Mim Rasel blog

Mim Rasel blog

Share

23/07/2025

23/07/2025

২১/০৭/২০২৫
গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বার্ণ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের আইসিইউতে ডিউটি তে যাই।আইসিইউ এর নার্সরা আমাকে আইসিইউতে অবস্থানের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা গাউন,সু কভার এবং ক্যাপ দেন। সেগুলো পরার পরেও দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছিলাম না তখন। কিছুক্ষণ পর মনের জোরে ভিতরে ঢুকি।ঢোকার সাথে সাথেই আহত বাচ্চাদের গোঙানির শব্দে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছিলাম না। একজন নার্স আমাকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললেন বসতে।আমি সেই চেয়ার বসতে যাবো ঠিক তখনই একজন ডাক্তার এসে বলেন ১৭ নাম্বার বেডের পেশেন্ট এক্সপায়ারড। আপনি ওনার পরিবারের কাউকে ডাকেন এবং ওনাদের ব‌ইলেন একটা বড় বিছানার চাদরের ব্যবস্থা করতে।আমি উঠে চলে যাই বাইরে এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের একজন দুইজন সদস্য কে ডাক দেই এবং একটা বড় বিছানার চাদর আনতে বলি।ওনারা আমার কথা শুনেই আঁচ করতে পেরেছিলেন যে কি হয়েছে।এরপর ওনারা যখন বিছানার চাদর আমার হাতে দেন আমি সেটা নিয়ে চলে যাই ১৭ নাম্বার বেডের কাছে। আপাদমস্তক ব্যান্ডেজ থাকার কারণে বোঝার উপায় নেই নারী নাকি পুরুষ। কিন্তু বেডের সাইডে নেইমপ্লেট দেখে জানতে পারলাম ইনিই মাইলস্টোন স্কুলের মেহেরীন ম্যাডাম যিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে অনেক শিক্ষার্থীদের সেইফ এক্সিট দিয়েছেন।এরপর নার্সদের সাথে ওনার মৃতদেহ স্ট্রেচার করে টেনে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দিলাম।ভিতরে গিয়ে দাঁড়ানোর পর দেখলাম একটা বাচ্চা প্রচুর পরিমাণে ছটফট করছে আর অস্পষ্ট ভাষায় কি জানি বলতে চাচ্ছে।ডাক্তাররা ওনাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। একজন এসে আমাকে বললেন রোগী এক্সপায়ারড,গার্জিয়ান কে ডাক দেন।আমি উঠে গিয়ে অভিভাবককে ডেকে ডাক্তারের কাছে পাঠাই।এর‌ই মধ্যে অনান্য আহত বাচ্চাদের বাবা মায়েরা বারবার আকুতি করছিলেন একটু হলেও নিজের বাচ্চাটাকে দেখতে। নিয়ম এবং নিরাপত্তার কারণে নিজেকে পাথর বানিয়ে তাদের চোখের জলকে উপেক্ষা করে তাদের কে ভিতরে যেতে দেই নাই। একজন মা বারবার বলছিলেন ভিতরে না যেতে পারলেও গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া পড়তে চান।আমি আর না করি নাই।ওনার বাচ্চা ১১ নাম্বার বেডে ভর্তি ছিলো।কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললেন ১১ নাম্বার বেডের পেশেন্ট এক্সপায়ারড কিন্তু ওনার আম্মু কে ডাইকেন না,আপন বড় ভাই আছে একজন তারে ডাকেন।আমি আর আমার আমাদের ঢাবি নৌ শাখার আরেকজন সিইউও হৃদি ছুটে যাই সেই বড় ভাইকে ডাকতে। কিছুক্ষণ পর ভাই আসেন। ওনাকে আমরা ধরে নিয়ে যাই ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার যখন বললেন আমাদের মাফ করেন তখন সেই ভাইয়ের কান্না সহ্য করার মতো ছিলো না। ডাক্তার নিজেও কান্না করে দিসেন।এরপর আমাদের কাছে শেষবারের মতো নিজের ছোটো ভাইটাকে দেখার ইচ্ছা জানালেন।আমরা ওনাকে ধরে নিয়ে যাই। আগুনে ঝলসানো ছোটো ভাইকে একবার কোলে নিতে চাইসিলেন তিনি। শরীরের একমাত্র পায়ের আঙ্গুল গুলো অক্ষত ছিলো,সেই আঙুলেই বারবার পরম মমতায় চুমু খাচ্ছিলেন।এরপর আরকি,সেই বিছানার চাদর আনানো এবং চাদর পেঁচিয়ে মৃতদেহ বুঝিয়ে দেয়া।একটু বসে পানি খাচ্ছিলাম তখনই একজন নার্স এসে দুইটা বেডের পেশেন্টর বাসার লোক ডাকতে বললেন।কারন জিজ্ঞাসা করলে বললেন দুই জন‌ই মাত্র মা*রা গেছেন।এর‌ই মধ্যে এক বাবা এসে বললেন উপরের তলার আইসিইউতে ওনার ছোটো ছেলেটা কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে,বড় ছেলেটা এখানে ভর্তি। একটু একটা বার শেষ সম্বল সন্তানকে দেখতে চান।কথা বলার সময় উনি বারবার পরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিয়মের বেড়ার কারণে আবারো নিজেকে পাথর বানাতে হয়েছিলো। হাঁফিয়ে উঠেছিলাম চোখের সামনে এক এক করে বাচ্চাগুলোকে ছটফট করে ম*রতে দেখে। ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।মধ্যরাতে ডিউটি শেষ করে যখন নিচে নামছিলাম তখন ১১ নাম্বার বেডের সেই মৃত বাচ্চাটির মা আমার হাত ধরে বলেছিলেন, "আম্মু তুমি তো ছিলা ভিতরে,আমার বাবাটা মারা যাওয়ার সময় কি খুব কষ্ট পাইসিলো?ও কি আমারে ডাকসিলো?"আমার বাবাটারে ডান দিকে কাত করে শোয়াইয়া দিয়ো"
আমি একটা শব্দও মুখ থেকে বের করতে পারি নাই।

যে আমি একটু রক্ত দেখলেই ভয় পাই সেই আমি গতকাল ছোটো ছোটো বাচ্চা গুলোর লাশ ধরেছি।কত বাবা মায়ের আর্তনাদের সামনে নিজেকে পাথর বানিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
এই স্মৃতিরা আমাকে আর ঘুমাতে দিবে না,, সবসময় আমাকে তাড়া করে বেড়াবে।
বাচ্চারা,,তোমরা যেখানেই থাকো,,ভালো থেকো। ঈশ্বর তোমাদের শান্তি প্রদান করুক।
তোমাদের ছুটি হয়ে গেছে,,এবার বাড়ি যাওয়ার পালা............


cp

21/07/2025

মাবুদগো তুমি কোন শ,,ত্রু,কেও সন্তান হারানোর যন্ত্রণা দিও না😭😭

pray for milestone 😭😭

Want your business to be the top-listed Media Company in Mirpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Mirpur