Sim Bonus Offer
22/03/2026
চীন যখন মার্কিন অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে দেওয়ার খুব নিকটে অবস্থান করেছে এবং অন্য দেশগুলোও যখন ডলারের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে তখনি ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে পুনরায় গ্রেট করার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসেন। ‘America great again’ থিওরির উদ্দেশ্যই হলো চায়না অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দেওয়া ও ডলার ব্যাবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা। যেন কোনো দেশ ডলারের বাহিরে গিয়ে কিছু করতে না পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য সারাবিশ্বকে টালমাটাল করে তুলেছেন। তিনি জানেন বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের কর্তৃত্ব হারানো মানেই মার্কিন আধিপত্যের পতন ঘটা । ডোনাল্ড ট্রাম্প কিভাবে গভীরভাবে এগুচ্ছে তা একটু বুঝার জন্য চলুন আমরা ইতিহাসের পাতায় কিছুক্ষণের জন্য ফিরে যাই।
সৌদি আরবের মাটিতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তেলখনি আবিষ্কৃত হয় এবং দেশটির আনাচে-কানাচেতে তেলের খনিতে ভরপুর। কিন্ত তখন সৌদি সরকারের প্রযুক্তি ছিলনা তেল উত্তোলন করার। তারপর সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য একটি চুক্তি হয়। আমেরিকা সৌদি আরবকে তেল তুলে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা ও বৈদেশিক শত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক সহায়তা দিবে। সৌদি আরব শুধু ডলারের মাধ্যমে অন্যদেশগুলোতে তেল বিক্রি করবে। এই চুক্তির পর আমেরিকার ডলারের মান ওভার নাইট সকল মুদ্রাকে পেছনে শীর্ষ স্থান দখল করে। এই চুক্তিকে ১৯৭৪ সালের পেট্রো ডলার চুক্তি বলে।
১৯৯০ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করে ফেললে তখন সৌদি আরব তীব্র নিরাপত্তাহীনতার আশংঙ্কায় পড়ে। তখনকার সৌদির কিং ফাহাদ দ্রুত আমেরিকাকে ব্যাবস্থা নিতে আহ্বান করে। পেট্রো ডলার চুক্তি অনুসারে আমেরিকা যৌথ বাহিনী গঠন করে সাদ্দাম হোসেনকে কোণঠাসা করে কুয়েতকে সাদ্দাম হোসেন থেকে রক্ষা করে। কিন্তু তখনকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বোস একটু দুষ্টু গেইম খেলে। সাদ্দামকে প্রতিহত করার জন্য যত সেনা এনেছিল আরব দেশগুলোতে সেগুলো আর প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়নি। আরবের প্রতিটি দেশেই মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণ করে। মূলত পেট্রো ডলারের চুক্তি যেন কিছুতেই ভাঁটা না পড়ে এটির স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে আমেরিকা।
তারপরেও একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসে যখন সব দেশ ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে, আবার চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখনি যুক্তরাষ্ট্র আবার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভেনেজুয়েলাকে দখল করেছে যেন কোনোভাবেই চীনের কাছে পেট্রোলিয়াম বিক্রি না করে। এখন ইরানকে আক্রমণ করেছে। ইরানকে আক্রমণ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র চারটি প্ল্যান মাথায় নিয়ে নেমেছে।
১) ইরানের তেল বাণিজ্য কন্ট্রোল
২) ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে না দেওয়া। তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল কর্তৃত্ব হারাবে।
৩) ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ালেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র অন্যদেশগুলোকে বুঝাবে হরমুজ প্রণালীর প্রয়োজনীয়তা। তারপর এটি দখল করে সম্পূর্ণ নিজেদের কন্ট্রোলে নিবে। এবং কোনো দেশকে ডলার ব্যাতির তেল বিক্রি করার অনুমতি দিবেনা। মানে হরমুজ প্রণালীতে চিরস্থায়ী ডলার কারেন্সি বাস্তবায়ন।
৪) ইসরায়েলের গ্রেটার ইসরায়েল বাস্তবায়নে প্রথম কাঁটা ইরান। সেটিকে সরিয়ে দেওয়া।
উপরের চারটি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন করে ফেলতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পেছনে ফেলা ও কোনো দেশ ডলার বিকল্প ভাবতে সাহস দেখাবেনা। আর এটিই হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘America great again’ প্রকল্প বাস্তবায়ন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটুকু সফল হতে পারবেন সেটা সময় বলে দিবে।
বিচার হবেনা, লিখে রাখেন....
নরসিংদীর ঘটনাটা অনুধাবন করলেই বুঝতে পারবেন কতটা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা।
১৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে গণধ'/র্ষণ করা হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে। থানায় মামলা করতে দেয়া হয়নি।
স্থানীয় মেম্বার মীমাংসা করে দেয় তার মতো করে। এরপরও উত্যক্ত করা হতে থাকে মেয়েটাকে। জান বাঁচাতে তাকে দূরে আত্মীয়ের বাসায় রেখে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তার বাবা। পথিমধ্যে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও ধ'/র্ষণ করা হয়৷ এরপর খু'/ন করে লা'শ ফেলে রাখে ধানক্ষেতে।
কি বিভৎস অবস্থা!
চিন্তা করবেন না। দুইদিন হাহুতাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পূরো জাতি আজ বিচার দাবী করছে ফেসবুকে। কেউ প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন না। অন্যের মাইয়া মরছে, তাতে আমার কি? আপনারটা যেদিন মরবে সেদিনও কেউ কেউ এই কথা বলবে।। হ্যা এটাই বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জ দিলাম - বিচার করে দেখান।
শিশুর হাইপারএকটিভিটি কি এবং কমাতে কি করবেন?🤷♀️
শিশুর হাইপারএকটিভিটি আসলে কোনো “দুষ্টুমি” বা “শাসনের অভাব” নয়, এটা মূলত তার ব্রেইনের Self-Regulation System দুর্বল হওয়ার একটি প্রকাশ। নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মস্তিষ্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম একসাথে কাজ করে তাকে শান্ত, মনোযোগী ও নিয়ন্ত্রিত রাখে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে ভারসাম্য নষ্ট হলে শিশুর আচরণ অস্থির, অতিরিক্ত চঞ্চল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমটি হলো Impulse Control System। এটি শিশুকে শেখায়, “থামো, ভেবে নাও, তারপর কাজ করো।” এই সিস্টেম মূলত Prefrontal Cortex দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন এটি দুর্বল থাকে, তখন শিশু হুটহাট দৌড়ায়, আঘাত করে, জিনিস ছুড়ে দেয়, কথা না শুনেই কাজ করে। তার ব্রেইন তখন “pause button” ব্যবহার করতে পারে না। ফলে সে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বারবার ভুল বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয়টি হলো Sensory Processing System। শিশুর ব্রেইন প্রতিদিন হাজারো sensory ইনপুট নেয়, যেমন: শব্দ, আলো, স্পর্শ, রং, স্ক্রিনের মুভমেন্ট। যখন এই ইনপুট অতিরিক্ত হয়ে যায় (যেমন: বেশি টিভি, মোবাইল, শব্দ, ভিড়, চিৎকার), তখন ব্রেইন overstimulated হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে বলা হয় Sensory Overload। তখন শিশুর নার্ভাস সিস্টেম “fight or flight mode”-এ চলে যায়। ফলাফল অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ, চিৎকার, অস্থিরতা, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
তৃতীয়টি হলো Prefrontal Cortex-এর কার্যক্ষমতা।
এই অংশটিই মানুষের “thinking brain”—যা পরিকল্পনা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অংশটি পুরোপুরি পরিপক্ব হতে ২০–২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তাই যদি শিশুর পরিবেশে বেশি স্ট্রেস, চিৎকার, ভয়, স্ক্রিন, কিংবা নিরাপত্তাহীনতা থাকে, তবে এই অংশের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন শিশুর ব্রেইন আবেগে ভেসে যায়, যুক্তি দিয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই তিনটি সিস্টেম একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একটি দুর্বল হলে অন্যগুলোকেও প্রভাবিত করে। তাই শিশুর হাইপারএকটিভিটি কমাতে শুধু শাসন নয়, বরং তার ব্রেইনের এই তিনটি সিস্টেমকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে হয়, ভালো রুটিন, কম স্ক্রিন, পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাবার, নিরাপদ পরিবেশ ও সংবেদনশীল প্যারেন্টিংয়ের মাধ্যমে।
অনেকের বাচ্চাই হাইপারএকটিভ কি করে কমাবেন হাইপারএকটিভিটি, খুব কার্যকর কিছু উপায় বলছি💁♀️
নিয়মিত রুটিন💁♀️
শিশুর হাইপারএকটিভিটি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ব্রেইনকে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমেয়তা (predictability) দেওয়া। প্রতিদিন ঘুম, খাওয়া, খেলা ও পড়ার সময় নির্দিষ্ট থাকলে শিশুর নার্ভাস সিস্টেম বুঝতে শেখে—এখন কী হবে। এই ধারাবাহিকতা ব্রেইনের “survival mode” বন্ধ করে তাকে শান্ত হতে সাহায্য করে। কারণ অনিশ্চয়তা ব্রেইনের জন্য হুমকি, আর রুটিন হলো নিরাপত্তার সংকেত।
No স্ক্রীন💁♀️
এরপর আসে স্ক্রিন নিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য মোবাইল ও টিভি অতিরিক্ত ডোপামিন রিলিজ করে, যা ব্রেইনকে কৃত্রিম উত্তেজনায় অভ্যস্ত করে তোলে। ফলে স্বাভাবিক খেলাধুলা, মানুষের সাথে কথা বা বই পড়া তার কাছে “বোরিং” লাগে। এই overstimulation থেকেই মনোযোগের ঘাটতি ও হাইপারএকটিভ আচরণ তৈরি হয়। তাই স্ক্রিন যত কম হবে, ব্রেইন তত বেশি ব্যালান্সে থাকবে।
Heavy Work করাতে হবে💁♀️
হাইপারএকটিভ শিশুর জন্য খুব কার্যকর একটি পদ্ধতি হলো Heavy Work Activity। যখন শিশু বালতি টানে, দেয়ালে ধাক্কা দেয়, বালিশ ঠেলে সরায় বা ভারী বোতল বহন করে—তার গভীর পেশি ও জয়েন্ট থেকে ব্রেইনে শান্ত হওয়ার সংকেত যায়। একে বলে proprioceptive input, যা sensory system কে regulate করে এবং শিশুকে ভেতর থেকে স্থির করে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘন্টা হেভি একটিভিটিস করান।
বসায় শান্ত কর্নার রাখুন💁♀️
এর সাথে যুক্ত করা যায় একটি Calm-Down Corner যা কোনো শাস্তির জায়গা নয়, বরং “শান্ত হওয়ার আশ্রয়”। এখানে নরম বালিশ, প্রিয় বই, সফট টয় ও ডিপ ব্রিদিং কার্ড থাকলে শিশুর ব্রেইন বুঝতে শেখে, আমি এখন নিরাপদ, আমি এখানে এসে শান্ত হতে পারি। ধীরে ধীরে সে নিজেই সেখানে যেতে শিখবে।
এখানে নরম বালিশ, ছোট কম্বল ও প্রিয় সফট টয় রাখলে শিশুর ব্রেইন নিরাপত্তার অনুভূতি পায়। সেন্সরি রেগুলেশনের জন্য রাখা যায় স্ট্রেস বল, ফিজেট টয়, প্লে-ডো বা বিভিন্ন টেক্সচারের খেলনা, যা অতিরিক্ত শক্তি বের করতে সাহায্য করে। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ শেখাতে রাখতে পারেন ব্রিদিং কার্ড, বুদবুদ ফুঁ দেওয়ার খেলনা বা ছোট আয়না, যাতে সে নিজের অনুভূতি চিনতে শেখে। মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ছবি বই, সহজ পাজল বা ফিলিং কার্ড রাখা যেতে পারে। শব্দ শান্ত করার জন্য হালকা মিউজিক টয় বা রেইন স্টিক ভালো কাজ করে। এই কোণাটি কখনো শাস্তির জায়গা হবে না, বরং হবে শান্ত হওয়ার আশ্রয়।
শিশুর impulse control বাড়াতে হবে।💁♀️
শিশুর impulse control বাড়াতে প্রয়োজন Movement এবং Focus Game। “Freeze & Move”, “Red Light, Green Light”, “Simon Says”—এই খেলাগুলোতে তাকে থামা, অপেক্ষা করা ও নির্দেশ মানা শেখানো হয়। এগুলো সরাসরি Prefrontal Cortex সক্রিয় করে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়। এই খেলা সম্পর্কে অনেকেই ভালো জানেন না।চলুন একটু আলোচনা করি। Freeze & Move, Red Light–Green Light এবং Simon Says—এই তিনটি খেলা শিশুর ব্রেইনের impulse control, মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াতে খুব কার্যকর। এগুলো খেলতে কোনো খেলনার প্রয়োজন নেই, শুধু বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ আর একটু জায়গা হলেই যথেষ্ট। Freeze & Move খেলায় প্রথমে শিশুকে নড়াচড়া করতে বলুন—নাচা, দৌড়ানো বা লাফানো। আপনি যখন বলবেন “Move”, তখন সে নড়বে, আর হঠাৎ “Freeze” বললে তাকে একদম থেমে থাকতে হবে। এতে সে শিখে যায় কখন থামতে হবে এবং শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। Red Light, Green Light খেলায় “Green Light” বললে সে সামনে এগোবে, আর “Red Light” বললে থেমে যাবে। ভুল হলে বকা না দিয়ে হাসি দিয়ে আবার শুরু করুন। এই খেলাটি শিশুকে অপেক্ষা করতে ও নির্দেশ বুঝে কাজ করতে শেখায়। এবং Simon Says খেলায় আপনি বলবেন, “Simon says লাফ দাও”—এতে সে লাফ দেবে। কিন্তু যদি শুধু বলেন “হাত তোল” (Simon says ছাড়া), তাহলে সে করবে না। এতে সে আগে শোনা, তারপর ভাবা, এরপর কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলে। প্রতিদিন ৫-১০মিনিট করে খেলা গুলো প্র্যাক্টিস করলেই হবে।
খাবারের দিকে নজর দিন💁♀️
খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি, কারণ Gut-Brain Connection খুব শক্তিশালী। বেশি চিনি, চিপস, রংওয়ালা জুস শিশুর ব্রেইনে অস্থিরতা বাড়ায়। আর ডিম, কলা, বাদাম, মাছ ও শাকসবজি ব্রেইনের নিউরোট্রান্সমিটার ব্যালান্স করতে সাহায্য করে। শান্ত ব্রেইনের জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য। তাই খাবার দিয়ে শুধু পেট আর আপনার শান্তির জন্য চোখ ভরালে হবেনা। পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
ছোট আদেশ দিন💁♀️
হাইপারএকটিভ শিশুর ক্ষেত্রে Short Instruction খুব কার্যকর। লম্বা কথা তার ব্রেইনের জন্য overload হয়ে যায়। তাই এক লাইনের স্পষ্ট নির্দেশ—“বলটা রাখো”, তার ব্রেইন সহজে প্রসেস করতে পারে এবং সে দ্রুত সাড়া দেয়। লম্বা কথা বলে চিৎকার করে আপনার ও শিশুর জন্য বিপদ বাড়াবেন না। ছোট নির্দেশ দিন।
ইমোশন চিনতে শেখান💁♀️
একইভাবে, Emotion Labeling শেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন শিশু দৌড়াদৌড়ি বা চিৎকার করছে, তখন বলা—“তুমি খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে”, এই শব্দগুলো তার লিম্বিক ব্রেইনকে শান্ত করে। কারণ নাম দিলে আবেগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে ওঠে। তাই তার অবেগ বুঝে, আবেগের নাম দিন।
ঘুম ঠিক করুন💁♀️
এছাড়া, ঘুমের অভাব হাইপারএকটিভিটিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৩–৫ বছরের শিশুর প্রতিদিন ১০–১২ ঘণ্টা গভীর ঘুম দরকার। ঘুমের সময় ব্রেইন নিজেকে reset করে, আবেগ ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের শক্তি ফিরে পায়। আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আপনাদের ঘুমের ক্লাসটা নানা ব্যাস্ততায় নিতে পারছিনা। এই মাসেই নেবার বেস্ট ট্রাই করবো। ঘুম অবশ্যই ঠিক করতে হবে।
বাবা-মা শান্ত থাকুন💁♀️
সবশেষে, সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় হলো বাবা-মায়ের নিজস্ব শান্ত নার্ভাস সিস্টেম। শিশু আমাদের কথা নয়, আমাদের আবেগ কপি করে। আপনি যদি চিৎকার করেন, অস্থির হন, তার ব্রেইন সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়। অনেকে বাচ্চার সাথে চিৎকার না করলেও সংসারের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বাচ্চার সামনেই চিৎকার করেন, বাচ্চা খুব ভালোভাবে তা কপি করে। দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আর আপনি যদি শান্ত থাকেন, ধীর কণ্ঠে কথা বলেন—তার ব্রেইনও ধীরে ধীরে সেই শান্ততা শিখে নেয়।
এভাবেই আমরা শিশুকে শাসন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ শিখতে সাহায্য করতে পারি।
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?
শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে একইভাবে চলতে থাকে, এবং তাতে কোনো উন্নতি না দেখা যায়, আপনি আমার উপরে বর্নিত কাজ কয়েক মাস করেও কোনো রেজাল্ট পাচ্ছেন না। তাহলে এটাকে আর “সাধারণ বয়সের দুষ্টুমি” হিসেবে না দেখে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া, যদি এই আচরণ স্কুল, খেলাধুলা বা সামাজিক পরিবেশে বড় সমস্যা তৈরি করে, যেমন সে নিয়ম মানতে পারে না, বারবার ঝগড়া করে, পড়াশোনা বা নির্দেশ অনুসরণ করতে অক্ষম হয়—তাহলে এটি তার শেখা ও সম্পর্ক গঠনে বাধা দিচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যদি শিশুর আচরণে নিজের বা অন্যের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়—যেমন মারধর, কামড়, জিনিস ছুড়ে মারা, নিজেকে আঘাত করা—তাহলে দেরি না করে দ্রুত সাহায্য নেওয়া জরুরি।
এই অবস্থায় একজন Developmental Pediatrician বা Child Psychologist শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট, আচরণ ও আবেগের কারণগুলো বুঝে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারবেন। সময়মতো সাপোর্ট পেলে অধিকাংশ শিশুই খুব ভালোভাবে উন্নতি করতে পারে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Gandaria