড়তো। হাফিয এই বন্ধুর তিলাওয়াত ছাড়া অবসর সময় কেটেছে, এরকম দেখা যেতো না খুব সহজে।
ঈর্ষা হিংসা হিনমন্যতা আমাদের সবার মাঝেই আছে। ক্ষেত্রগুলোতে কেবল পার্থক্য। দুনিয়ার ব্যপারে ঈর্ষা আমাকে আপনাকে না পাওয়া আর অতৃপ্তদের দলেই রাখবে আজীবন। নদীর এ-কুল আজীবন ও-কুলের কথা ভেবে আফসোসই করবে। এটাই বাস্তবতা।
তবে আখিরাতের ব্যপারে যদি ঈর্ষা হয়, এ ঈর্ষারও মুলযায়ন করা হবে। যদি নাও হতে পারি তাদের মত, অন্তত কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে এতটুকু তো বলা যাবে,
আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দাদের মত হতে পারি নি। তবে তাদের ভালবাসতাম। তাদের মত হতে চাইতাম। আমাকে তাদের সাথেই রাখুন।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লিখেছেনঃ রিযওয়ানুল কবির সানিন ( আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আ-মীন)
ঈর্ষণীয় বেতন, তার উপরে নিরাপদ চাকুরী, তবুও জামিল সাহেবের দিনকাল ভালো কাটেনা। এতো এতো টাকা উপার্জন করেও মাসের অর্ধেক গেলে অন্যের কাছে হাত পাততে হয়। ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে প্রতিনিয়ত। কখনও আবার অসুস্থতা, কখনও বা পারিবারিক কলহ লেগেই আছে তার। ব্যাংকের এই উচ্চপদ কখনই তাকে মানসিকভাবে তৃপ্ত করতে পারেনি বরং দিনকে দিন কষ্টই বাড়িয়েছে। ওদিকে ডাক্তার বলে দিয়েছে তার রক্তে সুগার বেড়েছে, হার্টের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। সব মিলিয়ে তার আর দুধেভাতে থাকা হচ্ছেনা।
ইদানিং তাকে দুই এক ওয়াক্ত নামাজ পড়তে দেখা যায়। নামাজের পর তার ভিতরে এক অজানা প্রশান্তি কাজ করে। সে ধীরে ধীরে পাক্কা নামাজী হয়ে ওঠে। ফজর ওয়াক্তেও তাকে মাসজিদে পাওয়া যায়। নামাজ শেষে মাসজিদের পাঠাগার থেকে সে এখন বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। একদিন সূদ বিষয়ক একটি বইয়ের কয়েকটি পাতা উল্টিয়ে বিভিন্ন দলিলাদি দেখে তার চোখ ইয়া বড় হয়ে উঠে। নিজেকে সে ধিক্কার দিয়ে বলতে থাকে, "এ আমি কি করছি! আপন মায়ের সাথে জ্বিনা? আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) - এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ? - আস্তাগফিরুল্লাহ! হাশরের মাঠে আমি আল্লাহকে কি জবাব দিব?
সে দেরী না করে এই চাকুরী থেকে অব্যহতি নিয়ে নিল। তার চেহারার ভাষা বলে দিল, তার মাথা থেকে কয়েক টন বোঝা হাল্কা হয়ে গেছে। এখন তার বেশ ফুরফুরে লাগে। একটা ব্যবসায় পুঁজি খাটিয়ে মাসে যা আসে তাতেই পরিবারের সবার দেখভাল আরামসে হয়ে যায়।
মাঝে মাঝে সে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে। শতশত মানুষের ভীড়ে মহান আল্লাহ তাকে বাছাই করে হালাল পথে এনেছেন, শুধুমাত্র এই খুশিতে।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Ghatail
Tangail
001