World Sylhet
29/06/2026
সবাই মিলে চেষ্টা করেছিল যাতে থলের বিড়ালটা বেড়িয়ে না আসে! কিন্তু উনি ডিসি সাহেব সেটা বের করে আনলেন
সোমবার মাজারের টাকা গণনার সময় ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার ডিসিকে ফোন দিচ্ছিলেন।
রিসিভ হচ্ছিলো না। কঠিন সময়ে ছিলেন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম। মাজারের হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে ছিলেন হার্ডলাইনে। নানামুখী চাপেও ছিলেন পর্যুদস্ত। প্রত্যাহারের পত্র আসার পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ‘যৌক্তিক’ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সময় দেয়া হয়নি তাকে। সার্কিট হাউজে ডেকে নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। বলা হয়েছিল রাতেই সিলেট থেকে চলে যেতে। কিন্তু সময় নিয়ে একদিন পর মঙ্গলবার তিনি সিলেট ছাড়লেন। যাওয়ার সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখে গেলেন- বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য। রোববার দুপুরে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের পত্র সিলেটে এসে পৌঁছায়। তখন তিনি সিলেটে অফিসেই ছিলেন। বিকালের মধ্যে চাউর হয় প্রত্যাহারের খবরটি। সিলেট জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ডিসি সারওয়ার আলম। হঠাৎ প্রত্যাহারে তিনি হতাশ হন।
সন্ধ্যায় এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে কিছুটা আবেগ আপ্লুত ছিলেন তিনি। বিকাল থেকেই অফিসের সামনে তার পক্ষে মিছিল। ডিসি’র প্রত্যাহার দাবিতে অনেকেই মাঠে। পরিস্থিতি সরব। তারা জানিয়েছেন- প্রত্যাহারের নির্দেশ এলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বেশি সময় দেয়া হয় না। এ কারণে পরদিন রোববার সকাল থেকেই শুরু হয় বিদায়ের অপেক্ষা। তবে জেলা প্রশাসকের কর্মকাণ্ডে সেটি পরিলক্ষিত হয়নি। তার অফিসের সামনে বিক্ষোভ।
তাকে চায় সিলেটের মানুষ। ফলে দায়িত্ব হস্তান্তরে কিছুটা সময় নিতে চান তিনি। ধীরে, সুস্থে ছাড়তে চান সিলেট। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- যেহেতু প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে দ্রুতই সিলেট ছাড়ার নির্দেশ আসে ঢাকা থেকে। কালক্ষেপণ করতে চাননি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাজার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে- এমন আশঙ্কাও ছিল। ফলে সোমবার দুপুরের মধ্যেই তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। ওইদিন বেলা ১টায় অফিস ছাড়লেন ডিসি সারওয়ার। মাজারে গিয়ে দানবাক্স খুললেন।
টাকা গণনা শুরু করলেন। বিষয়টি ভাইরাল। গোটা দেশের মানুষের নজর মাজারের দিকে। ডিসি তখন বসে আছেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার তাকে ফোন দিচ্ছিলেন। রিসিভ হচ্ছিলো না। নদীর ওপার থেকে সার্কিট হাউজে আসেন বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান। লোক মারফতে সার্কিট হাউজে ডেকে পাঠানো হয় ডিসি সারওয়ার আলমকে। গণনা শেষ করতে পারেননি। খবর পেয়ে সার্কিট হাউজের পথ ধরেন। ততক্ষণে সার্কিট হাউজে সব প্রস্তুত। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। ডিসি চেয়েছিলেন নিজের মনোনীত এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। সেটিও হয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
তাই হলো। দায়িত্ব হস্তান্তর করতে করতে রাত ১০টা বেজে গেল। ততক্ষণে নতুন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিলেন। সরিয়ে নেয়া হলো ডিসি হিসেবে সারওয়ার আলমের নিরাপত্তার দায়িত্ব। রাতে সিলেট ছাড়েননি ডিসি সারওয়ার আলম। গতকাল দুপুরে তিনি বিমানযোগে সিলেট ত্যাগ করেন। তবে সকালে তিনি সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। দিয়েছেন কিছু নির্দেশনাও। মাজারের টাকা রাখলেন অ্যাকাউন্টে: সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে বিষয়টি এতদিন অন্ধকারেই ছিল। দানের মাধ্যমে কতো টাকা আয় হয় সেটি কেউ জানতেন না। হিসাব দেখিয়ে গেলেন ডিসি সারওয়ার। গত বৃহস্পতিবার দানবাক্সে দেয়া হয় সিলগালা। সোমবার দুপুরের পর সেটি খোলা হয়। মাত্র তিনদিন সময়। এই সময়ে উঠেছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসা হয় ডিসি অফিসে। পাশের সোনালী ব্যাংকের শাখাতে খোলা হয়েছিল নতুন অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টে রাখা হয় টাকা। ডিসি অফিসের সাধারণ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- মাজারের দানের যে টাকা উঠেছিল সেগুলো ওই অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। এই টাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসক তার তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বর্তমানে অ্যাকাউন্টে রয়েছে। রয়েছে ডলার, পাউন্ড, রিয়াল ও স্বর্ণালংকারও।
সূত্র: মানবজমিন
24/06/2026
কঠিন সময়ে ছিলেন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম। মাজারের হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে ছিলেন হার্ডলাইনে। নানামুখী চাপেও ছিলেন পর্যুদস্ত। প্রত্যাহারের পত্র আসার পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ‘যৌক্তিক’ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সময় দেয়া হয়নি তাকে। সার্কিট হাউজে ডেকে নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। বলা হয়েছিল রাতেই সিলেট থেকে চলে যেতে। কিন্তু সময় নিয়ে একদিন পর মঙ্গলবার তিনি সিলেট ছাড়লেন। যাওয়ার সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখে গেলেন- বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য। রোববার দুপুরে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের পত্র সিলেটে এসে পৌঁছায়। তখন তিনি সিলেটে অফিসেই ছিলেন। বিকালের মধ্যে চাউর হয় প্রত্যাহারের খবরটি। সিলেট জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ডিসি সারওয়ার আলম। হঠাৎ প্রত্যাহারে তিনি হতাশ হন।
সন্ধ্যায় এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে কিছুটা আবেগ আপ্লুত ছিলেন তিনি। বিকাল থেকেই অফিসের সামনে তার পক্ষে মিছিল। ডিসি’র প্রত্যাহার দাবিতে অনেকেই মাঠে। পরিস্থিতি সরব। তারা জানিয়েছেন- প্রত্যাহারের নির্দেশ এলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বেশি সময় দেয়া হয় না। এ কারণে পরদিন রোববার সকাল থেকেই শুরু হয় বিদায়ের অপেক্ষা। তবে জেলা প্রশাসকের কর্মকাণ্ডে সেটি পরিলক্ষিত হয়নি। তার অফিসের সামনে বিক্ষোভ।
তাকে চায় সিলেটের মানুষ। ফলে দায়িত্ব হস্তান্তরে কিছুটা সময় নিতে চান তিনি। ধীরে, সুস্থে ছাড়তে চান সিলেট। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- যেহেতু প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে দ্রুতই সিলেট ছাড়ার নির্দেশ আসে ঢাকা থেকে। কালক্ষেপণ করতে চাননি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাজার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে- এমন আশঙ্কাও ছিল। ফলে সোমবার দুপুরের মধ্যেই তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। ওইদিন বেলা ১টায় অফিস ছাড়লেন ডিসি সারওয়ার। মাজারে গিয়ে দানবাক্স খুললেন।
টাকা গণনা শুরু করলেন। বিষয়টি ভাইরাল। গোটা দেশের মানুষের নজর মাজারের দিকে। ডিসি তখন বসে আছেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার তাকে ফোন দিচ্ছিলেন। রিসিভ হচ্ছিলো না। নদীর ওপার থেকে সার্কিট হাউজে আসেন বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান। লোক মারফতে সার্কিট হাউজে ডেকে পাঠানো হয় ডিসি সারওয়ার আলমকে। গণনা শেষ করতে পারেননি। খবর পেয়ে সার্কিট হাউজের পথ ধরেন। ততক্ষণে সার্কিট হাউজে সব প্রস্তুত। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। ডিসি চেয়েছিলেন নিজের মনোনীত এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। সেটিও হয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
তাই হলো। দায়িত্ব হস্তান্তর করতে করতে রাত ১০টা বেজে গেল। ততক্ষণে নতুন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিলেন। সরিয়ে নেয়া হলো ডিসি হিসেবে সারওয়ার আলমের নিরাপত্তার দায়িত্ব। রাতে সিলেট ছাড়েননি ডিসি সারওয়ার আলম। গতকাল দুপুরে তিনি বিমানযোগে সিলেট ত্যাগ করেন। তবে সকালে তিনি সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। দিয়েছেন কিছু নির্দেশনাও। মাজারের টাকা রাখলেন অ্যাকাউন্টে: সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে বিষয়টি এতদিন অন্ধকারেই ছিল। দানের মাধ্যমে কতো টাকা আয় হয় সেটি কেউ জানতেন না। হিসাব দেখিয়ে গেলেন ডিসি সারওয়ার। গত বৃহস্পতিবার দানবাক্সে দেয়া হয় সিলগালা। সোমবার দুপুরের পর সেটি খোলা হয়। মাত্র তিনদিন সময়। এই সময়ে উঠেছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসা হয় ডিসি অফিসে। পাশের সোনালী ব্যাংকের শাখাতে খোলা হয়েছিল নতুন অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টে রাখা হয় টাকা। ডিসি অফিসের সাধারণ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- মাজারের দানের যে টাকা উঠেছিল সেগুলো ওই অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। এই টাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসক তার তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বর্তমানে অ্যাকাউন্টে রয়েছে। রয়েছে ডলার, পাউন্ড, রিয়াল ও স্বর্ণালংকারও।
সূত্র: মানবজমিন
মিরপুর থানা বিএনপির সেক্রেটারি আবুল বাশার ভূইয়া আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ের আগে - এক্সট্রা
মিটিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাগা - আমগোরে
এগুলো না দেখালেও পারতেন। 🙉
11/06/2026
৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার খেসারত ২৪ দিনে ৩ বার বদলি!! স্বয়ং ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে এই সিন্ডিকেট! লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন - কি ভয়াবহ দুর্নীতি চলে.........
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে স্বস্তিতে নেই নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম। সরকারি টাকা লুটপাটের ক্ষেত্র বন্ধ করে এখন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের টার্গেট হয়েছেন তিনি। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেন।
কিন্তু এরপর তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র তাকে সরিয়ে দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের এই খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পিত কমিশন লুটপাটের মিশনে বাধা দেওয়ায় এডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে প্রভাবশালী চক্রটি।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার রাতে
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এই সাহসী অফিসারকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। এছাড়া বিষয়টি জানার পর খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়াসহ মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ হবে। এজন্য ব্যস্ত থাকবেন। রোববার তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
জানা যায়, গত ২৫ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহমুদা বেগমকে ৩ বার বদলি করেছে। বারবার তাকে বদলির পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার।
তিনি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত। ৩০ বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসাবে নরসিংদীতে দায়িত্ব পালন করেন। এডিসি হিসাবে আড়াই মাস দায়িত্বে থেকে এই কর্মকর্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে গেছেন। এ সংক্রান্ত কিছু অডিও-ভিডিও যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত।
গুরুত্বপূর্ণ ৩টি এলএ কেসের অ্যাওয়ার্ড বই (ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত) মো. মোস্তফা মনোয়ার প্রস্তুত করেন। এরমধ্যে ১৫নং এলএ কেসের ২৪০ কোটি, ১৪নং এলএ কেসের ৪৮ কোটি এবং ১০নং এলএ কেসে ৭১ কোটিসহ মোট ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এসব এলএ কেসে জমি অধিগ্রহণ আইন ও নিয়মনীতি কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি। ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত করছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (ফিল্ডবই ও জমির আগের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও) সরিয়ে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সঠিক নয়। সব সময় নিয়ম মেনে কাজ করেছি। কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না।’ অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যুগান্তরের কাছে রয়েছে-এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল ‘জমি অধিগ্রহণে ডিসির নেতৃত্বে বিস্ময়কর কাণ্ড, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ঘুস ভাগাভাগি শিরোনামে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের পলিটিক্যাল প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের জোরালো তদবির করেন। তার তদবিরটি ছিল নীতিমালাবহির্ভূত। নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে আরও দিতে হবে বিবেচনায় নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দেন মাহমুদা বেগম। এরপর প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনার ক্ষমতা বেশি না আমার ক্ষমতা বেশি দেখতে পাবেন।’
পরদিন ২৭ এপ্রিল তাকে পরিকল্পনা বিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রধান হিসাবে বদলি করা হয়। ২৮ এপ্রিল যুগান্তরে প্রতিবেদন দেখে ওইদিনই ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে এডিসি মাহমুদার বদলি স্থগিত করতে বলেন। একই সঙ্গে মাহমুদা বেগমকে ফোন করে সরকারের অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করায় ধন্যবাদ জানান এবং নির্ভয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেন।
এর ১৫ দিনের মাথায় ১৩ মে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বদলি করা হয় মাহমুদাকে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মাহমুদা বেগম নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদে যোগ দেন। এই পদে যোগ দিতে অন্য সহকর্মীদের রীতিমতো প্রতিযোগিতা ছিল। কারণ চলমান জমি অধিগ্রহণের দালাল সিন্ডিকেট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এই টেবিল থেকেই করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাশেদ হোসেন চৌধুরী নরসিংদীতে তার শেষ কর্মদিবসের দিন মাহমুদা বেগমকে এডিসি (রাজস্ব) পদে নিয়োজিত করে যান।
এরপর চলমান জমি অধিগ্রহণে দালাল সিন্ডিকেটের দুর্গ ভেঙে নীতিমালার বাইরে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন। এরপর একে একে বিভিন্ন এলএ কেসের শুনানি নিয়ে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেন। এছাড়া নীতিবহির্ভূত আবেদন বাতিল করে দেন। জেলার সাবেক ডিসি-এডিসি এবং অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা আইন-নীতিমালা লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণের তালিকা করে রেখেছিলেন।
লেখা: যুগান্তর।
বাংলাদেশে অনেক অনেক ভাল কর্মকর্তা রয়েছে। সিন্ডিকেটটা বাংলাদেশটাকে সিঙ্গাপুর বানাতে দিচ্ছে না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Bondor Bazar
Sylhet