Affectionate Creation
"সুবহানাল্লাহ" বলার শক্তি।
উচ্চারনঃ- "সুবহানাল্লাহ"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম
একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতেন মসজিদুল হক নামের একজন সাধারণ মানুষ। তার নামের মতোই তার কাজ এবং জীবনধারা ছিলো ইসলামিক। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তার জীবনের মূলমন্ত্র ছিল, "সুবহানাল্লাহ" বলা, যা দ্বারা তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতেন।
মসজিদুল হক ছিলেন একজন কৃষক, এবং তার ফসলই ছিলো তার জীবিকার প্রধান মাধ্যম। একবার, তার ফসলের মাঠে এক অদ্ভুত রোগ দেখা দেয়। আশেপাশের সবাই তাকে পরামর্শ দেয় বিষ ছিটিয়ে রোগ তাড়াতে। কিন্তু, মসজিদুল হক সবকিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে, তার ফসল রক্ষা করার জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে থাকেন।
প্রতিদিন, যখন তিনি তার ফসলের মাঠে যেতেন, তখন তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে বলতেন, "সুবহানাল্লাহ।" এই বাক্যটি তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিতো এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন।
একদিন রাতে, মসজিদুল হক স্বপ্ন দেখেন যে, তার ক্ষেতের মধ্য দিয়ে স্বর্গীয় আলো প্রবাহিত হচ্ছে, এবং সেই আলো তার ফসলকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। পরের দিন সকালে উঠে তিনি দেখতে পান, তার ফসলের মাঠে যে রোগ ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে সেরে গেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, তার ফসল অন্য সবার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় রয়েছে।
মসজিদুল হক বুঝতে পারেন যে, এটি আল্লাহর একটি বিশেষ রহমত, যা তার "সুবহানাল্লাহ" বলার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তার এই ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই তার জীবনের এই অসাধারণ ঘটনার প্রশংসা করতে শুরু করে। গ্রামবাসীরাও এই ঘটনা দেখে "সুবহানাল্লাহ" বলার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং তারা নিজেদের জীবনে এই বাক্যটি বলার অভ্যাস গড়ে তোলে।
কিন্তু, গ্রামের অন্য প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি, রশিদুল ইসলাম, এই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। সে নিজেও একজন কৃষক ছিল এবং সে মসজিদুল হকের মতোই ফসল ফলাতো। কিন্তু, সে আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস না রেখে নিজের মনের জোরে সবকিছু করার চেষ্টা করতো। তার ক্ষেতেও একবার রোগ দেখা দেয় এবং সে অনেক চেষ্টা করেও তা সারাতে পারেনি।
রশিদুল ইসলাম মসজিদুল হকের ঘটনাটি শুনেছিল, কিন্তু সে এটিকে কেবলমাত্র কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে করেছিল। তার বিশ্বাস ছিলো না যে, "সুবহানাল্লাহ" বলার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে। তার এ অবিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে তার ফসল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
এরপর রশিদুল ইসলাম উপলব্ধি করে যে, আল্লাহর পবিত্রতা ও তার প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মসজিদুল হকের মতো "সুবহানাল্লাহ" বলতে শুরু করেন।
ফজিলত ও আমলঃ- এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর পবিত্রতা ও তার মহিমা ঘোষণা করার মাধ্যমে আমরা তার রহমত ও সাহায্য লাভ করতে পারি। "সুবহানাল্লাহ" বলা কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি আমাদের অন্তরের পবিত্রতা এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের প্রতীক। এই বাক্যটি প্রতিদিন বলা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসতে পারে এবং আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে।
নামের ব্যাখ্যাঃ- সুবহানাল্লাহ বলার শক্তি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে এই গল্পটি আমাদের সচেতন করে তোলে। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করার মাধ্যমে আমরা তার কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারি এবং তার অনুগ্রহ লাভ করতে পারি।
কোন বিস্ময়কর ভালো বিষয় দেখলে سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ) বলা সুন্নাহ।
উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে উঠে বললেনঃ সুব্হানাল্লাহ! অদ্যকার রাতে কত যে ধন-ভান্ডার এবং কত যে বিপদাপদ অবতীর্ণ করা হয়েছে। কে আছ যে এ হুজরাবাসিনীদের অর্থাৎ তাঁদের স্ত্রীদের জাগিয়ে দেবে যাতে তাঁরা সলাত আদায় করে। দুনিয়ার কত বস্ত্র পরিহিতা, আখিরাতে উলঙ্গ হবে! [সহিহ বুখারি ৬২১৮
Affectionate Creation
I got over 10 reactions on one of my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Goalundo