Tohfa Shop
১টি রোজাতে পূর্বের এবং পরের দুই বছরের গুনাহ মাফ! সুবহানাল্লাহ। চোখের পলকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর বেশিরভাগই কেটে গেল একদম আমলশূন্য অবস্থায়, আফসোস। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি এখনো বাকি, আরাফাতের দিন। এই দিনে আল্লাহতালা এত বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যেমনটা অন্য সময় দেন না। আগামীকাল হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। তবে আমরা যারা বাংলাদেশে আছি আমরা আরাফাতের রোজাটা কোন দিন রাখবো এ নিয়ে শায়খের লেখাটি পড়তে পারেন।...…...
আরাফাতের রোজা কোন দিন? বিতর্ক এবং সমাধান:
আরাফার দিনের নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এই একটি রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্বের এবং পরের—মোট দুই বছরের গুনাহ খাতা মোচন করে দেন।
তবে এই ফজিলতপূর্ণ দিনটি আসলে কোনটি তা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে দুটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য অভিমত রয়েছে:
▪️প্রথম অভিমত (অধিকাংশ আলেমের মত): পূর্ববর্তী ও বর্তমান যুগের বহু গবেষক আলেমের মতে, নিজ নিজ দেশের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখতে হবে। যেভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আমরা রমজান, ঈদ, কুরবানি ও অন্যান্য ইবাদতের তারিখ নির্ধারণ করি, এটিও ঠিক তেমনই।
[এই মত অনুযায়ী, ভারত উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) রোজা রাখার দিন।]
▪️দ্বিতীয় অভিমত: আধুনিক যুগের একদল নির্ভরযোগ্য ও বরেণ্য আলেম মনে করেন, 'আরাফা' মূলত একটি স্থানের নাম। তাই সৌদি আরবের ৯ জিলহজ, অর্থাৎ আরাফার ময়দানে হাজিদের অবস্থানের দিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈশ্বিকভাবে একই দিনে এই রোজা রাখা উচিত।
[এই মতের ওপর ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ তারিখে রোজা রাখার দিন।]
যেহেতু দুটি মতেরই শরিয়তসম্মত ভিত্তি এবং যুক্তি রয়েছে তাই যার কাছে যেটিকে অধিক বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মনে হয় তিনি সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন।
এই নফল ইবাদত নিয়ে নিয়ে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা ঝগড়া-ফাসাদ করার কোনো সুযোগ নেই।
- সাধারণ নফলের নিয়তে দুইদিন রোজার মাধ্যমে আরাফাতের সওয়াব অর্জন করা সম্ভব:
কোনো ধরনের সংশয় বা বিতর্কে না গিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হতে পারে—যদি কেউ আগামীকাল মঙ্গলবার এবং বুধবার (২৬ ও ২৭ মে), এই দুই দিনই রোজা রাখেন। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ত করতে হবে জিলহজ মাসের সাধারণ নফল রোজার, সুনির্দিষ্টভাবে 'দুই দিন আরাফার রোজা' মনে করে নয়। কারণ, আরাফার দিন মূলত একটিই, দুটি নয়; তাই সুনির্দিষ্টভাবে দুই দিনকে আরাফার দিন মনে করে রোজা রাখলে তা বিদআত বলে গণ্য হবে। কিন্তু জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন সাধারণ নফল রোজা রাখা যেহেতু স্বতঃসিদ্ধ ও শরিয়তসম্মত তাই সাধারণ নফল রোজার নিয়তে এই দুই দিন রোজা রাখলে ইনশাআল্লাহ আরাফার দিনের মূল সওয়াব নিশ্চিতভাবেই অর্জিত হয়ে যাবে।
বিষয়টি ঠিক লাইলাতুল কদরের মতো। কদরের রাতকে নিশ্চিত করার জন্য কেউ যদি রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাত জেগে ইবাদত করে তবে সে যেমন নিশ্চিতভাবেই কদরের রাতের সওয়াব পেয়ে যায়; ঠিক তেমনি, সাধারণ নফলের নিয়তে এই দুই দিন রোজা রাখলে আরাফার দিনের অসামান্য ফজিলত মিস হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।
তবে আমরা আগে যেমনটি বলেছি, নির্দিষ্টভাবে আরাফার নিয়তে রোজা রাখলে শুধু এক দিন রাখতে হবে। আর তা হয় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে অথবা নিজ দেশের চাঁদের হিসেব অনুযায়ী। যেটা যার কাছে অধিক দলিলসম্মত ও যুক্তিযোগ্য মনে হয়। উভয় পক্ষই ইনশাআল্লাহ গ্রহণযোগ্য ইজতিহাদি মত অনুসরণ করছেন।
▪️আমার ব্যক্তিগত মত:
আমার ব্যক্তিগত মত হল, জুমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত অনুযায়ী অন্যান্য ইবাদতের মতো আরাফাতের রোজা রাখা উচিত, নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী ৯ জিলহজ। যদিও একসময় আমি দ্বিতীয় মতের পক্ষে অর্থাৎ সৌদি আরবের চাঁদের হিসেবে রোজা রাখার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে প্রথম মতটি অধিক যুক্তিযোগ্য মনে হওয়ায় সেখান থেকে ফিরে এসেছি।
আল্লাহু আলাম-আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
মহান আল্লাহ আমাদের ইবাদত-বন্দেগি কবুল করুন এবং ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
02/05/2026
কষ্টে জর্জরিত অন্তর তো কেবল আল্লাহর নিকটই আল্লাহর স্মরণেই প্রশান্ত হয় 💔💔💔
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Sylhet
Sylhet