KHM 2.0

KHM 2.0

Share

12/07/2026

শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি ভাই – এই পোস্টটা ইগনোর করলে আপনার পকেটের না, সরাসরি কিডনির বারোটা বাজতে পারে। ২ মিনিট সময় দেন, এই গল্পটা আপনার নিজের বা ভাই-বোনের ডায়ালাইসিসের বিল বাঁচায় দিতে পারে।

গত শুক্রবার মাগরিবের পর আমার কলেজের বেস্ট ফ্রেন্ডটা কল দিল। ফোনের ওপাশে শুধু ফোঁপানির শব্দ। কান্না চাপতে চাপতে বললো, "দোস্ত, ছোট বোনটারে হাসপাতালে ভর্তি করাইছি। ডাক্তার বলতেছে দুইটা কিডনিই নাকি ৬০% ড্যামেজ। অথচ ওর বয়স মাত্র ২৬!"

২ মাস আগের কথা। ২৯ বছরের সুমি আপু। একটা মাল্টিন্যাশনালে জব করে। সারাদিন এসির মধ্যে ল্যাপটপে, টার্গেটের প্রেশার। বাসায় ফিরে টিকটক আর বিরিয়ানি। ওজন ঠিক আছে, দেখতেও ফিট। লাস্ট ১ বছর ধরে শুধু বলতো, "দোস্ত, চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, আর একটু পরপর ওয়াশরুমে যাওয়া লাগে"। আমরা সবাই বলতাম, "আরে পানি কম খাস, রাত জাগিস, তাই এমন হয়"। নিজে নিজে গুগল করে পানি খাওয়া বাড়ায় দিলো।

ঈদের ২ দিন পর। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে পা দুইটা ফুলে ঢোল হয়ে আছে। জুতা ঢুকতেছে না। সাথে বমি বমি ভাব। ফ্যামিলি ভাবছে ফুড পয়জনিং। হাসপাতালে নিয়ে ব্লাড টেস্ট করতে গিয়ে ডাক্তারের মাথায় হাত। Creatinine লেভেল 4.8! নরমাল থাকে 1 এর নিচে।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলো, "আপনি এতদিন টের পান নাই? আপনার কিডনি তো প্রায় অকেজো হওয়ার পথে।"

আরেকটা ঘটনা শোনেন। আমার মামা, বয়স ৪৫। হাই প্রেশারের রোগী, কিন্তু ওষুধ খায় আর ছাড়ে। বলে, "ধুর, ওষুধ খাইলে কিডনি নষ্ট হয়"। লাস্ট ২ বছর ধরে প্রেশার 160/100 এর নিচে নামেই না। আমরা বললে হাসে। লাস্ট মাসে হঠাৎ শরীর চুলকাইতে শুরু করলো, মুখ দিয়ে মাছের মতো গন্ধ। টেস্ট করে দেখে কিডনি ফেইলিউর। এখন সপ্তাহে ৩ দিন ডায়ালাইসিস। প্রতিবার ৩৫০০ টাকা।

দুইটা মানুষ, দুইটা কাহিনী, কিন্তু কালপ্রিট একটাই। শরীরের সবচেয়ে নিরীহ অর্গানটা ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাইতেছে, কিন্তু সে একটা টুঁ শব্দও করে নাই। এইটার নামই – সাইলেন্ট কিলার। আজকের টপিক: কিডনি ফেইলিউর।

ভাই, ব্যথা ছাড়া কিডনি কীভাবে নষ্ট হয়? এইখানেই আমরা ধরা খাই।
আমাদের কিডনি হইলো আপনার বাসার পানির ফিল্টারের মতো। প্রতিদিন ১৮০ লিটার রক্ত ছাঁকে, ময়লা বের করে দেয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হইলো, এই ফিল্টারের ৭০% নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি ৩০% দিয়ে সে চুপচাপ কাজ চালায় যায়। আপনি টেরও পাবেন না। মুখে রুচি আছে, ঘুম হইতেছে, কাজও করতেছেন।

যেইদিন ৮৫% ফিল্টার বাদ হয়ে গেল, ওইদিন সকালে উঠে দেখবেন পা ফুলা, বমি, শ্বাসকষ্ট। তখন ডাক্তার বলবে "ডায়ালাইসিস লাগবে"। মানে গেম ওভার। এই জন্যেই কিডনি রোগীরা বলে, "ভাই, যখন ধরা পড়ছে তখন আর কিছু করার নাই"।

তাইলে এই বয়সে কিডনির ১২টা বাজানোর আসল ভিলেন কারা?

১. "প্রেশার আর ডায়াবেটিস তো সবারই আছে" এই অবহেলা: ভাই, বাংলাদেশে যত মানুষের কিডনি নষ্ট হয়, তার ৭০% এর কারণ শুধু এই দুইটা। হাই প্রেশার হইলো কিডনির রাস্তার ভিতরে হাই-স্পিডে ট্রাক চালানোর মতো। প্রতিদিন রাস্তার পাশ ভাঙতে থাকে। আর ডায়াবেটিস? এইটা হইলো চিনির সিরা। কিডনির ছাঁকনিগুলা জ্যাম করে দেয়।

২. মুড়ির মতো ব্যথার ওষুধ খাওয়া: মাথা ধরছে? Napa Extra। হাঁটুতে ব্যথা? একটা ব্যথার ওষুধ। ভাই, ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কেনা এই ব্যথার ওষুধগুলা কিডনির জন্য বিষ। মাসে ১০-১৫টা খাইলেই কিডনির টিস্যু পুড়ে যাইতে শুরু করে।

৩. পানি কম খাওয়া আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখা: আমরা কাজের চাপে পানি খাই না, ওয়াশরুমে যাই না। ভাবি "কাজটা শেষ করে নেই"। ভাই, এই জমে থাকা প্রস্রাব ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাক্টরি। সোজা কিডনিতে গিয়ে ইনফেকশন করে। আর পানি কম খাইলে কিডনির ময়লা ছাঁকবো কী দিয়ে?

একদম শেষ স্টেজে যে সিগন্যালগুলা আসে, কিন্তু আমরা "গ্যাস্ট্রিক" বইলা চালায় দেই:

সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখ-মুখ ফোলা ফোলা লাগা।
দিনে ৮-১০ বার ওয়াশরুমে যাওয়া, বিশেষ করে রাতে ৩-৪ বার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
সারাদিন দুর্বল লাগা, অল্পতেই হাঁপায় যাওয়া, মনোযোগ দিতে না পারা।
খাবারে রুচি নাই, মুখে সারাক্ষণ বিস্বাদ, ধাতব একটা গন্ধ।
শরীর অকারণে চুলকানো, চামড়া শুকনা হয়ে যাওয়া।

ভয়ের কিছু নাই ভাই, কিডনি ২০-৩০% নষ্ট হইলেও ১০০% রিকভার করা সম্ভব।
শুধু প্রেশার-ডায়াবেটিস কন্ট্রোল, খাওয়ায় একটু নুন কম, আর বছরে একবার ২০০ টাকার দুইটা টেস্ট। ব্যস, আপনি সারাজীবন দুইটা কিডনি নিয়েই দৌড়াবেন।

তাই আজকে থেকে ৩টা কাজ লক করেন:

বয়স ৩০ পার হইলে বা ফ্যামিলিতে প্রেশার-ডায়াবেটিস থাকলে বছরে একবার Serum Creatinine আর Urine RME টেস্টটা করান। খরচ? ৩০০-৪০০ টাকা। একটা পিৎজার দাম। কিন্তু এইটা আপনার কিডনির বাঁচা-মরার রিপোর্ট।

দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান। আর প্রস্রাব কখনো চেপে রাখবেন না ভাই। অফিসে হইলেও বসরে একটু বলে ওয়াশরুমে যান। চাকরি যাবে না, কিন্তু কিডনি গেলে জীবন যাবে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ব্যথার ওষুধ, গ্যাসের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করেন। আর তরকারিতে এক্সট্রা কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাসটা আজকেই ছাড়েন। এই সাদা জিনিসটাই কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু।

ভাই, আমরা ৫০ হাজার টাকার ফোন ২ বছর পর চেঞ্জ করি। আর আল্লাহর দেওয়া এই দুইটা ফিল্টার, যেটার একটার দাম ২০ লাখ টাকাও না, সেটার যত্ন নিই না। ডায়ালাইসিস যে কত কষ্টের, যে করে সে জানে।

পোস্টটা টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে রাখেন। আর যেই বন্ধুটা পানি কম খায়, সারাদিন বসে থাকে, বা যার আব্বু-আম্মুর হাই প্রেশার আছে – তারে মেনশন দেন।

সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবার কিডনি সুস্থ রাখুক। বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, এই সপ্তাহেই পানির বোতল আর টেস্টের সিরিয়ালটা দিবেন?

#সুস্থ_কিডনি_সুস্থ_জীবন

12/07/2026

বাংলাদেশের একমাত্র সুদর্শন নারী ।
চিনতে পারলে কমেন্টে করে নামটি জানাবেন।

12/07/2026

গত কাল লন্ডন প্লাজের সামনে থেকে বাইক চু/রি হয় সাথে এই ছেলে টি ছিল সম্পুর্ন ভিডিও আছে যদি এই ছেলে কে কেউ চিনেন যোগাযোগ করবেন। 01721456594

খালি বাদাম হইব

Want your business to be the top-listed Media Company in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Sylhet