Kaligonj R.R.N Pilot Govt High School

Kaligonj R.R.N Pilot Govt High School

Share

18/04/2026
05/12/2025

বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি (১ম পর্ব)
মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক

‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ (পৃষ্ঠা ৪০-৫৫) নামক স্মরণগ্রন্থ প্রকাশনা উপলক্ষে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি তাঁদের যাঁরা আমার স্মৃতির ভুবন কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি হাই স্কুলের বিস্মৃত প্রারম্ভিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন

ভূমিকা

কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি হাই স্কুল সমগ্র ভাওয়াল ও মহেশ্বরদী পরগনার একটি ঐতিহ্যশালী স্মারক ও এমন একটি উজ্জ্বল ও গৌরবদীপ্ত ঐতিহ্যের অধিকারী বিদ্যাপীঠকে ধারণ করে যে সুপ্রাচীন ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা কালীগঞ্জ এলাকাটি গৌরবান্বিত হয়েছিল এ বিষয়ে সন্দিহান হওয়ার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না। ১৮৮৯ সালে তৎকালীন ঢাকা জিলার অন্তর্গত বিশাল ভাওয়াল ও মহেশ্বরদী পরগনার অবহেলিত বিরাট জনপদের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতমানের উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়টি কালীগঞ্জ নামক একটি অজপাড়াগাঁয়ে স্থাপিত হয়েছিল। আমরা আমাদের ঐতিহ্যশালী বিদ্যাপীঠের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে যেমন গর্ব করি, তেমনি এই স্কুলের বিস্মৃত গৌরবগাথা থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণ করতে পারি।

স্মরণ রাখতে হবে যে কালীগঞ্জে একটি প্রবেশিকা মানের আধুনিক উচ্চ বিদ্যালয় হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি। কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠায় আমাদের এলাকায় আধুনিক শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর ছিল অবিস্মরণীয় অবদান। তবে আমাদের স্কুলটি যখন গড়ে উঠেছিল তখন যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একক ভাবে গড়ে তোলা ছিল খুবই কঠিন কাজ। নিবেদিতপ্রাণ মান্যবর মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর উদাত্ত আহবানে এই উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় কালীগঞ্জ এলাকার ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম-গঞ্জের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার পক্ষ থেকে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

স্কুলটির ক্রমবিকাশ ও উন্নয়নের পিছনেও বিভিন্ন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ১৮৯৭ সালের কোনো এক সময় কালীগঞ্জ থেকে ‘মুনসেফ কোর্ট’ স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। এই বিদ্যাপীঠের পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত সহকারী সম্পাদক হিসেবে শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায় ভাওয়াল জমিদার রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর নিকট স্কুলটির আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অবশ্য তিনি ভাওয়াল পরগনার জমিদারকে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত এই উচ্চ বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধে রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্কুলটির অনেক উন্নয়ন করে দিয়েছিলেন। অবশ্য বিদ্যানুরাগী শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায় কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুলের অনিশ্চিত ও আর্থিক দুর্দিনে ভাওয়াল জমিদারের বদান্যতা লাভে ভাওয়াল এস্টেটের তৎকালীন ম্যানেজার বিখ্যাত সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন ঘোষের সহযোগিতা লাভ করেছিলেন।

এই উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গোড়ালগ্ন থেকে বহু বরেণ্য শিক্ষকগণ উন্নত মানের শিক্ষাদান কার্যে নিয়োজিত থেকে কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুলকে একটি আলোকবর্তিকাসম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছিলেন। উক্ত হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্নে কে বা কারা প্রধানশিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক ছিলেন তা আজ পর্যন্ত অজানা রয়ে গেছে। তবে এই কথা সর্বজনবিদিত ছিল যে বিংশ শতাব্দীর গোড়ালগ্ন থেকে কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলেকে একটি অগ্রণী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার পিছনে নিবেদিতপ্রাণ ভূতপূর্ব হেডমাস্টার শ্রীযুক্ত বগলাপ্রসন্ন বিশ্বাস-এর অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।

বড়ই দুঃখের কথা যে আমাদের স্কুলটি প্রতিষ্ঠাকল্পে মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর অগ্রণী ভূমিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ ও নিরলস প্রচেষ্টার ইতিবৃত্ত চিরকালের জন্য বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠার গোড়াপত্তন এবং প্রথমদিকের বিকাশ ও উন্নয়নের ইতিহাস একেবারেই অতীতের গহ্বরে বিলয়প্রাপ্ত হয়ে গেছে। এমনকি স্কুলের চরম দুর্দিনে শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের নিরলস কর্মযজ্ঞ ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের ফলে যে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকেই কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল একটি জ্ঞানের দিশারী আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রস্ফুটিত হতে পেরেছিল সেই গৌরবময় ইতিবৃত্ত আমাদের যৌথ স্মৃতি থেকে মুছে গেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের বহু নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের নামগুলো পর্যন্ত বহু পূর্বেই অন্তর্নিহিত হয়ে গেছে ।

অতীতের সঙ্গে একটি যোগসূত্র হিসেবে এই প্রবন্ধটি আমার ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক সংকলনে সন্নিবেশ করার মূল অভিপ্রায় হলো কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের গোড়াপত্তন ও প্রারম্ভিক বিকাশের ইতিবৃত্ত সীমিত আকারে হলেও সুহৃদ পাঠকের কাছে তুলে ধরা।

কালীগঞ্জের মতো অজপাড়াগাঁয়ে অবস্থিত গ্রামীণ একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১১ সালের শেষদিকে একটি মাসিক সাহিত্যপত্র প্রকাশ করা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। একটি সাহিত্যপত্রিকা মুদ্রণ করে পুরো এলাকায় সাহিত্য-বান্ধব পরিমণ্ডল তৈরি করাও মোটেই সাধারণ ব্যাপার ছিল না। এই কথা বেশ জোর দিয়েই বলা যায় যে ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর মতো একটি উঁচুমানের সাহিত্য-মাসিক ধারণ করার সক্ষমতা ও পরিবেশ আমার গুরুগৃহের ছিল বলেই নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৫ মাসে ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর ২৫টি সংখ্যা বের হয়েছিল।

বিস্মৃত ‘ছাত্র-সুহৃদ’-মাসিক সাহিত্যপত্র ছিল আমাদের স্থানীয় ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল প্রতীক I ‘এই সাহিত্যপত্রটি আমাদের স্মরণে নেই হয়ে গেলেও এই মাসিকটি ছিল আমাদের স্কুলের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের স্থানীয় ঐতিহ্যের এমন একটি উজ্জ্বল প্রতীক সম্পর্কে ‘ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’ নামক স্মরণগ্রন্থ প্রকাশকালে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সেইসব বিস্মৃত মহাত্মাদের নাম যাঁরা আমার স্মৃতির ভুবন কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি হাই স্কুলের উদ্ভব ও বিকাশের বিস্মৃতিযুক্ত ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

‘বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি’ নামক প্রবন্ধটি এই বিশেষ সংকলনে সংযুক্ত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আমাদের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের বিস্মৃত প্রারম্ভিক ইতিহাসের সঙ্গে ‘ছাত্র-সুহৃদ’ নামক সাহিত্য-পত্রের আবির্ভাব ও তিরোভাবের ইতিকথা একসূত্রে গাঁথার প্রয়াস।

এই স্মরণিকাতে যে শ্রদ্ধাস্পদেষু অগ্রণীগণের সম্পর্কে কিছু কথা (কারুর পূর্ণ জীবনী নয়) গভীর শ্রদ্ধায় বিবৃত হল তাঁদের নামগুলো হল : ১. পুণ্যশ্লোক স্বর্গীয় কালীকৃষ্ণ চৌধুরী, ২. (সামগ্রিক অর্থে) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যাঁরা ১৮৮৯ সালে একটি ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে কালীগঞ্জ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বর্ণোজ্জ্বল পথযাত্রায় আর্থিক বদান্যতা দেখিয়েছিলেন; ৩. সুকবি শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়, ৪. ভাওয়াল পরগনার জমিদার রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়, ৫. সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন ঘোষ, ৬. কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের নিবেদিতপ্রাণ ভূতপূর্ব হেডমাস্টার শ্রদ্ধাস্পদেষু শ্রীযুক্ত বগলাপ্রসন্ন বিশ্বাস, ৭. বিলুপ্ত ‘ছাত্র-সুহৃদ’-এর নিষ্ঠাবান সংগ্রাহক ও সংরক্ষক এবং কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের বরেণ্য শিক্ষক মৌলভী বদরুজ্জামান, এবং ৮. ছাত্র-শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে যাঁরা ‘ছাত্র-সুহৃদ’ নামক মাসিক সাহিত্য পত্রিকার জন্য লিখেছিলেন।

স্মরণে পুণ্যশ্লোক স্বর্গীয় কালীকৃষ্ণ চৌধুরী

গভীর শ্রদ্ধায় যে অগ্রণীগণের নাম এই স্মরণিকা-তে উল্লেখ করা হল তাঁদের মধ্যে শুধুমাত্র স্বর্গীয় কালীকৃষ্ণ চৌধুরীকেই তৎকালীন কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বলে আখ্যায়িত করা যায়। তাই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি পুণ্যশ্লোক স্বর্গীয় কালীকৃষ্ণ চৌধুরীকে, যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে, উৎসাহে, মহানুভবতায়, বদন্যতায় ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে ১৮৮৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল’ যাত্রা শুরু করেছিল। আমাদের বৃহত্তর এলাকায় আধুনিক শিক্ষা প্রসারকল্পে ১৮৮৯ সালে এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষা মানের কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। এক ধরনের বৈরী পরিবেশ ও প্রচ্ছন্ন ভ্রæকুটি থাকা সত্তে¡ও কালীগঞ্জে একটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য প্রজা-হিতৈষী বিদ্যোৎসাহী মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরী যে ধরনের দরদ, সদিচ্ছা ও কর্মোদ্যোগ দেখিয়েছিলেন তা ছিল আত্মৎসর্গের বিরল দৃষ্টান্ত।

আমার বাবা সবসময় তাঁর ছাত্রদেরকে বলতেন, কালীগঞ্জের লোকজন অনেক সৌভাগ্যবান যে মান্যবর মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর মতো মহৎপ্রাণ কেউ আমাদের এলাকায় আধুনিক শিক্ষা প্রসারকল্পে কালীগঞ্জে প্রবেশিকা মানের একটি ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। তাই তিনি প্রায়শই বলতেন যে, কাউকে যদি কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল বা কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বলে চিহ্নিত করতে হয় তাহলে সেই পুণ্যশ্লোক নামটি হবে ‘মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরী’ ।

কোন চরম সত্য কখনও চিরদিনের জন্য বিলীন হয়ে যায় না। একটি দলিল-তুল্য গবেষণালব্ধ প্রবন্ধে আমার পিতা মরহুম মৌলভী বদরুজ্জামান মাস্টার পরিষ্কার ভাষায় লিখেছিলেন : “ভূতপূর্ব মুনসেফ বাবু কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর চেষ্টায় এবং স্থানীয় উকিলবাবুদের সাহায্যে কালীগঞ্জের মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়টি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়” (‘সুকবি শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়’. শ্রী বদরুজ্জামান, ‘ছাত্র-সুহৃদ’, তৃতীয় বর্ষ, ২য় ও ৩য় (যুক্ত সংখ্যা), জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩২০ সন)।

মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরী যে কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুলের মূল প্রতিষ্ঠাতা সেই কথা আমার পিতা একটি প্রবন্ধে লিখে যাওয়াতে আমরা তাঁর নামটি আজকে উল্লেখ করছি। তাঁর জীবনবৃত্তান্ত এবং তাঁর অনেক গুণাবলির ও চরিত্র-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমি আমার পিতার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম। শুনেছি যে আমাদের স্কুলটি প্রতিষ্ঠার ২৫ বা ৩০ বছর পরেও সাধারণ লোকের মুখে মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর পুণ্যশ্লোক নামটি অতি শ্রদ্ধার সঙ্গেই উচ্চারিত হত। তবে সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর নামটি কালীগঞ্জবাসীর সম্মিলিত স্মৃতি থেকে চিরদিনের জন্য অতীতের গহ্বরে হারিয়ে যায়।

‘কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল’ স্থাপন করার এক বৎসর পরেই ১৮৯০ সালের প্রথমদিকে মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীকে কালীগঞ্জ ত্যাগ করতে হয়েছিল। তাঁর কালীগঞ্জ ত্যাগের ১৩৫ বছর পরও আমার পিতা ব্যতীত কোনো লেখক এই মহান ব্যক্তির সম্পর্কে কিছুই লেখেননি। আমার জানা মতে তাঁর উপর কোন জীবনীগ্রন্থ লেখা হয়নি। নিরলস কর্মযোগী মাননীয় মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নামটি আমরা স্মরণ করি না। যাঁর বদান্যতায় আমাদের উঁচু মানের বিদ্যাপীঠটি স্থাপিত হয়েছিল সেই নিরহংকারী ও মহান ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে গেলে আমরা কিছুই জানি না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কালীগঞ্জের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরী মহাশয়ের নেতৃত্বে কী করে ১৮৮৯ সালে ‘কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল যাত্রা শুরু করেছিল সেই ইতিবৃত্ত জানার জন্য পড়ুন : ‘সুকবি শ্রীযুক্ত কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়’, শ্রী বদরুজ্জামান, (‘ছাত্র-সুহৃদ’, তৃতীয় বর্ষ, ২য় ও ৩য় (যুক্ত সংখ্যা), জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩২০ সন)।

আরও পড়ুন: আমার লেখা ২টি প্রবন্ধ: ‘কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠায় আমাদের এলাকায় আধুনিক শিক্ষার অগ্রদূত মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর অবিস্মরণীয় অবদান’ এবং ‘আমার পুণ্যশ্লোক পিতার স্মৃতির ভুবন কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি হাই স্কুল: একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্ভব ও বিকাশের বিস্মৃত প্রারম্ভিক ইতিহাস’যা আমার প্রকাশিতব্য বইয়ে পাবেন: ‘আমার গুরু-গৃহ কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: গ্রামীণ পূর্ববাংলার আলোকবর্তিকাসম একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরা’, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: ড. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক (রেডিয়েন্ট পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ২০২৬ সাল)।

পরম শ্রদ্ধায় স্মরি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যাঁরা ১৮৮৯ সালে একটি ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে কালীগঞ্জ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বর্ণোজ্জ্বল পথযাত্রায় আর্থিক বদান্যতা দেখিয়েছিলেন

এই কথা দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায় যে তৎকালীন কালীগঞ্জ মুনসেফ কোর্টের বিদ্যোৎসাহী মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরী মহাশয়ের নেতৃত্বে কালীগঞ্জের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে ‘কালীগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল’ স্থাপন করেছিলেন। গভীর শ্রদ্ধায় ও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি তাঁদেরকে যাঁরা শত ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আধুনিক শিক্ষার অগ্রদূত বিদ্যোৎসাহী মুনসেফ কালীকৃষ্ণ চৌধুরীর উদাত্ত আহবানে একটি ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে আলোর-দিশারী-তুল্য কালীগঞ্জ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনে আর্থিক সাহায্য ও বিবিধ ধরণের আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন।

গ্রন্থঋণ: 'ছাত্র-সুহৃদ: হিরণ্ময় স্মৃতি’(আশ্বিন ১৩১৮ সাল -আশ্বিন ১৩২০ সাল) (পৃষ্ঠা নং ৮৮-৫৫) I
সম্পাদনায়: মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক

Want your school to be the top-listed School/college in Gazipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Kaliganj/Ghorashal Highway, Kaliganj
Gazipur
KALIGONJ

Opening Hours

Monday 10:00 - 16:00
Tuesday 10:00 - 16:00
Wednesday 10:00 - 16:00
Thursday 10:00 - 16:00
Saturday 10:00 - 16:00
Sunday 10:00 - 16:00