Green Movement
16/06/2026
কখনো চিঠি লেখা হয়নি, তাই একটু চেষ্টা করলাম। এটাই প্রথম, জানিনা কেমন হলো! প্রতারণার শিকার হওয়া একজন প্রেমিকার মনের ভিতরে জমে থাকা কষ্টের অব্যক্ত কিছু কথা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি চিঠির ভাষায়।
ছবিটা হুদাই দিলাম।
চিঠি।
প্রেমিকার অভিমান, অবহেলা আর এক বুক শূন্যতা মাখা দীর্ঘ ক্যানভাস: তুমি বুঝলেনা ভালোবাসা,
বৃষ্টির শেষ বিন্দুগুলো জানালার কাচে আছড়ে পড়ছিল, যেন আকাশও আমার সঙ্গে কাঁদছে। রাত গভীর, চারিদিকে শুনশান নীরবতা। বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে শব্দ। ঘরের এক কোণে বেড সাইড টেবিলের উপর জ্বলছে একটা ম্লান ল্যাম্প। তার আলোয় ছড়িয়ে আছে তোমার স্মৃতির টুকরো—ড্রয়ার খুলে বের করলাম সেই পুরনো চিঠি, যেখানে তুমি লিখেছিলে “চিরকাল তোমার সাথে”। চিরকাল? কত সস্তা শব্দ। আমি হাসলাম, কিন্তু হাসিটা গলায় আটকে গেল। চোখের কোণে জল জমে উঠল। তুমি চলে গেছ। সত্যিই চলে গেছ। যেদিন চলে গেলে, সেদিনও তোমার চোখে কোনো অনুতাপ ছিল না। শুধু একটা শুকনো “ভালো থেকো”। যেন আমি কোনো পুরনো জামা, যেটা আর ফিট করে না, তাই ফেলে দিয়ে চলে গেলে। কিন্তু আমি? আমি এখনো সেই পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে তুমি প্রথমবার আমার হাত ধরেছিলে। সেই বৃষ্টির দিনটা মনে পড়ে? কলেজের পিছনের সেই ছোট্ট কফি শপ। তুমি ভিজে গিয়ে হাসছিলে, আর আমি তোমার চুল থেকে গড়িয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা জল মুছিয়ে দিচ্ছিলাম টিস্যু পেপার দিয়ে। সেদিন তুমি বলেছিলে, “তুমি ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ।” কতটা পথ আমরা একসাথে হেঁটেছি। বছরের পর বছর। সেই যে আঙুলে আঙুল রেখে মাইলের পর মাইল হেঁটেছিলাম আমরা, সে কি কেবলই অভিনয় ছিল? ঝুম বৃষ্টির রাতে ছাতার নিচে আধা-ভিজে তোমার ওই কাঁধ ছুঁয়ে থাকা, কিংবা তীব্র শীতে এক কাপ মিষ্টি দুধ চা ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তগুলো—সবই কি তবে মিথ্যে? তোমার স্বপ্নগুলো আমি নিজের করে নিয়েছিলাম। তোমার বাবার অসুস্থতার সময় রাত জেগে হাসপাতালের করিডরে পায়চারি করেছি। তোমার চাকরির ইন্টারভিউয়ের আগে রাত দুটো পর্যন্ত প্র্যাকটিস করিয়েছি। ছোট ছোট ঝগড়া, তারপর আবার মিষ্টি মেকআপ। তুমি রাগ করে মুখ ফিরিয়ে নিলে আমি তোমার পিঠে হাত রেখে বলতাম, “আমি ছাড়া কে তোমাকে সামলাবে?” তুমি হেসে ফেলতে। সেই হাসি এখনো কানে বাজে। কিন্তু তুমি ভালোবাসা বুঝলে না। বুঝলে না যে ভালোবাসা শুধু আনন্দের নয়, দায়িত্বেরও, সম্মানেরও। তুমি যখন অন্যের সঙ্গে হাসতে শুরু করলে, যখন তোমার ফোনের নোটিফিকেশনগুলো লুকিয়ে রাখতে শুরু করলে, তখনো আমি বিশ্বাস করেছিলাম। বলেছিলে, “সময় দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু তুমি ঠিক হয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিলে অন্য কারো সঙ্গে। সেই রাতে, যেদিন তুমি বললে “আমি আর পারছি না”, আমার বুকের ভিতরটা যেন ফেটে গেল। কিন্তু আমি কাঁদিনি তোমার সামনে। শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম, “এতটা পথ একসাথে চলার পরও কি কিছুই মনে পড়ে না?” তুমি চুপ করে ছিলে। চোখ নামিয়ে নিয়েছিলে, আমার চোখে তাকানোর সাহস তোমার ছিল না। সেই নীরবতা আমাকে হাজার কথার চেয়ে বেশি আঘাত করেছিল। যদি তোমার গন্তব্য অন্য কোথাও ছিল, তবে আমার এই নির্জন একাকী পথে কেন তুমি মায়ার কাজল লেপে দিতে এলে? হয়তো ভুলটা আমারই ছিল। আমি ভেবেছিলাম ওটা সমুদ্রের গর্জন, আসলে তা ছিল শুকিয়ে যাওয়া মরুভূমির তপ্ত হাওয়া। তুমি ছিলে এক মরীচিকা, যার পেছনে ছুটে আমি আমার তৃষ্ণার্ত হৃদয়টাকে আরও বেশি পুড়িয়েছি। "যেখানে আত্মসম্মান বিলিয়ে দিতে হয়, সেখানে ভালোবাসা নয়, কেবলই এক পাক্ষিক ভিক্ষার পাত্র পড়ে থাকে।"
আজ আমি একা। ঘরটা ফাঁকা। তোমার গন্ধটা এখনো বালিশে লেগে আছে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয় তুমি পাশে শুয়ে আছ। হাত বাড়িয়ে দেখি শূন্যতা। তখন বুকের ভিতরটা জ্বলে ওঠে। কষ্টটা এমন যে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আমি ভাবি, কেন এতটা ভালোবেসেছিলাম? কেন তোমাকে আমার সবটুকু দিয়ে দিয়েছিলাম? তুমি যদি শুধু শরীর চেয়েছিলে, তাহলে কেন মনটাও ছিনিয়ে নিলে? যে ভালোবাসায় সম্মান নেই, সে ভালোবাসা তো লোক দেখানো। আমি সেই ভালোবাসা চাই না। আমি চাই না কারো করুণা। কিন্তু তবু... রাতের নিস্তব্ধতায় যখন একা বসে থাকি, তখন মনে হয় তুমি হয়তো ফিরে আসবে। হয়তো একদিন তোমার মনে পড়বে সেই সব ছোট ছোট মুহূর্ত—যখন আমরা ছাদে বসে চা খেতাম, যখন তুমি অসুস্থ হয়ে আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলে, যখন তুমি বলেছিলে “তুমি আমার শান্তি”। যদি সত্যিই তোমার মন থেকে ভালোবাসা জেগে ওঠে, তাহলে ফিরে এসো। আমি তোমাকে অপমান করব না। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলব, “এসো, বসো।” কারণ ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না। সে শুধু আকার বদলায়। কিন্তু যদি না ফেরো? যদি তুমি সত্যিই সুখী হয়ে থাকো অন্য কারো সাথে? তাহলে তাই হোক। আমি তোমার সুখ চেয়েছিলাম। এখনো চাই। শুধু নিজেকে বলি—যে ভালোবাসা তোমাকে আটকে রাখতে পারেনি, সে ভালোবাসা হয়তো অসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু আমার দিক থেকে তো সে পুরো ছিল। প্রতিটা শ্বাসে, প্রতিটা প্রার্থনায়।
তুমি তো শুধু চলে গেলে না, সাথে নিয়ে গেলে একটা আস্ত আকাশ—যা প্রতিদিন আমার মাথার ওপর নীল হয়ে হাসত। অথচ আজ সেখানে কেবলই মেঘের ঘনঘটা, এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য চাতকের মতো চেয়ে থাকা। মাঝে মাঝে নিজেকে খুব অসহায় এক পথিক মনে হয়। পথের বাঁকে এসে যখন পেছন ফিরে তাকাই, বুকের ভেতরটা হু-হু করে ওঠে। বড় জানতে ইচ্ছে করে—ভালোবাসা যদি বুঝবেই না তুমি, ছেড়ে যদি চলেই যাবে, তবে এতটা পথ কেন পাশে ছিলে?
আজ বুঝতে পারি, তোমার ওই ভালোবাসায় কোনো গভীরতা ছিল না, ওটা ছিল কেবলই লোক দেখানো একটা চাদর। সমাজের চোখে, কিংবা হয়তো নিজের অহংকারকে তৃপ্ত করতে তুমি ভালোবাসার নাটক করেছিলে। যে ভালোবাসায় অবহেলা আর অসম্মান মিশে থাকে, তা আর যাই হোক—প্রেম নয়। আমি তোমার সেই করুনা কিংবা দয়ার পাত্রী হতে চাইনি কখনো। ভালোবাসায় যদি একটুখানি মর্যাদাই না রইল, তবে সেই মেকি আবেগের প্রাসাদ আমি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতেই ভালোবাসি। আমি কারো করুণার আলোয় নিজের অন্ধকার কাটাতে চাই না। তার চেয়ে এই একাকীত্বের অন্ধকার অনেক বেশি পবিত্র, অনেক বেশি নিজস্ব।
তুমি ভেবেছ তোমাকে ছাড়া আমি ধ্বংস হয়ে যাব? হয়তো বাহ্যিকভাবে আমি আজ এক নিঃস্ব নাবিক, যার নৌকা ঝড়ে ভেঙে গেছে। কিন্তু ভেতরের আমিটা এখনো মরেনি। যাও, তোমাকে মুক্তি দিলাম। আমাকে ছেড়ে যদি তুমি ভালো থাকো, তবে তাই হোক। তোমার সুখেরই তো প্রার্থনা করেছিলাম কোনো এক উপাসনার ভোরে, আজ নাহয় সেই সুখের কারণ আমি না-ই বা হলাম। তবে একটা কথা মনে রেখো— যদি কোনোদিন... বহু বছর পর, কোনো এক নিঃসঙ্গ গোধূলিতে তোমার এই চপল মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে; যদি চারপাশের লোকদেখানো জাঁকজমকের ভিড়ে নিজেকে বড্ড একলা মনে হয়; আর যদি সেদিন সত্যি সত্যি মন থেকে আমার জন্য কোনো খাঁটি ভালোবাসার জন্ম নেয়—তবে ফিরে এসো। আমি তোমাকে ফিরিয়ে দেব না। অতীতের সব অবহেলা, সব ক্ষত ভুলে সেদিন তোমাকে বুকে টেনে নেব। সেদিন আর কোনো অভিযোগ থাকবে না, কোনো অভিমানী দেয়াল থাকবে না। তোমাকে অমর্যাদা আমি কোনোদিন করিনি, আর কোনোদিন করবও না। কারণ আমি তো লোক দেখানো প্রেম করিনি, আমি তোমায় ভালোবেসেছিলাম আমার সমস্ত আত্মা দিয়ে। আজ তুমি দূরে, তাও ভালো থেকো। আমার হৃদয়ের শূন্য ক্যানভাসে তোমার দেওয়া আঘাতগুলোই নাহয় আমার একলার শিল্প হয়ে থাক।
বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে একফালি চাঁদ উঁকি দিয়েছে। আমি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ভাবি—জীবন তো চলবেই। ক্ষতগুলো শুকোবে, দাগ থাকবে। কিন্তু সেই দাগগুলোই তো আমাকে মনে করিয়ে দেবে যে আমি একবার অন্তত সত্যিকারের ভালোবেসেছিলাম। কোনো লুকোছাপা ছাড়া, কোনো শর্ত ছাড়া। তুমি যদি কখনো ফিরে তাকাও, দেখবে—আমি এখনো সেই জায়গাতেই আছি। শুধু একটু ভাঙা,একটু নিঃসঙ্গ। কিন্তু তোমার জন্য অপেক্ষায় নয়। নিজের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টায় ভালোবাসা বুঝলে না তুমি। কিন্তু আমি বুঝেছি। আর সেই বোঝাটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।
ইতি .....
১৬.০৬.২০২৬
কৃষ্নাপাটনাম, ইন্ডিয়া।
05/06/2026
সোনালি মেঘে লুকায় দিনের শেষ,
তোমার চুলে ওড়ে উদাসী রেশ।
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে মনে মনে,
তোমায় খুঁজি নিঝুম এই ক্ষণে।
০৫.০৬.২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগর।
04/06/2026
ঘন সবুজ অরণ্যের বুকে,
সাদা অট্টালিকা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে।
মেঘেদের সাদা স্বপ্ন আকাশে ভাসে,
সবুজ পাতায় সূর্যের আলো নাচে।
দূরের টাওয়ার চেয়ে থাকে নীরবে,
প্রকৃতি আর সভ্যতার মিলন যেন এখানে।
নীল আকাশের নীচে সবুজ সমুদ্র,
শান্তি আর সৌন্দর্যের অমর গান গেয়ে চলে।
বিনতুলু
০৪.০৬.২০২৬
মুলা আমরা সবাই চিনি তবে মুলা ফুল কজনে চিনি? মুলার ও যে দৃষ্টিনন্দন ফুল হয় সেটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। মুলা ফুলের ভিডিও টা শেয়ার করলাম, কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু।
তোমার নিঃশ্বাসের মতো দুরুদুরু কাঁপে মুলা ফুলের পাপড়ি
চোখের জলে ভিজে যায় বেগুনী সাদা সেই নরম আলিঙ্গন
হৃদয় ছুঁয়ে যায় যেন তোমার অশ্রু-মাখা স্পর্শ
প্রিয়তমা, এই ফুল আমার বুকে রক্তাক্ত প্রেমের সাক্ষী রাখে...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Khulna
9100