Usman

Usman

Share

20/03/2026

হযরত আবু উমামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ,
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ
অনুবাদ: যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে 'ইবাদত করবে তার অন্তর ঐদিন মরবে না, যেদিন অন্তর সমূহ মুর্দা হয়ে যাবে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ১৭৮২) হাদিসের মান : জয়ফ।

হাদিস জয়ফ হলেও কোন সমস্যা নাই কেননা এটা আমল যোগ্য। সুতারাং যার মন চাই এই রাতে আমল করুন, আর যার মন চাই নাক ডেকে ঘুমান। যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।

20/03/2026

ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই রাকাত এবং এটি ওয়াজিব। এই নামাজে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির বলতে হয়। নিচে সহজভাবে নামাজের নিয়মটি দেওয়া হলো:

▫️​প্রথম রাকাত

​১. প্রথমে নামাজের নিয়ত করতে হবে: "আমি কিবলার দিকে মুখ করে ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে আদায় করছি।" (মনে মনে নিয়ত করলেই হয়)।

২. তাকবিরে তাহরিমা: ইমাম সাহেব 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত বাঁধবেন, আপনিও হাত বাঁধবেন। এরপর ছানা (সুবহানাকা...) পড়বেন।

৩. এরপর ইমাম সাহেব ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন। তৃতীয় তাকবিরের সময় হাত উঠিয়ে আর না ছেড়ে আগের মতো বেঁধে নেবেন।

৪. এরপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বেন। এরপর সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও সেজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

▫️​দ্বিতীয় রাকাত

​১. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব আগে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বেন।

২. সুরা পড়া শেষ হলে রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব আরও ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন। এই তিনবারই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবে না)।

৩. চতুর্থবার যখন ইমাম সাহেব 'আল্লাহু আকবার' বলবেন, তখন আর হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে।

৪. এরপর বাকি নামাজ অন্য সাধারণ নামাজের মতোই শেষ করে সালাম ফিরাতে হবে।

▫️​একটা জরুরি বিষয়-

​খুতবা: নামাজের পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন। এটি শোনা ওয়াজিব, তাই নামাজ শেষ করেই উঠে যাওয়া উচিত নয়।

মহিলাদের উপর ঈদের নামায পড়া ওয়াজিব নয়। তাই তারা মসজিদে বা মাঠে যাওয়া উচিত না।

18/03/2026

টাকা দিয়ে #ফেতরা আদায় #আলবানী পুজারীদের ডাবল স্টান্ডার্ড।

আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

যখন কোন ব্যক্তি বলে যে, 'আমরা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করব, এটা গরিবের জন্য অধিক উপকারী' তখন সে দু-দুবার ভুল করে।

◾ প্রথমতঃ সে স্পষ্ট দলিলবিরোধী কাজ করে, অথচ এটি ইবাদতগত ব্যাপার।আর এটা সর্বনিম্ন বক্তব্য।

◾ দ্বিতীয় ভুলটি চরম বিপজ্জনক।
কারণ সে যেন বলতে চায়, আল্লাহ যখন তাঁর সম্মানিত নবীকে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, তিনি যেন তার উম্মতের উপরে (ফিতরা হিসেবে) খাদ্যদ্রব্য ফরয করেন, তখন তিনি গরীব ও মিসকিনদের জন্য কল্যাণকর বিষয়টি খেয়াল করেননি! আর তা হল খাদ্য না দিয়ে মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা (তাদের জন্য) উত্তম।
কোন মানুষ যদি ইচ্ছাকৃত এ কথা বলে, তাহলে তো তা কুফরি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান্নূর ক্যাসেট নং ২৭৪
অনুবাদ : আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী

#এবার_দেখুন আলবানী সোনাচান্দের ডিগবাজী!

খাদ্যের পরিবর্তে মূল্য হিসেবে টাকা দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর দিলে তা বৈধ হবে কি না প্রশ্নের জবাবে শাইখ আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন;

الصواب ما عليه الأحنف من جواز اخراج القيمة فى مثل هذه البيئة. كتاب الحاوى فى فتاوى الالبانى 1:284

‘হ্যাঁ। হানাফিদের অভিমতই বিশুদ্ধ; বর্তমান পরিবেশে মূল্য (টাকা) দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় বৈধ হবে।’
[কিতাব, আল হাভী ফিল ফাতাওয়াল আলবানী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৪]

আলবানী পুজারীদের আমরা সবসময়ই ভন্ড সালাফী বলি। প্রকৃত সালাফী হচ্ছে চার মাযহাবের অনুসারীরাই।আসুন সালাফরদের ফতোয়া দেখি।সোনাচান্দু আলবানীর ফতোয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন যারা!

হাদিস সম্রাট ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ বলেন:—

لا يشترط إخراج التمر أو الشعير أو البر في زكاة الفطر بل لو أخرج قيمتها مما هو أنفع للفقير جاز لأن المقصد منها إغناء الفقراء عن المسألة وسد حاجتهم في هذا اليوم

খেজুর, গম বা যব দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা আবশ্যক নয়। বরং যদি এর মূল্য দ্বারা আদায় করা হয়, যা গরীবদের জন্য অধিক উপকারী, তবে তা জায়েজ আছে। কেননা, সদকার দ্বারা মূল মাকসাদ হল, গরীবদের দারিদ্রতা দূর করা এবং তার সেদিনের প্রয়োজন পূর্ণ করা। [মাউসূআতু ফিক্বহি সুফিয়ান সাওরী-৪৭৩]

টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায়ের মত ব্যক্ত করেছেন, ইমাম আবূ হানীফা রহঃ, ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ, উমর বিন আব্দুল আজীজ রহঃ, হযরত হাসান বসরী রহঃ, ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম তাহাবী রহঃ, ইমাম ইসহাক বিন রাহুয়াই রহঃ, ইমাম আবু সাউর রহঃ। [যাকাতুল ফিতরি আহকামূহা ওয়া নাওয়াজিলুহা, মুহাম্মদ বিন আব্দুল গাফফার শরীফকৃত-১২৫]

قَالَ بن رَشِيدٍ وَافَقَ الْبُخَارِيُّ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ الْحَنَفِيَّةَ

ইবনে রশীদ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ এ মাসআলায় [টাকা দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা] হানাফীদের সাথে সহমত পোষণ করেছেন। [ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার-৩/৪৯৭]

আহেল হাদিসদের দৃষ্টিতে টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর দেয়া জায়েয
--------------------------------------------------------------------------------------------

(1)আহলে হাদিসদের অন্যতম আলেম, আবুল হাসানাত আলী মুহাম্মদ সাঈদ রহ. টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়ার পক্ষে দু‘টি হাদিসের আলোকে বিস্তার আলোচনা পর সমাধান দিলেন,
غرباء کی ضروریات کو مد نظر رکھ کر ..صدقہ فطرہ میں قیمت دینے کا کوئی حرج نہیں
অর্থ
দরিদ্রদের প্রয়োজনের দিকে দৃষ্টি দিয়ে টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতরা দেয়াতে কোন সমস্যা নেই ৷

اشیاء مذکورہ فی الحدیث کی قیمت دے سکتاہے
অর্থ
(সদকায়ে ফিতরায়) হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যাদির মূল্য দেয়া যাবে ৷

(সুত্রঃ- ফতোয়ায়ে উলামায়ে হাদিস, 7/204-206 নং পৃষ্টা)

(2)আহলে হাদিসদের অন্যতম নক্ষত্র শায়খ জুবাইর আলী যাঈ, তিনি লিখেছেন,
امیر المؤمین عمر بن عبد العزیز رحمہ اللہ اور حسن بصری رحمہ اللہ سے مروی ہے کہ وہ جنس کے علاوہ نقدی سے بھی صدقہ فطر کے جواز کے قائل تھے
অর্থ
আমীরুল মু'মিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. এবং হাসান বসরী রহ. সেই জিনিস ছাড়া টাকা দ্বারাও সদকায়ে ফিতরা জায়েযের প্রবক্তা ছিলেন ৷
ان اثار کی وجہ سے صدقہ فطرہ میں روپے وغیرہ دینا جائز ہے
(উপরে বিভিন্ন আসার উল্লেখ করে বলেছেন) এই আসারে কারণে সদকায়ে ফিতরায় টাকা ইত্যাদি দেয়া জায়েয ৷

(সু্ত্রঃ-ফতোয়ায়ে ইলমিয়্যা 2/165নং পৃষ্টা, নাকদী সুরাত মে সাদকায়ে ফিতির আদায় কারনা অধ্যায়)

(3) আহলে হাদিসদের আরেক জন শায়েখ, কিফায়ত উল্লাহ সানাবলী, টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর বৈধতার পক্ষে একটি সতন্ত্র কিতাব লিখেছেন ৷ কিতাবের নাম,
(صدقہ الفطر میں نقد ورقم دینے کا حکم )
এই কিতাবে তিনি অসংখ্য কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে উল্লেখ করেছেন ৷ টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়া নিঃসন্দেহে বৈধ ৷

শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ রহঃ লিখেছেন,
عند أبى حنيفة يجوز و أحمد رحمه الله قد
منع القيمة فى مواضع و جوزها فى مواضع

অর্থাৎ "আবু হানীফা (রহ.) এর ফাতাওয়ামতে (মুদ্রা দ্বারা ফিতরা) জায়েজ এবং ইমাম আহমদ (রহ.) কতেক স্থানে (পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিবেচনায়) নিষেধ করেছেন আর কতেক স্থানে (জনস্বার্থে ও অবস্থার প্রেক্ষিতে) জায়েজ বলেছেন।"

এরপর শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) নিজ মতামত ব্যক্ত করে লিখেছেন

و الأظهر فى هذا ان إخراج القيمة لغير حاجة ،لا مصلحة راجحة ، ممنوع منه.......و أما إخراج القيمة للحاجة او المصلحة او العدل، فلا بأس به.
অর্থ- "এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, নিশ্চয়ই বিনা প্রয়োজনে এবং উপযোগী কল্যাণকর ছাড়া মুদ্রা দ্বারা ফিতরা আদায় নিষেধ,....... তবে প্রয়োজনে এবং জনস্বার্থে কিবা ন্যায়সংগত কারণে হলে তখন (মুদ্রা দ্বারা ফিতরা আদায়ে) কোনো অসুবিধা নেই।"

মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ' ২৫/৮২ পৃষ্ঠা।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার রহঃ বলেনঃ

"وأما إخراج القيمة في الزكاة والكفارة ونحو ذلك، فالمعروف من مذهب مالك والشافعي أنه لا يجوز، وعند أبي حنيفة يجوز، وأحمد ـ رحمه الله ـ قد منع القيمة في مواضع، وجوزها في مواضع، فمن أصحابه من أقر النص، ومنهم من جعلها على روايتين. والأظهر في هذا: أن إخراج القيمة لغير حاجة ولا مصلحة راجحة ممنوع منه... إلى أن قال رحمه الله: "وأما إخراج القيمة للحاجة، أو المصلحة، أو العدل فلا بأس به" أ هـ.
অর্থাৎ,যাকাত কাফফারা ইত্যাদির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো ইমাম মালেক ও শাফেঈ এর মতে অর্থ দিয়ে আদায় করা জায়েজ নেই। ইমাম আবু হানীফার মতে জায়েয আছে। ইমাম আহমাদ কিছু স্থানে মত দেন নি, কিছু স্থানে মত দিয়েছেন। তার অনুসারীরা সেই কথাই টিকিয়ে রেখেছেন, কেও কেও আবার দুই মত ই গ্রহন করেছেন। বেশি ভালো হলো, কোন প্রয়োজন ছাড়া কিংবা অবস্থার আলোকে ছাড়া টাকায় দিয়ে আদায় করলে তা হবেনা। তবে প্রয়োজন হলে এবং অবস্থার আলোকে কিংবা ইনসাফের জন্য টাকা দিয়ে আদায় করলে জায়েয হবে।

(আলমাজমূ' ২৫/৮২,ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ)

এছাড়া,ইবনে তাইমিয়া রহঃনিজেও প্রয়োজনবোধে হাদীসে র্নির্ধারিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায়ের মত ব্যক্ত করেছেনঃ
سُئِلَ – رَحِمَهُ اللَّهُ -:

عَنْ زَكَاةِ الْفِطْرِ: هَلْ تُخْرَجُ تَمْرًا أَوْ زَبِيبًا أَوْ بُرًّا أَوْ شَعِيرًا أَوْ دَقِيقًا؟ ….. أَوْ يَجُوزُ إعْطَاءُ الْقِيمَةِ؟
فَأَجَابَ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ، أَمَّا إذَا كَانَ أَهْلُ الْبَلَدِ يَقْتَاتُونَ أَحَدَ هَذِهِ الْأَصْنَافِ جَازَ الْإِخْرَاجُ مِنْ قُوتِهِمْ بِلَا رَيْبٍ. وَهَلْ لَهُمْ أَنْ يُخْرِجُوا مَا يَقْتَاتُونَ مِنْ غَيْرِهَا؟ مِثْلُ أَنْ يَكُونُوا يَقْتَاتُونَ الْأُرْزَ وَالدُّخْنَ فَهَلْ عَلَيْهِمْ أَنْ يُخْرِجُوا حِنْطَةً أَوْ شَعِيرًا أَوْ يُجْزِئُهُمْ الْأُرْزُ وَالدُّخْنُ وَالذُّرَةُ؟ فِيهِ نِزَاعٌ مَشْهُورٌ. وَهُمَا رِوَايَتَانِ عَنْ أَحْمَد: إحْدَاهُمَا لَا يُخْرِجُ إلَّا الْمَنْصُوصَ. وَالْأُخْرَى: يُخْرِجُ مَا يَقْتَاتُهُ. وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ هَذِهِ الْأَصْنَافِ. وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ: كَالشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ. وَهُوَ أَصَحُّ الْأَقْوَالِ؛
ইবনে তাইমিয়া রহঃ কে সদকায়ে ফিতির সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, খেজুর,কিশমিশ,গম,যব ও আটা দ্বারা আদায় করা যাবে কি? অথবা এর সমমূল্য প্রদান করা যাবে কি?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ। যদি শহরবাসী উপরোক্ত যেকোন এক প্রকার খাদ্য গ্রহণ করে থাকে, তাহলে সেই খাদ্য দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে নিঃসন্দেহে।

তবে এছাড়া অন্য খাদ্য দ্বারা আদায় করা যাবে কি না? যেমন লোকেরা খাদ্য গ্রহণ করে চাউল, ভুট্টা দ্বারা। এ শহরে গম, যব বা চাউল, ভুট্টা দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে?

এ ব্যাপারে ফুক্বাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম আহমাদ রহঃ থেকে এ ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। একটি হল, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে আদায় করা যাবে না।

আরেকটি অভিমত হল,শহরে প্রচলিত খাদ্য দ্বারা আদায় করা যাবে। যদিও তা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত খাদ্য না হয়। এটাই অধিকাংশ উলামাগণের মত। যেমন ইমাম শাফেয়ী প্রমূখ। এটাই সবচে’ বিশুদ্ধ বক্তব্য। [মাজমূআ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১৩/৩৭, দারুল হাদীস কাহেরা প্রকাশনী]

এছাড়া যুক্তিও তাই বলে!



হাদীসে বর্ণিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে না মর্মে কোন বর্ণনা নেই।



عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: «كُنَّا نُؤَدِّي زَكَاةَ الْفِطْرِ عَلَى [ص:12] عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَّيْنِ مِنَ الْقَمْحِ،

হযরত আসমা বিন আবু বকর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানায় দুই মুদ গমের ছাতু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করতাম। [আল মু’জামুল আওসাত লিততাবারানী,হাদীস নং-৮৯৭২]

অথচ ছাতু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায়ের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়নি। সাহাবায়ে কেরামগণের ছাতু দ্বারা ফিতরা আদায় করা প্রমাণ করে, হাদীসে বর্ণিত খাদ্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং সমমূল্যের অন্য কিছু দ্বারাও ফিতরা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।



হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত।

হজরত মুয়াবিয়া রাঃ হজ্ব বা উমরার সময় খুতবায় সদকায়ে ফিতির সম্পর্কে ইরশাদ করেনঃ

قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ الْمَدِينَةَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا، فَقَالَ: «إِنِّي أَرَى مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ يَعْدِلُ صَاعًا مِنَ التَّمْرِ

এক সা’ খেজুর ও শামের ভূসি মিশ্রিত দুই মুদ আটা সমান। [সুনানে দারেমী-১/৪৩৬-৪৩৭, হাদীস নং-১৬৬৩]

হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এক সা’ খেজুরের বদলে শামের ভূসি মিশ্রিত দুই মুদ আটার সমমান সাব্যস্ত করেছেন। যা দ্বারা পরিস্কার বুঝা যায়,হাদীসে বর্ণিত বস্তুর সমমূল্যমানের বস্তু দ্বারাও ফিতরা আদায় করা যাবে।



সদকা দ্বারা মূল মাকসাদ হল, গরীবদের উপকার করা। আর টাকা পয়সা প্রদান করলে গরীব তার ইচ্ছেমত প্রয়োজন অনুপাতে তা ব্যবহার করতে পারে। শুধু খাদ্য দিয়ে আদায় করলে যা সম্ভব নয়।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আশা করি বিষয়টি দীবালোকের ন্যয় পরিস্কার যে, টাকার মাধ্যমে সদকায়ে ফিতির আদায় করা সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত। এতে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই।

Want your business to be the top-listed Media Company in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


গ্রাম/হলহলিয়া, থানা/তাহিরপুর, জেলা/সুনাম গঞ্জ
Sylhet