GROUP TEX GLOBAL

GROUP TEX GLOBAL

Share

18/10/2025

বারবার আগুন: শিল্পবাংলার বিপন্ন নিরাপত্তা ও অদৃশ্য ব্যবস্থাপনার সংকট

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো শিল্প ও রপ্তানি। কিন্তু সাম্প্রতিক একের পর এক অগ্নিকাণ্ড যেন সেই প্রাণশক্তিকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনা এখনো নিভে না-নিভতেই, চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এবং এর কিছুদিন আগেই মিরপুরের আবাসিক-শিল্প এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ—সব মিলিয়ে একটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে:
এই আগুনগুলো কি কেবল দুর্ঘটনা, নাকি ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক ব্যর্থতা?

কার্গো ভিলেজের আগুন শুধু ভবন পোড়ায়নি, পুড়িয়েছে হাজারো উদ্যোক্তার পরিশ্রম, শত কোটি টাকার পণ্য এবং সবচেয়ে বড়—বিদেশি ক্রেতার আস্থা। চট্টগ্রাম ইপিজেডের আগুন একইভাবে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। আর মিরপুরের ঘটনায় দেখা গেছে—শহরের ভেতর শিল্প কার্যক্রমের ঝুঁকি কতটা অবহেলিতভাবে পরিচালিত হয়।
এই তিনটি ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—আমরা এখনো প্রতিক্রিয়াশীল (reactive), প্রতিরোধমূলক (preventive) নই।

বাংলাদেশের শিল্প বিকাশের গতি বিস্ময়কর, কিন্তু তার সাথে নিরাপত্তা সংস্কৃতি বাড়েনি। ফায়ার প্রোটোকল, রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ও ইন্সপেকশন মেকানিজম—সবই কাগজে সীমাবদ্ধ। আধুনিক প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং ও রিয়েল-টাইম রেসপন্স সিস্টেমের অভাব আমাদের রপ্তানি ভিত্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এর ফলাফল শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিকও। যখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বারবার বাংলাদেশের সংবাদে আগুন, দুর্ঘটনা আর বিশৃঙ্খলা দেখতে পান, তখন তাদের আস্থার সূচক কমে যায়।

অন্যদিকে, এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার মাঝে আরেকটি প্রশ্ন নীরবে উঁকি দেয়—কেন এত ঘনঘন শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগছে, এবং প্রতিবারই কেন তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আসে না?
এটা হয়তো আমাদের প্রশাসনিক অদক্ষতা, হয়তো করপোরেট জবাবদিহির অভাব, আবার হয়তো এমন কিছু “অদৃশ্য স্বার্থগোষ্ঠী” যারা বিশৃঙ্খলা থেকেই সুবিধা নেয়। কিন্তু স্পষ্টতই—এই আগুনগুলো কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা কর্মীর ব্যর্থতা নয়, বরং সিস্টেমিক ফেইলিউর।

এখন সময় এসেছে—সরকার, শিল্পমালিক, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার সবাই মিলে একটি জাতীয় শিল্পনিরাপত্তা কাউন্সিল (National Industrial Safety Council) গঠনের।
এই কাউন্সিলের দায়িত্ব হবে—

প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে আধুনিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (AI, সেন্সর, ড্রোন সার্ভেইল্যান্স) চালু করা,

অগ্নি নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ডগুলোকে রপ্তানি লাইসেন্সের অংশ করা,

এবং তদন্ত রিপোর্টগুলোকে জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা।

আমরা যদি এই ঘটনাগুলিকে শুধুই “দুর্ভাগ্য” বলে পাশ কাটিয়ে যাই, তাহলে একদিন এই আগুন আমাদের বৈদেশিক আয়ের ইঞ্জিনটাকেও ছাই করে দেবে।
আজকের এই আগুনগুলো হয়তো দুর্ঘটনা, কিন্তু আগামীকালের ইতিহাসে এগুলো লেখা থাকবে অবহেলার মূল্য হিসেবে।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ফাস্টেস্ট-গ্রোয়িং ইকোনমিগুলোর একটি—তাই আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোকেও হতে হবে সেই মানের।
না হলে, একটার পর একটা আগুন শুধু কারখানা নয়, পুড়িয়ে ফেলবে “মেড ইন বাংলাদেশ” ব্র্যান্ডের বিশ্বাসকেও।

16/07/2025

Big shout out to my newest top fans! 💎 Abu Yousuf Zabed

Drop a comment to welcome them to our community,

Want your business to be the top-listed Clothing Store in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Gultion
Dhaka
1230