BoierAlo.com

BoierAlo.com

Share

17/03/2022

স্বাধীনতার এই মহানায়কের জন্মদিনে বইয়ের আলো পাঠশালার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শুভেচ্ছা।

22/11/2020

#বইয়ের_আলো_পাঠশালা_ও_পেপাররাইম_ডট_কম_অণু_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
পরোপকার
জুবায়েদ মোস্তফা
শব্দ সংখ্যা: ২৭৫
__________________

তপ্ত বিকালে মৃদু পায়ে হেঁটে চলছিল ফাহিম। খানিক বাদে ধরায় গোধূলি নামবে
প্রকৃতিতে চলছে আলো-আঁধারের খেলা। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফাহিম লক্ষ্য করলো,
একটি চলন্ত গাড়ি থেকে কি যেন পড়ল। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার পর সবাই
হাসি ঠাট্টা করতে লাগলো। হাসি ঠাট্টা শেষ হবার আগেই একটি ছোট ছেলে ছুটে আসলো
তখন সবার বোধ হল ফাহিমের কথা সত্য। তারা ছেলেটিকে ধমক দিয়ে টাকার
ব্যাগ উদ্ধার করলো। মুহূর্তের মধ্যেই তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হলো এই কুড়ে পাওয়া ব্যাগটি
মালিকের নিকট হস্তান্তর করবে।
ফাহিম ব্যাগের মধ্যে একটি নোটবুক পাওয়ায় বিষয়টা আরেকটু সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একে একে বিভিন্ন নম্বরে ফোন দেওয়া শুরু করলো কেউ উপযুক্ত কোনো সন্ধান দেখাতে পারেনি।
লাস্ট যখন একটি নম্বরে ফোন দিল, সে বলল তার দাদা জরুরী কাজে শহরে এসেছিল এখনো
বাড়ি ফিরেনি। ফাহিমকে অবগত করল, দাদা বাড়ি ফিরলে ওনাকে জিজ্ঞেস করবে।
ওর দাদা যখন বাড়ি ফিরল, তখনই দেখা গেল চোখেমুখে হতাশার ছাপ। নাতি জিজ্ঞেস করল,
কি ব্যাপার দাদা তোমার আঁখিতে অশ্রু কেন?
তখন দাদা সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বললো।
নাতি বলল, কোন চিন্তা নেই দাদা তোমার হারানো টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে।
তখন ওই ব্যক্তিটি খুশিতে ক্রন্দন করে দিল।
ফাহিমের মোবাইলের রিং বাজছে, রিসিভ করা মাত্রই শুনতে পেল তার দাদার টাকাটি হারিয়েছে।
ফাহিম বলল ঠিক আছে, আপনি অমুক জায়গায় চলে আসেন
আমরা আপনাকে টাকা বুঝিয়ে দেবো।
লোকটি ছুটে আসলো পরক্ষণেই, তিনি টাকার যথার্থ বর্ণনা দিয়েছেন।
সবকিছু হবহু সদৃশ হওয়ায়, ওই ব্যক্তির হাতে হস্তান্তর করলো।
উনার কথায় বারবার ফুটে উঠছে কৃতজ্ঞতা।
তিনি ফাহিমকে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু উপহার দিতে চাইলেন।
ফাহিম পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল, সে তার নৈতিকতা এবং ধর্মীয়
দায়িত্ববোধ থেকে কাজটি করেছে।
উপহার গ্রহণ করা তার পক্ষে আদৌ সম্ভব না যতই আবদার করুক।
তখন তিনি মসজিদে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কিছু টাকা দিয়ে যান।
আর বলেন, এখনো এমন সৎ মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর।
(সমাপ্তি)

লেখকঃ জুবায়েদ মোস্তফা
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

18/11/2020

#বইয়ের_আলো_পাঠশালা_ও_পেপাররাইম_ডট_কম_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
গল্পের নাম:দোষ
লেখিকার নাম: ইসমিকা

ছেলেটার সাথে কাজের সূত্রে আমার পরিচয়। বয়স ২১ এর বেশি হবে না৷ ঢাকায় নতুন৷ চায়ের দোকানে গেলে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়ে যায়।
দুজন দু কাপ চা নিয়ে বসলাম। ছেলেরা সাধারণত চায়ের সাথে সিগারেট খায়৷ মনে হলো হয়তো লজ্জায় বা সংকোচবোধের কারণে আমার সামনে সিগারেট খেতে পারছে না। আমি তাকে সিগারেট নেয়ার অনুমতি দিলাম।
"রাকিব তুমি চাইলেই সিগারেট নিতে পারো চায়ের সাথে। তুমি কি সিগারেট খাও?"
"এখন খাই না আপু৷ কদিন আগে ছেড়ে দিয়েছি।"
"খুবই ভালো। সাবধান, সিগারেট আর খাবে না৷ এটা খারাপ। তোমাদের বয়সের জন্যে তো আরও খারাপ। বুঝেছো?"
রাকিব মাথা নাড়লো। সে বুঝেছে।
ততক্ষণে চা প্রায় শেষ। আমি আরেক কাপ লেবু চা নিলাম। রাকিবের সাথে আমার সম্পর্কটা প্রায় বন্ধুর কাছাকাছি। যেকোনো ধরণের সমস্যার কথা সহজে বলতে পারে। মাথা নাড়ার পর আমার দিকে তাকিয়ে সহজ গলায় বললো, "আপা, গ্রামে থাকতে আমি সিগারেটের চেয়েও জঘন্য জিনিস খেয়েছি। কাউকে বলতে পারিনি এখনও। "
আমি রাকিবকে সেই জঘন্য জিনিস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করলাম না। আরেকবার বললাম "সিগারেট বাজে জিনিস৷ এটা আর খাবে না। নিজেকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখার চেষ্টা করবে। তুমি কি আরেক কাপ চা নিতে চাও?"
আগের খালি কাপ জমা দিয়ে সে আরেক কাপ চা নিলো। তার চোখ দেখে মনে হলো যে কথাটা সে এখনও কাউকে বলতে পারেনি তা বলতে চাইছে। ঘনঘন হাত পা নাড়ছে। টুল থেকে উঠে আবার বসছে।
আমি বললাম "তুমি কি কিছু বলতে চাও?"
"আপনি কাউকে বলবেন না তো আপা?"
"আমিতো শুনতেও চাইনি। না শোনাই ভালো। বলার ঝুঁকি থাকলো না। ভালো না?"
"আপনাকে বললে হালকা লাগবে। আজকের পর তো এই এলাকায় থাকবো না। ভাই সাভারে বাসা নিয়েছে। আমরা ওখানে চলে যাবো।"
আমার আর অনুমতি দিতে হলো না। রাকিব নিজ থেকেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে গেলো তার প্রথম ইয়াবা সেবনের কাহিনী।
আমি শুনে একটা পরিচিত হাসি দিলাম। এই ছেলেকে দেখেই মনে হচ্ছে সে কারো পাল্লায় পড়ে ইয়াবা খেয়েছে এবং তার জন্যে সে অনুতপ্ত।
সেদিনের মত আমাদের আড্ডা শেষ হলো। আমি উঠে চলে যেতেই রাকিব ডাক দিলো।
"আপু আপনি কি জানেন মাদকদ্রব্য সেবন কমিয়ে আনলে ধর্ষণের পরিমাণ কমে যাবে?"
"তুমি কি করে জানলে? আর ধর্ষণতো শুধু নেশাখোর রা করছে না। বড় বড় আলেমরাও করছে।"
" ধর্ষকের পরিসংখ্যানে নেশাখোরদের পরিমাণ বেশি"
"আচ্ছা। বুঝলাম।"
"আমি ইয়াবা সেবনের পর বুঝেছি এই ব্যাপার টা। আচ্ছা আপা, যাই। আপনি ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।"
"তুমিও।"
আমরা যে যার বাসায় চলে এলাম।
আমার মনে হলো রাকিব মূলত যে কারণে অনুতপ্ত তা বলতে পারেনি। কিংবা আমার অনুমান খারাপ হতে পারে। তারপরও বারবার মনে হতে লাগলো মাদকসেবীদের সাথে ধর্ষণের তুলনা করে সে অন্য একটা ঘটনা বলে গেলো।

আমার অবচেতন মন বললো ২১ বছর বয়সী একজন রেপিস্ট একটু আগে আমাকে "আপা" ডেকে গেছেন... তারপর নিজেকে স্বান্তনা দিলাম, অবচেতন মন সবসময় সত্য বলে না।

(বিঃদ্রঃ : গল্পে আমাকে ৩০০ থেকে মাত্র কিছু শব্দ বেশি ব্যাবহার করতে হয়েছে। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

18/11/2020

#বইয়ের_আলো_পাঠশালা_ও_পেপাররাইম_ডট_কম_অণু_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
গল্পের নাম:অপেক্ষা
লেখিকা: রহিমা জান্নাত

আজ শনিবার। পথের দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছে রাজু। রাজু একটা এতিমখানায় আরবি পড়াশুনা করে। বয়স দশ বছর। প্রতি সপ্তাহে শনিবার ওর আম্মু বা আব্বু ওর সাথে দেখা করতে আসে। আজও আসার কথা, কিন্তু দেরি হচ্ছে দেখে রাজু গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, কিছুক্ষণ পর অনুভব করতে পারে ওর মাথায় কেউ হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখলো মা শিয়রে বসে আছেন। উঠে বসল। মা ওর জন্য কিছু রান্না করা খাবার আর বিস্কিট নিয়ে গেছেন। রাজু মায়ের সামনে বসে খেলো,রাজু মা আসলেই বায়না করে,কিচু কিনে দেওয়ার জন্য, মা যতটুকু পারে ছেলের আবদার মিটাতো।
রাজুর পরিবার খুবই গরিব। বাবা একজন কৃষক। মা সেলাইয়ের কাজ করে। এলাকায় গরিবদের কোন সম্মান আর দাপট নেই। তাই রাজুকে ওর সম বয়সী ছেলেরা মারধর করতো,,খেলায় নিতোনা। মা বিচার চাইতে গেলে বিচার পেতোনা। তাছাড়া ওর বাবা বহু কষ্টে একটা ধানের জমি করছিলো, সেই জমির ফসল এলাকার লোকেদের গরু, ছাগল খেয়ে নষ্ট করতো,,বড় বড় ছেলেরা জমির পাশে ক্রিকেট খেলতো,,ফলে জমিতে বল পড়লে নেমে জমির ফসল নষ্ট করে দিতো,,বারণ করলেও শুনতোনা। এবাবেই অবহেলিত রাজুর পরিবার।
তাই রাজুর মা রাজুকে দূরের এই এতিমখানায় রেখে গেছেন,,বাবা মা থাকা সত্বেও রাজু এতিম উপাধি পেল৷
মাটির চুলায় রান্না করতে হতো,,দশ বছরের ছেলে রান্না করতে জানতনা,,যেভাবে পারতো রান্না করতো, সাদা পাঞ্জাবিতে কালো দাগ পড়ে যেতো, আগুন জ্বালাতে পারতোনা,,ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করতো, তারপরে ও রান্না করতো,,ঝাড়ু দিতে হতো।রাতে ফ্লোরে ঘুমাতো,, অসুখ হলেও কেউ সেবা করার মত ছিলনা।
সপ্তাহের ছয়টা দিন অপেক্ষা করে কাটিয়ে দেয় মা আসবে এই ভেবে। পরীক্ষা হলো রাজুদের। ওর রোল এক। খুব খুশি রাজু। মা আসলেই বলবে।
শনিবার চলে আসলো, পথের দিকে তাকিয়ে আছে রাজু,,, আজ ওর মা তাড়াতাড়ি আসলো,,দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মা আমি পাশ করেছি, রোল এক। । মা ও খুশি হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। মা দেখে বিজয়ের হাসি হাসত, আর ভাবতো কত বড় হয়ে গেছে আমার ছেলে, কত কাজ করে। তারপর চলে আসলেন।
রাজুর মায়ের অসুখ অনেকদিন যাবত,,ঠান্ডার মধ্যে ও সিলাই করতো৷ কাশি খারাপ হয়ে গেছিলো।কাশির সাথে রক্ত যেতো। কখনও বমিও হতো। টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছে যেতোনা।
চিকিৎসা না করার ফলে ছোট রোগ অনেক বড় আকার নেয়,আর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রাজুর মা। অবশেষে ধরার বুক থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

রাজুর মন ভেঙে যাবে বলে কেউ ওর মায়ের মৃত্যুর খবর জানায়নি।
মাঝে একটা শনিবার চলে গেলো। রাজু অপেক্ষা করতে লাগলো কখন ওর মা আসবে,। কিন্তু মা তো আসেনা। মন খারাপ হয়ে যায় রাজুর। কেমন অজানা ব্যথায় মন ভারী হয়ে উঠে। অজান্তেই চোখের কোণে জল চলে আসে।
মাঝে একটা শনিবার চলে গেলো,তাও ওর মা আসেনা। ব্যকুল হয়ে উঠে রাজু। কিছু হলোনা তো মায়ের মনে মনে ভাবে রাজু। মনে হয় রাগ করে আসেনা। আমি আবদার করি বলে। আর কোন আবদার করবোনা মায়ের কাছে। পথ চেয়ে বসে থাকে রাজু। কখন ওর মা আসবে --- ও তো জানেনা ওর মা আর কোনদিন ও আসবে না।

Want your business to be the top-listed Shop in Rangpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Khat Khatia Sadar
Rangpur
5400