NR World
24/06/2026
#শুধু_গ্রিন_টি_নয়, রক্তনালি প্রসারিত করে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে আরও কিছু পানীয়, রইল তিনটির সন্ধান
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেরা পানীয়? অনেকেই উত্তর দেবেন, গ্রিন টি। সত্যিই এই চায়ের হাজারো গুণ রয়েছে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এমন আরও কিছু পানীয় রয়েছে, যেগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া, নিয়মিত শারীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর যাপনের সঙ্গে এই পানীয়গুলি যুক্ত হলে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও উপকার হতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, কোনও পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়। এগুলিকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।
💥💥 রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী ৩ পানীয়
✅ জবার চা
এই চা ঠান্ডা খাওয়া যায়, গরমও। যাঁর যেমন পছন্দ, তেমন ভাবেই বানাতে পারেন। জবাফুলের গুণ এই চায়ের মধ্যে পাওয়া যায়। এর পলিফেনল রক্তনালিকাগুলিকে শিথিল করে দিতে পারে। ফলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় না। যাঁদের ক্যাফিনের সঙ্গে বোঝাপড়া ভাল নয়, তাঁরা এই চা দিব্যি খেতে পারেন। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-র দুর্দান্ত এক উৎস এটি। কেবল রক্তচাপ নয়, জবার চা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও জন্যও কার্যকর। পাশাপাশি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ওজন কমায়, এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
✅ বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফল নয়, এটি হার্টের জন্যও উপকারী বলে মত পুষ্টিবিদদের। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। এই ফলের রস প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। রক্তনালির কার্যকারিতা ভাল রাখতে পারে, তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো বেদানার রস এড়িয়ে চলা ভাল। তার চেয়ে নিজে বানিয়ে খাওয়া উচিত।
✅ বিটের রস
ডায়েটারি নাইট্রেটের দুর্দান্ত উৎস বিট। শরীরে গিয়ে সেই নাইট্রেটই পরিণত হয় নাইট্রিক অক্সাইডে। আর সেটিই রক্তনালিকে শিথিল ও প্রসারিত করে দিতে পারে। ফলে রক্তচাপ চলাচল করা সহজ হয়। ব্লাড প্রেশারের রোগ থাকলে এই রস উপকারী। তা ছাড়া শরীরচর্চার কর্মক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে এই পানীয়।
উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, দীর্ঘ দিন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু স্বাস্থ্যকর পানীয়ের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং সুষম জীবনযাপন জরুরি।
22/06/2026
#ত্বকের_গোটা_কি_ব্রণ, সিস্ট নাকি অন্য কিছু
ত্বকে ছোটখাটো গোটার মতো অংশ দেখা দেয় অনেকেরই। কিছু গোটা থাকে ত্বকের ঠিক নিচে। কেবল মুখেই নয়, শরীরের অন্যান্য অংশেও গোটা হতে পারে নানা কারণে। এসব গোটার অধিকাংশ নিয়েই ভয়ের কিছু নেই। তবে জানা থাকা উচিত ত্বকের গোটার বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে। এ বিষয়ে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম–এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম
সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণের সমস্যা শুরু হয়। হরমোনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে ব্রণের। জীবাণুর সংক্রমণও এর জন্য দায়ী।
তবে ২০-২২ বছর বয়সেও ব্রণ হয় অনেকের। এমনকি এই বয়সটা পেরোনোর পরও কেউ কেউ ভোগেন এই সমস্যায়। যে বয়সেই ব্রণ হোক না কেন, গোটার সামনে কালচে একটি মুখ দেখা যেতে পারে। হালকা ব্যথাও থাকে।
সিস্ট হয় অনেকেরই
যেকোনো বয়সেই ত্বকে সিস্ট হতে পারে। সিস্টের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। সিস্ট হলো তরলপূর্ণ একটি থলির মতো অংশ। অর্থাৎ সিস্টে যদি হালকা চাপ দেওয়া হয়, তাহলে বোঝা যাবে এটি বেশ নরম।
সিস্টের আকার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে; আবার না-ও বাড়তে পারে। সংক্রমণ না হলে কিংবা জীবনযাত্রায় কোনো সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ালে সিস্টের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
কোনো কোনো সিস্টের সামনে মুখ থাকে। সেখান থেকে সাদাটে ক্রিম–জাতীয় তরল বের হতে পারে। এই তরল কিন্তু পুঁজ নয়। তাই এ নিয়েও ভয় পাবেন না।
যদি সংক্রমণ হয়, কেবল তখনই পুঁজ হয়। তখন সিস্টের জায়গায় ব্যথা হতে পারে। সেখানে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
ফোড়াও হতে পারে
ত্বকে জীবাণুর সংক্রমণ হয়ে ফোড়া হয় অনেকেরই। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে ঘাম ও ধুলাময়লা জমে যাওয়ার কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোটার ভেতর পুঁজ জমা হওয়ার কারণে ওই জায়গায় বেশ ব্যথা হয়। সুই খোঁচানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি হতে পারে। গোটাটি লালচে হতে পারে।
👉 টিউমার–জাতীয় গোটা
অল্প কিছু ক্ষেত্রে ত্বক বা ত্বকের নিচে টিউমার–জাতীয় কোনো গোটা সৃষ্টি হতে পারে। এসব অনেকটা শক্ত হয়। চামড়ার ভেতরে এ ধরনের গোটা সাধারণত নাড়ানো যায় না।
অর্থাৎ গোটাটি ধরে আপনি নাড়াতে চেষ্টা করলেও তা ত্বকের ভেতরে বা ত্বকের নিচে একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই থাকে। এ ধরনের গোটা দ্রুত বড়ও হতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
তবে চর্বিজাতীয় কোষ দিয়ে তৈরি টিউমার একই অবস্থায় বহুদিন রয়ে যেতে পারে। এ ধরনের টিউমারকে বলা হয় লাইপোমা। লাইপোমা একেবারেই নিরীহ প্রকৃতির টিউমার। জীবনধারায় কোনো সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ালে এই টিউমার অপসারণ করার প্রয়োজন নেই।
✅✅ যেকোনো গোটা থাকলে করণীয়
★ নারী ও পুরুষ উভয়েরই ত্বকে যেকোনো গোটা হতে পারে। গোটা দেখা দিলে সচেতন হতে হবে সবাইকেই। এটি কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং সুস্থ থাকতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত সবারই।
★ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। কোনো গোটায় নখ দেবেন না। গোটা খুঁটে তোলার চেষ্টা করবেন না। সুইজাতীয় কিছু দিয়ে ছিদ্র করার চেষ্টা করবেন না।
★ গোটায় জোরে চাপ দিয়ে সেটির ভেতর থেকে কিছু বের করে আনার চেষ্টা করবেন না।
★ মুখ বা শরীরের কোনো জায়গায় গোটা হলে সেটির ওপর দিয়ে ব্লেড বা রেজার চালাবেন না। শেভ করতে হলে সাবধানে করুন।
★ ব্রণ হলে ত্বকের যত্নের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ত্বক অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাবান ব্যবহার করতে হবে। রোজ দুবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। তেলজাতীয় বা চিটচিটে ধরনের প্রসাধনী এড়িয়ে চলতে হবে।
★ তবে ব্রণ নিয়ে ভোগান্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট মলম দিলে ব্রণ সেরে যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন হয়। এখন ব্রণের উন্নত চিকিৎসা আছে। সেরে উঠতে একটু সময় লাগলেও সঠিকভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলে পরে আর দাগ থাকে না। তবে নিজে থেকে যেকোনো মলম ব্যবহার করা উচিত নয়। হিতে বিপরীত হতে পারে।
★ সিস্টের জন্য সাধারণত কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে সংক্রমণ হলে কিংবা খুব বেশি বড় হয়ে গেলে চিকিৎসা প্রয়োজন। সংক্রমণের জন্য চিকিৎসক আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সিস্ট হলে তা দূর করতে কোনো মলম কার্যকর নয়। সিস্ট অপসারণ করতে শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
★ টিউমার–জাতীয় গোটা সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন। সাদামাটা লাইপোমা হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না। তবে অন্য ধরনের টিউমার হলে সেটির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
#ত্বক
#ব্রণ
#ত্বকেরযত্ন
কোন রোগ ভালো করতে কোন শাক খাবেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Feni
140