DU Admission Help Line24

DU Admission Help Line24

Share

22/02/2023

ঘটনা টা ২০১৩ সালের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের এক ছেলের সাথে ঢাবির রোকেয়া হলের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রাতে তাদের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে তুমুল বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে ভাইটি আপুকে ব্লক দিয়ে ফেলে এবং আপুকে সাফ জানিয়ে দেয় উনি আর রিলেশন রাখবেন না আপুর সাথে।

আপু ভোরের সূর্য উঠার আগেই মুহসিন হল গেটে এসে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং স্টাফ সহ হলের ছেলেদের বলেন ভাইকে ডেকে দিতে।

ভাই তখনও ঘুমে স্টাফ আর তার পরিচিতরা তাকে রুমে গিয়ে খবর দেয়।

ভাই লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি পায়ে দৌড়ে আসেন হল গেটে। আপুর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাৎক্ষণিক আনব্লক করেন।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। বইমেলায় ঘুরতে এসে হঠাৎ দেখায় সেই ভাইয়ের স্মৃতিচারণ।

06/02/2023

ঢাবির ১ম বর্ষের তিন শিক্ষার্থী রাতের বেলা ক্যাম্পাস এলাকায় কাভার্ড ভ্যান আটকিয়ে চালককে মারধর করে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে, পরে আদালতে সোপর্দ করে৷
১ম বর্ষে ঢাবিতে এসে একটা নম্র-ভদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থী কীভাবে রাতারাতি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী বনে যায়, সেটার পেছনের দিকটা একটু খতিয়ে দেখার দাবী রাখে।

১ম বর্ষে গণরুমে থাকাকালীন সময়ে আমাদের ইমেডিয়েট সিনিয়ররা রাত ১২ টা পর্যন্ত গেস্টরুম নিতো। তারপর স্রেফ হুকুম জারি করতো, ❝সবগুলা রাতে বাহিরে থাকবি, তিনটার আগে যেনো কাউরে রুমে না দেখি। দেখলে অসুবিধা হবে।❞
ক্যাম্পাসের কোথায় কি লেখা আছে, কতবার লেখা আছে, স্থাপত্যকর্ম, যাবতীয় বিষয়ে এসাইনমেন্ট দিয়ে দিত।
এমনকি কনকনে শীতের রাতেও বাহিরে থাকা বাধ্যতামূলক ছিলো। পরীক্ষা, পড়াশোনা, অসুস্থতার বিষয়টা এক্ষেত্রে ভাইরা আমলে নিতো না, অল্প সময়ের জন্য হলেও বাহিরে থাকতেই হবে।
এক্ষেত্রে ভাইরা আমাদেরকে ঘুরার বিষয়ে তালিমও দিতো- ক্যাম্পাসে আসা ট্রাক আটকিয়ে রাতে ঘুরা এবং ড্রাইভারকে ভাড়া না দেওয়ার ব্যাপারেও কড়া হুশিয়ারি দিয়ে দিতো।
আর একটা কথা সব সময় বলতো, ❝তোরা ফাস্টিয়ার, ক্যাম্পাসে তোদের সাত খুন মাফ, শুধু নারী কেলেংকারী করবি না, তাহলে ভাইদের পাশে পাবি না।❞

তো, আমাদের সাথের পোলাপান প্রথম দিকে সবাই ট্রাক আটকিয়ে রাতের বেলা ঢাকা শহর ঘুরতো। কিছুদিন পরে আলাদা আলাদা সার্কেল হয়ে গেছে। রাতে বের করে দেওয়া পোলাপানদের মধ্যে মাদককেন্দ্রীক একটা সার্কেল গড়ে উঠছে, একাধিক হলের সমমনা ছেলেরা এই সার্কেলে যুক্ত, সার্কেলটাও স্ট্রোং। এরা উদ্যানে যায়, মাদক নেয়, মাদকের টাকা জোগাড় করতে ক্যাম্পাসে ছিনতাই করে- বহিরাগতদের আটকিয়ে মোবাইল - মানিব্যাগ নিয়ে যায়, গাঁজা-ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। ক্ষেত্রবিশেষে এরা ধরাও পড়ে, নেতারা গিয়ে নেগোসিয়েশন করে ছাড়িয়ে আনে, কদাচিৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদেরকে হল থেকে বহিষ্কার করে, তারপরও এরা নেতার শেল্টারে হলে থাকে, ক্যাম্পাসে দিব্যি ঘুরে বেড়ায়, আগের চেয়ে অধিকতর দাপুটে ভাব নিয়ে অপরাধ কর্ম করে বেড়ায়, নেতারা নিজেদের স্বার্থেও এদেরকে পোষে...
এমনি করে অজপাড়া গাঁয়ের একটা সহজসরল-মেধাবী ছেলে পরিবেশ, প্রতিবেশের প্রভাবে রাতারাতি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারীতে রূপ নেয়। নিকৃষ্ট সংস্কৃতি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলে...

27/09/2022

ইডেন কলেজের কোন ঘটনাটা নিয়ে এত আলোচনা বা ট্রল-মিম-শিটপোস্ট হচ্ছে সেটা যারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না, কিংবা যারা এখনো জানেনই না যে কিছু একটা হয়েছে - তাদের জন্য এই লেখাটা।

আগেকার দিনে, রাজাবাদশাদের প্রাসাদে হেরেম নামে একটা জায়গা থাকতো। পুরো দুনিয়া থেকে সেরা সুন্দরীদের খুঁজে এনে রাখা হতো এই হেরেমে। মেয়েগুলোকে প্রস্তুত করা হতো রাজা কিংবা রাজপুত্রের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার জন্য। প্রতি রাতে পালা করে রাজপুরুষের কাছে পাঠানো হতো বাছাই করা একজনকে - তার দায়িত্ব হতো পরাক্রমশালী রাজপুরুষটির যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করা। যৌনদাসীর পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট হলে তাকে দেয়া হতো উপপত্নীর মর্যাদা।

হেরেমের প্রধান পরিচালক হিসেবে থাকতেন একজন বয়স্ক নারী। মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া, আদবকায়দা শেখানোর দায়িত্ব তার ওপর। অতএব, যৌনদাসীটিকে রাজপুরুষের পছন্দ হয়ে গেলে পুরস্কার জুটতো পরিচালকের কপালেও। তাছাড়া মিত্র রাজ্যের রাজারাও উপঢৌকন হিসেবে অন্য রাজাদেরকে সুন্দরী দাসী পাঠাতেন। একে আমরা সেক্স ডিপ্লোমেসি নাম দিতে পারি। মোদ্দাকথা, যৌন দাসত্ব বা সেক্স স্লেভারির রমরমা আয়োজন ছিল রাজপ্রাসাদগুলোতে।

ইডেন কলেজের ঘটনা মোটামুটি এই সেক্স স্লেভারির আধুনিক সংস্করণ।

অন্য সব সরকারি কলেজ-ভার্সিটির মতো ইডেন কলেজের হলগুলোও দখল করে রেখেছে ছাত্রলীগ নামের জঙ্গি সংগঠনটি। কাজেই সেখানে সিট পেতে হলে তাদের দলে নাম লিখিয়ে, চির অনুগত থাকার মুচলেকা দিয়েই উঠতে হয়। তাদের কথা মতো না চললে হল থেকে বের করে দেয়া অতি সাধারণ ঘটনা।

যেসব মেয়ে হলে থাকে তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েগুলোকে মার্ক করে রাখে ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এদেরকে রুমে ডেকে এনে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে রাখা হয়। পরবর্তীতে ছবি ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, জোর করে পাঠানো হয় ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বিছানায় - যৌন দাসী হিসেবে। একে বলা হয় 'সালাম দেয়া'। যেমন আজকে যদি 'ক' নামের মেয়েটিকে বড় ভাইয়ের বিছানায় পাঠানো হয় তাহলে ঘটনাটাকে বলা হবে এভাবে - "আজকে 'ক'কে বড় ভাইয়ের কাছে সালাম দিতে পাঠাইসি।"

তো এই 'বড় ভাই'য়েরা দাসীটিকে পছন্দ করলে বিনিময়ে পুরস্কার জোটে তাকে বাছাই করা ছাত্রলীগ নেত্রীদের। কাউকে পছন্দ হয়ে গেলে তাকে রক্ষিতা হিসেবে নিয়মিত বিছানায় যেতে বাধ্য করেন ছাত্রলীগের বড় ভাই। যেহেতু এই মেয়েগুলো মোটের ওপর অসহায় কাজেই মুখ বুজে শরীর বিলিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে এই তথ্যগুলো কোনো ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট থেকে জানা যায়নি, খোদ ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকই এগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি শুধু ইডেন কলেজেরই ঘটনা?

উত্তরটা সহজ - না। সারা দেশের অসংখ্য কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এসব হচ্ছে। আপনি ভাবতেও পারবেন না - অমুক জায়গার মেয়েদেরকে সেক্স স্লেইভ হিসেবে ট্রিট করা হয় - কিন্তু এটাই ফ্যাক্ট। এবং এই ব্যাপারগুলো কিন্তু আজকের না - বছরের পর বছর ধরেই এগুলো চলছে - ২০১০ সালেও ইডেন কলেজের এমন ঘটনাগুলো আলোচনায় এসেছিল। ২০১০ সাল, মানে তখন নৌকার লোকেরা মাত্র ক্ষমতায় বসেছে। সেই সময়েই যদি এরা এতটা বেপরোয়া থাকে, তাহলে ২০২২ সালে এসে এরা কতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যারা ছাত্ররাজনীতি করেন এবং খোঁজখবর রাখেন তাদের কাছে এগুলো ওপেন সিক্রেটের মতো। এই যে মনে করেন আপনাদের অতি প্রিয়, ফেসবুকের পরিচিত মুখ বিভিন্ন প্রগতিশীল কিংবা নারীবাদী আপু - ইরান তুরান আফগানিস্তানে পান থেকে চুন খসলেই যারা মুহুর্মুহু জেহাদ ঘোষণা করেন - তাদের কাছেও এগুলো অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু এই মেয়েগুলো যেহেতু নিম্নবিত্ত এবং অসহায় কাজেই তাদের সমস্যার ব্যাপারে কারোই কোনো মাথাব্যথা ছিল না। হুট করে লাইমলাইটে চলে আসায় এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে - তবে জোরালো সম্ভাবনা আছে যে দুদিন পরেই এটা সবাই ভুলে যাবে এবং এই সেক্স স্লেভারি আবারো বছরের পর বছর ধরে চলতেই থাকবে।

আমি সত্যিই জানি না এই পৈশাচিক ক্ষমতাচর্চার শেষ কোথায়। অসম্ভব ক্ষমতাবান জানোয়ারগুলোকে খোদাতালা আর কতদিন ছাড় দেবেন সেটাও জানি না। শুধু এটুকু জানি যে এই সব কিছুই মনে রাখতে হবে, লিখে রাখতে হবে এবং সময় এলে সুদে-আসলে প্রতিটি জুলুমের শোধ তুলতে হবে।

সেই সময়টা জলদিই আসুক এটাই প্রত্যাশা।

লেখঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


University Of Dhaka
Dhaka
1000