Barua Simantha

Barua Simantha

Share

23/04/2026
16/04/2026

শুভ NOবৌ বর্ষের শুভেচ্ছা, সকল অবিবাহিতদের ♥️

19/03/2026

শামস সুমন মারা গেছেন। জেনারেশন জেড শামস সুমনকে চিনবে না— নামেও না, চেহারায়ও না। কিন্তু ভদ্রলোক অভিনয় ভালো করতেন। কণ্ঠ দারুণ ছিল। গমগমে ভরাট গলা। দু’একটা নাটকে ওঁর কণ্ঠে কবিতা-আবৃত্তিও ছিল। আজ জানলাম তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পড়াশোনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই। একই রকমের কণ্ঠ ছিল টনি ডায়েসেরও। টনি ডায়েস আর শামস সুমনের কণ্ঠ আলাদা করা যেত না। বাংলা নাটকে নব্বই দশকের তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগত টনি ডায়েস আর শামস সুমনের কণ্ঠ।

নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকে পুরুষদের মধ্যে আরও যাদেরকে ‘নায়ক’ হিশেবে দেখতাম, যাদেরকে দেখে দূর আকাশের তারা ভাবতাম; তাদের মধ্যে আছেন আজিজুল হাকিম, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শহিদুজ্জামান সেলিম, তৌকির আহমেদ, মাহফুজ আহমেদ, জাহিদ হাসান, জাহিদ হোসেন শোভন, সমু চৌধুরী, আহমেদ রুবেল, আহসান হাবিব নাসিম, লিটু আনাম, শাহেদ শরিফ খান, মনির খান শিমুল, মির সাব্বির মাহমুদ, জিতু আহসান প্রমুখ। উল্লিখিত অভিনেতাদের বেশিরভাগই কোনো-না-কোনো আবৃত্তি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, অভিনয়ে উঠে এসেছেন মঞ্চ থেকে, পড়াশোনা করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের প্রত্যেকের উচ্চারণ ছিল বিশুদ্ধ। ঐ সময়কার নাটকগুলোর পাণ্ডুলিপি ছিল প্রমিত বাংলায় লেখায় লেখা, পাণ্ডুলিপির বাইরে ইচ্ছেমতো সংলাপ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আবৃত্তি সংগঠন ও মঞ্চের সাথে যুক্ত থাকার কারণে টেলিভিশন-নাটকে এদের উচ্চারিত সংলাপগুলোও ছিল মনে রাখার মতো। আমরা যারা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছি; তারা এসব অভিনেতাকে তরুণ হিশেবে পেয়েছি, এঁদের উচ্চারণ শুনে আমরা বাংলা উচ্চারণ শিখেছি, আমাদের কথা বলার ধরনও হয়েছে এদের মতোই। এই অভিনেতারা নব্বইয়ের দশকের ছেলেশিশুদের বাংলা উচ্চারণের মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং নিজেদের অজান্তেই ব্যক্তিত্বগঠনে প্রভাব রেখেছেন— এ-কথা অনস্বীকার্য। আমাদের সৌভাগ্য— মঞ্চ বা আবৃত্তি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা না-থাকা, অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার ঠিকঠিকানা না-থাকা, ন্যূনতম রাজনৈতিক জ্ঞান না-থাকা অভিনেতা-অভিনেত্রী বা নির্মাতাদের নাটক দেখে আমাদেরকে বড় হতে হয়নি। আমাদের আরও সৌভাগ্য— তখন ইন্টারনেট ছিল না, ছিল না ভাইরাল হওয়ার অবারিত সুযোগ।

শামস সুমন মূলত টেলিভিশন-নাটকে অভিনয় করতেন। ২০০৬ সালে ওঁকে ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ সিনেমায়ও অভিনয় করতে দেখেছি। পরবর্তী বিশ বছরে ওঁর নামটাও শুনিনি। ফলে, সাধারণ দর্শকের কাছে বিগত বিশ বছর শামস সুমন ‘মৃত’ই ছিলেন। আজ তিনি সত্যি-সত্যি মারা গেছেন। বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। ওঁর ষাটোর্ধ্ব বয়সের ছবি আজই প্রথম দেখলাম। মেলাতে পারছিলাম না। কেননা, মানসপটে তো গেঁথে আছে ত্রিশের কোঠার শামস সুমন। শামস সুমনের বুড়ো হওয়ার যাত্রাটা প্রকাশ্য ছিল না। শামস সুমনদেরকে ধন্যবাদ একটা প্রজন্মের বাংলা উচ্চারণ, প্রেম-ভালোবাসা এবং ব্যক্তিত্বগঠনে প্রভাব রেখে যাওয়ার জন্য।

[©কবি ও লেখক আখতারুজ্জামান আজাদ]

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Patenga?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Jalsha Market, Jubilee Road
Patenga

Opening Hours

09:00 - 17:00