Freelancer Rokon
বনের মাঝে পশু-পাখীদের ভেতর কথা
চলছেঃ
১।বাঘ পিঁপড়াকে উদ্দেশ্য করেঃ "তুই
এতো ছোট
জীব হয়েও তোর ওজনের কয়েক গুন বেশি
ভারি
জিনিস নিস কি করে?
পিঁপড়াঃ "প্রথমে অল্প একটু নিতাম, এরপর
আরেকটু
বেশি, এরপর একগুণ বেশি, এরপর দুই গুন..এভাবে
বেশি বেশি নেওয়ার চেষ্টা করতে
করতে এটা
এখন অভ্যাস হয়ে গেছে"!
২।সাপ বাঘকে উদ্দেশ্য করেঃ "বাঘ
মামা, আমার
একটা জিনিস অবাক লাগে। বনের হরিণ
খুব দ্রুত
দৌড়াই, আবার বুনো ষাঁড়ও খুব দ্রুত দৌড়াই-
তাহলে তুমি ওদের ধর কি করে?"
বাঘঃ "আমার যখন ক্ষুধা লাগে কেবল
তখনই আমি
শিকার করতে যাই, আর যেহেতু আমি
ক্ষুধার্ত
তাই আমার এটা দেখার দরকার নেই যে
ওরা কত
জোরে দৌড়াই , বরং আমি ভাবি- যেহেতু
আমি
ক্ষুধার্ত তাই আমি ওদের ধরেই ছাড়বো"!
৩।শিয়াল হাতীকে উদ্দেশ্য করেঃ
"কিন্তু আমার
অবাক লাগে হাতির ব্যাপারে। অতো বড়
শরীর
নিয়ে তুমি কিভাবে চল, আর ওই লম্বা শুঁড়
দিয়ে
কি করেই বা তুমি বড় বড় গাছ উপড়ে ফেল?
হাতিঃ "বড় শরীর বলেই তো গায়ে এতো
জোর,
আর যেহেতু আমি জানি আমার গায়ে
জোর আছে
তাই আমি আত্মবিশ্বাসী হয়েই বড় বড় গাছ
উপড়ে
ফেলি, কারন আমি জানি আমি পারবো"!
৪।হাতি জলহস্তীকে উদ্দেশ্য করেঃ
"এবারে
তোমার খবর বল; সারাদিন পচা পানির
ভেতর
পড়ে থাকো। কি মজা পাও?
জলহস্তীঃ "অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু
যদি প্রথম
থেকেই অভ্যাস করতাম ডাঙাই থাকার
তাহলে
হয়তো পানিতে যেয়ে বসে থাকতাম না"!
কথাগুলো যখন চলছে ঠিক এমন সময় বনের
ভেতর
একজন শিক্ষিত বেকার যুবক কাঠ
কাটছিল। বনের
পশুপাখিরা এবারে সেই মানুষটির কাছে
জানতে
চাইলোঃ "কিন্তু আপনাদের তো শক্তি-
জ্ঞান-বুদ
্ধি- সবই আছে। তাহলে আপনারা কেন
পিছিয়ে
থাকেন?"
মানুষঃ "কারন আমাদের জলহস্তীর মতো
কিছু না
করার অভ্যাস হয়ে গেছে তাই আমরা
পারি না।
আমরা জানি আমাদের হাতির মতো
শক্তি
কিন্তু হাতির মতো আত্মবিশ্বাস নেই-
তাই কিছু
করে দেখানো সম্ভব হয় না। আমরা বাঘের
মতোই
ক্ষুধার্ত সফল হতে কিন্তু আমরা শুধু
তাকিয়ে
দেখি অন্যের দৌড়ের গতি, তাই আমরা
না পারি
নিজেরা কিছু করতে, আর না পারি
তাদের দৌড়ে
ধরতে। আমরা পিঁপড়ার মতোই কর্মঠ কিন্তু
আমরা
চেষ্টা করি না একটু বেশি কিছু করতে।
আমরা
শিক্ষিত তরুণেরা কোনো কাজ করার
আগে ভাবি
যে, এই কাজ করলে লোকে কী বলবে!
সবসময়
''পাছে লোকে কিছু বলে''-সেই ভয়ে তটস্থ
থাকি।
এজন্যই বনে এসে মানুষের অগোচরে
পরিশ্রম
করছি
যেন ভাগ্যটা বদলাতে পারি।
সব শুনে পশুপাখিরা বলল, একটা কথা বলব
কিছু
মনে করবেন না। আপনি আসলে পড়াশোনা
করে
ডিগ্রী অর্জন করেছেন, সুশিক্ষায়
শিক্ষিত হতে
পারেন নি; অর্জন করেছেন কুশিক্ষা। যদি
সুশিক্ষা অর্জন করতেন তবে লোকালয়ে
পরিশ্রম
করতে লজ্জাবোধ করতেন না।
আমাদের পশুপাখিদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি-
শিক্ষা
না থাকলেও আমরা কেন পারি জানেন?
কারণ
আমরা কে কি বলল বা আমাদের নিয়ে কি
ভাবল
সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না।
দুজন পার্কের একটি বেঞ্চেপাশাপাশি বসে
আছে । ছেলেটি বাদামের কাগজটি খুলার
জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর মেয়েটি একটা কিছু
বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । অতঃপর....
ছেলে- বাদাম খাবে ?
মেয়ে- না ।
(আর কিছু না বলে ছেলেটি বাদাম খাওয়া শুরু
করে দিল)
মেয়ে- একটা কথা বলার ছিল ।
ছেলে- বলে ফেলো ।
মেয়ে- কালকে একটি ছেলে আমাকে প্রপোজ
করেছে । (সিরিয়াস মুডে)
ছেলে- তো । (স্বাভাবিক মুডে)
মেয়ে- তো কি ?
ছেলে- তুমি কিছু বলেছো ? (বাদাম চিবোতে
চিবোতে)
মেয়ে- নাহ্, আমি কিছুই বলি নি ।
ছেলে- ভালো ।
মেয়ে- এখন কি করা উচিত ?
(ছেলেটি কিছু না বলে আবার বাদাম
চিবোতে মন দিয়েছে)
মেয়ে- কি হলো, কিছু একটা বলো । (ভীষণ
সিরিয়াস হয়ে)
ছেলে- আমি আবার কি বলবো ?
(বেখেয়ালিভাবে)
মেয়ে- কীভাবে বিষয়টা মেনেজ করা যায়,
সাহায্য করো । নয়ত এটা আমাদের রিলেশনের
জন্যও সমস্যা আনতে পারে ।
ছেলে- আমিতো এ ক্ষেত্রে তোমাকে কোনো
সাহায্য করতে পারব না ।
মেয়ে- কেনো ? (আশ্চর্য হয়ে)
ছেলে- কিন্তু অন্যভাবে সাহায্য করতে পারব ।
মেয়ে- সেটা আবার কীভাবে ?
ছেলে- আমি উঠে গিয়ে ।
মেয়ে- উঠে গিয়ে মানে !
ছেলে- রিলেশন থেকে উঠে গিয়ে ।
(কথাটা শুনে মেয়েটি অনেকটা হতবম্ভ হয়ে
গেলো । সে এই কথাটা হয়তো এসময় আশা করে
নি)
মেয়ে- এটা বলার কারণ ?
ছেলে- তুমিও হয়তো এটাই চাও ।
মেয়ে- আজব, আমি কেন এটা চাইতে যাবো ।
আমিতো তোমাকেই ভালোবাসি ।
ছেলে- নাহ্, একসময় সত্যিই পুরপুরি
ভালোবাসতে কিন্তু এখন পুরপুরি না । আসলে
তুমি এখন দোটানায় ভুগতেছ ।
মেয়ে- কেনো তোমার এমন মনে হচ্ছে ? একজন
শুধু হঠাৎ করে আমাকে প্রপোজ করেছে, এর
থেকে তো আর বেশি কিছু হয়নি । আমি শুধু
ভাবতেছি এই বিষয়টি মেনেজ কীভাবে করব,
বাছ্ এটুকুই ।(রাগান্নিত হয়ে)
ছেলে- এই বিষয়টা যদি সত্যিই হঠাৎ করে হয়ে
থাকত, তবে আসলেই বেশি কিছু হতো না । তুমি
নিশ্চয়ই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গলায়
কোনো সাইনবোর্ড লাগিয়ে বের হওনা যাতে
লেখা থাকে তোমার কোনো বয়ফেন্ড আছে
বা তুমি কোনো রিলেশনের মধ্যে আছো । তাই
এমন দুই একটি ঘটনা ঘটতেই পারে । আর এমন
ঘটনা কীভাবে মেনেজ করতে হয় তা নিশ্চয়ই
তোমার মত মেচোওর কাউকে অন্য কারো কাছ
থেকে শিখে নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে
আমি মনে করি না । এটা একটি সাধারণ
ব্যাপার । আর এই ব্যাপারটি যদি তোমার
কাছেও সাধারণ হতো তাহলে তুমি এখানে
বসে আমার সাথে বিষয়টি নিয়ে হাঁসি-ঠাট্টা
ও মজা করে উড়িয়ে দিতে এমন সিরিয়াস মোড
নিয়ে কথাগুলো বলতে না । তার মানে বোঝাই
যায় ব্যাপারটা হঠাৎ না । তাহলে এটাও
পরিষ্কার হয়ে যায় তুমি তাকে বেশকিছুদিন
হতেই জানো । (কথাটা শোনার পর মেয়েটি
চমকে উঠে)
ছেলে- প্রথমে হয়তো তুমি তাকে কোনো গুরুত্ব
দাও নি তবে বোঝেই হোক আর না বোঝেই
হোক তুমি তাকে ছোট ছোট সুযোগ দিয়ে
গিয়েছো, যার উপর ভর করে সে এতদূর আসতে
পেরেছে । যার পেক্ষিতে আজ এই পরিণতি ।
এটাও তেমন কোনো বড় বিষয় না । বড় বিষয়টা
হচ্ছে তুমি নিজেও নিজেকে সুযোগ দিয়ে
ফেলেছ তার কাছে যাওয়ার জন্য । হয়তো
নিজের অজান্তেই তবে দিয়ে ফেলেছ । যদি
আমি অথবা আমাদের রিলেশনটা তোমার মনে
অত্যন্ত গভীর হয়ে থাকতো তাহলে অনেক
আগে তুমি নিজেই এই পরিণতিটি হওয়া থেকে
আটকিয়ে ফেলতে পারতে । (মেয়েটির চোখ
ছল ছল করছে)
ছেলে- কিন্তু তুমি তা পারো নি, যার জন্যে
এখন দোটানায় আছো । আমি তোমাকে এই
সমস্যা সমাধানের জন্য এই এক ভাবেই সাহায্য
করতে পারি । আর তা হলো আমি নিজে সরে
গিয়ে । তুমি আবার এটা ভেবো না যে, আমি
কোনো দয়াবান চরিত্রের অধিকারী বা
ব্যাপারটা আমার ইগোতে লেগেছে বলে এমন
পদক্ষেপ নিচ্ছি । হ্যাঁ, আমার ইগোতে
লেগেছে কিন্তু অন্যভাবে । সেটা হলো, আমি
আমার প্রাধান্য তোমার কাছে ধরে রাখতে
পারি নি । যদি সত্যিই আমার প্রাধান্য
তোমার কাছে বেশি থাকতো তাহলে
এতোকিছুর পরও সে যখন তোমাকে প্রপোজ
করল সাথে সাথে তোমার উত্তর হতো "না" বা
এরকম কিছু । কিন্তু তুমি কিছুই বলোনি তার
মানে তুমি নিজেকে তার জন্য ভাবার সময়
দিতে চাও । যার ফলে সহজেই বোঝা যায়
এসময় তোমার কাছে আমার থেকে তার
প্রাধান্যই বেশি । আর যার প্রাধান্য বেশি
থাকে তাকেই গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে
করি । (ছেলেটি কথা শেষ করে কাগজে থাকা
শেষ বাদামটি মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিল,
মেয়েটির চোখ দিয়ে ইতিমধ্যে পানি পড়া শুরু
হয়ে গিয়েছে)
মেয়ে- কোনোভাবেই কী আর তোমাকে ধরে
রাখতে পারব না ? (পুরপুরি কান্নাজড়িত
কণ্ঠে)
ছেলে- আমার এই ব্রেঞ্চে বসা থেকে উঠে
দাঁড়াতে দুই থেকে তিন সেকেন্ড সময় লাগবে
। এই কথাটি আমি এ জন্যই বললাম কারণ এখন
যদি আমি তোমার পাশ থেকে উঠে যাই
তাহলে আমি আর কখনোই চাবো না যে
এভাবে আমরা দুজন আবার একসাথে বসি । তাই
তোমার কাছে এই দুই থেকে তিন সেকেন্ড সময়
আছে আমাকে আটকানোর জন্য । কিন্তু তা
সম্ভব হয়ে উঠবে না, কারণ অন্ততপক্ষে আমার
হাতটা শক্ত করে ধরে আমাকে আটকানোর জন্য
এর থেকে বেশি সময়ের প্রয়োজন । (বাদামের
কাগজটি মুচরিয়ে একটি বলের মতো করে দূরে
ছুঁড়ে ফেলে দেয় ছেলেটি আর মেয়েটি
অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে)
ছেলেটি শেষবার মেয়েটির দিকে হাঁসিমুখে
তাকিয়ে বলল....
ছেলে- তাহলে এবার উঠি ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Daulatpur
Khulna
9202