Agro Bio Process Solution-ABPS
30/06/2026
গল্পটা পড়ুন গাভী পালার আগে।
"একটি লাল গাভী, প্রবাসীদের স্বপ্ন আর কিছু মানুষের নিখুঁত অভিনয়"৷💔
মালয়েশিয়ার এক কনস্ট্রাকশন সাইটে ১২ ঘণ্টা কঠোর ডিউটি শেষে যখন জসিম ভাই খাটে পিঠ ঠেকাতেন, ওনার চোখে তখন একটাই স্বপ্ন ভাসত—"একদিন দেশে ফিরব, নিজের একটা দুগ্ধ খামার করব, আর প্রবাসের এই দাসত্ব করা লাগবে না।"
ইউটিউব স্ক্রল করতে করতে ওনার চোখে পড়ল একটা ডেইরি ফার্মের ভিডিও। ঝকঝকে ব্যাকগ্রাউন্ড, আর ক্যামেরার সামনে এক বিশাল ওলানকাটা হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান গাভী। খামারি বুক ফুলিয়ে বলছে, "ভাইরে, এই গাভী দিনে ২৫ লিটার দুধ দেয়। শান্ত স্বভাবের, ওলানের বাটের সাইজ দেখেন! কোনো প্রবাসী ভাই যদি দেশে খামার করতে চান, চোখ বন্ধ করে নিতে পারেন।"
ভিডিওতে খামারির মুখে 'দ্বীন-ঈমান' আর 'প্রবাসী ভাইদের প্রতি দরদ' দেখে জসিম ভাইয়ের মন গলে গেল। সরল বিশ্বাসে তিনি কোনো লিখিত চুক্তি বা রসিদে বা দুধের রেকর্ড এর কথা মাথায় নেননি। মুখের কথায় বিশ্বাস করে, ধার-দেনা করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা খামারির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিলেন।
স্বপ্নভঙ্গের শুরু: ২৫ লিটারের জায়গায় মাত্র ৬ লিটার!
গাভীটি যখন ট্রাকে করে জসিম ভাইদের গ্রামের বাড়িতে নামানো হলো, পুরো পরিবার তখন খুশিতে আত্মহারা। এত বিশাল গরু, কি সুন্দর ওলান।
কিন্তু পরদিন সকালে জসিম ভাইয়ের বৃদ্ধ বাবা যখন বালতি নিয়ে দুধ দোয়াতে বসলেন, ওনার চোখ চড়কগাছ!
ওলান অনেক বড়, কিন্তু দুই বেলা মিলিয়ে সর্বোচ্চ মাত্র ৬ লিটার দুধ হলো! যেখানে কথা ছিল ২৫ লিটারের!
জসিম ভাই সাথে সাথে মালয়েশিয়া থেকে খামারিকে ফোন দিলেন। ওপাশ থেকে সেই খামারি নামক দালাল খুব শান্ত গলায় বলল, "আরে জসিম ভাই, ঘাবড়ান কেন? গরুটা মাত্র নতুন পরিবেশে গেছে, জার্নির একটা ধকল আছে না? আপনাদের ওদিকের আবহাওয়া আর খাবার তো ও এখনো মানিয়ে নিতে পারেনি। ঠিকমতো দানাদার খাবার দেন, পরিবেশটা বদলাক—৭ থেকে ১০ দিন পর দেখবেন ঠিকই ২৫ লিটার দুধ দিচ্ছে।"
দালালের এই মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে জসিম ভাই আরও ৭ দিন অপেক্ষা করলেন। প্রতিদিন দামি দামি খাবার আর ফিড কিনে গরুকে খাওয়ানো হতে লাগল এই আশায় যে, এবার হয়তো দুধ বাড়বে।
৭ দিন পর উন্মোচিত হলো আসল সত্য...
কিন্তু ৭ দিন পার হতেই গাভীর ওলান শক্ত হয়ে গেল, গরু ব্যথায় ছটফট করতে লাগল এবং খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিল। এবার দুধ দোয়ানো তো দূরের কথা, ওলান চিপে যা বের হলো, তা দেখে জসিম ভাইয়ের বাবার হাত-পা কাঁপতে লাগল—সেটা দুধ নয়, পুঁজ আর রক্ত মেশানো জল!
তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারকে ডাকা হলো। ডাক্তার সাহেব গাভী পরীক্ষা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "চাচা, আপনার পোলাডারে তো শেষ করে দিছে! এই গাভীর মারাত্মক 'ওলান পাকা রোগ' বা ম্যাস্টাইটিস (Mastitis)। এর ওলানের দুইটা বাট অনেক আগে থেকেই একদম নষ্ট। খামারে থাকার সময় ওরে নিষিদ্ধ হাই-ডোজ ইনজেকশন আর হরমোন দিয়া সাময়িকভাবে ওলান ফুলাইয়া রাখছিল আর কৃত্রিম উপায়ে দুধ বাড়াইয়া ভিডিও করছিল। এখন ইনজেকশনের পাওয়ার কমছে আর আসল রোগটা বাইর হইছে।"
ভিডিও কলের ওপাশে এক প্রবাসীর হাহাকার 😭
ডাক্তারের কথা শুনে জসিম ভাই যখন আবার খামারিকে ফোন দিলেন, সেই মিষ্টিভাষী দালালের রূপ তখন পুরোটাই বদলে গেছে। সে কর্কশ গলায় বলল, "মিয়া, কোনো লিখিত রেকর্ড বা গ্যারান্টি পেপার আছে যে ২৫ লিটার দুধের কথা বলছিলাম? খামার থেকে তো ভালো গরুই দিছিলাম, আপনার বাপে খাওয়াইতে পারে নাই, রোগ বানাইছে। এখন আমারে ফোন দিলে পুলিশে দিমু!"
ফোনটা কেটে যাওয়ার পর জসিম ভাই কনস্ট্রাকশনের ওই তপ্ত রডের ওপর মাথা নিচু করে বসে রইলেন। চোখের পানি টপ টপ করে ঝরে পড়ছিল। কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকায় আইনিভাবেও কিচ্ছু করার নেই। যে টাকাটার জন্য তিনি তীব্র গরমে ওভারটাইম করেছেন, না খেয়ে টাকা জমিয়েছেন, সেই টাকাটা শুধু একটা ইউটিউব ভিডিও আর দালালের মুখের কথায় বিশ্বাস করে শেষ হয়ে গেল!
ওনার বৃদ্ধ বাবা বাড়ি থেকে ফোন করে শুধু এটুকুই বললেন, "বাজান রে, ওরা আমাগো স্বপ্নটা মাঝপথেই জবাই করে দিল..."
প্রিয় প্রবাসী ভাইয়েরা, করজোড়ে অনুরোধ... 🙏
ইউটিউব বা ফেসবুকের ডেইরি ফার্মের ভিডিওগুলো বেশির ভাগ সময়ই সাজানো থাকে। ক্যামেরার কারসাজিতে আর ইনজেকশনের জোরে ৫ লিটারের গাভীকে ২৫ লিটারের বানানো কোনো ব্যাপারই না।
মুখে বিশ্বাস নয়, লিখিত রেকর্ড রাখুন: টাকা লেনদেনের আগে অবশ্যই কত লিটার দুধের কথা হচ্ছে, কোনো রোগ থাকলে দায় কার—সব লিখিত চুক্তিতে আনুন। রসিদ ছাড়া এক টাকাও দেবেন না।
পরিবেশ বদলের বাহানায় ভুলবেন না: দালালরা সময় ক্ষেপণ করার জন্য 'আবহাওয়া বদল' বা 'খাবারের সমস্যা'র দোহাই দেবে, যাতে এর মাঝে রোগের লক্ষণ লুকিয়ে ফেলা যায়।
সশরীরে যাচাই করুন: নিজে না পারলে দেশে আপনার বিশ্বস্ত কোনো আত্মীয় বা অভিজ্ঞ ডেইরি খামারিকে দিয়ে অন্তত দুই থেকে তিন বেলা নিজ চোখে দুধ দোয়ানো দেখে, ওলান পরীক্ষা করিয়ে তবেই গাভী কিনুন, আর অবশ্যই লিখিত রেকর্ড দেখে নিশ্চিত হোন।
প্রবাসীদের এই কষ্টের টাকা যারা এভাবে ধোঁকা দিয়ে খাচ্ছিস, তোদের খামার কোনোদিন বড় হবে না। প্রবাসীদের প্রতিটা ফোঁটা চোখের জলের হিসাব তোদের দুনিয়াতেও দিতে হবে, আখেরাতেও দিতে হবে!
#প্রবাসী #খামার #দুগ্ধখামার #গাভী #ম্যাস্টাইটিস #প্রতারণা #সচেতনতা
সব সময় মনে রাখবেন ভালোর কোন শেষ নাই, আর স্ট্যান্ডার্ড কখনো এক স্থানে থাকেনা।
নিজের ভাল উৎপাদন এর সিক্রেট কেউ কখনো শেয়ার বা সেল করেনা।
তাই অনলাইনে ভাল গাভী খোজে বোকা হবেন না।
নতুন হিসেবে আপনার সরলতার সুযোগ নিয়ে, অতি আপন সেজে কিছু ইউটিউব বা ফেসবুক সেলেব আপনাকে একদম ডুংগা ফইর করে দেবে।
তাই আপনি আগে শিখুন, তার পর গাভীর খামারে অল্প উতপাদন কে অধিক উৎপাদনক্ষম করতে ধাপে ধাপে আগান।
২০/২২ লিটারের গাভী কেউ কখনো জেনে সেল করবেনা,কারন দেশের গড় দুধ উৎপাদন এখনো ১২-১৪ লিটার।
সো আপনার কি কি করা উচিৎ বুঝতে পারছেন ত।
এই যে ইউটিউব আর ফেসবুক এর বুস্ট করা ভিডিও দেখে সপ্নে বিভোর হন, গাভীর ওলান দেখে ভাবেন এতো খালি দুধ আর দুধ।
এক গাভীতে ২০ লিটার, ১০ গাভিতে ২০০ লিটার, লিটার এ ২০ টাকা লাভে দিনে ইনকাম ৪০০০৳।
খুশির ঠেলায় ঘোরতে থাকেন, কিন্ত ভাই আপনি কি জানেন গাভী পালন এত সোজা না।
খালি ডিব্বা ভরে ক্যালসিয়াম আর বালতি ভরে ডিবি দিলেই হয়না।
ইউটিউব এর ওলান খামারে এসে হয়ে যায় গোলান মরুভূমি।
কেন হয় এমন, ভুল গুলো কি কি?
বলুন মন খুলে কমেন্ট এ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Shekhertek, Adabor
Dhaka
1207
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 22:00 |
| Tuesday | 09:00 - 22:00 |
| Wednesday | 09:00 - 22:00 |
| Thursday | 09:00 - 23:00 |
| Friday | 09:00 - 22:00 |
| Saturday | 09:00 - 22:00 |