Beneath The Hadith
30/10/2021
বোরকা ও হিজাব কেন পড়বেন?
পর্ব -০১
আপনি হিজাব বা বোরকা পরবেন কেন? ইসলাম ও নারীদের হিজাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাঃ
কুরআন এবং হাদিসের অনেক জায়গায় নারীদের পর্দা (যাকে আমরা বোরকা বলে থাকি) বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে । বোধ করি, এ বিষয়ে আপনার কোনো সন্দেহ নেই। জানি প্রমাণ ছাড়া আমাদের কেউই কোনো কথা সহজে বিশ্বাস করতে চাই না। আর প্রমাণ ছাড়া ইসলাম ও চলে না। তাই আপনার মনের কিছুটা খুনসুটি দূর করার জন্য এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত নিম্নে তুলে তুলে ধরা হলোঃ
আল্লাহ তায়ালা তার আমাদের নবি করিম (সাঃ) কে সম্বোধন করে বলেন-
‘’হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের জিলবাবের (চাদরের) একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।‘’ (সূরা আহযাব : ৫৯)
এখানে জিলবাব অর্থ বোঝানো হয়েছে ,এমন কোনো কিছু যা দ্বারা মুখমণ্ডলসহ পূর্ণদেহকে আবৃত করা যায়। [সূত্রঃআলজামি লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/২৪৩]
এভাবে কুরআন এবং হাদিসের বহু জায়গায় হিজাব বা নারীদের পর্দার কথা বলা হয়েছে। যা আপনি একটু ঘাটাঘাটি করলেই জানতে পারবেন।
চলমান💜
30/10/2021
ইসলাম ও পর্দানশীল নারী💜
ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর পর্দা ফরজ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের পর্দা রক্ষা করা অতীব জরুরি। পর্দা তাদেরকে অনেক নিরাপদ রাখে, মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। পর্দাশীল নারী বাইরে বের হলে তার প্রতি লোকের নজর তেমন পড়ে না। আর যদি পড়েও যায়, তাহলে লোকেরা তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে। ওই নারীকে কোনো রকম মানহানি, অপমান, ইভটিজিং করে না। কিন্তু যেসব নারী পর্দাহীন অবস্থায় চলাফেরা করে তাদের প্রতি সবার দৃষ্টি পড়ে। সহজেই ইভটিজিংয়ের শিকার হয় তারা। কেননা, পর্দাহীন নারী পুরুষকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে। এ সময় শয়তান পুরুষকে নারীর প্রতি অসদাচরণে উৎসাহিত করে। মহানবী সা: বলেছেন, ‘স্ত্রী জাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাইরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে’ (তিরমিজি)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করো, প্রাচীন জাহেলি যুগের নারীদের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না’ (সূরা আজহাব-৩৩)।
আল্লামা ইবনে কাসির রহ: এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘নারীর প্রকৃত অবস্থানক্ষেত্র হচ্ছে তার গৃহ। নারী প্রয়োজন ব্যতীত গৃহের বাইরে যাবে না, বরং গৃহেই অবস্থান করবে’ (তাফসিরে ইবনে কাসির-৬/৪০৮)।
নারীরা অতি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে পারবে কিন্তু পরিপূর্ণ পর্দার সাথে। এ সময় কোনোরূপ বাড়তি সৌন্দর্য প্রদর্শন করা যাবে না। যতটুকু প্রকাশ না করলেই নয় ততটুকুই প্রকাশ করতে হবে। বাড়তি সৌন্দর্য প্রদর্শন তার ইহকাল-পরকাল দু’কালের জন্যই ক্ষতিকর। আল্লাহ বলেছেন, ‘(হে নবী) মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তবে যা সাধারণত (অনিচ্ছা সত্ত্বেও) প্রকাশিত হয়ে যায় তা ভিন্ন। তারা যেন ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষকে আবৃত রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকাধীন দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্য কারোর কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। আর তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো যাতে তোমরা সফল হতে পারো’ (সূরা নূর-৩১)।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘যখন তোমরা তাদের কাছে কিছু চাইবে তখন পর্দার আড়ালে থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ’ (সূরা আজহাব-৫৩)।
পর্দা নারীর জন্য ফরজ। পর্দাশীল নারী সম্মানের পাত্রী। সর্বোপরি, পর্দা নারীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। পক্ষান্তরে, পর্দাহীন নারী সবার চোখে খারাপ, অসম্মানের পাত্রী। পর্দাহীন নারী সবার কাছেই নিকৃষ্ট ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা: বলেছেন, ‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা যারা পর্দাহীনভাবে চলাফেরা করে।’
মহানবী সা: পর্দাহীন নারীদের ওপর লানত করেছেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেছেন, ‘মহানবী সা: লানত দিয়েছেন সেসব নারীদের যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে। অর্থাৎ পর্দাহীনভাবে চলাফেরা করে’ (আবু দাউদ-৪০৯৭)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- হজরত আলী রা: বর্ণনা করেন, একদা তিনি মহানবী সা:-এর কাছে ছিলেন। তখন নবী সা: সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, ‘মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি? তারা চুপ হয়ে গেলেন (কেউ বলতে পারলেন না)। অতঃপর আমি ফিরে এসে ফাতিমার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘কোনো পরপুরুষ তাকে দেখবে না (অর্থাৎ নারী পর্দাবৃত থাকবে)। তারপর আমি এ বিষয়টি মহানবী সা:-এর কাছে উল্লেখ করলাম।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই ফাতিমা আমার অংশ, সে সত্য বলেছে’ (মুসনাদুল বাজজার-৫২৬)।
হাদিসেও পর্দার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহানবী সা: বলেছেন, ‘নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়’ (তিরমিজি-১১৭৩)।
পর্দা যেহেতু ফরজ সেহেতু অবশ্যই পালন করতে হবে। কোনোভাবেই এ আদেশ অমান্য করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসূল সা: কোনো বিষয়ের নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয় অমান্য করার কোনো অধিকার থাকে না। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলকে অমান্য করে সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট’ (সূরা আজহাব-৩৬)।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ পর্দানশীনদের ভালোবাসেন। আর কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন’ (সূরা হুজরাত-১৩)। সুতরাং, ইসলামে পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো অবস্থাতেই পর্দা অমান্য করা যাবে না। পর্দা নারীকে পবিত্র রাখে, সচ্চরিত্রবান করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে’ (সূরা আজহাব-৩৩)। পর্দা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কুরআন-হাদিস পড়লেই বোঝা যায়। তাই কোনো অবস্থাতেই পর্দার আদেশ অমান্য করা যাবে না। প্রত্যেক নারীর উচিত অবশ্যই পর্দা করা, অর্থাৎ পর্দাশীল থাকা। পাশাপাশি তাদের পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে পর্দাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করা।
লেখক : সিনিয়র স্টাফ নার্স, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Al Amin Road, Amtola, 60 Feet
Mirpur
1216
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 21:00 |
| Tuesday | 09:00 - 20:00 |
| Wednesday | 09:00 - 20:00 |
| Thursday | 09:00 - 20:00 |
| Saturday | 09:00 - 20:00 |
| Sunday | 09:00 - 20:00 |