Ihtesam Rasel
ঈদ যাত্রার বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকেই ঢাকা ছাড়েন ঈদের পরদিন। যারা এখনো রওনা দেননি, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি—যদি রাতে গ্রামে থাকার পরিকল্পনা থাকে, তবে হালকা শীতের কাপড় সঙ্গে রাখবেন। আমি যখন ঢাকা ছাড়ি, ভেবেছিলাম চৈত্র মাসে কাঠফাটা রোদ দেখব। ওমা! এখানে এসে দেখি বেশ ঠান্ডা।
নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি ঠান্ডা হবে—এমন ধারণা ছিল। কিন্তু এতটা ঠান্ডা হবে, তা আশা করিনি।
তখন টিভিতে সবচেয়ে অবহেলিত একটা চ্যানেলে ছিল সংসদ টিভি। তারো অনেক আগে বাসায় শুধু বিটিভি ছিল। এন্টেনা দিবার পর শুধু একটাই চ্যানেল আসে।
যে সময়টাতে সংসদ অধিবেশন হতো তখন মনে হাঁসফাঁস করত। এত বিরক্তিকর একটা জিনিস এতক্ষণ কেন দেখায়? আজকে সেই জেনারেশন টিভি মোবাইল ফোনে একটানা পুরো সংসদ অধিবেশন দেখল।
সবাই সংসদ অধিবেশন নিয়ে মিম বানাচ্ছে। ছোটখাটো ভিডিও কাট করে শেয়ার দিচ্ছে বাহবা দিচ্ছে। এমেইজিং।
গতকাল বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের অডিআই ম্যাচ ছিল। কোথাও কোনো আলাপ নাই। গোটা জেনারেশনের ইমশোন ক্রিকেট থেকে শিফট হয়ে দেশের দিকে আসছে। এই দেশের রাজনীতিবিদরা এখন সেলেব্রিটি।
কারণ এই সংসদ অধিবেশন আমাদের পেতে কত শত রক্ত লাশ মাড়িয়ে আসতে হয়েছে জুলাই সাক্ষী। আজকে সংসদ স্বাধীন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের কোন অপশন ছিল না। কিন্তু এখন আছে পরিবর্তন করার অপশন আছে। যাইহোক বেচারার জন্য খারাপ লাগে আগে বলতো জয় বঙ্গবন্ধু আর এখন বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
কেন জানি আমার মনে হচ্ছে আজকে সরকার ও বিরোধী জোট প্ল্যান করে চুপ্পুকে এমন অপদস্থ করলো। সরকারি দল চুপ্পুকে বাধ্য করেছে খুনি হাসিনা ও লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে। আর বিরোধী জোট ওরে যাচ্ছেতাই ভাষায় অপমান করলো। এপ্যারেন্টলি মনে হচ্ছে যা হইছে সমঝোতার ভিত্তিতেই হইছে।
ছাত্রদলের হামিম সাংগঠনিক রুল ব্রেক করসে। ট্রু।
কিন্তু রুল ব্রেক করে নাই কে? সবাই-ই তো করসে। কম আর বেশি। সামর্থ্য অনুযায়ী করসে। হামিমের সামর্থ্য বেশি, তাই তার রুলব্রেকটা বড় পর্দায় দেখা গেসে।
সাংগঠনিক রুল মাইনা ছাত্রদল ছাত্রবান্ধব কী করতে পারসে? সংগঠন ছাত্রদলের একটা নেতাকে কী এমন ফেসিলিটি আর লিডারশিপ প্রাক্টিস দেয় যেইটা অ্যাক্ট করলে একজন ছাত্রদল নেতা কর্মীদের বাইরে সাধারণ ছাত্রদেরও নেতা হয়ে উঠতে পারে? কিচ্ছু না।
এই যে সেকেলে আনস্মার্ট রাজনীতি, এইটা নিয়া দলের কর্মীরা কি আনহ্যাপি না?
চেনাপরিচিত কাউরেই তো হ্যাপি দেখি না ছাত্রদলের কালচার নিয়া। সবাই পরিবর্তন চায়। সবাই চায় দলের মধ্যে ফেয়ারনেস, ট্রান্সপারেন্সি, টলারেন্স বাড়ুক। কিন্তু সবাই আবার সবার বিরোধী। সবাই একাট্টা হয়ে কোনো কিছু করতে দেখি না, এক্সেপ্ট অকেশনাল শোডাউন।
তারেক রহমান কি এইগুলা দেখেন না? জানেন না?
দিনের বেলা তার কর্মীদের জিগাইলে তারা কয়, আমরা তো দলটাকে সংস্কার করতে চাই। স্মার্ট রাজনীতির চর্চা বাড়াইতে চাই। পলিটিকাল স্কুলিংকে সমর্থন করি। কিন্তু ফেসবুকে আসলে দেখি সবাই ‘দলীয় কমান্ড’কে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করে (যেইটার তারা বিরোধী)।
ছাত্রদের কাছে ছাত্রদলের ভিলেন হওয়ার পিছনে শিবির, ছুপা নিরপেক্ষদের অহেতুক বিষোদগারের দায় আছে। কিন্তু বিগত দুইটা বছর ছাত্রদের জন্য, শিক্ষার জন্য ছাত্রদলের অবদান কী? তাদের প্ল্যান কী? কেবলি শত্রুদের দোষ দিয়া তো লাভ নাই। তাইনা!
তরুণদের ওপর কব্জা, খবরদারির এই রাজনীতি দিয়া তো ছাত্রলীগ, শিবির কোনোটারেই রিপ্লেস করা সম্ভব না। এইগুলা দিয়া আরেকটা ছাত্রলীগ, শিবির হওয়াই আল্টিমেট পরিণতি।
জামাত ক্ষমতায় যদি যেতো, ওরাও ঠিকই পার্শ্ববর্তী দেশের প্রধানদের দাওয়াত দিতো।তখন সেটা রাইটই হইতো
যেহেতু বিএনপি দাওয়াত দিয়েছে, এখন সেটা ভুল😵💫
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হল টল দখল দেবে, চারিদিকে রঙ খেলবে এই সেই হবে। কিন্তু হয় নি। ওরা যথেষ্ট সহনশীল আচরণ করেছে দুইদিনে। কিন্তু এই নিয়ে কেউ প্রশংসা করেনি।
ভাই ২১৩ আসন জিতলে অন্যান্য দলের কর্মীরা আরো বেশি উগ্র আচরণ করতো। তারমানে এই না আমি কোনো কিছুর বৈধতা দিচ্ছি। আমি বৈধতা দেওয়ার কেউ না।
এসব অবশ্যই একদম জিরো পারসেন্টে নামা উচিৎ।
বিজয়ী দলকে একটু সমর্থন দেন সবাই। নাহলে আবার সেই ইউসুফ সরকারের মতো হয়ে যাবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Address
Jatrabari