Mohammad Bitullah
Raining In Field
09/08/2025
মায়াগঞ্জ স্টেশনের শেষ ট্রেন
শীতের রাত। ট্রেনটা হঠাৎ বিকট শব্দ করে থেমে গেল। কামরার ভেতর যাত্রীদের মধ্যে একটা চাপা গুঞ্জন শুরু হলো। আমি তুষার, একজন ফটোগ্রাফার। কাজের জন্য যাচ্ছিলাম উত্তরের এক শহরে। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলাম, ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে একটা আবছা আলোর বিন্দু ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
কিছুক্ষণ পর গার্ড এসে জানালেন, ইঞ্জিনে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঠিক হতে সকাল হয়ে যাবে। যাত্রীদের হয় ট্রেনের ভেতর অপেক্ষা করতে হবে, অথবা কাছাকাছি কোনো গ্রামে আশ্রয় নিতে হবে।
আমার বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। ক্যামেরাটা কাঁধে ঝুলিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম। শুনলাম, কাছেই নাকি একটা পুরনো স্টেশন আছে, নাম ‘মায়াগঞ্জ’। ভাবলাম, জায়গাটা একবার ঘুরে আসা যাক। হয়তো ভালো কোনো ছবিও পেয়ে যেতে পারি।
স্টেশনটা আসলেই অদ্ভুত। ব্রিটিশ আমলে তৈরি, লাল ইটের গাঁথুনি ক্ষয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মের ওপর বড় বড় গাছপালা জন্মেছে, তাদের শিকড়গুলো ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। চারদিকে একটা ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। শুধু আমার জুতোর শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই।
হঠাৎ চোখ পড়ল স্টেশন মাস্টারের ঘরের দিকে। অবাক হয়ে দেখলাম, ঘরের ভেতর একটা হারিকেন জ্বলছে। কাঁচের জানালার ভেতর দিয়ে দেখলাম, একজন বয়স্ক লোক পুরনো আমলের ইউনিফর্ম পরে একটা মোটা খাতার ওপর ঝুঁকে কী যেন লিখছেন।
আমি একটু অবাক হলাম। এত পুরনো, ভাঙাচোরা একটা স্টেশনে এখনও লোক আছে! আমি দরজায় হালকা টোকা দিলাম।
"ভেতরে আসুন," একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।
আমি ভেতরে ঢুকলাম। ঘরটা ঠিক যেমনটা বাইরে থেকে মনে হয়েছিল, তেমনই পুরনো। দেয়ালে পুরনো দিনের ট্রেনের ছবি। ভদ্রলোকের টেবিলে একটা পিতলের ঘণ্টা আর সেই হারিকেনটা রাখা।
"আমি পাশের ট্রেনের যাত্রী। ট্রেনটা খারাপ হয়ে গেছে," আমি বললাম। "জানতে চাইছিলাম, এখান থেকে অন্য কোনো ট্রেন পাওয়া যাবে কি?"
ভদ্রলোক আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, "রাতের গাড়ি তো সময়মতোই আসে। একটু অপেক্ষা করুন, চলে আসবে।" তার কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন খনখনে, অস্বাভাবিক রকমের শান্ত।
আমি প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু কোনো ট্রেনের শব্দ নেই। চারদিক আগের মতোই নিঝুম। আমি আবার স্টেশন মাস্টারের ঘরের দিকে তাকালাম। কিন্তু এবার ভেতরটা অন্ধকার। কোনো হারিকেন নেই, কোনো মানুষও নেই।
আমার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। দৌড়ে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়ালাম। ঘরের ভেতরে পুরু ধুলোর আস্তরণ আর মাকড়সার জাল। টেবিলটা ভাঙা, চেয়ারটা উল্টে পড়ে আছে। মনে হচ্ছে, বহু বছর এখানে কেউ ঢোকেনি।
ঠিক তখনই আমি হুইসেলের শব্দটা শুনলাম। অনেক দূর থেকে একটা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের হুইসেল ভেসে আসছে। লাইনের ওপর দুটো আবছা আলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো, ট্রেনের কোনো শব্দ নেই, শুধু হুইসেলটাই শোনা যাচ্ছে।
আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। বুঝতে পারলাম, এটা কোনো সাধারণ ট্রেন নয়। আমি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালাম না। নিজের ভাঙা ট্রেনের দিকে দৌড় দিলাম। পেছনে সেই ভূতুড়ে ট্রেনের হুইসেলটা ক্রমশ এগিয়ে আসছিল।
ট্রেনে উঠে নিজের সিটে বসে হাঁপাতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরই দেখলাম, একটা পুরনো বাষ্পীয় ইঞ্জিন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে নিঃশব্দে চলে গেল। তার কামরাগুলো ছিল অন্ধকার আর যাত্রীশূন্য।
পরদিন সকালে আমাদের ট্রেনটা যখন ছাড়ল, আমি নতুন গার্ডকে মায়াগঞ্জ স্টেশনটার কথা জিজ্ঞেস করলাম।
গার্ড একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "ওটা তো অভিশপ্ত স্টেশন ভাই। পঞ্চাশ বছর আগে এক শীতের রাতে ওখানে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। রাতের ট্রেনটা লাইনচ্যুত হয়ে সবাই মারা যায়। স্টেশন মাস্টার হরিপদ বাবুও ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্ল্যাটফর্মেই মারা যান। লোকে বলে, হরিপদ বাবুর আত্মা এখনও প্রতি রাতে তার শেষ ট্রেনটার জন্য অপেক্ষা করে।"
আমার শরীরটা কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে গেল। বাড়ি ফিরে ক্যামেরার ছবিগুলো দেখছিলাম। মায়াগঞ্জ স্টেশনের সবগুলো ছবিই অন্ধকার আর ভুতুড়ে এসেছে। শুধু একটা ছবি ছাড়া।
শেষ ছবিটায় দেখা যাচ্ছে, স্টেশন মাস্টারের ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে একজন বয়স্ক লোক ইউনিফর্ম পরে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, কিন্তু চোখ দুটো যেন বহু বছর ধরে কারো জন্য অপেক্ষা করে আছে।
30/07/2025
কাঁকরোলের যত গুণ! 🌿
মোহাম্মদ বাইতুল্লাহ:
কাঁকরোল, গ্রীষ্মকালীন এই সবজিটি শুধু স্বাদে অনন্য নয়, এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অসাধারণ। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ছোট সবজিটি আপনার সুস্থ জীবনের এক দারুণ সঙ্গী হতে পারে। চলুন, কাঁকরোলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জেনে নেওয়া যাক:
কাঁকরোলের উপকারিতা:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কাঁকরোলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: এতে থাকা ফাইবার এবং নির্দিষ্ট কিছু যৌগ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে।
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি: ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় কাঁকরোল চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: কাঁকরোলে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে: এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন, ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত হওয়ায় কাঁকরোল ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য: ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সতেজ রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কাঁকরোল খাওয়ার নিয়ম:
কাঁকরোল বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। এটি তরকারি, ভাজি, ভর্তা অথবা সালাদেও ব্যবহার করা যায়।
কাঁকরোল ভাজি: স্লাইস করে কেটে তেল ও মসলায় ভেজে খেতে পারেন।
কাঁকরোলের তরকারি: মাছ বা মাংসের সাথে তরকারিতে কাঁকরোল ব্যবহার করতে পারেন।
কাঁকরোলের ভর্তা: সেদ্ধ করে বা ভেজে ভর্তা তৈরি করতে পারেন, যা গরম ভাতের সাথে খেতে দারুণ লাগে।
সালাদ: কাঁচা কাঁকরোল পাতলা করে কেটে সালাদের সাথে মিশিয়েও খাওয়া যায়।
কিছু টিপস:
টাটকা এবং কচি কাঁকরোল বেছে নিন।
রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।
কাঁকরোলকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এর পুষ্টিগুণ থেকে উপকৃত হন। এটি আপনার সুস্থ জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
#কাঁকরোল #পুষ্টিগুণ #স্বাস্থ্য #উপকারিতা #সবজি #মোহাম্মদবাইতুল্লাহ
আপনি কিভাবে কাঁকরোল খেতে পছন্দ করেন? কমেন্টে আমাদের জানান! 👇
29/07/2025
নিমের যত গুণ! 🌿
------------------------মোহাম্মদ বাইতুল্লাহ:
নিম, প্রকৃতির এক অনন্য উপহার, যার গুণাবলী বলে শেষ করা কঠিন! প্রাচীনকাল থেকেই এর ঔষধি গুণের জন্য এটি সারা বিশ্বে সুপরিচিত। চলুন, নিমের কিছু অসাধারণ উপকারিতা ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে জেনে নিই:
নিমের গুণাবলী:
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল: নিমে থাকা শক্তিশালী যৌগগুলো ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি: এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা ত্বকের সমস্যা এবং ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: নিম ফ্রি র্যাডিকেলস থেকে কোষকে রক্ষা করে, ফলে ত্বকের বার্ধক্য দেরিতে আসে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
রক্ত পরিষ্কারক: নিয়মিত নিম সেবনে রক্ত বিশুদ্ধ হয়, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
নিমের উপকারিতা:
ত্বকের যত্নে: ব্রণ, ফুসকুড়ি, একজিমা, সোরিয়াসিস এবং অন্যান্য চর্মরোগ সারাতে নিম অতুলনীয়। এর অ্যান্টিসেপটিক গুণ ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখে।
চুলের যত্নে: খুশকি, চুল পড়া এবং মাথার ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে নিম ব্যবহার করা হয়। এটি চুলকে ঝলমলে ও মজবুত করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: নিমের রস বা পাতার গুড়ো নিয়মিত সেবন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
কৃমিনাশক: পেটের কৃমি দূর করতে নিম কার্যকরী।
মশা তাড়াতে: নিমের তেল প্রাকৃতিক মশা তাড়ানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যবহার বিধি:
ত্বকের জন্য:
ব্রণ ও ফুসকুড়ি: টাটকা নিমের পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করে সরাসরি ব্রণের ওপর লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
গোসলে: নিমের পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন। এটি ত্বকের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করবে।
চুলের জন্য:
খুশকি: নিমের তেল মাথার ত্বকে মালিশ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। অথবা নিমের পাতা বেটে নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায়:
রক্ত পরিষ্কারক: সকালে খালি পেটে ৪-৫টি কাঁচা নিমের পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। তবে তেতো লাগলে বা কারো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিস: নিমের কচি ডাল বা পাতা রস করে খেতে পারেন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
সতর্কতা: গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাদের কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ আছে, তারা নিম সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। অতিরিক্ত পরিমাণে নিম সেবন কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রকৃতির এই অসাধারণ উপহারকে আপনার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগিয়ে সুস্থ থাকুন!
#নিম #উপকারিতা #স্বাস্থ্য #ত্বকেরযত্ন #প্রাকৃতিক #মোহাম্মদবাইতুল্লাহ
আপনার কি নিমের কোনো বিশেষ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে? কমেন্টে আমাদের জানান! 👇
05/06/2025
হাসির গল্প: আজব সমস্যা
আমাদের পাড়ার রফিকের ভাই, নাম তার আব্দুল সাহেব, খুবই শান্তশিষ্ট আর সহজ-সরল একজন মানুষ। তার জীবনে বড় কোনো ঝামেলা নেই, তাই তিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়েও খুব চিন্তাভাবনা করেন।
একদিন আব্দুল সাহেব বাজার থেকে একজোড়া নতুন জুতো কিনলেন। জুতো জোড়া দেখতে দারুণ, কিন্তু সাইজে একটু ছোট। আব্দুল সাহেব ভাবলেন, "ধুর বাবা! নতুন জুতো, একটু আটোসাটো হবেই। পরতে পরতে ঠিক হয়ে যাবে।"
সেদিন সন্ধ্যাবেলা তিনি জুতো পরে একটু হাঁটতে বের হলেন। পাঁচ মিনিট যেতে না যেতেই তার পায়ের অবস্থা কাহিল! জুতো এত টাইট যে পা লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। তিনি কোনোমতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাড়িতে ফিরলেন।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আব্দুল সাহেব দেখেন, তার পা দুটো এমন ফুলেছে যে জুতো পরা তো দূরের কথা, ঘরে থাকা স্লিপারও ঢোকে না! তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। কী করা যায়? এই জুতো নিয়ে তো আর বাজারে গিয়ে ফেরতও দিতে পারবেন না, কারণ দোকানের মালিক এমন পাজি যে একবার জিনিস নিলে আর ফেরত নেয় না।
তিনি তখন বুদ্ধি খাটাতে লাগলেন। হঠাৎ তার মাথায় এক মহা বুদ্ধি এলো। "আরে! জুতো ছোট হলে কী হবে? পা'টা যদি ছোট করে ফেলি, তাহলে তো জুতো ঠিক ফিট হবে!"
যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। তিনি পাশের বাড়ির কদম আলীর কাছে গেলেন। কদম আলী একজন গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার, সব রোগের চিকিৎসা সে নিজেই করে। আব্দুল সাহেব তাকে বললেন, "কদম আলী ভাই, আমার পা ছোট করার কোনো ওষুধ আছে?"
কদম আলী তো শুনে হতবাক! সে বলল, "আব্দুল ভাই, পা ছোট করার ওষুধ! এ কেমন কথা?"
আব্দুল সাহেব তখন তাকে সব খুলে বললেন। জুতো ছোট, পা ফুলে গেছে, তাই পা ছোট করতে চান। কদম আলী কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে ভাবল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, "আহা! এই তো সামান্য ব্যাপার। আমার কাছে একটা অব্যর্থ টোটকা আছে। তুমি এক বালতি গরম জলে নিম পাতা আর লবণ মিশিয়ে তাতে তোমার পা ডুবিয়ে রাখো। টানা তিন ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখবে। দেখবে, পা একদম চিকন হয়ে যাবে।"
আব্দুল সাহেব কদম আলীর কথা মতো পরদিন থেকেই চিকিৎসা শুরু করলেন। প্রতিদিন সকালে এক বালতি গরম জলে নিম পাতা আর লবণ মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে বসে থাকেন। প্রথম দিন পা আরও ফুলে গেল, দ্বিতীয় দিন ব্যথা বাড়ল, তৃতীয় দিন পা'টা একদম লাল টকটকে।
বাড়ির সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করে, "কী হয়েছে আব্দুল সাহেব? এত নিম পাতা আর লবণ দিয়ে কী করছেন?"
আব্দুল সাহেব হাসিমুখে উত্তর দেন, "আরে বাবা, পা ছোট করছি! নতুন জুতো তো!"
কয়েকদিন এভাবে চিকিৎসা করার পর, আব্দুল সাহেবের পা এতটাই ব্যথা করতে শুরু করল যে তিনি আর হাঁটতেই পারলেন না। শেষে তার স্ত্রী বিরক্ত হয়ে তাকে টেনে নিয়ে আসল ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার সাহেব পরীক্ষা করে হাসতে হাসতে বললেন, "আব্দুল সাহেব, আপনার তো জুতোর সাইজ ছোট ছিল, পা নয়। আর আপনার পা ফুলেছে কারণ জুতো টাইট ছিল, এখন আপনি গরম জলে পা ডুবিয়ে ডুবিয়ে আরও ফোলাচ্ছেন!"
আব্দুল সাহেব তখন বুঝলেন, তিনি আসলে জুতো ছোট করার বদলে নিজের পা'কেই ছোট করার চেষ্টা করছিলেন! জুতো জোড়া শেষ পর্যন্ত তার ছোট ভাইয়ের হলো, আর আব্দুল সাহেবের জ্ঞান বাড়লো যে, সব সমস্যার সমাধান উল্টো পথে হয় না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Address
Dhaka
Kishoreganj
2300