PN Boutiques

PN Boutiques

Share

05/03/2026

শাড়ী টা 👌👌🤎🤎

03/03/2026

মৃত্যুর আগে ইরা 'পানি' খাওয়ার জন্য অনেক ছটফট করেছিলো, বারবার পানির জন্য আকুতি জানিয়েছিলো। কিন্তু শ্বাসনালী কাটার সার্জারির জন্য পানি দেওয়া নিষেধ ছিলো - সাংবাদিককে আফসোস করে জানাচ্ছিলো ইরার চাচা। ওর পরিবারের এই আফসোসে বুকটা ফেটে যাচ্ছে যে, শেষ মূহুর্তে মেয়েটিকে পানি খাওয়াতে পারেনি।

ওর চাচা দাবী করে , যে পাষণ্ড শিশুটিকে এত কষ্ট দিয়ে ইরাকে মেরেছে। পানি পর্যন্ত খেতে পারেনি। তাঁর ফাঁসি চাই।

রবিবার যা ঘটেছিলো ইরার ভাগ্যেঃ
কুমিরায় দাদার বাড়িতেই ইরার জন্ম। কিন্তু এই ভিটেতে জায়গা স্বল্পতার কারণে ভাড়া বাড়িতে থাকতো ইরারা। বেশী দূরে নয়। কাছাকাছিই। হেঁটেই আসা যায়। পেশায় ইরার বাবা একজন রিক্সাচালক।

জন্ম ভিটা হওয়ায় দাদুর বাড়ির প্রতি টান থেকেই প্রায়ই সে দাদুর বাসায় ছুটে আসতো। রবিবার সকাল ৯টায় সে দাদুর বাসায় যাওয়ার বায়না ধরলে, ওর মা নিষেধ করে। ছোট আরেকটি বোন ছিলো। তাকে কোলে নিয়ে খেলতে বলে। কিন্তু ইরা দাদু বাড়ি থেকে ফিরে এসে বোনকে কোলে নিয়ে খেলবে বলে, বের হয়ে যায়।

ইরার আরেকজন বড় বোন আছে। সম্ভবত ওরা মোট ৩ বোন।

ইরার মা জানে, মেয়ে তো দাদুর বাড়িতেই আছে। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে ইরার স্বজনেরা ফেসবুকের মাধ্যমে ইকোপার্কে ইরার গলাকাটা ছবি দেখে চিনতে পারে, এটাই তাদের মেয়ে। স্থানীয় সড়ক নির্মান শ্রমিকরা ইরাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে ওর পরিবার পৌঁছালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানেই পরবর্তীতে ইরার মৃত্যু ঘটে।

খুনি কে? খুনি ইরাদের মতোই পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া। যার সাথে ইরাদের পরিবারের প্রায়শই তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই ইরার বাবাকে শায়েস্তা করার জন্য খুনি - ইরাকে বেছে নেয়।

দাদুর বাসায় যাওয়ার পথে ইরাকে খুনি একা পেয়ে চকলেট খাওয়ার লোভ দেখায় এবং কুমিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে নিয়ে আসে সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের গহিন জঙ্গলে। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আদৌ করেছে কীনা সেটা ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যাবে।

এক পর্যায়ে ইরা ওর বাবাকে বলে দিবে বলে হুমকি দিলে, কোমরে থাকা ছুরি দিয়ে ইরাকে জবাই দেয় এবং মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। কিন্তু মেয়েটি তখনও জীবিত এবং বেঁচে থাকার আকুল ইচ্ছেশক্তি নিয়ে সে রক্তাক্ত গলাকাটা শরীর নিয়ে জঙ্গল থেকে সড়কের দিকে এগিয়ে আসে।

সড়ক নির্মান কাজে থাকা লোকগুলো শিশুটিকে দেখতে পেয়ে দ্রুত গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং প্রায় দুইদিন মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করে ইরা ইন্তেকাল করে। শুধু গলার ক্ষতই শিশুটিকে কাবু করেনি। ডাক্তার জানায়, অভ্যন্তণীন অংশে আঘাতের মাত্রা ছিলো বেশী। শরীরের বিভিন্ন অংশে কাঁটাছেঁড়া, আঘাতের চিহ্ন ছিলো।

প্রিয় ভাই-বোনেরা -
আসামী গ্রেফতার হয়েছে। আসামী অপরাধ স্বীকার করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজ রয়েছে। তাহলে কেন প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় এই বিচারকে বছরের পর বছর আদালতে ঝুলিয়ে রাখবে? এরপর হয়তো যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড রায় দিবে। কিন্তু কনডেম সেলে এই আসামী যুগের পর যুগ এই রাষ্ট্রের দেওয়া টাকায় তিনবেলা খাবে। অতঃপর কোন একদিন ছাড়াও পেতে পারে।

কেন এই আসামীকে আজকেই কিংবা এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে না? কেন একজন আসামীকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে ২০ কোটি মানুষ তথা অপরাধীদেরকে সতর্ক করা হবে না?

কেন ভিক্টিমের পরিবারের মনকে অন্তত এই শান্তিটুকু দেওয়া হবে না? যে এই দেশ তোমার মেয়ের খুনিকে ক্ষমা করেনি।

তোমার মেয়ের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়েছে। ইরার খুনিকে জাহান্নামে পাঠানো হয়েছে? আমাদের বিচার ব্যবস্থা কবে বদলাবে?

যেই পুলিশ ভাইয়েরা এত কষ্ট করে আসামীকে ধরে, তাদের দায়িত্ব তো এখানেই শেষ। কিন্তু যেই শুয়োর, চাড়াল বিচারকেরা বছরের পর বছর আসামীকে পাপ্য সাজাটুকু দেয় না। যে উকিল এসব অপরাধীর পক্ষে জেনে শুনে লড়াই করে, যেই বিচারক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কম সাজা কিংবা তাদেরকে ছেড়ে দেয়। যেই চেয়ারম্যান-মেম্বার-প্রভাবশালীরা ধর্ষককে বাঁচাতে লবিং করে, মীমাংসা, সমঝোতা করানোর চেষ্টা করে, এদের কী পরিবারে মা-বোন-কন্যা নেই? কোন পরিবারটা পৃথিবীতে রয়েছে নারী ছাড়া? এই সমস্ত মানুষগুলোর বুক কাঁপে না? এই বিচার ব্যবস্থা বদলানোর ইচ্ছে হয় না?

একটি গ্রামে যখন আপনি একটি অপরাধ চোখের সামনে হতে দেখেও চুপ থাকবেন। প্রাপ্য বিচার করবেন না। তখন ঐ গ্রামে আরেকটি অপরাধ ঘটবে। তারপর আরেকটা...আর একদিন ঐ বিচারকের পরিবারের সাথেই ঘটে যাবে ভয়াবহ কোন অবিচার। আর ঠিক এভাবেই - গ্রাম থেকে জেলা, জেলা থেকে শহর। শহর থেকে বিভাগ। বিভাগ থেকে পুরো রাষ্ট্রই আজ অপরাধীদের অভয়ারাণ্য। শুধুমাত্র ভঙ্গুর বিচার ব্যবস্থার জন্য।

এই প্রকৃতি কিংবা পৃথিবী এক অদৃশ্য শৃঙ্খলার মধ্যে চলে। এই শৃঙ্খলা একটু এদিক সেদিক হলেই নেমে আসে প্রাকৃতিক দূর্যোগ। যার ভয়াবহতা কখনও দেখে না, আপনি কে? আপনার সামাজিক পরিচয় কী? আপনি কত অর্থের মালিক। সামাজিক শৃঙ্খলাও ঠিক তেমনই। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই রক্ষা পাবে না। কেউ না।

নারী-শিশুর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অপরাধী যদি কনফেস করে/ ভিডিও প্রমাণ থাকলে ৭দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। যদি প্রমাণের ইস্যু থাকে তাহলে ৯০দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করতে হবে।

আল্লাহ্‌ আমাদের সন্তানদেরকে হেফাজত করুন। ইরার হত্যার বিচার চাই। ইরার খুনির ফাঁ///সি চাই।

- অন্তর মাশঊদ

Want your business to be the top-listed Clothing Store in Jurain?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Jurain