The Post
14/09/2025
#ডাকসু ও #জাকসুতে # বৈষম্যবিরোধীদের বিপর্যয়, চ্যালেঞ্জের মুখে এনসিপি? #
ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাসের। এক বছর আগে যে তরুণদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনই নয়, চরম ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন কিংবা বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রার্থীদেরও।
গত বছর অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা।
যে কারণে অনেকের মধ্যে ধারণাও তৈরি হয়েছিল বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা বাগছাস প্যানেলের প্রার্থীরাই এই ডাকসু-জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদে ভাল ফলাফল পেতে পারে।
এবং এই নির্বাচনে জয়ের ফলাফল ঘরে তুলবে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। কিন্তু এমন ভরাডুবির পর বিষয়টি নতুন করে ভাবাচ্ছে এনসিপিকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমানে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, যদি বাগছাস এই ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরে ভাল ফল করতে পারতো তার ইতিবাচক প্রভাব এনসিপির রাজনীতিতেও পড়তো।
তবে তারা এটিও মনে করছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পড়েছে। যে কারণে হতাশাজনক ফলাফল এসেছে ডাকসু কিংবা জাকসুতে।
অন্যদিকে, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রভাব এই নির্বাচনে পড়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আর নির্বাচনের ফলকে প্রত্যাখ্যান না করলেও বাম সংগঠনগুলো এমন ফলাফলকে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। যে কারণে তারা এই কারণগুলো মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, দলীয় লেজুরবৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কারণে ছাত্রদল এবং 'কিংস পার্টি' হিসেবে এনসিপির পরিচিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি বাগছাসের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বিবিসি নিউজ বাংলা
10/09/2025
নেপালে শান্তি ফেরানোর দায়িত্ব এখন সিগদেলের কাঁধে |||
সদ্যপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে অশান্ত নেপালের দায়িত্ব নিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী। সেনার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত না নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে, তত দিন দেশের শাসনভার চালাবে তারা। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নেপাল সরকারের প্রধান সচিবালয়ও।
শুধু তা-ই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করা হয়েছে নেপালের সেনার তরফে। দেশে লুটপাট চালালে, ভাঙচুর করলে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তাও দিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী।
পাশাপাশি, দেশের নাগরিকদেরও সহযোগিতা চেয়েছে নেপালের সেনা। সহিংস বিক্ষোভের আবহে জনগণ এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার, শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে সেনা। ব্যক্তিগত এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না করারও আবেদন জানানো হয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘‘কঠিন পরিস্থিতির অযৌক্তিক সুযোগ নিচ্ছে কিছু গোষ্ঠী। সাধারণ নাগরিক ও সরকারি সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অবিলম্বে এ সব বন্ধ করতে হবে।’’
নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলও বিক্ষোভকারীদের আলাপ-আলোচনার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশবাসীর উদ্দেশে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সিগদেল বলেন, “আমরা প্রতিবাদীদের বিক্ষোভ, কর্মসূচি বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে আলাপ-আলোচনার জন্য এগিয়ে আসার আবেদন করছি।”
সিগদেল আরও বলেন, “বর্তমানে তৈরি হওয়া কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে আমাদের। আমাদের ঐতিহাসিক ও জাতীয় ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির পাশাপাশি জনসাধারণের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও রক্ষা করতে হবে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”
সূত্রের খবর, নেপালের সেনাপ্রধান সিগদেলই মঙ্গলবার নেপালের সদ্যপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কে এই সিগদেল? তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমানসে।
নেপালের রূপানদেহিতে ১৯৬৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিগদেলের জন্ম। পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কমিশন লাভ করেন।
চিনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে কৌশলগত গবেষণায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন সিগদেল। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ-ও করেন।
নেপাল, চিন এবং ভারত— তিন দেশেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান। ভারত থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও পড়াশোনা করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসাবে যুগোস্লাভিয়া, তাজিকিস্তান এবং লাইবেরিয়ায় দায়িত্বপালন করেছেন সিগদেল।
নেপালের ইনস্পেক্টর জেনারেল, সেনার সামরিক অভিযান প্রধান এবং ব্যাটলিয়ন, ব্রিগেড এবং ডিভিশনের কমান্ডার হিসাবেও দায়িত্বপালন করেছেন সিগদেল।
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিগদেলকে নেপালের ৪৫তম সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। অর্থাৎ, সিগদেল নেপালের সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক এক বছরের মাথায় অশান্ত হল সে দেশ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফরে এসেছিলেন জেনারেল সিগদেল। সেই সময় তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সিগদেলই এখন নেপালে শান্তি ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ছাত্র-যুব গণবিক্ষোভের রোষে পুড়ছে নেপাল। সমাজমাধ্যমের উপর নেপাল সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরই অশান্তির আগুন ছড়াতে শুরু করে ভারতের পড়শি দেশে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ অন্য চেহারা নেয় মঙ্গলবার।
সমাজমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেও কোনও লাভ হয়নি। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নেপাল। দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, আর্থিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলি সামনে চলে আসে। আন্দোলনকারীদের রোষের মুখে পড়ে নেপাল সরকার।
মঙ্গলবার রোষের আগুন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বহু সরকারি ভবন, নেতা-মন্ত্রীর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মারধরও করা হয় নেতা-মন্ত্রীদের। ভাঙচুর করা হয় সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট এবং পার্লামেন্ট ভবন।
পরে পার্লামেন্ট ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। অশান্ত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কেপি শর্মা ওলি।
অন্য দিকে, ওলি সরকারকে উৎখাত করে সে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের দাবিও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি, গত তিন দশক ধরে রাজনৈতিক নেতাদের করা লুটের তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।
ছবি: রয়টার্স, পিটিআই এবং সংগৃহীত।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
144/B Dhanmondi RA
Dhaka
1209