Md Rayhan Sheikh

Md Rayhan Sheikh

Share

13/09/2023

মেলানিন:

মেলানিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে তৈরি হয়, যার কারণে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, চুল ও চোখের মণি পাখির পালক কালো হয়। মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়। এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত।

ত্বকে উপস্থিত বিশেষ কোষ মেলানোসাইট থেকে উৎপন্ন হয়। মেলানিন নামক রঞ্জক যেটি ত্বকের বর্ণায়নের জন্য দায়ী। এ কোষগুলো কোনোভাবে আহত হলে মেলানিনের উপাদান ব্যাহত হয়। কিছু অসুখের ক্ষেত্রে শুধু দেহের অংশবিশেষের ফলে আক্রান্ত হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেহেই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত মেলানিনের উপস্থিতি ত্বকের রং গাঢ় করে এবং মেলানিনের অভাবে ত্বকের রং ফ্যাকাশে করে। মেলানিনের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে কিছু রোগের উৎপত্তি হতে পারে, যেমন- ভিটিলেগো বা শ্বেতি যাতে ত্বকে সাদা ছোপ দেখা দেয়, আলবিনিজাম ইত্যাদি যা ত্বকের রংকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণ ও উপসর্গ :

১. চুল, দাড়ি, গোঁফ, ভ্রম্ন এবং চোখের পাতা খুব কম বয়সে সাদা হয়ে যায়।

২. মুখের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের চামড়ার রং নষ্ট হয়ে যায়।

৩. ত্বকের বর্ণলোপ।

৪. ত্বকের এক বা একাধিক অঞ্চলের বর্ণলোপ।

৫. সমগ্র দেহের বর্ণলোপ।

কারণগুলো : ত্বকে কিছু অন্তর্নিহিত অবস্থার জন্য মেলানোসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মেলানিনের উপাদান ব্যাহত হয়, তার ফলস্বরূপ মেলানিনের অভাব ঘটতে পারে।

\হউত্তরাধিকার সূত্রে ঘঠিত মেলানিনের অভাব হলে মেলানিন শরীরে কম থাকে বা শরীরে থাকে না বললেই চলে। যেমন- আলবিনিজম।

অটোইমিউন রোগের ফলে শরীরের আঞ্চলিক বা সামগ্রিক মেলানোসাইট ধ্বংস হয়ে যাওয়া। যেমন- শ্বেতি।

আলসার, পোড়া, ফোসকা, সংক্রমণ ইত্যাদি আঘাতের ফলে ত্বকের কোপ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং আহত অঞ্চলের মেলানিন প্রতিস্থাপিত না হওয়া।

নির্ণয় ও চিকিৎসা :

যে পদ্ধতির মাধ্যমে এটি

নির্ণয় করা যায়।

১. রোগের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ইতিহাস।

২. সাদা ছোপ সন্ধানে শারীরিক পরীক্ষা।

৩. ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্তকরণে রক্ত পরীক্ষা।

৪. আক্রান্ত ত্বকের বায়োপসি।

যে কারণে মেলানিনের অভাব ঘটেছে তার ওপরে এর চিকিৎসা নির্ভর করে। চিকিৎসক যে সব পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সেগুলো হলো- কটিকোষ্টরয়েড ক্রিম, ন্যারো-ব্যান্ড আল্ট্রাভায়োলেট-বি থেরাপি, ফটোকেমোথেরাপি, লেসার ট্রিটমেন্ট।

এ রোগের ঘরোয়া কিছু প্রতিকার হলো- সানস্ক্রিনের ব্যবহার ও কনসিলার প্রভৃতি কসমেটিক্সের ব্যবহার।

ত্বক থেকে স্থায়ীভাবে মেলানিন কমানোর সব থেকে দ্রম্নত উপায় হলো লেজার চিকিৎসা। কিন্তু এ বিকল্পটি খুবই ব্যয়বহুল। এর বিকল্প হিসেবে কিছু ত্বক উজ্জ্বল করার ক্রিম দোকান থেকে অথবা একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কিনতে পারেন। প্রাকৃতিক ঘরোয়া প্রতিকার যেমন- হলুদ, অ্যালোভেরা, টমেটো, শসা, লেবু, আলু ইত্যাদিও ত্বকে মেলানিন হ্রাস করতে ব্যবহার করা হয়। মেলানিন ত্বককে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মেলানিন কমানোর কিছু ঘরোয়া প্রতিকার-

\হ১. আলু ত্বকের ওপর এবং কালো ছোপের ওপর খুব ভালো কাজ করে। আলুর পেস্ট ত্বকে লাগালে কিছু দিনের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা যাবে। এর ফলে ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কমে।

\হ২. হলুদ, মেলানিনের মাত্রা কমাতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করার একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এর পেস্টকে জলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে, গলায় এবং হাতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন, তারপরে ধুয়ে ফেলুন।

\হ৩. শসা ত্বকে মেলানিনের মাত্রা কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। কিন্তু এটি যথেষ্ট ধীরে কাজ করে। শসাকে কেটে নিয়ে অথবা এর পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। এ উপায়টি অসুখের ছাপ ত্বক থেকে সরাতেও কাজে লাগে।

\হ৪. অ্যালোভেরা ত্বকের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখার জন্য ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান দেয়। এ ছাড়া এটির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনের মাত্রা কমে যায় এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অ্যালোভেরার পেস্ট ত্বকে লাগানোর পর সেটিকে শুকোতে দিন, যাতে সব প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো ত্বকে যেতে পারে এবং সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে।

\হ৫. টমেটোকে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জোগানকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া এর মধ্যে বিভিন্ন রকম ভিটামিন থাকে। এটি মেলানিনের থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি খুব ভালো উপায়। টমেটো পেস্ট কুড়ি মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে দিন এবং জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এ রকম করলে আপনার মুখের কালো ছোপগুলো মুছে যাবে এবং মেলানিনের পরিমাণ কমে আসবে।

06/05/2023

#সাস্থসেবা

থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা:

মাইনর থ্যালাসেমিয়াতে সাধারণত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। থ্যালাসেমিয়া মেজরে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রধান চিকিৎসা। বার বার রক্ত নেবার একটি বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যাওয়া। এর ফলে যকৃত বিকল হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে। এধরনের জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেশন থেরাপি দেয়া হয়, অতিরিক্ত লৌহ বের করে দেবার জন্য।

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়ার একটি কার্যকরী চিকিৎসা।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে করনীয়:

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা খুবই সম্ভব। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়া বাহক বা একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক এবং একজন হিমোগ্লোবিন ই এর বাহক হয় তবে প্রতি গর্ভাবস্থায় –

এ রোগে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ।
বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৫০ভাগ।
আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ।
স্বামী স্ত্রী দুজনের যেকোনো একজন যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন, তাহলে নবজাতকের থ্যালাসেমিক হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে নবজাতক থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে যা কোন রোগ নয়।

তাই এ রোগের বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত এবং প্রতিহত করার মাধ্যমে সমাজে নতুন থ্যালাসেমিক শিশুর জন্ম হ্রাস করা যায়। সুতরাং, দেরি না করে আজই থ্যালাসেমিয়া নির্ণয় এর জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস নামক পরীক্ষাটি করান এবং আপনার শিশুকে এর অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখুন।

এছাড়া ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ যেসব পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই এ রোগের বাহক অথবা যাদের এক বা একাধিক থ্যালাসেমিক শিশু আছে তারা গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য থ্যালাসেমিক শিশু নির্ণয় এবং তা পরিহার (গর্ভপাত) করতে পারেন। গর্ভাবস্থার ১৬ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষাটি করালে ভালো হয়।

গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া জানার জন্য যে পরীক্ষাগুলো করতে হবে :

কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং (Chorionic villus sampling)
অ্যামনিওসেনটিসিস (Amniocentesis)
ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং (Fetal blood sampling)
তাহলে আমাদের অনাগত প্রজন্ম যাতে থ্যালাসেমিয়ার মত একটি ভয়াবহ রোগ নিয়ে না জন্মায়, তার জন্য আমাদের প্রত্যেককে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া বংশগত রোগ। সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয়। এটি পিতামাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে আসে। মা-বাবা দুই জনেই যদি রোগী হয় তা হলে সুস্থ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি মা-বাবার একজন রোগী হয় অন্যজন সুস্থ হয় তাহলে কিছু সন্তান বাহক হবে, কিন্তু সুস্থ হবে। রোগটি মা-বাবার থেকেই সন্তানের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। তাই যদি বিবাহ করার পূর্বে রক্তের পরীক্ষা করে নেওয়া যায় যে পাত্র বা পাত্রী কেউই বাহক বা রোগী নয় তা হলে রোগটি সঞ্চালিত হতে পারবে না।

Want your practice to be the top-listed Clinic in Faridpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Rajbari
Faridpur