Home Planning Design & Development
চাকরির ইন্টারভিউ জন্যে প্রয়োজন৷ ১/সওজ পূর্ণরুপ কি?
উত্তরঃ সড়ক ও জনপথ।
২/ সড়ক ও মহাসড়ক ডিজাইনে কোন কোড অনুসরণ করতে হয়?
উত্তরঃ AASHO
৩/ বিটুমিনাস সড়কে গাড়ির গতি প্রতিরোধ করতে কি কি ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ স্পিড-ব্রেকার।
৪/ বিটুমিনাস রাস্তার ভিওি বলা হয় কোন স্তরকে?
উওরঃ সাব-গ্রেড স্তরকে।
৫/ ট্যাককোট প্রয়োগের সাথে সাথে কোন কোট তাড়াতাড়ি প্রয়োগ করতে হয়?
উত্তরঃ সিলকোট।
#সিমেন্ট
আমাদের আজকের বিষয় হচ্ছে সিমেন্ট। ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষায় একে বাইন্ডিং মাটেরিয়ালস বলা হয়। টেকনিক্যাল ভাষায় বলা হয়ে থাকে বালি এবং কোর্স এগ্রিগ্রেট এর পরে এই উপাদানটি কংক্রিটের ফাকাস্থানগুলো পুরোন করে। মুলত কংক্রিটে অবস্থিত পাথর অথবা খোয়া এবং বালুকে রডের সাথে একত্রে মজবুত ভাবে ধরে রাখার জন্য সিমেন্ট কাজ করে থাকে। আসুন জানি সিমেন্ট সম্পর্কিত কিছু খুটিনাটি বিষয়াদি
সিমেন্ট:-
বস্তার গায়ের লেখা দেখে OPC ও PCC সিমেন্ট চিনার উপায় -
1.ক) OPC = ordinary portland cement
(a) ক্লিংকার ৯৫% - ১০০% ।
(b) জিপসাম ০% - ০৫% ।
2.ক) PCC = portland Composite cement
(a) ক্লিংকার ৬৫% - ৭৯%।
(b) স্লাগ,ফ্লাই এ্যাশ ও লাইম স্টোন ২১% - ৩৫%।
( c) জিপসাম ০% - ০৫% ।
সিমেন্ট বলতে অনেক কিছুই বোঝায় কিন্তু আমরা যেগুলো বাজারে সাধারনত দেখি এবং আমরা ব্যাবহার করি সেটাকে বলা হয় পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট। সাধারনত দুই ধরনের পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বাংলাদেশে পাওয়া যায়। অর্ডিনারি পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট (OPC) এবং পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট (PCC) হচ্ছে এর শর্ট ফর্ম।
পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট (PCC) মুলত ব্যাবহার করা হয় মাটি কন্ডিশন যেখানে সাধারন থাকে এবং যেখানে ক্যামিক্যাল হ্যাযার্ড এর সমস্যা না থাকে অথবা যেখানে খুব দ্রুততার সাথে শক্ত হবার প্রয়োজন হয় না সেখানে PCC ব্যাবহার করা যায়কে। ছোট বিল্ডিং গুলোতে নিশ্চিন্তে PCC ব্যাবহার করা যায়।
এছারা যেখানে কংক্রিট এর ঢালাই এর সময় উৎপন্ন তাপমাত্রা হিসেবে ধরা হয় না সেখানে PCC ব্যাবহার করা যায়। এছারা প্লাস্টার কাজে সবত্র PCC ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
অর্ডিনারি কম্পোজিট সিমেন্ট (OPC) মুলত ব্যাবহার করা হয় হাইরাইজ ভবনগুলোতে। এছারা পাইলিং, পানির নিচে কংক্রিটর এর কাজে, ব্রিজ এর কাজে এটি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। যখন কোন মাটির সয়েল টেস্ট এর রিপোর্টে মাটিতে সালফার সহ কংক্রিটের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল এর উপস্থিতি পাওয়া যায় তখন এই OPC সিমেন্ট সবচেয়ে কার্যকরি। এই সিমেন্ট খুবই দ্রুত সেট হয় এবং খুব সহবে ক্রাক করে না। এর জন্য ভুমিকম্প সহনিয় ভবন নির্মান করতে গেলে অনেকেই এই সিমেন্ট ব্যাবহার করে থাকেন।
সিমেন্ট কি পরিমানে ব্যাবহার হবে তার পরিমান নির্ভর করে কংক্রিট এর রেশিও এর উপরে। যদি আপনার ভবন কোন ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন করে থাকেন তবে খেয়াল করবেন তিনি ডিজাইনের কংক্রিট এর একটি রেশিও এবং একটি স্ট্রেন্থ উল্লেখ করে দেন। বিভিন্ন অংশের জন্য এই রেশিও এবং সেট্রন্থ বিভিন্ন হয়ে থাকে। এবং সেই স্ট্রেন্থ আনার জন্য ঠিক কেমন রেশিওর ঢালাই লাগবে।
প্রজেক্ট এর রেশিওকে আমরা ধরে নেই যেটি আছে ১:১.৫:৩ হিসেবে। এখনে রেশিওর প্রথম উপাদানটি হচ্ছে সিমেন্ট যেটিকে ১ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর পরেই আসে বালি যেদি ১.৫ বা দেড় ধরা হয়েছে। মুলত এখানে বোঝানো হয়েছে সিমেন্ট যা দেয়া হবে বালি তার দেড়গুন দেয়া হবে এবং ৩ বলতে বোঝানো হয়েছে পাথর বা খোয়াকে। অর্থাৎ ঠিক সিমেন্ট এর তিন গুন পাথর বা খোয়া ব্যাবহার করতে হবে। মিস্ত্রিরা এটার হিসাব বের করতে প্রায়ই তাদের মুখস্ত হিসেব করে থাকে। কিন্তু এটা ঠিক নয়।
একটা সিমেন্ট বলতে আপনি যদি এক ব্যাগ সিমেন্ট বুঝে বসেন তবে আপনি বিরাট একটি ভুল করে বসবেন। কারন এটা নির্ধারন হবে মিস্ত্রিরা ঢালাই এর সময় কি পাত্রদিয়ে বালি এবং খোয়া পরিবহন করছে তার উপরে। এক বাগ সিমেন্টকে বহন করতে সেই পাত্রটি যতবার ভরতে হবে সিমেন্ট হিসেব হবে ততটুকুন।
সাধারনত মিস্ত্রিরা যে তাওয়া ব্যবহার করে থাকে সেগুলো ৩ বার লাগে একব্যাগ সিমেন্ট টানতে। আর তাতে মোটামুটি ৫ বার বালি দিতে হয়। আর ৯ বার খোয়া লাগে। তবে অনেকেই ৮ বার ব্যবহার করে থাকেন কারন খোয়ার পরিমান প্রয়োজনের চেয়ে কিছুটা বেশি আসে। এছারা বেতের তৈরি এক ধরনের ওরা ব্যবহার করে মিস্ত্রিরা। এটার কোন নির্দিস্ট সাইজ হয় না। তাই উচিত হচ্ছে ঢালাই এর আগে সিমেন্ট পাত্রে ঢেলে মেপে তার পরেই বাকি গুলোর পরিমান নির্দিস্ট করা।
এবার আসুন সিমেন্ট কেনার আগে আমাদের দেশিয় সিমেন্ট সম্পর্কে জেনে নেই। আমাদের দেশের সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি অত্যান্ত বৃহৎ। আমরা এখন সিমেন্টে শুধু স্বয়ংসম্পুর্নই না আমরা বিদেশে সিমেন্ট বিপুল পরিমানের এক্সপোর্ট করছি এই মুহুর্তে। কারা এই মুহুর্তে সবচেয়ে ভালো সিমেন্ট প্রোডাকশন করছে এটা বলাটা বেশ শক্ত তবে কিছু কোম্পানি বুয়েট টেস্টে তাদের গ্রহনযোগ্যতা প্রমান দিয়েছে
১) হাইডেলবার্গ গ্রুপ ( স্ক্যান এবং রুবি সিমেন্ট):- জার্মান ভিত্তিক কম্পানি যারা বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশের অত্যান্ত ভালো কোয়ালিটির সিমেন্ট এই কম্পানিটিই প্রথম প্রোডাকশন করা শুরু করে। এখন পর্যন্ত এরাই বাজারে সবোর্চ্চ কোয়ালিটির সিমেন্ট বাজারে সরবরাহ করা অব্যাহত রেখেছে। বাজারে যেকোন সিমেন্টের চেয়ে এদের দামটা একটু বেশিই থাকে। তাই মানের দিক দিয়েও এরা সম্পুর্ন আপোষহিন থাকে।
২) হোলসিম গ্রুপ ( হোলসিম সিমেন্ট):- সুইৎজারল্যান্ড ভিত্তিক কম্পানি। এরা বাংলাদেশে ২০০০ সালে কার্যক্রম শুরু করে। অসাধারন কোয়ালিটির সিমেন্ট প্রোডাকশন করে থাকে এই কোম্পানিটি। হোলসিম কম্পানির সিমেন্টের ব্যাগ এর কোয়ালিটি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। এজন্য দেখবেন কাচা বাজরের দোকনে বাজার টানার জন্য হোলসিম সিমেন্ট এর ব্যাগ বেশি দেখতে পাবেন। কারন এদের ব্যাগ এর কোয়ালিটি খুবই চমৎকার তাই সিমেন্ট অনেক দিন পর্যন্ত ফ্রেশ এবং সুরক্ষিত থাকে।
৩) সেভেন সার্কেল বিডি( সেভেন রিংস সিমেন্ট):- এটি চাইনিজ কম্পানি শুন শিন গ্রুপ এর একটি প্রতিষ্ঠান। চায়না মাল বলে যারা মুখ বাকান তারা এই কম্পানির সিমেন্টর এর উপর পূর্ন আস্থা রাখতে পারেন। কারন তার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মার সেতুর প্রধান সিমেন্ট সাপ্লায়ার। এছাড়া এই কোম্পানি বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমান সিমেন্ট উৎপাদন করে থাকে। তাছাড়া কোয়ালিটি অনুসারে এই সিমেন্টের দামও অনেকটা সাশ্রয়ি।
৪) এম আই সিমেন্ট লি:( ক্রাউন সিমেন্ট):- সম্পুর্ন দেশিয় কম্পানি কিন্তু মানের দিকে থেকে বিদেশিগুলোর থেকে মোটেই কম না। এরা বাংলাদেশের সিমেন্ট যারা বিদেশে প্রচুর পরিমানে এক্সপোর্ট করে থাকে। কোয়ালিটি ভালো থাকার কারনেই এটা সম্ভবপর হয়েছে। এছাড়া সিমেন্টর এর বাই প্রোডাক্ট যেমন রেডিমিক্স সহ বিভিন্ন সার্ভিস এরা দিয়ে থাকে। সিমেন্ট সংক্রান্ত এত সুন্দর সার্ভিস দেয় এই কোম্পানি যা বাংলাদেশে অদ্বিতিয়।
৫) আবুল খায়ের গ্রুপ( শাহ সিমেন্ট):- এটা হয়ত অনেকেই জানেন না যে শাহ সিমেন্ট আবুল খায়ের গ্রুপ এর একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। আবুল খায়ের বাংলাদেশের অত্যান্ত পুরনো এবং প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি। তাদের এই সিমেন্ট ব্যান্ডটি বার বার নির্বাচিত সেরা ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত। শাহ সিমেন্ট এর কোয়ালিটি অত্যান্ত ভালো এবং এদের সাপ্লাই চেইন সিস্টেম খুবই চমৎকার। দেশের যেকোন স্থানে নিশ্চিন্তে শাহ সিমেন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া এদের রেডিমিক্স এর সর্ভিসটাও ভালো।
এছারাও বাজারে বেশ কিছু সিমেন্ট কম্পানি আছে যাদের সিমেন্ট ব্যাবহার করতে পারেন
৬) প্রিমিয়ার সিমেন্ট
৭) বসুন্ধরা সিমেন্ট
৮) টাইগার সিমেন্ট
৯) ফ্রেস সিমেন্ট
১০) মীর সিমেন্ট
১১) লাফার্জ সিমেন্ট
সিমেন্ট কেনার সময় দুই ভাবে কিনতে পারেন। সরসরি কোম্পানির কাছ থেকে অথবা লোকাল ডিলারের কাছ থেকে। এখানে একটা বিষয় নিশ্চিৎ হবেন ডিলার ছাড়া সিমেন্ট না কেনাটা উত্তম। কারন যারা লোকালি সিমেন্ট বিক্রয় করে তাদের কাছে সবসময় সিমেন্ট এর সরবরাহ থাকে না। যার জন্য তারা সবসময় একই সিমেন্ট ডেলিভারি দিতে পারে না। আপনি যে সিমেন্ট দিয়ে বাড়ির কন্সট্রাকশন শুরু করবেন চেস্টা করুন সেটি দিয়েই সম্পন্ন করার জন্য। বার বার সিমেন্ট পরিবর্তন কংক্রিট এর শক্তিমত্তাতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে যা কাংখিত শক্তি অর্জন নাও হতে পারে। এটা বিল্ডিং এর জন্য মোটেই ভালো ব্যাপার না।
সিমেন্ট কখনোই খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখবেন না। মনে রাখবেন সিমেন্ট এর বিভিন্ন ধরনের ক্যামিক্যাল থাকে যা বাতাসে থাকা জলিয়বাস্প এবং পানির সাথে বিক্রিয়া করে। এছাড়া সরাসরি মাটিতে সিমেন্ট ফেলে রাখবেন না। এতে একেবারে নিচে থাকা বস্তাগুলো মাটিতে থাকা পানি চুষে নিয়ে একেবারে নস্ট হয়ে যাবে। তাই মাটিতে ইট বিছিয়ে হালকা সিসি ঢালাই বা কাঠের পাটাতন করে তার উপরে প্লাস্টিকে পলিথিন বিছিয়ে রাখতে পারেন।
সিমেন্টে কৌতুহল বশত কখনোই হাত ঢুকিয়ে দেবেন না। সিমেন্টে মানুষের জন্য ক্ষতিকারন কিছু রাসায়নিক ব্যাবহার হয়ে থাকে। পুরোনো সিমেন্টে এভাবে হাত ঢুকিয়ে দিলে আপনার হাতে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে। মিস্ত্রিদের দোহাই দিয়ে এই কাজ করবেন না। কারন মিস্ত্রিরা বছরের পর বছর এই কাছাকাছি থাকতে থাকতে অভ্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি হঠাৎ এতে হাত দিয়ে গেলে সমস্যায় পড়ে যাবেন। এছাড়া যাদের এজমা বা শ্বাস কস্টের সমস্যা আছে তারা সিমেন্টের আসে পাশে না যাওয়াই উত্তম। কারন সিমেন্টে ফ্লাই এশ নামক একটি দ্রব্য থাকে যা বাতাসে ধুলোর মতন উরে আপনার শ্বাস কস্টের কারন হতে পারে।
পরবর্তি পর্বগুলো আরো ১৩ টি আইটেম থাকছে। তাই আমাদের এই সিরিজের সাথেই থাকুন নিয়মিত এবং জেনে নিন নির্মান জগতের খুটিনাটি সম্পর্কে।
৩) লোকাল বালু
৪) লাল বালু/সিলেট বালু
৫) ইটের খোয়া/পাথর এর বোল্ডার ভাঙ্গা
৬) এক নম্বর ইট
৭) টাইলস
৮) প্লাম্বিং বা স্যানিটারি সম্পর্কিত সকল মালামাল
৯) ইলেকট্রিক সংশ্লিষ্ট মালামাল
১০) জানালার থাই এবং গ্লাস
১১) কাঠের দরজা এবং চৌকাঠ
১২) জানালার গ্রিল
১৩) সকল প্রকারের রঙের মালামাল
১৪) সিড়ি এবং ছাদের সকল প্রকার রেইলিং
১৫) বাথরুমের ফিটিংস এবং ফিক্সার।
(Collected)
তোমার স্বপ্ন আর তোমার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে কেবল একটি জিনিস- সেটি হচ্ছে অজুহাত! যে মুহূর্ত থেকে তুমি নিজেকে অজুহাত দেখানো বন্ধ করে কাজ শুরু করবে সে মুহূর্ত থেকে তোমার স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবে না- সেটি বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করবে!
14/04/2018
Surving.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Anarkoli Super Market Room No 124, Mouchak
Dhaka
Opening Hours
| 09:00 - 17:00 |