Win
20/05/2026
কবি বিমল ঘোষ 'মৌমাছি' ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন৷
ক্যাডার সার্ভিসে ১০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা টাইম লাইনে রেখে দিচ্ছি। বেশ বড় পোস্ট। কারো আজাইরা টাইম থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। নাহলে এভয়েড করাই ভালো হবে 🥴
সদ্য এমবিবিএস পাস করে মিটফোর্ডে ইন্টার্নি শুরু করেছি। এর মধ্যেই বিসিএস এর সার্কুলার দিলো। একেবারে শেষ দিকে ঢাবির এক বিসিএস ফ্রিক ফ্রেন্ডের ছত্রছায়ায় নীলক্ষেত গেলাম ফর্ম ফিলআপ করার জন্য। দোকানে বসে জানলাম হেলথ ক্যাডার ছাড়াও ডাক্তাররা বিভিন্ন ক্যাডার চয়েজ দিতে পারে। আমি চয়েজ লিস্টে দিলাম; ১) হেলথ ২) পুলিশ ৩) পররাষ্ট্র ৪) এডমিন। 🥴🥴 বন্ধু বললো তোর কি কোন আক্কেল জ্ঞান নাই। আমি বললাম কেন, কি হয়েছে। সে বিভিন্ন কিছু এক্সপ্লেইন করার পর বুঝলাম প্রফেশনাল ক্যাডার এক নাম্বারে দেয়া যাবে না, দিতে হবে লাস্টে, জেনারেল ক্যাডারের পর। যাহোক বন্ধুর বুদ্ধি নিয়ে ১) পুলিশ ২) পররাষ্ট্র ৩) এডমিন ৪) হেলথ এভাবে চয়েজ দিলাম। বন্ধু বললো পররাষ্ট্র এক নাম্বারে দিয়ে পুলিশ দুইয়ে দিতে, তাতে নাকি ভাইভা দিতে সুবিধা হবে। আমি বললাম ধুর, মেডিকেলে আইটেম, কার্ড, টার্মে কত ভাইভা দিয়ে আসলাম। বিসিএসের একটা ভাইভা, এ আর এমন কি? পুলিশের যে ভাব ভংগি, হইলে পুলিশই হবো। 😁
ফর্ম ফিলআপ করে আসার পর ইন্টার্নি+টিউশনির ব্যস্ততায় প্রিলির কথা মোটামুটি ভুলে গেছি। এর মধ্যেই সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি এক বান্ধবি কি যেন একটা চটি বই পড়ছে। জিজ্ঞেস করলাম, দোস্ত এটা কি পড়িস? উলটে পালটে দেখলাম। প্রিলির জন্য বিশেষ কারেন্ট ওয়ার্ল্ড। সে বললো এটা পড়ে গেলেই নাকি প্রিলি পাস। আমি ভাবলাম, এ আর এমন কি। এই একশো পেজ পড়তে তো তিন চার দিনের বেশি লাগার কথা না। কাজেই পরীক্ষার কয়েকদিন আগে পড়লেই হবে, এরকম চিন্তায় প্রিলির টপিক মাথা থেকে বাদ দিলাম।
এর মধ্যেই প্রিলির ডেট চলে আসলো। পরীক্ষা হবে কোন এক শুক্রবার। পরীক্ষার আগের সোমবার আমার সার্জারি ওয়ার্ড শেষ, মংগলবার থেকে গাইনী ওয়ার্ড শুরু। সে সময় নিয়ম ছিলো সার্জারি ওয়ার্ডের চার মাসে তিন দিন ছুটি নেয়া যেত। ভাগ্যক্রমে আমি কোন ছুটি না নেয়ায় শেষ তিনদিন শনি-রবি-সোম ছুটি নিলাম। আবার গাইনী ওয়ার্ডের শুরুতে মংগল-বুধ-বৃহস্পতি এই তিনদিন অগ্রীম ছুটি নিলাম। আর শুক্রবার হবে প্রিলি পরীক্ষা। একশো পেজের চটি বইটা ছয়দিনের ছুটিতে পড়ে ফেলবো এ ধরনের প্ল্যান করে নীলক্ষেত গেলাম বই কিনতে। গিয়ে দেখি বিভিন্ন সাইজের প্রিলি বই। হাজার হাজার পেইজের বিষয় ভিত্তিক বই গুলো দেখে নিজের প্রতি করুনা হলো। ভাবতে থাকলাম কেন এতদিন কিছুই পড়লাম না।🥴 যাহোক লাস্টে দোকানের বই পত্র ঘেটে চটি বই আর বিশাল বই এই দুইটার মাঝামাঝি একটা বই কিনলাম। ওরাকল ডাইজেস্ট। বই নিয়ে টেবিলে বসে মাথায় হাত দিলাম। ওরে বাবা। এ কি জিনিস..!! ওমুক কবির কোথায় জন্ম, তমুক দেশের মুদ্রার নাম এই ধরনের কথাবার্তা দিয়ে বই ভর্তি। যাহোক জ্ঞান অর্জনে নেমে পড়লাম। টানা ছয়দিন পড়লাম। ছয়দিনে ছয়ঘন্টা ঘুমাইছিলাম কিনা সন্দেহ, তবে ডাইজেস্ট টা তিনবার এ টু জেড পড়লাম। পরীক্ষা দিয়ে আসলাম। দুইশো মার্কের পরীক্ষা।
সাতদিন পর ফেসবুক খুলে বিসিএসের গ্রুপ গুলো নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখি বিভিন্ন গ্রুপে বিস্তর গবেষণা চলছে। কাট মার্কস কত হবে, কোনটার উত্তর কি হবে, প্রশ্ন কেন এতো কঠিন হলো, এইসব কথা-বার্তা আর কি। যাহোক উত্তর মিলানোর আগ্রহ পেলাম না। তবে মনে হলো, দুইশোতে একশো অন্তত পাবো।
প্রিলির রেজাল্ট হলো। সৌভাগ্যক্রমে আমার রোলটা রেজাল্ট শিটে ছিলো। এরকম ভয়াবহ প্রিপারেশনের পরও যেহেতু টিকে গেছি, মনে একটা ভাব চলে আসলো। ভাবলাম রিটেনের আগে পড়ে ফাটিয়ে ফেলবো।
সেপ্টেম্বরে রিটেন পরীক্ষার ডেট দিলো। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ছিলো অক্টোবরে। আমি মেডিকেল ভর্তির এক গাদা টিউশনি নিয়ে নিলাম। মেডিকেল ভর্তির সিজনে টিউশনি/কোচিং করিয়ে মোটামুটি আট-দশ লাখ টাকার মতো রোজগার হতো। এই পরিমান টাকা দিয়ে যেহেতু সারাবছর সাচ্ছন্দে চলতাম সেজন্য পরিস্থিতি বিবেচনায় টিউশনিকেই প্রায়োরিটি দিতে হলো। প্রিলিতে পড়েছিলাম সাত দিন, রিটেনের জন্য বরাদ্দ রাখলাম পনেরো দিন। আগস্টের ১৪ তারিখ সবগুলো টিউশনির কোর্স কমপ্লিট করে, মডেল টেস্ট নেয়ার দায়িত্ব দিলাম মেডিকেলের এক ছোট ভাইকে। আবার নীলক্ষেত গিয়ে রিটেনের জন্য চটি টাইপের বই খোজা শুরু করলাম। প্রতিটা সাবজেক্টের বিশাল বিশাল বই দেখে আবার নিজের প্রতি করুনা হলো। কেন এতোদিন কিছুই পড়লাম না..!! যাহোক এসিওরেন্সের একটা ডাইজেস্ট কিনে সাবজেক্ট ওয়াইজ কেটে মলাট লাগিয়ে নিলাম। এবার শুরু করলাম আরেক ম্যারাথন। পনেরো দিনে পনেরো ঘন্টা ঘুমিয়ে মোটামুটি একটা প্রিপারেশন নিলাম। বিজ্ঞান এবং ইংরেজি কিছুই পড়ি নাই। ম্যাথ আর মেন্টাল এবিলিটি একবেলা পড়ছি। আর বাকী সময় আজাইরা ভুং চুং সাহিত্য, অমুক তমুক বিষয়াবলি খাবলাখাবলি করে পড়ে আল্লাহর নাম নিয়ে রিটেন পরীক্ষা দিতে চলে গেলাম।🥴
ইডেন কলেজে রিটেন পরীক্ষার সিট পরেছে। আমার পেছনের ভাই টি আগের বিসিএসে কি যেন একটা ক্যাডার পেয়েছে, আরেকটু ভালো ক্যাডারের জন্য পরীক্ষা দিতে আসছে। পাশের বেঞ্চের ছেলেটা একটা ব্যাংকে চাকরি করে। যাহোক, বাংলা পরীক্ষায় পেছনের বেঞ্চে বসা বিশেষজ্ঞ ভাইকে কি যেন একটা জিজ্ঞেস করতেই সে হাত দিয়ে খাতা টা ঢেকে, মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো। এটাই স্বাভাবিক এরকম একটা ভাব নিয়ে, নিজে যা পারি তাই লিখে দিয়ে পরীক্ষা শেষ করলাম। ম্যাথ পরীক্ষার দিন দেখি ভাইটি সমানে কলম দিয়ে আমার পিঠ চুলকে দিচ্ছে। বললাম, ভাই কি হইছে? সে বললো ভাই একটা অংকের অর্ধেক পারি, আর কিছুই পারি না। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমার পরীক্ষা শেষ করে আপনাকে দেখাচ্ছি। আধা ঘন্টা আগে অংক পরীক্ষা শেষ করে খাতা জমা দিয়ে দিলাম। দের ঘন্টায় আড়াই মার্কের এন্সার করে, ভাইটি আমার জমা দেয়া খাতার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো। আমি আস্তে করে অন্য দিকে তাকালাম। যাহোক, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুনি ম্যাথ প্রশ্ন নাকি খুব কঠিন হয়েছে। ভালো ভালো বিশেষজ্ঞরা পাচ দশ পাবে। তখন বুঝতে পারলাম আমি রিটেনে খুব ভালো করবো। কারন ম্যাথে অন্যান্য দের চেয়ে ৩০-৩৫ বেশি পেলে অন্য সাবজেক্টে যে পরীক্ষা দিয়েছি তাতে আমার চেয়ে ৩০-৩৫ বেশি পাওয়া অন্যদের জন্য টাফ হয়ে যাবে। আর বিজ্ঞান পরীক্ষাও খুব ভালো হওয়ায়, মোটামুটি কনফিডেন্ট চলে আসলো। মাঝে বাংলাদেশ বিষয়াবলী পরীক্ষায় ৪ ঘন্টায় গদ্য পদ্য মিলে ৮৪ পেজ লিখেছিলাম। 🥴😁
যাহোক রিটেন পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো। আমি আবার ঝাকের কই ঝাকে ফিরে গেলাম। দিলীপ স্যারের কাছে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের পড়া শুরু করলাম। রিটেনের রেজাল্টে প্রত্যাশিতভাবে নিজের রোলটা দেখতে পেলাম। 😊
[পর্ব-১]
✒সালেহ মোহাম্মাদ ৷
03/05/2026
Android এর জনপ্রিয় ডিফল্ট ফন্টটির নাম জানেন কি!
01/05/2026
জেনে নিই পারস্য সাম্রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাস৷
28/04/2026
[রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুকেন্দ্রে আজ জ্বালানী লোডিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে]
বাংলাদেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আজ প্রথমবারের মতন এর জ্বালানী (ইউরেনিয়াম রড) স্থাপনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে৷পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মূলত স্টিম বা পানিকে বাষ্পীভূত করার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে টারবাইন বা জেনারেটরকে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে৷রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট৷জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে চালু হবার পরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দেশের মোট চাহিদার ১০-১২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে৷
রূপপুরের এই বিদ্যুৎ সম্পূর্ণরূপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে আরোও ১০ মাসের মতন সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে৷আর প্রথম চালানের (আজকে যেই জ্বালানী লোড হবে) বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাবে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে৷
''আমি কেন এডমিন ক্যাডার চাকরি ছাড়লাম?
আনুমানিক কয়েক মাস আগে আমি এডমিন ক্যাডার এ ৮০ দিন কাজ করে স্বেচ্ছায় অব্যহতি নিয়ে চলে আসি। আমি ৪০ তম বিসিএস থেকে গত ডিসেম্বর এ জয়েন করেছিলাম।
আমি এই পোস্ট এ আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ৮০ দিন এর রিভিউ শেয়ার করার চেষ্টা করব।
ব্যাকগ্রাউন্ডঃ
আমার এটাই প্রথম এবং একমাত্র সরকারী চাকরী এবং বিসিএস। তাই আমার অভিজ্ঞতায় যা কিছু অদ্ভুত লেগেছে, সেটা হয়ত অনেকদিন ধরেই দেশে সরকারী চাকরী করতেসে এমন একজনের কাছে খুব ই স্বাভাবিক। এটা মাথায় রেখেই বাকী পোস্ট পরার অনুরোধ করছি।
পোস্ট কিছুটা বড়। আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
ছুটি নাইঃ ... ব্যাক্তিগত জীবন নাইঃ
এইটা যে কত বড় সমস্যা তা নিজে না গেলে কল্পনাই করা যায়না। প্রতিদিন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাত ৮-৯ টা এমনকি কিছু কালেক্টরেট এ ১২ টা পর্যন্ত অফিসে থাকা লাগে।
এরপরেও শুক্র শনি ছুটি নাই। কিছু কালেক্টরেট এ মাসে একবার, আর কিছু ক্ষেত্রে ২-৩ মাসেও একবার পাওয়া যায়না। সবচেয়ে খারাপ যেটা লাগসে সেটা হল, এমন না যে কোন স্পেসিফিক কাজে আটকায় রাখসে।
- ছুটি নিলে নাকি ভালো অফিসার হওয়া যায়না তাই ছুটি নাই।
আমি ইভেন ইউএনও স্যার দেরকেও দেখসি জাস্ট একদিন স্টেশন লিভ এর জন্য স্যার এর সামনে কাঁচুমাচু করতে।
আমাদের কালেক্টরেট এর ডিডিএলজি স্যার একজন অসাধারণ সৎ অফিসার। আমি যেদিন রিজাইন দেই সেদিন উনি বলতেসিলেন, দেখ ফয়সাল আমি আমার বাবার একমাত্র ছেলে। উনি মৃত্যুশয্যায়। অথচ আমি যে যাব এইটাই বলতে পারতেসিনা, (একটা কথা ক্লিয়ার করি, এমন না যে ডিসি স্যার কে বললে উনি দিবেনা, পরিস্থিতিটাই সবসময় এমন থাকে যে ডিসি স্যার কে বলাই যায়না। সারাদিন আপনি শুনবেন যে ছুটি নিলে ভালো অফিসার হয়না, আর ছুটি চাইলে একটু বাঁকা চাহনি, বা রিজেকশন। এই কারণে ছুটি চাওয়াই অনেকটা পাপ)।
উনি ছুটি শেষমেশ পাইসিলেন। উনার বাবা মারা যাওয়ার পর। কিন্তু ঐ ছুটি দিয়ে লাভ কি?
আমাদের এডিএম স্যার, আমি আসার আগে বলতেসিলেন, ফয়সাল আমার বাবার বাসা এই খুলনা বিভাগেই অথচ কত দশ বছরে আমি ৮-৯ বার দেখতে যাইতে পারসি।
ইভেন আমাদের ডিসি স্যার নিজেই ডিসি হওয়ার ২.৫ বছরের মাথায় নিজের গ্রামের বাড়িতে একবার গেসেন।
সমস্যা টা কোন ব্যাক্তি নির্ভর না। সবাই সাফার করে। কিন্তু কেউ ই চেঞ্জ করেনা। এভাবেই চলতেসে এবং নিকট ভবিষ্যতেও চলবে বলে মনে হইসে। ২৫০ বছর ধরেই চলতেসে।
দেখেশুনে যা মনে হইসে, আমি যদি ইভেন বিদেশেও যাই তাহলেও আমি পরিবার কে বেশি সময় দিতে পারব। আর নিজের জন্য সময় এর জন্যও একি কথা প্রযোজ্য।
দেশের বাইরে ঘুরাফেরাঃ
প্রথমত আপনার টাকা নাই। যদিবা টাকা থাকে তাহলে সময় নাই। যদি টাকা সময় দুইটাই থাকে তাহলে যাওয়ার পারমিশন নাই। আমি প্রথমে শুনে বেকুব হয়য়ে গেসি যে আপনি নিজের টাকায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য ও পারমিশন দিতেসেনা এখন সরকার।
হ্যাঁ, মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি দেখিয়ে যাওয়া যায়। তবে সবসময় পার্মিশন পাবেন কিনা সেটা নিশ্চিত না। তবে স্ট্রং লবিং থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব।
বাজে পোস্টিং
আপনার লবিং না থাকলে ম্যাক্সিমাম সময় ই বাজে যায়গায় পোস্টিং পাবেন। পরিবারের সাথে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জিং।
ব্যাক্তিগত ভাবে মনে হইসে, একবার শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়য়ে গেলে গ্রামে গিয়ে থাকা খুব কঠিন। ঢাকা যতই গালি দেন, দিনশেষে সবাই ঢাকা আসতে চায়।
বাট একজন সাধারণ লোকের জন্য এডমিন ক্যাডার এ থেকে অন্তত ১০-১২ বছর এর আগে ঢাকা আসা কঠিন। ঐ সময় পরিবার এক যায়গায় আর আপনি আরেক যায়গায় । কারণ বাচ্চাকাচ্চার পড়াশুনার খাতিরে হোক বা আপনার স্পাউস এর চাকরীর সুবাদে হোক, একসাথে থাকা খুব কঠিন।
তেলবাজিঃ
সব চাকরীর কমন সমস্যা। আপনি কোন অবস্থানে যাবেন তা অনেকটাই বসের উপর। আর বস কতটা খুশি তার অনেকটাই আপনার তেল এর উপর। প্রত্যেকটা ভাষণ, আলোচনায় প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে সিনিয়র কে তেল দেওয়া লাগে।
মানে আমি নাহয় আমার বস কে তেল দিলাম। সেখানেই শেষ না। তার বউরেও তেলানো লাগবে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে বস এর চেয়ে বেশি)। তার বাচ্চা পোলাপান থাকলে তাদের কে পর্যন্ত গিয়ে সময় দেওয়া লাগে। তার আত্ম্যীয় স্বজন রে তেলানো লাগে।
বুয়েটিয়ানদের কে এই ব্যাপার এ বেশি সাফার করতে দেখসি। তেল দিতে দিতে নিচে নামা যায়, কিন্তু কতটা?
এইটা একটা বড় হতাশার কারণ হয়ে দাড়ায় এক সময়। কারণ আপনি দিনরাত খেটেও যখন দেখতেসেন আরেকজন স্যার এর সামনে ঘুর ঘুর করে আপনার চেয়ে অনেক আগায় গেসে তখন মন দিয়ে কাজ করা কঠিন, স্পেশালি চাকরিটা যদি এডমিন ক্যাডার এর মত হয়, যেখানে চাকরীটাই জীবন।
বেতন কমঃ
বেতন কত সেটা জেনেই আমি গিয়েছিলাম। আমার আশা ছিল, যেহেতু আমার কাজটা ফ্রিল্যান্সিং টাইপের, আমি পাশাপাশি ইনকাম করে এইটা কভার দিব। তবে সময়ের ওভাবে ঐটা করা কঠিন। প্লাস স্কিল আপডেটেড রাখা একটা চ্যালেঞ্জ। সারাদিন নথি হাতাহাতি করে বাসায় এসে প্রোগ্রামিং করার মত মানসিক অবস্থা ধরে রাখতে আমার কষ্ট হইসে।
তবে মুদ্রার আরেকটা পিঠ আছে। যেমন জুনিয়র থাকা কালে, ম্যাজিস্ট্রেসি, এক্সাম এগুলার ডিউটি করে কিছু ক্ষেত্রে ১০-৩০ হাজার পর্যন্ত এক্সট্রা ইনকাম করা সম্ভব। গাড়ী, বাড়ির সুবিধা থাকে কিছু। অনেক দাওয়াত থাকায় খাওয়ার খরচ ও হয়ত কিছুটা বাঁচে।
তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার মনে হইসে "টাকার সমস্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাওয়ার বা সম্মান দিয়ে সল্ভ হয়না। টাকার সমস্যা টাকা দিয়েই সল্ভ করা লাগে"। অনেক সিনিয়র (স্পেশালি যারা সৎ থাকতে চায়) তাদের কথায় ও চলাফেরায় আমি টাকার অভাব টা স্পষ্ট দেখসি।
কারো যদি নিজের পাশাপাশি বাবা-মা এর পরিবারে কন্ট্রিবিউট করা লাগে তাহলে এই বেতনে (সৎ ভাবে) চলা অসম্ভব।
তবে এইটা এডমিন ক্যাডার এর সমস্যা না। সব সরকারী চাকরীর কমন সমস্যা।
কাজের স্যাটিসফেকশন
বলা হয় "জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ" সবকিছুই এডমিন ক্যাডার দের করা লাগে। কথা সত্য। তাই সব কাজ ভালো লাগবেনা আবার সব কাজ খারাপ ও লাগবেনা।
আপনার অনেক কিছুই করার সুযোগ আছে। কিন্তু ইনোভেশন এর সুযোগ নাই। কাজ কিভাবে হয় সব ২৫০ বছর ধরে ঠিক করা আছে। এটা মেনে নিতে পারলে খারাপ না।
সবচেয়ে ভাল দিক হইল আপনি সব জায়গায় নেতা হবেন। তবে সমস্যা হইল ভালো কাজের রিকগনিশন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনার বস পাবে।
হিপোক্রেসিঃ
শুনতে হাস্যকর লাগলেও সত্য যে এডমিন এ প্রথম ৫ দিন আমি সবচেয়ে বেশি যেই শব্দ গুলা শুনসি সেগুলা হইল - "সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, হজরত উমর (রাঃ) কিভাবে দেশ চালাইতেন", এগুলা।
যেসব স্যার রা এগুলা বলত উনারা কে কি আকাম করসে তা কিন্তু গোপন নাই। কিন্তু তারপরেও এগুলা বলে সারাদিন।
এবং যখন দেখবেন যেসব অফিসার রা এগুলা বলে তারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইম্পরট্যান্ট পোস্ট গুলায় আছে, তখন একটু হতাশ লাগতে পারে।
বাজে কালচারঃ
কিছু বাজে কালচার আছে যেগুলা শুধু এডমিন ক্যাডার স্পেসিফিক। যেমন বাংলো কালচার। রাতের বেলায় ডিসি স্যার কে গিয়ে সময় দেওয়া। ডিসি ভাবিকে লেডি অফিসার রা সময় দেয়। তাদের বাচ্চা কাচ্চা ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। তাদের আত্ম্যীয় স্বজন আসলে তাদের নিয়ে ঘুরা। এছাড়া অনেক কিছু আছে যা লিখতে গেলে পোস্ট অনেক বড় হয়য়ে যাবে।
মনে হইতে পারে এইগুলা করার জন্যই কি এত পড়াশুনা করলাম?
সিচুয়েশন আস্তে আস্তে চেঞ্জ হচ্ছে। হয়ত সামনে হবে আরও। বাট বর্তমান বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই এইরকম।
সব ই কি খারাপ?
না অনেক কিছুই অনেক চাকরীর চেয়ে ভালো।
সম্মানঃ
সামাজিক যে সম্মান আপনি পাবেন (অন্তত বাংলাদেশ এ) সেটা আর কিছুর সাথেই তুলনা চলেনা। সবাই আপনাকে গুনবে। আপনার ফ্যামিলি কে গুনবে। অফিসে বা প্রাত্যাহিক জীবনে সারাক্ষণ স্যার স্যার শুনবেন। তবে মাথায় রাখা ভালো যে যতদিন চেয়ার এ আছেন ততদিন ই সম্মান। এরপরে সাধারণত ঐ সম্মান থাকেনা।
ক্ষমতাঃ
যদি অনেক অফিসার বলে এইটা ক্ষমতা না দায়িত্ব 😛 । তবে দিনশেষে আপনি যদি ক্ষমতা নাও দেখান, আপনাকে অন্তত কেউ ঘাঁটাইতে আসবেনা। প্রাত্যাহিক চলাফেরায় বা দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে আপনি আপনার অবস্থান কাজে লাগাতে পারবেন।
সবচেয়ে প্রতিবাদী চেতনার ভালো লোকটাও নিজে অবৈধ সুবিধা পাইলে সাধারণত কমপ্লেইন করেনা।
গুরুত্বঃ
আপনি সরকারী অন্য যেই অফিসেই যান ফিল করতে পারবেন যে অন্য দপ্তরের অফিসাররা আপনাকে নিয়ে কিছুটা জেলাস। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতাশা মুখে প্রকাশ করেও ফেলে। কারণ এডমিন সব বড় পোস্ট নিয়ে রাখসে। এইকারনে আপনি কিছুটা গুরুত্ব সবজায়গায় পাবেন।
বিষয়টা নিষ্ঠুর কিন্তু আপনার জন্য না, অন্যদের জন্য।
কলিগঃ
যারা এডমিন এ টিকে, সবাই প্রচণ্ড মেধাবী। তাই আপনার যারা কলিগ হবে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব জোস লোকজন। তাই তাদের সাথে মানায় নিতে আমার কোন সমস্যাই হয়নাই এবং আমার সমস্ত কলিগদের সম্পর্কে আমার ধারনা খুব ই উঁচু।
তাহলে আমি কেন ছাড়লাম?
আমি এডমিনে ঢুকে দেখসি অনেকেই ভিতরে হতাশ, হতাশ মানে ঢং এর হতাশ না, জেনুইন ডিপ্রেশন... কোনওরকমে টিকে আছে এমন।
কেউ হতাশ নিজের কাজের মূল্যায়ন না পেয়ে, কেউ হতাশ সিস্টেম এর সাথে মানায় নিতে না পেরে। কেউ হতাশ জাস্ট ছাড়তে পারতেসেনা এই কারণে।
এই ব্যাপার টায় আমি কিছুটা ভীত ছিলাম। একটা বই পড়সিলাম “Top 5 regrets of dying”. ঐখানে লেখা ছিল মানুষের মৃত্যুর আগে এক নম্বর রিগ্রেট হইল "I wish I led a life that I wanted, not what society wanted of me".
আমার মনে হইসে এডমিন ক্যাডার এক্স্যাক্টলি তাই। মানুষ চায় আমি এডমিন হই। কারণ আমি এডমিন হইলে সে কিছু সুবিধা (হয়ত) পাবে। কিন্তু এর বিনিময়ে আমার জীবন থেকে যে জিনিসগুলা আমার স্যাক্রিফাইস করা লাগতেসে তা worth it মনে হয়নাই।
আমি চাই আমার কাজ দিয়েই প্রমোশন হোক, আমি চাই অফিস শেসে আমার মেয়েকে সময় দিতে, আমি চাই আমার বাবা মায়ের সাথে থাকতে। আমি চাই আর্থিক অনিশ্চয়তায় না থাকতে।
পাওয়ার প্র্যাকটিস না করেও যেহেতু জীবনের এই পর্যন্ত আমার চলে গেসে বাকিটাও চলে যাবে। আর অনেক ক্ষেত্রেই টাকা থাকলে পাওয়ার রিলেটেড প্রব্লেম (হয়ত) সল্ভ করা সম্ভব। যাদের কে আমি চিনিনা তাদের কাছ থেকে সম্মান না পেলেও চলবে। স্যার ডাক না শুনেও জীবন চলে যাবে।
কিন্তু অনর্থক তেলবাজি করে, হিপোক্রেসি করে, ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক জীবন বিসর্জন দিয়ে সারা লাইফ শেষে যখন দেখব যে চেয়ার যাওয়ার পরে কেউ গুনতেসেনা তখন আফসোস করব হয়ত।
প্লাস আমি ভাগ্যবান যে আমি চাকরিরত অবস্থায় বিসিএস দেওয়াতে নিজের প্রফেশন এ আমি খুব একটা পিছিয়ে যাইনাই। তাই ব্যাক করতে পারসি। একি সাথে আমার ফ্যামিলি ও সাপোর্টিভ।
সবশেষে
আমি কাউকে উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত করার জন্য পোস্ট দেইনি। একান্ত ব্যাক্তিগত ভাবে আমার যা উপলব্ধি সেটা শেয়ার করলাম। ভিন্নমত থাকতেই পারে, আর আমার অভিজ্ঞতা বাকিদের মত হবে তাও না।
আমার কথায় মনে হইতে পারে যারা এডমিন ক্যাডার এ আছে তারা সবাই খুব কষ্টে আছে। বিষয়টা তা না। অনেকেই খুব ভালো আছে। আমার কাছে যেগুলা খারাপ সেগুলা আরেকজনের কাছে হয়ত কোন সমস্যাই ই না।
তবে সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হইল এডমিন এর চাকরী ছাড়া টা একটা ট্যাবু। কোন কারণে ভালো না লাগলে ছাড়া টা খুব কঠিন।
যেহেতু বুয়েটিয়ান দের হাতে সাধারণত একাধিক অপশন থাকে তাই যেদিকেই যাই আরেকটু জেনেশুনে যাওয়ার বেলায় বা সিদ্ধান্ত নেবার বেলায় এই পোস্ট যদি কিছুটা উপকারে আসে তাহলেই সার্থক।''
লেখা: ৪০ তম বিসিএসের একজন সাবেক কর্মকর্তা।
📝 ( বিসিএস নেস্ট অবলম্বনে... )
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Mymensingh
2200
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 22:00 |
| Tuesday | 08:00 - 22:00 |
| Wednesday | 08:00 - 22:00 |
| Thursday | 08:00 - 22:00 |
| Saturday | 08:00 - 22:00 |
| Sunday | 08:00 - 22:00 |