Muhammad Habibullah
স্যার ও ম্যাডাম—সম্বোধনের পেছনের চমৎকার ইতিহাস
আমরা প্রতিদিন শিক্ষকদের, কর্মকর্তাদের কিংবা সম্মানিত ব্যক্তিদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করি। কিন্তু কি ভেবেছেন কখনো—এই শব্দ দুইটির শিকড় কোথায়? কোথা থেকে এলো আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে এতো পরিচিত এই সম্বোধনগুলো?
‘স্যার’ (Sir) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন Senior থেকে, যার অর্থ ‘বয়োজ্যেষ্ঠ’ বা ‘সম্মানিত ব্যক্তি’। মধ্যযুগে এটি ফরাসি হয়ে ওঠে Sire, যেটি রাজা বা অভিজাত পুরুষদের সম্বোধনে ব্যবহৃত হতো। পরে ইংরেজিতে তা রূপ নেয় Sir হিসেবে। বিশেষ করে নাইটহুড (Knighthood) উপাধিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের আগে ‘Sir’ বসত, যেমন: Sir Isaac Newton, Sir Winston Churchill. এই ‘স্যার’ শব্দটি ছিলো সম্মান, মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতীক।
‘ম্যাডাম’ (Madam) এসেছে ফরাসি শব্দ ‘Ma Dame’ থেকে, যার মানে ‘আমার ভদ্রমহিলা’। এটি ছিলো অভিজাত ও সম্মানিত নারীদের সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত একটি ভদ্র শব্দ।
ইংরেজরা এই শব্দটিকে গ্রহণ করে তাদের ভাষায় ‘Madam’ রূপে ব্যবহার শুরু করে। যেমন: Madame Curie (নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী)।
বাংলা ভাষায় প্রচলন: ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ প্রশাসনের প্রভাবে এই দুই শব্দই ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন স্কুলের শিক্ষক, কলেজের অধ্যাপক, সরকারি কর্মকর্তা, অফিসের বস বা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করাটা শিখে নেয় উপমহাদেশ। এই ব্যবহার এখনও বহাল। বর্তমানে শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ‘স্যার’ শিক্ষিকা বা নারী কর্মকর্তাদের জন্য ‘ম্যাডাম’
সম্বোধন আমাদের সামাজিক শিষ্টাচার ও সম্মান প্রকাশের অংশ হয়ে গেছে।
একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন কি?
আমরা এখনো ইংরেজদের দেওয়া এই উপাধিগুলো ব্যবহার করছি, যদিও অনেকেই জানি না এর মূল ইতিহাস। ‘স্যার’ ও ‘ম্যাডাম’ শুধু শব্দ নয়, একেকটি ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—যা সম্মান, সৌজন্য ও সভ্যতার পরিচায়ক।
DFA সংস্কৃতি: সরকারি অফিসের হাস্যরসাত্মক ড্রাফট কাহিনি
সরকারি অফিসগুলোতে একটি বিশেষ সংস্কৃতি আছে। একে বলা হয় DFA সংস্কৃতি বা Draft for Approval (ড্রাফট ফর অ্যাপ্রুভাল)। সরকারি ফাইল-চলাচলের এই মধুর যাত্রাপথ এতোই শৈল্পিক যে, তা সাহিত্য রচনার উপযোগী।
ধরুন, আমি সরকারি অফিসের একজন সহকারী পরিচালক। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে আমি একটি চিঠি লিখলাম। সেই চিঠিতে অফিস প্রধান (মহাপরিচালক) স্বাক্ষর করবেন। চিঠির বিষয়বস্তু চমৎকার—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার একাংশ:
“আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
চিঠি প্রস্তত হলো, এখন আমার কাজ সেটি ড্রাফট করে উপপরিচালকের কাছে পাঠানো। তিনি ফাইল হাতে নিয়ে পেশকৃত চিঠিটি গভীর দৃষ্টিতে দেখলেন। কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,
– নদী ছোট হবে কেনো? এটা তো সরু হতে পারে। নদী হবে বালিকার মতো উচ্ছল। আর ‘জল’ শব্দটা একটু পুরনো হয়ে গেছে। ‘পানি’ দিলে ভালো শোনায়।
তিনি কবিতাটি সংশোধন করে লিখলেন:
“আমাদের সরু নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু পানি থাকে।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।”
উপপরিচালক কাটাকাটি করে চিঠিসহ উপস্থাপিত ফাইল আবার আমার কাছে পাঠালেন। আমি সেটা প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করে পুনরায় উপপরিচালকের দপ্তরে পাঠালাম। চিঠি এবার উপ-পরিচালকের স্বাক্ষর হয়ে গেলো যুগ্মপরিচালকের কাছে। তিনি কবিতার উপর আরও একটু আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে চাইলেন। তিনি ভাবলেন,
– এখন বাংলা সন চলে না, এখন তো আমরা খ্রিস্টীয় সন ব্যবহার করি। বৈশাখ মাসের বদলে এপ্রিল মাস লিখলে ভালো হয়। আর ‘হাঁটু পানি থাকে’ শব্দটা একটু সাদামাটা, এটা বদলে ‘অল্প পানি থাকে’ লিখলেন।
এবার তার সংশোধিত চিঠি হলো:
“আমাদের গ্রামের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
এপ্রিল মাসে তার অল্প পানি থাকে।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ফাইল আবার নিচে নামলো, ড্রাফট প্রিন্ট হলো। যথারীতি সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও যুগ্মপরিচালকের স্বাক্ষর হয়ে এবার গেলো সিনিয়র যুগ্মপরিচালকের কাছে। তিনি কবিতার বিষয়বস্তু দেখে ভাবলেন,
– সবই তো ঠিক আছে, কিন্তু এখানে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামটা বেশি জুতসই লাগছে না। নামটা কেটে আরেকটু সংক্ষেপ করা যাক। তিনি আরো কিছু শব্দ নিজের মত কাটছাঁট করলেন। ফলাফল দাঁড়ালো:
“আমাদের গ্রামের ছোট নদী বহে অক্র বক্র
এপ্রিল মাসে তাতে দেখি অল্প পানি চক্র।”
– কবি রবীন্দ্রনাথ ঠক্র।
এই অসাধারণ ড্রাফট ফাইলসহ আবার নিচে গড়ালো। প্রিন্ট হলো। সহকারী পরিচালক হতে শুরু করে স্বাক্ষর হতে হতে উপরে গেলো। এবার গড়াতে গড়াতে ফাইল পৌঁছালো অফিস প্রধান মহাপরিচালকের কাছে। তিনি ফাইল হাতে নিয়ে গভীর মনোযোগে সব দেখলেন। হাসলেন। অফিস প্রধান হলে অনেক কিছু জানতে হয়। তিনি ভাবলেন,
– আরে, এ তো আমার পরিচিত কবিতা! রবীন্দ্রনাথের এই কবিতায় হাত দেওয়ার দরকার কী?
তিনি এক ঝটকায় সমস্ত সংশোধন কেটে দিয়ে মূল লেখাটি পুনর্বহাল করলেন:
“আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তারপর মহাপরিচালক স্বাক্ষর করে তারিখ দিলেন ১০/০১/২০২৫।
এভাবে, এক ফাইলের ড্রাফটস উঠতে নামতে দশ দিন পার হয়ে গেলো। কিন্তু চিঠি শেষে ঠিক সেই জায়গায় ফিরলো, যেখানে তা ছিলো—প্রথমবারের মতো।
DFA সংস্কৃতির সৌন্দর্য এটাই—প্রতিটি স্তরে এক নতুন গল্প, এক নতুন চিন্তা, আর এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা!
30/12/2024
Attending an official training session at the Office of the Refugee Relief & Repatriation Commissioner, Cox's Bazar with colleagues and officials from the Ministry of Disaster Management and Relief. During the training, we had the privilege of a courtesy meeting with the honorable RRRC sir.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
Patuakhali
8621