Islamic knowledge
04/05/2017
এক টুকরো জান্নাত
:
:
যুবক বিয়ে করার জন্য হন্যে হয়ে পাত্রী খুঁজে
চলছে, পাত্রী হতে হবে দ্বীনদার
একজায়গায় এক দ্বীনদার পাত্রীর সন্ধান
পেল। শর'য়ীভাবে পাত্রীকে দেখতে
পাত্রীর বাড়ি গেল। পাত্রীর সাথে
কথাবার্তা চলার একপর্যায়ে পাত্রী যুবককে
উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল- 'আপনি কুরআনের
কতটুকু মুখস্ত করেছেন?'
- একটুওনা। তবে সর্বদা চেষ্টা করি, যেন
আল্লাহর একজন সৎকর্মশীল বান্দা হতে
পারি। যুবক পাল্টা প্রশ্ন করে বসল- 'আপনি
কতটুকু মুখস্ত করেছেন?'
- আমপারা মুখস্ত করেছি।
:
উভয় ফ্যামিলির গার্জিয়ানদের উদ্দোগে এ
- পাত্রীর সাথেই যুবকের বিয়ে হয়ে গেল।
তারা হয়ে গেল স্বামী-স্ত্রী। কিছুদিন
যেতে না যেতেই স্বামী অনুভব করল যে, সে
দুনিয়াতেই যেন একটুকরো জান্নাতের মালিক
হয়ে গেছে। স্ত্রী- ও অনুভব করল যে, তার
স্বামী তখন সত্য বলেছে। সত্যিই সে একজন
সৎকর্মশীল বান্দা।
:
একদিন স্ত্রী স্বামীকে বলল- 'এই, আসুন না
আমাকে কিছু কুরআন মুখস্ত করিয়ে দেবেন?
স্বামী বলল- 'হ্যাঁ, চলো, আমরা উভয়েই মুখস্ত
করব। একে অপরকে মুখস্ত করিয়ে দেবো।
যেই
কথা সেই কাজ। তারা একে অপরকে কুরআন
মুখস্ত করিয়ে দিতে শুরু করল। উভয়ে একেরপর
এক সুরা মুখস্ত করতে থাকল একে অপরকে
শোনানোর মাধ্যমে। এভাবে একদিন তারা
উভয়েই কুরআনের হাফেজ ও হাফেজা হয়ে
গেল! শুধু তাই নয়; একটি প্রতিষ্টান থেকে
সার্টিফিকেটও নিয়ে নিল।
:
কিছুদিন পর স্বামী তার স্ত্রীকে সাথে
নিয়ে শ্বশুরালয়ে গেল। গিয়েই শ্বশুরকে অতি
আহ্লাদে খবর দিল- 'আব্বু, আপনার মেয়ে
হাফেজা হয়ে গেছে! খবরটি শুনে শ্বশুর
যারপরনাই আশ্চর্য হয়ে গেলেন! তিনি
মেয়েজামাইকে কিছু না বলে উঠে মেয়ের
রুমে গিয়ে কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসলেন।
কাগজপত্রগুলো দেখে যুবকের চোখ তো
ছানাবড়া! এ যে তার স্ত্রীর কুরআন হিফজের
প্রাতিষ্টানিক সার্টিফিকেট! তার মানে
তার স্ত্রী বিয়ের আগে থেকেই কুরআনের
হাফেজা ছিল! এইবার যুবক আসল ব্যাপার
বুঝতে পারল। আসলে তার স্ত্রী কুরান মুখস্ত
করিয়ে দেয়ার ভান করে মূলত: তাকেই
হাফেজ বানানোর কৌশল অবলম্বন করেছিল!
স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতায় যুবকের দিল ভরে
গেল। তার দু'চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল
ক'ফোটা আনন্দাশ্রু।
:
29/04/2017
পপকর্ন তো খান, জন্মের ইতিহাস জানেন?
সিনেমা হল অথবা বিকেলের আড্ডা, খেতে খেতে সময় পার করার
জন্য জনপ্রিয় খাবার পপকর্ন। যুক্তরাজ্যে খাবারটি ঐতিহ্যগতভাবে
প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী পপকর্নের চাহিদা
বেড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিন্টেলের ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে
দেখা যায়, ব্রিটেনে গত ৫ বছরে পপকর্ন বিক্রির পরিমাণ ১৬৯ শতাংশ বেড়েছে।
কিন্তু এই পপকর্নের উদ্ভাবনের ইতিহাস কি? ইন্টারনেট ঘেটে দেখলে
বিভিন্ন ধরণের উত্তর পাওয়া যাবে। আদিবাসী মার্কিনিদের ধারণা মতে,
থ্যাঙ্কসগিভিং বা ধন্যবাদ জানানোর মাধ্যম হিসেবে এই খাবারের প্রচলন
শুরু হয়। আবার এমনও শোনা যায়, আমেরিকায় উপনিবেশবাদীরা
সকালের নাস্তায় পপকর্ন খেতে অভ্যস্ত ছিল। তবে এসব মতের পক্ষে কোন
প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পপকর্ন উদ্ভাবনের আসল ঘটনাটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক।
আমেরিকায় পৌঁছানোর অনেক আগে থেকেই ইউরোপের মানুষ পপকর্নের
সঙ্গে পরিচিত ছিল। প্রত্মতাত্ত্বিকেরা আমেরিকার ভূখন্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন গুহা ও বসবাসের স্থানে পপকর্নের অস্তিত্ব পেয়েছেন।
একবার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা
থমাস হার্পার গুডস্পিডের জন্য চিলির এক প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রাচীন অনেকগুলো
ভুট্টার দানা পাঠিয়েছিলেন।১৯৪১ সালে নিজের ‘প্লান্ট হান্টার্স ইন দ্য অ্যান্ডিস’
বইতে হার্পার লিখেন, ‘এক সন্ধ্যায় ঘরে বসে আমি ইনকা সভ্যতা পূর্ববর্তী সেই
পপকর্নের দানাগুলো একটি টিনের পাত্রের ওপর রেখে বৈদ্যুতিক স্টোভে গরম
করতে থাকি। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, হাজার বছরের পুরোনো ভুট্টার দানাগুলো
শব্দ করতে শুরু করে। দেখে মনে হচ্ছিল, দানাগুলো গত বছরের শস্য, কোন
প্রতিবেশি আমাকে খেতে দিয়েছেন। পপকর্নের শক্ত দানাগুলো ভুট্টার বাইরের
অংশে আবৃত থাকে। দানার বাইরের আবরণ অন্যান্য শস্যের তুলনায় চারগুণ
শক্ত হওয়ার কারণেই পপকর্ন তৈরি করা সম্ভব হয়। ভুট্টার দানার বাইরের
আবরণ এরূপ শক্ত হওয়ায় এটি পুড়ে না গিয়েও দানার ভেতরে তাপ পৌঁছে
দিতে পারে। ক্রমশ তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে দানার ভেতরে থাকা এক প্রকার
তরল পদার্থ বাষ্পে পরিনত হতে থাকে। দানার ভেতরে সৃষ্টি হওয়া এই বাষ্প
এক পর্যায়ে বাইরের আবরণে চাপ সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে
চাপও বাড়তে থাকে। ২০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক
চাপের চেয়ে ভেতরের চাপ নয়গুণ বেড়ে গেলে ওই আবরণটি ফেটে যায়।
এরপরই দানাগুলো বড় আকার ধারণ করতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে
দেখেন, কোন বায়ুশুন্য পাত্রে ভুট্টার দানায় তাপ দেয়া হলে পপকর্নগুলো দ্বিগুণ
আকার ধারণ করে। সর্বপ্রথম ১৮৮৫ সালে পপকর্ন তৈরির যন্ত্র দেখা যায়।
ইলিনয়ের একজন কেক প্রস্তুতকারক চার্লস ক্রেটরস যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন।
তিনি প্রথমে বাদাম ভাজার চুলা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। স্টিম ইঞ্জিনের
সাহায্যে প্রথম দিককার পপকর্নগুলো তিনিই তৈরি করতেন। সেসময় চর্বি এবং
মাখনের মিশ্রণ ঘটিয়ে ভুট্টার দানাগুলোকে তাপ দেয়া হতো। নাম রাখা হয়েছিল
রোস্টি টোস্টি। পপকর্নগুলো দেখতে খুবই বাজে ছিল। খাদ্য ইতিহাস লেখক
অ্যান্ড্রু স্মিথ ১৮৯৩ সালে তার ‘পপড কালচার’ বইয়ে ক্রেটরর্সের পপকর্ন
বানানোর গাড়িটির কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আর
আমার সহকারি ‘ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার’ মেলায় চিৎকার করেছিলাম: নতুন স্বাদ
উপভোগ করুন। মাখনে মাখানো পপকর্ন-নতুন উদ্ভাবন! বিনামূল্যে নিয়ে
যান এক প্যাকেট।’ স্মিথ তার বইতে আরো লেখেন, ‘এই কথা বলার সাথে
সাথেই আশেপাশের লোকজন গাড়িটির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ক্রেটারর্স
তার পপকর্নগুলো উপরে ছুড়ে দিতে থাকে। এতে লোকজনের ভীড় আরো
বাড়তে শুরু করে।’ ক্রেটার্সের বতর্মানে ‘সি ক্রেটার্স কোম্পানি’ নামের
একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পপকর্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হিসেবে পপকর্ন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পপকর্নের
প্যাকেটে স্বাস্থ্য নির্দেশক কিছু লেখা না থাকলেও মিন্টেলের প্রতিবেদনে বলা হয়,
যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেই এটির প্রচলন শুরু হয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Square Masterbari Bhaluka Mymensingh
Mymensingh