Pro AMCHL
সাব্বাস_মেয়ে।।।
দু-মিনিট সময় নিয়ে পড়ুন.......
মেয়েটি কঠিন পর্দা করে। এমন কঠিন পর্দা
এই
জামানার কোন সুন্দরী রমণী করে কিনা
বলা মুশকিল।
মেয়েটির হাত পা পর্যন্ত দেখা যায় না।
শুধু চোখ দুটো শুক তারার মতো জ্বল জ্বল
করে ।
তার মাত্র দুই বছর হয় বিয়ে হয়েছে।
বিয়ের পনেরো দিনের মাথায় স্বামী তার
কর্মস্থল কুয়েতে চলে এসেছে।
স্বামীর নিজেস্ব ব্যবসা
সেখানে ।
যার দরুন স্ত্রীর কাছে ব্যবসা
ফেলেও
আসতে পারছে না ।
স্ত্রী কে সেখানে নেওয়ার জন্য জোর
তৎপর চালাচ্ছে...
কিন্তু বিভিন্ন কারনে সেটা বাধা
গ্রস্ত হচ্ছে ।
যে মেয়ে কোন দিন মাদ্রাসা আর বাড়ি...
এই গন্ডির থেকে বেড় হয়নি।
সে মেয়ে আজ পাসপোর্ট
অফিস
কাজি অফিস কত জায়গায়ই না যাচ্ছে ।
যদিও সব
জায়গায়তেই এই কঠিন পর্দার জন্য কিছুটা
সমস্যা হচ্ছে।
তারপরেও সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বহু
প্রতিক্ষিত সফর স্বামীর কাছে সে রওনা
দিয়েছে । কিন্তু তার জন্য যে এক কঠিন
পরীক্ষা
অপেক্ষা করছে সে নিজেও জানে না।
কুয়েতের ফ্লাইট বিকেল ৪.১৫ এ।
তবুও কিছুটা
আগেই রওনা দিয়েছিল সে।
কিন্তু পথে জ্যাম
থাকায় কিছুটা দেরি হয়ে গেছে।
সাথে তার
বৃদ্ধ বাবা এগিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছেন।
বিপত্তিটা তখনই বাঁধলো... যখন
এমিগ্রেশন অফিসার
তার মুখ দেখতে চাইলেন।
কিন্তু
পরহেজগার মেয়েটি
কিছুতেই তার নেকাব খুলবে
না ।
কিন্তু তার চেহারার সাথে পাসপোর্টের
মিল
আছে কিনা? এটা না দেখলে তো কিছুতেই
অফিসার এমিগ্রেশন পার হতে দেবে না।
মেয়েটি অফিসার কে অনুরোধ করলো।
কোন মহিলা অফিসার দিয়ে তাকে দেখে
নেওয়ার জন্য
অনেক অনুরোধ করল।
কিন্তু সেই সময়টিতে কোন মহিলা
অফিসার
ডিউটিরত ছিল না ।
অফিসার, মেয়েটি কে বারবার বলছে ।
দেখুন আমি আপনার ভাইয়ের মতো,
মাত্র
একবার আপনার চেহারা দেখলে তেমন
কিছুই
হবে না।
ভাইয়ের মতো কিন্তু ভাই তো নয়।
প্লিজ
কোন
মহিলা বা মেয়েকে ডাকুন ।
না থাকলে কোথা থেকে ডাকব?
একজন ছিল।
সে এখন ডিউটিতে নেই ।
বারবার মেয়েটির নাম ধরে মাইকে এলাউন্স
হচ্ছে বিমানে উঠার জন্য কিন্তু একটি মাত্র
কারণে মেয়েটির এমিগ্রেশন পার হওয়া
সম্ভব
হচ্ছে না ।
মেয়েটির প্রতিবার এলাউন্সের সময় চিৎকার
দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিলো।
কিন্তু সেটাও
পারছিলো না।
বহু প্রতিক্ষার পর স্বামীর
সান্নিধ্য পাওয়ার যে লালিত স্বপ্ন সেটা
প্রতি
মিনিটে ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছিল ।
এবার এমিগ্রেশনের বড় অফিসার তার সামনে
এসে দাঁড়িয়েছে ।
কি ব্যাপার আপনি যাচ্ছেন না কেন?
বারবার
এলাউন্স হচ্ছে আপনার নাম?
--আমি তো যেতে চাই...
কিন্তু আপনারা তো
ঢুকতে দিচ্ছেন না ।
--দেখুন প্রতিটি কাজেরই একটা সিস্টেম
আছে ।
সেটার বাইরে তো আমরা যেতে পারিনা ।
একবার চেহারা দেখালে তো আর মহাভারত
অশুদ্ধ হবে না ।
--মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।
কিন্তু অশুদ্ধ হবে আমার পরকাল।
অশুদ্ধ হবে আমার আমলনামা।
অশুদ্ধ হবে আমার ঈমান।
স্বামীর কাছে
যাওয়ার
জন্য হয়তো ব্যাকুলতা আছে।
কিন্তু সেই
ব্যাকুলতার
জন্য তো আমি আমার সারাজীবনের রক্ষিত
সম্পদ
নষ্ট করতে পারিনা।
আর এই জটিলতার জন্য
হয়তো
এই বিমানটি আমি ফেল করব।
কিন্তু আমি
জানি
আখেরাতে বিমান আমার জন্য ঠিকই লেন্ড
করা
থাকবে ।
অফিসার অবাক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে
তাকিয়ে আছে । এই একবিংশ শতাব্দীতে
এসেও
এই রকম মেয়ের উপস্হিতি কল্পনাতীত.?
আমারতো মনে হয়....
এই
মেয়ে গুলোর জন্যই হয়তো পৃথিবী এখনো
ধ্বংস হয়নি ।
--আপনি আসুন আমার সাথে আপনাকে আমি
এমিগ্রেশন পার করে দিচ্ছি । বাংলাদেশের
ইতিহাসে যেটা কখনো কোন দিন হয়নি সেটা
আজ
হতে যাচ্ছে । পাসপোর্টের সাথে চেহারা
না
মিলিয়ে কোন মেয়ে আজ এমিগ্রেশন পার
হচ্ছে ।
মেয়েটি চকচকে ফ্লোরের পথ ধরে খুব জোরে
হাঁটছে সে জানেনা বিমান তার জন্য এখনও
অপেক্ষা করছে কিনা ।
না, অবশেষে মেয়েটি যেতে পেরেছে ।
ঈমানের
চরম পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তার জন্য
অপেক্ষা করছে এক মহা আনন্দের সময়।
যে
সবুর
এবং ধর্য্য ধরতে জানে তার জন্য আছে মহা
মূল্যবান পুরস্কার.......!!! (সুবহানআল্লাহ)।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the school
Telephone
Website
Address
Signboard, Siddirganj
Narayanganj
1402