Radioislam.com
হাসপাতাল বা ডাক্তারের চেম্বার থেকে একজন রোগী বাইর হইতেই এই সমস্ত প্যান্ট শার্ট ইন করা লোক গুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে ছবি তোলার জন্য । একরকম যন্ত্রনামূলক অত্যাচার করে। হাসপাতালে এদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও এরা দেদারসে এদের এই সমস্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শ্বশুরবাড়ির প্রতি বরাবরই মেয়েদের ভীতি। তাদের শ্বাশুড়ির প্রতি ততটাই ভীতি যতটা তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা। কারণ গুলো তিতা হলেও সত্য।
যেমন ধরেন –
যেই ছেলের পরিবার ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার সময় নিজের ছেলেকে রাজকুমার বলে বৌ এর বাড়ি থেকে অনেক কিছু দাবী করে, দিনশেষে এই একই পরিবার তাদের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় নিজের মেয়েকে রাজকুমারী বলে দাবী করে আর পাত্র পক্ষকে বলে “মেয়ে দিচ্ছি এটাই তো বেশি”.........
যেই মা টা ছেলের বৌ এর শরীর খারাপ দেখলে বলে “ ও কিছু না বৌ, এগুলা অসুখ আমাদের কত হইসে “, জ্বী হ্যাঁ দিনশেষে এই মায়েরা মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হলে নিজের বাসায় নিয়ে আসে আর বলে “ যে পর্যন্ত সুস্থ না হবি সে পর্যন্ত এখানেই থাকবি। বিছানা থেকে নামবি না”.........
যেই শ্বাশুড়ি মা ছেলের সাথে তার বৌ এর লুতুপুতু দেখলেই বলে “ ছি ছি কি বেলাজা । শ্বশুড় শ্বাশুড়ি মানে না” , ঠিক তিনিই যখন একজন মেয়ের মা তখন তিনি মেয়ে আর মেয়ের জামাই কে কাছাকাছি থাকতে দেখে বলেন “ আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মেয়েটা ভালো আছে”............
যেই শ্বশুর আব্বা দিনে একবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন দিয়ে মেয়ের খোঁজ খবর নেয় , অথচ তিনিই যখন একজন মেয়ের শ্বশুড় এবং পুত্রবধূ যখন তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যায় তখন একবার ফোন দিয়ে তার খোঁজ নেয় না।
মেয়েটা যখন শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে বলে “ আম্মু সকালে নাস্তা বানাতে এত অসহ্য লাগে” তখন মা বলে “ কাজ করবি কেন? তুই কি বুয়া নাকি”? সেই একই মা যখন শ্বাশুড়ি রূপে এবং নাস্তা বানানোর সময় যদি পুত্রবধূর একটু মুখ কালো দেখে সে বলে উঠে “ মেয়ে মানুষ যদি নাস্তা না বানায়, তাহলে সে আর কেমন মেয়ে মানুষ হলো”?
যেই বাড়ির মানুষ মেয়েকে বিয়ের পরেও পড়াশোনা করতে খুব উৎসাহ দেয় তারাই যখন আরেকটা মেয়ের শ্বশুর শ্বাশুড়ি তখন তাদের পুত্রবধূর পড়াশোনার ব্যাপারে থাকে অদ্ভূত রকমের বিরক্ত।
মেয়েটা দেরী করে ঘুমালে সবাইকে নিষেধ করেন তার ঘরের আশে পাশে যেতে অথচ সেই পরিবারই ছেলের বৌ টা যদি কোন কারণে একটু দেরী করে ঘুম থেকে উঠে এরপর আপনার চেহারার দিকে তাকালে মনে হবে সে খুন সমান পাপ করে উঠেছে............।।
মেয়েটাকে যখন জামাই ভালো জামা কাপড় কিনে দেয় তখন তিনি মা হিসেবে বলে “মা শা আল্লাহ । জামাই টা মেয়ের অনেক খেয়াল রাখে, কখন কোনটা লাগবে সব খেয়াল রাখে”। সেই মায়েরই ছেলে যখন ঘরে ফেরার সময় বৌ এর জন্য কোন উপহার নিয়ে ঢুকে তখন বলে উঠে “ আজেবাজে টাকা খরচ না করে, টাকা জমাও। এসব কোন জীবন না । বুঝলা”?
যেই পরিবার মেয়ের শ্বশুড়বাড়িকে তোষামোদ করে চলে, ঠিক একইই পরিবারই ছেলের শ্বশুরবাড়িকে তোয়াক্কা না করার অহংকার করে।
আসলে কেনো এমন হয়? মানে কেন? আপনি নিসন্দেহে একজন ভালো মা। ভালো বাবা। কারণ মেয়ের ব্যাপারে আপনারা যথেষ্ট সচেতন। সে একই ক্ষেত্রে ছেলের বৌ এর ব্যাপারে সমস্যাটা কি বলেন তো? মেয়েটাকে যখন রাজকুমারীর মত আহ্লাদ করেন সেখানে পুত্রবধূর সাথে কেন ক্রীতদাসের মত ব্যবহার? এমন করাটা কি খুব জরুরি? যুগ বদলেছে। অনেক ঘরে এখন এমন করে না, আবার অনেক ঘরে আমি যতটুক লিখেছি তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করে।
মেয়েকে আদর করুন, পাশাপাশি ছেলের বৌ কেও ভালোবাসুন। সে ও কারো কলিজার টুকরা, কারো ঘরের মেয়ে। তাকেও সেভাবেই যত্ন করুন যতটা আপনি আপনার মেয়ের ব্যাপারে যত্ন আশা করেন। কোন মেয়েই যেন শ্বশুরবাড়ির নাম শুনে ভয় না পায়। ভালো থাকুন এবং ভালো রাখুন।
সূরা আল-মু’মিন:19
চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
1360