Introvert Twinkle
মহান আল্লাহ যাকে অপছন্দ করেন তাকে অঢেল ধন-সম্পদ দান করেন, আর যাকে পছন্দ করেন তাকে দান করেন 'হিকমাহ'। যাকে 'হিকমাহ' দান করেন তাঁর মধ্যে থাকে 'সাকিনা'। 'সাকিনা' শব্দের অর্থ শান্ত, প্রশান্ত, ধীর, স্থির।
আপনার সামনে টেবিল ভর্তি খাবার সাজানো রয়েছে, অথচ প্রত্যেকটি খাবারে আপনি কোন না কোন দোষ খুঁজে পাচ্ছেন, তৃপ্তি সহকারে খেতে পারছেন না! কারণ আল্লাহ্ আপনাকে সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু 'হিকমাহ' দেননি। এজন্য আপনার মধ্যে 'সাকিনা'-ও নেই।
আপনাকে 'হিকমাহ' দেওয়া হয়েছে এজন্যে আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরম প্রশান্তি নিয়ে খেয়ে উঠে বলে উঠবেন 'আলহামদুলিল্লাহ'।
উচ্চশিক্ষিতা সুন্দরী স্ত্রী পেয়েও আপনি বৈবাহিক জীবনে সুখি নন, কারণ আপনাকে 'হিকমাহ' দেওয়া হয়নি। নিজস্ব গাড়িতে চড়েও আপনি সুখি নন, আরও দামি গাড়িতে চড়ার আফসোস করেন। কারণ আপনার মধ্যে 'হিকমাহ'-ও নেই, 'সাকিনা'-ও উঠে গেছে। এজন্য ভালো অবস্থানে থেকেও আপনি সুখি নন।
আরবি 'হিকমাহ' শব্দের অর্থ 'প্রজ্ঞা'। যাকে মহান আল্লাহ 'হিকমাহ' দান করেন তিনি জীবনের সকল অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকেন, শান্তিতে থাকেন।
'রিজিক' শব্দটির অর্থ অনেক ব্যাপক। রিযিক খুব গভীর একটি বিষয়, যদি আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি...
*রিযিকের সর্বনিম্ন স্তর হলো- টাকা-পয়সা আর অর্থ-সম্পদ।
*রিযিকের সর্বোচ্চ স্তর হলো- শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা।
*রিযিকের সর্বোত্তম স্তর হলো- পুণ্যবান স্ত্রী, নেক সন্তান।
*রিযিকের পরিপূর্ণ স্তর হলো- মহান আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জন।
আমরা পুরো জীবনে কতো টাকা উপার্জন করবো সেটা লিখিত, কে জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে-কখন-কোথায় মা*রা যাবো সেটাও লিখিত। এছাড়াও কতোটা আহার ও পানীয় গ্রহণ করবো, তা-ও লিখিত বা সুনির্দিষ্ট। একটি দানাও কম বা বেশি হবে না।
মনে করুন এটা লিখিত যে একজন মানুষ সারাজীবনে ১ কোটি টাকা আয় করবেন, এই সিদ্ধান্ত মহান আল্লাহ্ নিয়েছেন। কিন্তু, সেটা হালাল উপায়ে না হা*রাম উপায়ে করবেন, সেই সিদ্ধান্ত একান্ত-ই ব্যক্তির নিজস্ব।
আমরা যদি ধৈর্য ধারণ করি, মহান আল্লাহ্র কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে সেই এক কোটি টাকা আয় করে-ই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবো। আর হা*রাম উপায়ে হলেও সেই এক কোটি-ই। এর কম কিংবা বেশি নয়!
আজ আপনি যে ফলটি আপনার বাসায় বসে খাচ্ছেন, সেটা হয়তো বাইরের কোন দেশ থেকে আমদানি করা। সেই গাছে যখন মুকুল ধরেছিল সে সময়-ই নির্ধারিত হয়েছে, সেটি একদিন আপনার কাছে-ই পৌঁছাবে।
এর মধ্যে কতো পাখি ফলটির উপর বসেছে, কতো মানুষ ফলটি পাড়তে চেয়েছে, দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়ে-চেড়ে দেখেছে, পছন্দ হয়নি বলে ক্রয় করেননি। এসব ঘটনার কারণ একটাই, ফলটি আপনার রিযিকে-ই লেখা ছিল। যতোক্ষণ না আপনি কিনতে যাচ্ছেন, ততোক্ষণ সেটা সেখানেই থাকবে। রিযিক জিনিসটা এতোটাই শক্তিশালী!
কোন আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আপনার বাসায় এলে, সে আসলে আপনার খাবার খাচ্ছে না। এটা তার-ই রিযিক, মহান আল্লাহ্ কেবলমাত্র আপনার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আপনার মঙ্গলও নিহিত রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ!
পৃথিবীতে কেউ কারোটা খাচ্ছেন না, যে যার রিযিকের ভাগ-ই খাচ্ছেন। তবে সেটা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি, সেটা নির্ভর করছে আমরা আল্লাহ্র উপর কতোটুকু তাওয়াক্কাল আছি, কতোটুকু ভরসা করছি।
কেন না, আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ'র ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সব কিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে'। (সুরা হুদ: আয়াত ৬)
মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন- 'যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোন না কোন পথ বের করে দেবেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন, যা সে ধারণা-ও করতে পারবে না'। (সুরা ত্বালাক: আয়াত ২-৩)
মহান আল্লাহ্ আমাদের সঠিক পথ, হালাল ও প্রশস্ত উপার্জন এবং রিযিকের বন্দোবস্ত করে দিন, সকল প্রকার হা*রাম উপার্জন এবং রিযিক থেকে হিফাযত করুন। আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, আমিন...
06/04/2025
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ، وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا ".
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘(মক্কা) বিজয়ের পর আর হিজরত নেই। বরং রয়েছে কেবল জিহাদ ও নিয়ত। যখন তোমাদের জিহাদের ডাক দেয়া হয়, তখন বেরিয়ে পড়।’
- হাদিস নং ২৭৮৩, সহীহ বুখারী।
দোয়া করার সময় যদি আপনার চোখ দিয়ে পানি বের হয় তখন বুঝবেন আপনার দোয়া কবুল হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ।।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Gopalganj
8100