MH Raj
03/06/2026
সকালের আলো ফোটার আগেই রহিমা বেগম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
আর অপেক্ষা নয়।
প্রমাণগুলো তিনি আলাদা আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করলেন। মেডিকেল রিপোর্ট, অডিও রেকর্ডিং, মেয়ের মোবাইলে থাকা কিছু মেসেজ এবং পুরোনো আর্থিক নথি—সবকিছু।
এরপর তিনি একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলেন।
প্রথমে রাশেদ ও তার পরিবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।
তারা ভেবেছিল, একজন বিধবা নারী তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।
কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গেল।
মেডিকেল রিপোর্টে নির্যাতনের প্রমাণ মিলল।
অডিও রেকর্ডিংয়ে জমির কাগজে সই করানোর জন্য চাপ দেওয়ার কথাও স্পষ্ট শোনা গেল।
এদিকে সুমাইয়া সাহস করে আদালতে নিজের বক্তব্য দিল।
সে কাঁদছিল, কিন্তু তার কণ্ঠে ছিল সত্যের শক্তি।
বছরের পর বছর ভয় পেয়ে চুপ থাকা মেয়েটি প্রথমবারের মতো নিজের জন্য দাঁড়িয়েছিল।
আদালত সুমাইয়ার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিল।
রাশেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলো।
তদন্ত যত এগোতে লাগল, ততই বেরিয়ে আসতে লাগল নানা তথ্য।
শুধু পারিবারিক নির্যাতন নয়, সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার প্রমাণও পাওয়া গেল।
যে পরিবার নিজেদের সম্মান ও ক্ষমতা নিয়ে অহংকার করত, সেই পরিবারের মুখোশ ধীরে ধীরে খুলে যেতে লাগল।
কয়েক মাস পর—
একটি সুন্দর কন্যাসন্তানের জন্ম দিল সুমাইয়া।
শিশুটিকে প্রথমবার কোলে নিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
রহিমা বেগম পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সুমাইয়া ফিসফিস করে বলল,
"আম্মু, তুমি না থাকলে আমি হয়তো আজ বেঁচেই থাকতাম না।"
রহিমা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
"মা, পৃথিবীর সব মানুষ তোমার বিরুদ্ধে গেলেও মনে রাখবে—সত্যের পাশে দাঁড়াতে কখনো ভয় পেও না।"
হাসপাতালের জানালা দিয়ে সকালের রোদ এসে পড়ছিল।
নতুন জীবনের আলো যেন তাদের জীবনেও ছড়িয়ে পড়ছিল।
সেদিন রহিমা বেগম বুঝলেন—
মায়ের শক্তি কখনো ক্ষমতা, অর্থ বা প্রভাবের কাছে হার মানে না।
কারণ একজন মা যখন সন্তানের জন্য লড়ে, তখন তার সাহসের কাছে সবচেয়ে বড় অত্যাচারীও একদিন মাথা নত করতে বাধ্য হয়।
আর সুমাইয়া শিখল—
নীরবতা সব সময় শান্তি নয়।
কখনো কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই বেঁচে থাকার প্রথম পদক্ষেপ।
সমাপ্ত। ❤️
#গর্ভবতী
03/06/2026
সেদিন রাতেই রহিমা বেগম বাড়ি থেকে বের হননি।
তিনি জানতেন, রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে। তাই চুপচাপ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন।
রাত প্রায় বারোটা।
সবার ঘরের আলো নিভে গেছে।
কিন্তু রহিমা বেগমের চোখে ঘুম নেই।
তিনি লক্ষ্য করলেন, সুমাইয়ার ঘরের দরজা আস্তে করে খুলে ভেতরে ঢুকল রাশেদ।
কয়েক মিনিট পর ভেতর থেকে চাপা কান্নার শব্দ ভেসে এল।
রহিমা বেগমের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল।
কিন্তু তিনি দরজা ভাঙলেন না।
বরং নিজের মোবাইলের রেকর্ডার চালু করে সব শব্দ সংরক্ষণ করলেন।
কিছুক্ষণ পর রাশেদের কণ্ঠ শোনা গেল—
"মনে রাখবা, জমির কাগজে সই না করলে এই বাচ্চাও তোমারে বাঁচাইতে পারবে না।"
রহিমা বেগমের শরীর কেঁপে উঠল।
এবার আর কোনো সন্দেহ রইল না।
পরদিন সকালে তিনি কাউকে কিছু না বলে শহরে চলে গেলেন।
পুরোনো কর্মজীবনের কয়েকজন বিশ্বস্ত সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেন।
একজন আইনজীবী, একজন চিকিৎসক এবং একজন সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা।
সবার কাছে তিনি একটাই কথা বললেন—
"আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু আমার মেয়ে আর তার অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে চাই।"
সেদিন বিকেলে সুমাইয়াকে নিয়মিত চেকআপের কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।
সেখানে চিকিৎসক যখন পরীক্ষা করলেন, তখন শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের আরও চিহ্ন পাওয়া গেল।
সবকিছু মেডিকেল রিপোর্টে লিপিবদ্ধ করা হলো।
রহিমা বেগম রিপোর্টের কপি হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
এখন তার হাতে শুধু অভিযোগ নয়, প্রমাণও আছে।
এদিকে বাড়িতে ফিরে রাশেদের মা শামীমা চৌধুরী বিরক্ত গলায় বললেন,
"এত হাসপাতাল হাসপাতালে ঘুরার কী দরকার? আমাদের পরিবারে কোনো সমস্যা নেই।"
রহিমা বেগম শান্তভাবে উত্তর দিলেন,
"সমস্যা আছে কি নেই, সেটা খুব শিগগিরই সবাই জানতে পারবে।"
কথাটা শুনে শামীমা চৌধুরীর মুখের রঙ বদলে গেল।
রাতে রহিমা বেগম নিজের ঘরে বসে কিছু পুরোনো ফাইল খুললেন।
বছর কয়েক আগে হাবিব চৌধুরীর একটি ব্যবসা নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি, কিন্তু অনেক নথি তখন তার চোখে পড়েছিল।
তিনি ধীরে ধীরে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখতে শুরু করলেন।
আর তখনই এমন কিছু তথ্য সামনে এল, যা পুরো চৌধুরী পরিবারকে বিপদে ফেলতে পারে।
ঠিক সেই সময় তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল এল।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল কর্কশ কণ্ঠ—
"বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। আপনার মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে চুপ থাকুন।"
রহিমা বেগম একটুও ভয় পেলেন না।
শুধু শান্ত গলায় বললেন,
"ভুলে যাবেন না, আমি ভয় পেলে আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।"
ওপাশ থেকে লাইন কেটে গেল।
তিনি জানালার বাইরে তাকালেন।
দূরে কালো একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
গাড়ির ভেতরে কে বসে আছে দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু রহিমা বেগম বুঝতে পারলেন—
খেলা শুরু হয়ে গেছে।
আর এবার শুধু একজন মায়ের লড়াই নয়,
সত্য আর ক্ষমতার মধ্যকার যুদ্ধও শুরু হতে যাচ্ছে।
চলবে...
পর্ব -০২
পরবর্তী পর্বে জানা যাবে, রহিমা বেগমের হাতে থাকা সেই গোপন নথিগুলোতে কী ছিল এবং কেন চৌধুরী পরিবার হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।
03/06/2026
সেদিন মাগরিবের পর রহিমা বেগম তার গর্ভবতী মেয়ে সুমাইয়ার খোঁজ নিতে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল শুধু দেখে যাওয়া, মেয়েটা ঠিকমতো খেয়েছে কিনা এবং ঘুমানোর আগে আরামদায়ক আছে কিনা।
কিন্তু কম্বলটা একটু ঠিক করে দিতে গিয়েই তিনি থমকে গেলেন।
সুমাইয়ার দুই পায়ে স্পষ্ট কালচে-বেগুনি আঘাতের দাগ।
রহিমা বেগমের বুক কেঁপে উঠল।
"এগুলো কে করেছে, মা?" তিনি নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন।
সুমাইয়ার চোখ ভরে গেল পানিতে।
"আম্মু... প্লিজ, কিছু জিজ্ঞেস কইরেন না।"
সেই মুহূর্তেই রহিমা বেগমের ভেতরে কিছু একটা বদলে গেল।
ফজরের সূর্য ওঠার আগেই যারা এর জন্য দায়ী, তারা বুঝতে পারবে—একজন মা যখন তার সন্তানকে রক্ষা করতে নামে, তখন তার চেয়ে ভয়ংকর আর কেউ হয় না।
ঘরটা নিস্তব্ধ।
সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে আছে। এক হাত তার পেটের ওপর, অন্য হাতে শক্ত করে ধরে আছে চাদর।
রহিমা বেগম আলতো করে কম্বলটা টেনে দিলেন।
তখনই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল দাগগুলো।
আঙুলের চাপের মতো কালশিটে দাগ উরু জুড়ে ছড়িয়ে আছে। পায়ের নিচের অংশেও আঘাতের চিহ্ন।
এগুলো পুরোনো নয়।
একেবারে নতুন।
কারও নিষ্ঠুরতার জীবন্ত প্রমাণ।
"সত্যি করে বলো মা, কে করেছে?"
সুমাইয়া মুখ লুকিয়ে কান্না শুরু করল।
নিচতলা থেকে হাসি-আড্ডার শব্দ ভেসে আসছিল।
তার স্বামী রাশেদ চৌধুরী ড্রয়িংরুমে বসে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্প করছে। বাইরের মানুষের কাছে সে একজন ভদ্র, শিক্ষিত ও ধার্মিক ছেলে।
কিন্তু তার আসল চেহারা অন্যরকম।
সন্ধ্যায় রাশেদের মা শামীমা চৌধুরী রহিমা বেগমকে বলেছিলেন,
"আপনি খুব ভালো মানুষ বোন, কিন্তু আমাদের পরিবারের মতো পরিবেশে তো কখনো থাকেননি।"
আর রাশেদের বাবা হাবিব চৌধুরী এমনভাবে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
"আপনি কি এখনও মানুষের বাসায় সেলাইয়ের কাজ করেন?"
রহিমা বেগম শুধু হাসি দিয়েছিলেন।
কারণ তিনি জানতেন, অহংকারী মানুষ সবসময় অন্যকে ছোট করে দেখে।
আবার মেয়ের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন,
"রাশেদ করেছে?"
সুমাইয়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
"তাহলে তার মা?"
এবার সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
"ওরা বলেছে, আমি যদি কাউকে কিছু বলি, তাহলে আমার সন্তানকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবে।"
রহিমা বেগমের বুক ধক করে উঠল।
"রাশেদ বলেছে আদালত আমাকে বিশ্বাস করবে না। আর তার মা সবাইকে বলে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। আমি যখন কাঁদি, তখন ভিডিও করে রাখে।"
"কেন?"
"আব্বু মারা যাওয়ার আগে আমার নামে যে জমি আর ব্যবসার অংশ লিখে গিয়েছিলেন, ওরা সেটা দখল করতে চায়। ওরা বলে বাচ্চা জন্মের পর আমার আর কোনো দরকার থাকবে না।"
রহিমা বেগমের চোখ শক্ত হয়ে গেল।
"আম্মু, প্লিজ কিছু কইরেন না। এই এলাকায় ওদের অনেক ক্ষমতা।"
রহিমা বেগম মেয়ের কপালে চুমু খেলেন।
তারপর শান্ত গলায় বললেন,
"মা, ক্ষমতা আল্লাহর। মানুষ শুধু ক্ষমতার অভিনয় করে।"
সুমাইয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
সে যেন নতুন একজন মানুষকে দেখছে।
রহিমা বেগম কোনো সাধারণ নারী ছিলেন না।
স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একা হাতে সংসার চালিয়েছেন, মেয়েকে মানুষ করেছেন এবং বহু বছর জেলা প্রশাসনের আর্থিক তদন্ত শাখায় কাজ করেছেন। দুর্নীতিবাজ অনেক প্রভাবশালী মানুষকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
"তুমি ঘুমাও," তিনি বললেন।
নিচে তখন রাশেদ অতিথিদের সামনে হাসছে।
রহিমা বেগম ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলেন।
তার ঠোঁটে ছিল শান্ত একটি হাসি।
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে শুরু হয়ে গেছে এক মায়ের যুদ্ধ।
চলবে...
#গর্ভবতী মেয়ে
পার্ট - ০১
দ্বিতীয় পর্ব পেতে অবশ্যই পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন!
☕🌿 MA Cafe — শুধু কফির স্বাদ নয়, এখানে আছে প্রশান্তির ছোঁয়া।
বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কিংবা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির সাথে নিজের জন্য কিছু মুহূর্ত— সবকিছুর জন্যই MA Cafe হতে পারে আপনার পছন্দের ঠিকানা। 🍹✨
03/06/2026
পরের ছেলে নিজের মেয়েকে সুখে রাখলে বুক ভরে গর্ব হয়। সবাই বলে, "জামাইটা অনেক ভালো, মেয়েটাকে কত আদর করে রাখে!"
কিন্তু অনেক সময় নিজের ছেলে যখন পরের মেয়েটাকে একইভাবে ভালোবাসে, সম্মান দেয়, তার খেয়াল রাখে—তখন সেটা মেনে নিতে কষ্ট হয়।
আসলে আমরা ভুলে যাই, যে মেয়েটাকে আজ "পরের মেয়ে" বলছি, সেও কারো আদরের সন্তান। যেমন নিজের মেয়ের হাসি দেখতে চাই, তেমনি অন্যের মেয়েটাও স্বামীর ঘরে সম্মান, ভালোবাসা আর নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে।
সম্পর্ক তখনই সুন্দর হয়, যখন বিচারটা নিজের আর পরের মধ্যে ভাগ করা হয় না। যে সুখ নিজের মেয়ের জন্য চাই, সেই সুখটাই যদি নিজের ছেলের স্ত্রীকেও দিতে পারি, তাহলে পরিবারে অশান্তি নয়, ভালোবাসাই বেড়ে উঠবে।
মেয়েরা বিয়ে করে শুধু একটি ঘর বদলায় না, তারা একটি নতুন পরিবারকে আপন করার চেষ্টা করে। তাই তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করাই প্রকৃত মানবিকতা।
03/06/2026
দুই টাকার মানুষের জন্য আমি চোখের জল ফেলেছি!
যে মানুষ আমার অনুভূতির মূল্য বুঝতে পারেনি, তার জন্য অসংখ্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। যার কাছে আমার ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিশ্বাসের কোনো দাম ছিল না, তার জন্য নিজের মনকে বারবার কষ্ট দিয়েছি।
আজ বুঝি, চোখের জল তখনই মূল্যবান, যখন তা এমন কারো জন্য ঝরে যে তার মর্যাদা দিতে জানে। মূল্যহীন মানুষের জন্য ফেলা প্রতিটি অশ্রুবিন্দু আসলে নিজের অনুভূতির অপচয়।
জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মানুষ চিনতে দেরি করা। তবে সেই ভুলই শিখিয়েছে—সবাইকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু সবাই ভালোবাসার যোগ্য নয়।
এখন আর আফসোস করি না। কারণ কিছু মানুষ জীবনে আসে ভালোবাসা দেওয়ার জন্য নয়, শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
03/06/2026
সন্তানের জন্য কীভাবে উত্তম দুয়া করতে পারি?
সন্তানের জন্য মা বাবার দুয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কবুল করেন। এক মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের দুয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কবুল করেন, এই সুযোগ উত্তমভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যায়?
৪০ হাদিসের মাঝে একটি হাদিস আছে মায়ের পেটে বাচ্চার বেড়ে ওঠা নিয়ে, প্রতি ৪০দিন অন্তর ফিরিস্তা আল্লাহকে বলতে থাকেন বাচ্চা এখন কোন হালতে আছে। এই হাদিস পড়ার পর মনে হয়েছে, সন্তান যখন গঠন হতে থাকে তখনই তার জন্য দুয়া করার সবচেয়ে উত্তম সময়! কিংবা সন্তান গর্ভে আসার আগে যখন সন্তান চেয়ে আমরা দুয়া করি তখনই সুযোগ সব কিছু আদায় করে নেওয়া রব্বে কারীমের কাছ থেকে।
হাদিসটি-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ وَكَّلَ بِالرَّحِمِ مَلَكًا يَقُولُ يَا رَبِّ نُطْفَةٌ، يَا رَبِّ عَلَقَةٌ، يَا رَبِّ مُضْغَةٌ. فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْضِيَ خَلْقَهُ قَالَ أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى شَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ فَمَا الرِّزْقُ وَالأَجَلُ فَيُكْتَبُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ ".
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত :
তিনি বলেন : রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন : আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মাতৃগর্ভের জন্য একজন মালা'ইকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন,
“হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে।”
“হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে।”
“হে রব! এখন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে।”
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞেস করেন : “পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান, না দুর্ভাগা? রিজিক ও বয়স কত?”
আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন : তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেয়া হয়। *
আমি আমার সন্তানের জন্য দুয়া করতাম অনেক কিছু চেয়ে। চাওয়ার কোনো শুরুও নাই শেষও নাই। চাইতাম আর চাইতাম। সারাদিন উঠাবসায় শুধু চাইতাম।
“ইয়া লাতিফ, ইয়া কারিম, ইয়া রাহিম, ইয়া রাজ্জাক, ইয়া হাইয়ু ইয়া কায়ুইম, ইয়া জুল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া রব্বি, তোমার রাসুলের আহলিয়া আর কন্যাদের মত নাসিব, ঈমানী জজবা, সবর, শোকর, ইবাদাত, পবিত্রতা, মর্যাদাওয়ালা আউলাদ দাও। শহিদি মর্যাদাপ্রাপ্ত সাহাবিদের মত শারীরিক ও মানসিক শক্তিওয়ালা আউলাদ দেও।
শারীরিক ও মানসিক সম্পূর্ণ সুস্থতা দাও, প্রতিটা অংগের পরিপূর্ণতা দাও ও আজীবন সুস্থতা দাও, পর্যাপ্ত উচ্চতা, সৌন্দর্য এবং সুস্বাস্থ্য দাও(এখানে আরও বিস্তারিত চাইতাম, যেমন ঘন সুন্দর চুল, সুন্দর গঠনের চোখ, নাক, কান, ঠোঁট, গাল, নখ, লম্বা-পাতলা আঙুল ইত্যাদি)। সব ধরনের বিপদআপদ, পরীক্ষা ও অসুস্থতা থেকে মুক্ত রাখো আজীবন। শয়তান, শয়তানের ওয়াসওয়াসা, শিরক, রিয়া, অহংকার, কুফুরি থেকে আজীবন পানাহ দেও, মানুষের বদ নজর, হাসাদ, নামিমা, গিবত থেকে পানাহ দাও। অভাব ও গরিবি হালত থেকে পানাহ দেও, খাইর ও বরকতময় সম্পদের অধিকারি দাও। রাগ, বদ মেজাজি, নিকৃষ্ট আখলাক, তর্কবাজি থেকে পানাহ দেও এবং উত্তম আখলাক, আদবি বানাও, বিচক্ষণ, বুদ্ধিদীপ্ত বানাও, আলসে ও বোকা হতে পানাহ দাও। পরোপকারী ও দ্বীনের দায়ী বানাও, জামানার ঈমাম বানাও, দ্বীনের খাদেম বানাও। উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দেও ও তার নাসিবে যা যা চাচ্ছি, তা তা তার সন্তানের নাসিবেও দেও। তার জীবনসঙ্গীর নাসিবেও দাও। বরং আমার চাওয়া থেকেও আরও উত্তম দেও। তাকে বাধ্য ও চক্ষুশীতলকারি সন্তান বানাও। তাকে ও তার আউলাদদেরকে মাদিনাবাসী বানাও। তাকে ও তার আউলাদদেরকে বাকীতে দাফন হওয়ার নাসিব দাও। তাকে ও তার আউলাদদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসে মাকামে মাহমুদের পাশে মাজলিস দেও ও তোমার দিদার দেখার নাসিব দাও।
বাচ্চা পেটে আসার আগে বা পেটে আসার পর, রুহ আসার আগে, যখন আল্লাহ লিখেন তার নাসিব, আমার মন বলে ঐ সময় এইসব দুয়া করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজ গুনে তা কবুল করলে সন্তানের জন্য এর থেকে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
*[সহিহ বুখারী- ৩১৮]
পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন এবং ফলো করে সাথে থাকুন।
03/06/2026
নিজের ক্যারিয়ার নিজেই গুছাই।
সময় তো লাগবেই। কারণ আমাদের পথটা অন্যদের মতো মসৃণ নয়। আমাদের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা অপেক্ষা করে নেই, কোনো প্রস্তুত চেয়ার খালি রাখা নেই, কোনো বাপ-দাদার গড়া সাম্রাজ্য উত্তরাধিকার হিসেবে হাতে আসেনি।
আমরা শূন্য থেকে শুরু করি। ছোট ছোট স্বপ্ন, সীমিত সামর্থ্য আর অসীম পরিশ্রমকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাই। তাই আমাদের সফলতা একটু দেরিতে আসে, কিন্তু তার মূল্যও অনেক বেশি হয়।
কারণ যে মানুষ নিজের অবস্থান নিজে তৈরি করে, সে জানে প্রতিটি অর্জনের পেছনে কতটা ঘাম, কতটা ত্যাগ আর কতটা অপেক্ষা লুকিয়ে থাকে।
তাই কারো সঙ্গে নিজের সময়ের তুলনা করবেন না। ধীরে হলেও এগিয়ে যান। কারণ নিজের হাতে গড়া ভবিষ্যতের আনন্দ, প্রস্তুত পাওয়া সাফল্যের চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।
MH Raj
02/06/2026
হাসনাত আবদুল্লাহ তো দেখি দিনদিন ফাটা কেস্ট হয়ে যাচ্ছে..... 😈
হাসনাত আবদুল্লাহ আজকে একটা সাদামাটা চেক শার্ট পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হুট করে দেবীদ্বারের এক সরকারি হাসপাতালে গিয়ে হাজির।
নিয়ম অনুযায়ী সবার সকাল আটটা থেকে হাসপাতালে থাকার কথা৷ কিন্তু গিয়ে দেখলেন ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৮ জনই আসে নাই৷ হাসনাত মুচকি হাসি দিয়েই এগুলো হিসেব করলেন 🤣
হাসনাতকে দেখে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে একটু আবোল-তাবোল হিসাব দিয়ে ভাবছিলেন পার পেয়ে যাবেন।
কিন্তু হাসনাত আব্দুল্লাহকে তো আর ফাঁকি দেওয়া এত সোজা না! সোজা জিজ্ঞেস করলেন, "এই ৮ জন কি হারায় গেছে নাকি? এখনই এদের লিস্ট বের করুন!"
শুধু তাই না, হাসপাতালের সেবার যা অবস্থা, সেটা দেখেও তিনি চরম বিরক্ত। রোগীরাও এমপি-কে কাছে পেয়ে মনের সব ক্ষো--ভ আর ভোগান্তির কথা ঢেলে দিয়েছেন। আর তিনিও একদম অন-স্পট অ্যাকশন নেওয়া শুরু করেছেন।
দেবিদ্বারবাসী আসলেই লাকি৷ তারা সত্যি জোশ একটা এমপি পাইছে.. ✌️
🍽️ আজ ঘুরে এলাম সাজের মায়া রেস্টুরেন্টে। প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করেছে তাদের সাজানো-গোছানো ও নান্দনিক পরিবেশ। আর খাবারের কথা যদি বলি, প্রতিটি রেসিপির স্বাদ ছিল সত্যিই অসাধারণ! 😋
সুন্দর পরিবেশ, দারুণ আতিথেয়তা আর মুখরোচক খাবারের সমন্বয়ে সময়টা ছিল বেশ উপভোগ্য।
সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছি আমার নতুন ভিডিওতে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Ga-72, Gulshan Link Road
Dhaka
1212