Knowledge-World
29/05/2023
#সাপসমস্যাওপ্রতিকার
সাপের সাত সতেরো...
পর্ব 2
ভ্রান্তিবিলাস....
সাপ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং ভয় এই দুই একসাথে কার্যকরী হওয়ায় মানুষের মনে প্রাচীনকাল থেকেই ভুল ধারণা সযত্নে লালিত হয়ে চলেছে....
1) পুরাণে কথিত আছে কিছু বিষাক্ত সাপের মাথায় মনি থাকে |
কোনোভাবে তা পাওয়া সম্ভব হলে ধনী হওয়া সম্ভব |যদিও কোন সাপের মাথায় মনি থাকে না, কোনো ক্ষেত্রে সাপ এর মাথার দিক চিরে সেখানে লাল, হলুদ পাথর আগে থেকে রেখে পরে দর্শক এর সামনে সেই পাথর বের করে বহুমূল্য দিয়ে তা বিক্রি করা হয়... যদিও এর ফলে সাপ টি অসুস্থ হয়ে মারা পর্যন্ত যেতে পারে |ভেবে দেখুন সত্যিই মনি থাকলে সাপুড়ে নিজের কাছে না রেখে কেন বিক্রি করে দিচ্ছে?
2)জলঢোঁড়া, হেলে প্রভৃতি বিষহীন সাপের শনি, মঙ্গলবার এ বিষ হয়| এই সাপ গুলির না থাকে বিষদাঁত, না থাকে বিষগ্রন্থি | ফলে ঐ দিনগুলোতে বিষ হলেও বিষ থাকবে কোথায়, আর বিষদাঁত ছাড়া বিষ ঢালবে কিভাবে?
3)বিষধর সাপ কামড়ানো মানেই মৃত্যু | এটা খুব ভ্রান্ত ধারণা, অনেক সময় বিষধর সাপ এর কামড় "Dry Bite" হয়.. অর্থাৎ সাপ কামড়ালেও হয় বিষ ঢালতে পারেনি না হয় মারণ ক্ষমতার উপযুক্ত বিষ শরীরে প্রবেশ করেনি | তবে এই ব্যাপার নির্ণয় করবেন ডাক্তার, তাই সাপ এ কামড়ালে হাসপাতাল কিংবা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতেই হবে |
মনে রাখতে হবে সাপ এর কাছে তার নিজের বিষ খুব গুরুত্ব পূর্ন, এই বিষ দিয়ে সাপ খাবার গেলার আগে খাবার কে আংশিক নিস্তেজ করে দেয়... তারপর ধীরেসুস্থে সাপ খাবার কে গিলে খায়, যদিও বিষ প্রকৃতিতে উচ্চ আণবিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রোটিন তাই খাবার কে খানিকটা হজম করতেও সাহায্য করে সাপ এর বিষ| তাই মানুষের মুখোমুখি হলে সাপ প্রথমে এড়িয়ে যায়, পরবর্তীতে ভয় দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে.... যেমন ৱ্যাটেল স্নেক লেজের ফাঁপা আঁশ নাড়িয়ে আওয়াজ করে, গোখরো বা কেউটে ফণা তোলে ও মুখে আওয়াজ করে, চন্দ্রবোড়া মুখে হিসহিস শব্দ করে, এদের গায়ের রং খানিকটা হলদেটে, ফলে এরা শুকনো পাতার মধ্যে নিজেদের লুকিয়ে নেয়, এই ঘটনাকে ক্যামোফ্লেজ বলে | মোদ্দাকথা একান্ত কোনঠাসা না হয়ে পড়লে সাপ মানুষ কে আক্রমণ করে না |
4)হাসনুহানা, কামিনী ফুলের গন্ধে সাপ আসে, সাপ এর ঘ্রান শক্তি বেশ দুর্বল, সাপ এর জ্ঞানেন্দ্রিয় একটু আলাদা ( বেশ মজার, পরবর্তীতে এটা নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো )ধরনের | বস্তুতঃ সাপ ফুলের গন্ধ পায় না.. তবে ফুলের গন্ধে পোকামাকড় আসে, সেসব পোকা খেতে আসে ব্যাঙ, ইঁদুর.... আর সেসব খেতে আসে সাপ | বুঝতেই পারছেন সবই হলো বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য -খাদক সম্পর্ক |
5)আমাদের বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে, "দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা ", প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো সাপ সম্পূর্ণ মাংসাশী, সাপ এর খাদ্য ছোট মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর, অজগর গোত্রের সাপ ছোটছোট প্রাণী শিকার করে গিলে খায়, তাই আর যাই খাক কলা দিয়ে ফলাহার করার বাসনা সাপ এর আসবে না, সাপ এর ফুসফুস একটা, বাঁ দিকের ফুসফুস টি গঠনগত ভাবে অসম্পূর্ণ, তাই চুষে খেতে গেলে ফুসফুস এর যে জোর থাকা চাই সেটা সাপ এর নেই.....খাবার এর মধ্যে থাকা জল দিয়েই সাপ জলের চাহিদা মিটিয়ে থাকে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সাপ ধীরে ধীরে জল গিলে খায়, যদিও সেটা বেশ কষ্টসাধ্য... কারণ সাপ এর জিভ চেরা |
6)সর্পগন্ধা বা হেতাল গাছের শিকড় দিয়ে সাপ কে বশীকরণ করা সম্ভ নয়... . এবং সাপুড়েরা এটা চোখের সামনে করে দেখায়, আসলে সাপুড়েরা সাপের মুখে ক্ষত করে রাখে, পরে সেই জায়গা গুলোতে আঘাত করে, ব্যাথা পেয়ে সাপ নিজেকে গুটিয়ে নেয়, আমরা ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে পড়ি |
7)সাপ নাকি মানুষ চিনে রাখে, পরবর্তীতে প্রতিশোধ নেয়, সাপের মস্তিস্ক বেশ অনুন্নত, ফলে এগুলো আষাঢ়ে গল্প ছাড়া কিছুই নয় |
8)সাপ গরুর বাঁট থেকে দুধ খায়, গরুর পায়ে জড়িয়ে থাকে, আগেই বলা হয়েছে সাপ এর মুখের গঠন স্তন্যপায়ীর মতো নয়, সে চুষে খেতে পারেনা, গোয়ালঘরে ব্যাঙ, ইঁদুর এর লোভে সে প্রবেশ করে |
9)সাপ এর সম্মোহিনী শক্তি আছে, সাপ বিন বাজানো শুনতে পায়, আসলে সাপ থার্মাল ইমেজিং পদ্ধতিতে দেখতে পায়, সাপুড়ে বিন বাজাতে বাজাতে যে দোলে, সেই ছন্দে সাপ ফণা দোলায়, মোটেই সাপ বিন এর শব্দ শুনতে পায় না, সাপের চোখের পাতা নেই, তাই পলক পড়ে না, মনি স্থির হয়ে থাকে, তাই মনে হয় সাপ সম্মোহিত করার চেষ্টা করছে |
10) সাপ এ সাপ এ শঙ্খ লাগা... এসময় যা চাওয়া যায়, সেই মনোস্কামনা পূরণ হবে, আসলে এই সময় একটি মেয়ে সাপ এর সাথে সঙ্গম কে করবে সেই নিয়ে দুটি পুরুষ সাপ এর যুদ্ধ চলে, যে জয়লাভ করে সে সঙ্গম এর সুযোগ পায়, এই সময় সাপ কে না ঘাঁটানোই ভালো...
11)শাঁখামুটি, বালিবোরা প্রভৃতি সাপ এর লেজের দিকটা ভোঁতা, তাই অনেক সময় এগুলো কে দুমুখো সাপ বলে ভুল করা হয়, যদিও মানুষের ক্ষেত্রে যেমন দুমুখো শিশু দেখতে পাওয়া যায়, সাপ এর ক্ষেত্রে সেরকম সম্ভব, তবে সেটা সম্ভব হয় একসাথে দুটো ভ্রুণ বেড়ে ওঠার ফলে |
পরবর্তীতে সাপ এর কামড় থেকে বাঁচার জন্য আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি তা বিস্তারিত আলোচনা করবো...
আজ এই পর্যন্ত, ভালো থাকুন সকলে, সুস্থ থাকুন...
চিত্রপরিচিতি :-
1)সাপের মনি নিষ্কাশন
2)হেতাল শিকড় দিয়ে বশীকরণ এর জন্য সাপের ক্ষতবিক্ষত মুখ
3)দুমুখো সাপ
চিত্র প্রাপ্তিস্বীকার :- গুগল, বাংলার জীববৈচিত্র গ্রুপ এর দেওয়াল
#আত্মদীপভব
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
1212