MPL
05/11/2023
পোস্ট নম্বর ৩০
কিভাবে শিরক থেকে মুক্ত হবো?
কিভাবে মুসলিমিন দলভুক্ত হবো ?
আমার কাজ কি হবে?
শিরক থেকে মুক্ত হবার উপায় :
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
লোকেরা প্রশ্ন করে, আমি কিভাবে শিরক মুক্ত হব? জবাবে বলতে চাই, আল কোরআন আল্লাহর হুকুম । আল্লাহর হুকুম, আল কুরআনের কোন শরিক নাই। তাই কুরআনের পাশে রচিত কোন হাদিস, ফিকাহ,তাফসির, ইজমা, কিয়াস,ফাজায়েল,মাসায়েল,কোন রূপ কোন ফতোয়া রচনা করা বা তা বিশ্বাস করা বা ঐরূপ কিছু মেনে আল কুরআনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াই শিরক। শিরক থেকে মুক্ত থেকে,আল কোরআন পর্যায়ক্রমে যথাযথভাবে মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর দাসত্ব করে মুসলিম হতে হয়।
আল্লাহর দাসত্বে কোন শরিক নাই।
তাই আল্লাহর রচিত কোরআন ব্যতীত, অন্যের কোন রচনা মেনে চললে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের দাসত্ব করা হয়। এমনকি নবীর দাসত্ব করলেও তা শিরক বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য যে বঙ্গবন্ধু, শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিধানকৃত কালো কোটি, বা জিন্না সাহেবের লম্বা টুপি, এরূপ কোন কিছুকে ভালোবেসে একজন তা পরিধান করতেই পারেন, তাতে দোষের কিছু নাই। কিন্তু যখন কারো এমন ব্যক্তিগত কোন বিষয়কে, কেউ ধর্মের বিধান হিসাবে বিশ্বাস করবে,পাপ পুণ্যের কারণ বলে গ্রহণ করবে, তাহলেই তা শিরক বলে গণ্য হবে, যদি তা কোন নবী রাসূলের করণীয় বিষয়ও হয়ে থাকে। কারণ নবী রাসুলগণ তো কোন সুন্নত দাতা বা বিধাতা নয়, বিধাতা কেবল আল্লাহ আর পরিপূর্ণ বিধান হল আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব আল কোরআন।
অপরদিকে যে বা যারা এরূপ শিরকে লিপ্ত রয়েছে, তাদেরকে ধর্মীয় নেতা বলে বিশ্বাস করে মেনে চললে অথবা এমন নেতা বা ইমামের ইত্তেবা বা অনুসরণ করলে, এমন ক্ষেত্রে ইমামের সাথে তার অনুসারীও একজন মুশরিক বলে গণ্য হবে এবং তারা সকলে একই সাথে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই সংক্ষেপে বলতে চাই, আপনাকে শিরক মুক্ত হতে হলে :
১। ধর্মের দলিল হিসাবে তথা হাদিস, তাফসীর, মাসলা, মাসায়েল বা কোন ফতোয়ার দলিল হিসাবে কেবল আল্লাহর রচিত, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব একমাত্র আল কোরানকেই গ্রহণ করতে হবে, আর মানব রচিত অন্য সবকিছুই বিধান হিসাবে বর্জন করতে হবে।
২। বিশ্বাসের জায়গাতে মুশরিকদের ধর্মীয় ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
৩। মসজিদ, মন্দির, গির্জা এমনকি কাবাগৃহ তা যাহাই হোক না কেন, কোথাও কোন মুশরিকের পিছে এত্তেবা বা অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪। কোন উপাসনালয় বা ইবাদত গৃহে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেদের ইবাদত নামাজ বা ছলাহ করার সুযোগ থাকলে সেখানে নিজেদের ইমামতি বা নিজের নেতৃত্বে ইবাদত করা যাবে। আর যদি বিরোধ বা বিশৃংখলার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ইবাদত গৃহ বর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এরূপ অবস্থায় স্বয়ং মোহাম্মদ(স:)কেও কাবা গৃহের মতন উপাসনালয়ে গমন করা থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল। তবুও তিনি মুশরিকদেরকে মেনে নেন নাই।
৫। ইবাদত বা আল্লাহর দাসত্ব করার ক্ষেত্রে নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। খেয়াল-খুশি থেকে বিরত থেকে, বেদ তন্ত্র বাইবেল তন্ত্র বুখারী তন্ত্র, গণতন্ত্র ধন-তন্ত্র রাজতন্ত্র একনায়ক তন্ত্র সমাজতন্ত্র, যত সমস্ত তন্ত্র-মন্ত্র আছে, সমস্ত কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত তন্ত্র ''ইসলাম' তথা আল কুরআন কে আঁকড়ে ধরতে হবে ।
উপরোক্ত বিষয়গুলি বিশ্বাসের সাথে মেনে চলার ঘোষণা দিয়ে, অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে, শিরক থেকে মুক্ত হওয়া যায়। ইহাই "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। নাই কোন বিধাতা আল্লাহ ছাড়া। ইহাই কালেমার সাক্ষ্য।
(শিরক সম্পর্কে রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে পোস্ট নম্বর ২ দেখুন।)
মুসলিম হয়ে মুসলিমীন দলে অন্তর্ভুক্ত হবার উপায় :
লোকেরা প্রশ্ন করে, আমি কিভাবে মুসলিমিন দলে যোগ দিব? এমন ক্ষেত্রে বলতে চাই, "মুসলিমীন" দল, আল্লাহর মনোনীত দল। এ দলের নামকরণ করেছেন আল্লাহ স্বয়ং নিজে। আদম (আ:) থেকে শুরু করে মোহাম্মদ (স:) পর্যন্ত সমস্ত নবী রাসুলগণ, তাদের দলের এই একই নাম ছিল " মুসলিমীন।" এক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় যে,
দ্বীনের নাম ইসলাম,তা মনোনীত আল্লাহর। এ দ্বীনের সংবিধান আল কোরআন, রচিত আল্লাহর, নামকরণ আল্লাহর । এ দ্বীনের মনোনীত দল "মুসলিমীন", নামকরণ আল্লাহর। এ দলের ইমাম "ওবায়দুল্লাহ ইবনে সিরাজ" মনোনীত আল্লাহর।
আল্লাহর মনোনীত এই মুসলিমীন দলে যোগ দিতে হলে বা আপনাকে মুসলিমিন দলের একজন মুসলিম হিসাবে গণ্য হতে হলে, প্রথমত যা করতে হবে তা এই যে,
আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে, মহান আল্লাহর অদৃশ্য কুদরতি হাতের নিচে হাত রেখে, মুসলিমিন দলের ছায়া তলে হাত তুলে অঙ্গীকার ঘোষণা করে বলতে হবে যে,
১। আল্লাহর সাথে কখনো শরীক করবো না। বিধান হিসাবে আল কুরআন ব্যতীত আর কিছুই বিশ্বাস করব না। কোন মুশরিকের পিছে ইত্তেবা তথা অনুসরণ করবো না।
২। চুরি করবো না, ব্যাভিচার করব না।
৩। অন্যায় ভাবে কাউকেই হত্যা করব না।
৪। কারো বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা বা কাউকে অপমান করবো না।
৫। সৎকাজে মুসলিমীন দলের অমান্য করবো না।
৬। পিতা মাতার সাথে অসৎ আচরণ করব না, সর্বদায় সদাচরণ করব।
৭। প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অশ্লীল কাজের নিকটে যাবো না।
৮। ইয়াতিম এর সম্পদ আত্মসাৎ করব না।
৯। ওজনে কম দিব না।
১০। কারো সাধ্যের বাইরে দায়িত্বভার অর্পণ করবো না।
১১। আপন জনের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায্য কথা বলব।
১২। বিশ্বাস করব মুসলিমীন দলের ইমাম "ওবায়দুল্লাহ ইবনে সিরাজ" আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত,বিশেষভাবে জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহর বিধান আল কুরআন অনুযায়ী ইমামকে অনুসরণ করব।
আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে, উল্লেখিত সৎকর্ম সমূহ পালন করার অঙ্গীকার ঘোষণার মাধ্যমে মুসলিমিন দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। ইহাই অঙ্গীকারনামা তথা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়াত।
প্রাথমিকভাবে করনীয় কাজ সমূহ :
লোকেরা প্রশ্ন করে, শিরক কি তা জেনে বুঝে বিশ্বাস করলাম আর শিরক থেকে মুক্ত হলাম । অতঃপর অঙ্গীকার ঘোষণার মাধ্যমে মুসলিমীন দলের একজন মুসলিম হলাম। এমত অবস্থায় আমার কাজ কি?
এমন ক্ষেত্রে বলতে চাই, মুসলিমিন দলের একজন মুসলিম হিসাবে সর্বপ্রথমে আপনার কাজ হল, অঙ্গীকারকৃত বিষয়গুলোর প্রতি সজাগ থেকে, দলের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব আল কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা। এ লক্ষ্যে মাতৃভাষায় জেনে বুঝে আল কুরআন নিয়মিত ভাবে অধ্যায়ন করা। কোথাও বুঝতে অসুবিধা হলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, দলের কোন মুসলিম সদস্য বা ইমামের শরণাপন্ন হওয়া। প্রাথমিকভাবে মুসলিম হবার পর, জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে আল কোরআন অধ্যায়ন এর,এ কাজ আপনি চালিয়ে যাবেন।
বিশেষ করে নিজের ভূমিকাটা এমন হতে হবে যে, আমার আনুগত্য আমার দ্বিন-দারিত্ব, আল্লাহ ও আল্লাহর মনোনীত মুসলিমিন দলের প্রতি সর্বদাই হবে আন্তরিকতা পূর্ণ। বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে এরূপ হবে যে, আমার সময়,আমার শ্রম,আমার সম্পদ,আমার জীবন, আমার মরণ সবই আল্লাহর জন্য।
বিশেষ দ্রষ্টব্য এই যে, একজন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে একজন কামলা-কিষান পর্যন্ত, অথবা একজন বাদশা থেকে শুরু করে একজন ফকির পর্যন্ত, একজন হিন্দু বৌদ্ধ ইহুদী-খ্রিস্টান, সিয়া বা সুন্নি মুসলমান, মুচি বা মেথর যেই হোক না কেন, তিনি নারী হোক কিংবা পুরুষ হোক, যে কেউ চাইলে তিনি শিরক মুক্ত মুসলিমীন দলের একজন মুসলিম হতে পারবেন। যদি তিনি দ্বিন গ্রহণ করে মুসলিম হওয়াতে তার অবস্থান পরিবর্তন করেন তবে তা ভালো। আর যদি,
" কাউকে শিরক করতে বাধ্য করা হয়, অথচ তার অন্তর রয়েছে সত্যের প্রতি অবিচল, এমন ক্ষেত্রে আল্লাহ ক্ষমাশীল ,"
কেবলমাত্র এই বিশেষ কারণে, যদি তিনি নিজেকে নিজ অবস্থান থেকে পরিবর্তন করতে না পারেন, তবুও বিশ্বাস আর আন্তরিকতার কারণে তিনি মুসলিমিন দলের একজন মুসলিম বলেই গণ্য হবেন।
আল্লাহ তোমাদের ধন- সম্পদ, ধনী-দরিদ্র, বাদশাহ-ফকির দেখেন না । তিনি দেখেন তোমাদের তাকওয়া তথা আল্লাহ ভীতি, বুদ্ধি- বিবেক, আন্তরিকতা ও কাজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দান করেন। তবে তাকেই তিনি হেদায়েত দান করেন, যে আল্লাহর অভিমুখী হয়। নিশ্চয় আল্লাহ সত্য প্রত্যাখ্যানকারী- অকৃতজ্ঞ, পাপীকে হেদায়েত দান করেন না। যখনই কোন সংবাদ বাহক, এমন বিষয় নিয়ে আগমন করেছেন, যা পথভ্রষ্টদের পছন্দ নয়, তখনই তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কতককে মিথ্যুক বলেছে এবং কতককে হত্যা করেছে। তারা বলে যে আন্তরিকভাবেই আমরা সত্য পথে রয়েছি। বরং সত্য প্রত্যাখ্যান করার কারণে আল্লাহ তাদের উপর লান্নৎ করেছেন। তবে অল্প সংখ্যক লোকই এই উপদেশ গ্রহণ করবে।
যারা মনোযোগের সাথে কথা শুনে, অতঃপর সত্যের অনুসরণ করে আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করেন আর তারাই জ্ঞানীগুনি তথা বোধশক্তি সম্পন্ন।
হে আল্লাহ তুমি সকলকে সত্য বুঝার তৌফিক দাও লোকদেরকে ক্ষমা করো তাদেরকে হেদায়েতের ছায়াতলে আশ্রয় দাও। সাহায্য করো তোমার সার্বভৌম তথা বিজয়ী শক্তি দ্বারা।
হেদায়েতুল্লাহ ওবায়দুল্লাহ ইবনে সিরাজ,
ইমাম,
মুসলিমিন (মিল্লাতে আবি কুম ইব্রাহিম), কুষ্টিয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ ।
01/05/2022
Eid Mubarak
Welcome to MPL
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
মথুরাপুর, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
Kushtia