Philosophy R. U.
13/08/2024
সুস্থ ফারাবি ঢাবিতে পড়েছেন প্রতিবন্ধী কোটায়
ফারাবি এন এ রহমান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের ছেলে। নজিবুর রহমান এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ফারাবি একজন সুস্থ মানুষ। তিনি প্রতিবন্ধী নন, অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন। ফারাবি ভর্তি হয়েছিলেন ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ কোটায়, যাকে গ্রাম্য ভাষায় বলে ঠসা।
মানবজমিনের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে ব্যবসায় অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের মাধ্যমে ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হন নজিবুর রহমানের ছেলে ফারাবি এন এ রহমান। পরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ‘ঘ’ ইউনিটের মাধ্যমে লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী ফারাবি প্রতিবন্ধী হিসেবে তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। পড়ালেখা শেষে বিভাগটিতে প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতেও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যদিও সন্তোষজনক ফলাফল না থাকায় তিনি নিয়োগ পাননি।
সূত্রমতে, ফারাবি এন এ রহমান ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি আবেদন করেন। ভর্তি আবেদন ফরমে দুটি ইউনিটের কোনোটিতেই তিনি প্রতিবন্ধী কোটার পাশে টিক চিহ্ন দেননি। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪৫ দশমিক ৫৬ স্কোর পেয়ে ২ হাজার ৭৩৫তম মেধাক্রমে উত্তীর্ণ হন তিনি।
ইউনিটটিতে ভর্তিযোগ্য আসন ছিল ১ হাজার ১৭০টি। মেধাক্রম অনুযায়ী ফারাবির বিভাগ পাওয়ার কথা না। কিন্তু তিনি ভর্তি হয়েছেন শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ফিন্যান্স বিভাগে। এক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে তার ভর্তি দেখানো হয়েছে ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ কোটায়।
ফারাবির সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনরা জানিয়েছেন, তিনি কখনো শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছিলেন না। তার চলাফেরা স্বাভাবিকই ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, আমি ওদের ব্যাচের কোর্স পড়িয়েছিলাম। ও ক্লাসে ভালোই রেসপন্স করতো। ওর প্রেজেন্টেশন দেখেছি। ক্লাসের বাইরেও সামনাসামনি ওর সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর কানে কখনো হিয়ারিং এইড (শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র) দেখতে পাইনি।
বিস্তারিত লিংক মন্তব্যের ঘরে...
14/04/2022
অসময়ে বান্ধবী জনতার চলে যাওয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ও জনতার পাশাপাশি রোল নম্বর ছিল। পরীক্ষায় পাশাপাশি বসতাম। ক্লাস-পরীক্ষায় অনেক সময় জনতাকে বিরক্ত করতাম। কিন্তু সে কোনো দিন বিরক্তবোধ করেনি। সব সময় হাসিমুখে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। ক্লাসে আমরা রাবেয়াকে নিয়ে দুষ্টুমি করতাম। জনতা আমাদের থামিয়ে দিত। সব সময় ক্যাম্পাসে হাসিখুশি থাকত সে।
শান্তভাবে ক্লাসে আসত সে। আমরা যতই হই-হুল্লর করি না কেন, সে চুপচাপ বসে থাকত। অন্য অনেকের মতো আমাদের বিরক্ত সহ্য করত। তবে আমাদের চিৎকার বেশি হলে মাঝে মাঝে সে রেগে থামিয়ে দিত। কিন্তু পরক্ষণেই সে হেসে উঠত। এটাই জনতার আসল গুণ ছিল। ক্লাসে সবাই তাকে ভালোই জাতন। তার মতো শান্ত স্বভাবের মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের।
বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসার পরও মাঝে মাঝে তার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। কিছু দিন আগেও তার সঙ্গে সংসার জীবন নিয়ে বেশ আলাপ হয়েছিল। মাঝে অনেকটা সময় আর কথা বলা হয়ে ওঠেনি। আজ সকালে জানলাম, জনতা আমাদের মাঝে নেই। শারীরিক জটিতলায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে।
এটা মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কঠিন। এত দ্রুত জনতা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা কখনই বন্ধু-সহপাঠীরা ভাবিনি। জনতার এক মেয়ে আছে। আল্লাহ তাকে ও তার পরিবারকে এই কষ্ট ভুলিয়ে দিন। পরপারে আল্লাহ তাকে উত্তর আবাস দান করুন। এটাই জনতার জন্য আমাদের দোয়া।
*জাকির হোসেন তমাল
জনতার ফেসবুক: https://www.facebook.com/janata.akter.35
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Rajshahi
Pabna
6600