Garuda Cyber Intelligence Network
14/06/2026
ফেসবুকে দিনরাত যাঁরা বিনামূল্যে দেশপ্রেমের শংসাপত্র বিতরণ করেন এবং কথায় কথায় এদেশের সনাতনীদের ভারতীয় দালাল ট্যাগ দিয়ে সস্তা আত্মতৃপ্তি খোঁজেন, ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল জীবন এবং আমেরিকার নাগরিকত্ব পকেটে রেখেও বিশ্বমঞ্চে সঞ্জয় দেব যেভাবে নিজের পোশাকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আর লাল সবুজের গৌরব ধারণ করে বাংলাদেশকে চেনালেন, তাঁর সেই ঐতিহাসিক পারফর্ম্যান্স তাঁদের সংকীর্ণ চেতনার মুখে একটি মোক্ষম থাপ্পড়। আমাদের সনাতন ধর্মই শেখায়, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী অর্থাৎ মা এবং মাতৃভূমি আমাদের কাছে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায়ে এদেশের ভূমিপুত্র সনাতনীরা প্রমাণ করেছেন যে এ মাটির প্রতি তাঁদের আনুগত্য কতটা প্রশ্নাতীত। নিজের দেশকে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানিত করার জন্য যে কলিজা ও মানসিক গভীরতার প্রয়োজন হয়, তা এদেশের কিছু বকধার্মিক ও কূপমণ্ডূকের অনুধাবনের বাইরে।
নিজেদের যোগ্যতা এবং দেশের প্রতি প্রকৃত অবদান যেখানে সম্পূর্ণ শূন্য, সেখানে অন্যের দেশপ্রেমের পরীক্ষা নিতে বসা এই স্বঘোষিত ইজারাদারদের বর্তমান অবস্থা দেখে সত্যিই করুণা হয়। এদের কর্মকাণ্ডের পর আসল বেইমান কারা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার জন্য যে মননশীলতা আর সাহসের প্রয়োজন হয়, তা ফেসবুকের কিবোর্ড চেপে বিদ্বেষ ছড়ানো বাঙ্গুদের ধারণক্ষমতার বাইরে। অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের মানসিক দেউলিয়াত্ব দূর করে নিজেদের চরকায় তেল দেওয়া প্রয়োজন কারণ আমাদের ইতিহাসই আমাদের দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় প্রমাণ, কোনো পেইড এজেন্টের কাছ থেকে দেশপ্রেমের সনদ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। জয় হোক সনাতনের।
24/05/2026
বেশ কিছুদিন ধরে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে 'মব ভায়োলেন্স' বা দলবদ্ধ হিংস্রতা চালানো হচ্ছে। কখনও প্রাতিষ্ঠানিক কূটকৌশল, কখনও বা উগ্রবাদী ও স্বার্থান্বেষী মহলের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বেছে বেছে সনাতনী শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে—যা সমগ্র সনাতন সমাজের মনে গভীর ক্ষত ও চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।
আজ শুধু সনাতন ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে প্রতিটি পেশার মানুষ এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। শিক্ষকদের সাধারণ কোনো বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, কিংবা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে অনলাইন ও অফলাইনে ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই নোংরা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ পদ-পদবি দখল করছে, কেউ ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে ফায়দা লুটছে, আবার কেউ সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর মানসিক ও আর্থিক নিপীড়ন চালাচ্ছে।
একটি সভ্য সমাজে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইন ও বিচার ব্যবস্থা কখনও একপাক্ষিক হতে পারে না।
যারা সমাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে শিক্ষক সমাজ তথা পুরো সনাতনী সম্প্রদায়কে প্রতিনিয়ত হেনস্তা ও নির্যাতন করে যাচ্ছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এই মব ভায়োলেন্স বা বিচারবহির্ভূত তাণ্ডব এখনই বন্ধ করতে হবে।
মনে রাখবেন:
আজ যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব দর্শক হয়ে আছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অন্যায়ের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা না হলে, আজ যা সনাতনীদের সাথে ঘটছে, আগামীকাল তা দেশের অন্য যেকোনো নিরীহ নাগরিকের সাথেও ঘটবে। আজ আমরা আক্রান্ত, কাল হয়তো আপনারাই হবেন এই অন্ধ আক্রোশের পরবর্তী শিকার।
© Garuda Cyber Shield
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Address
Sylhet